সহিহ বুখারী অঃ->জিহাদ বাব->আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদেরও কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহিদ্বীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন। এগুলো তাঁর পক্ষ থেকে পদমর্যাদা, ক্ষমা ও করুণা; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়। (আন-নিসা ৯৫-৯৬) হাঃ-২৮৩২

সাহ্‌ল ইব্‌নু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, আমি মারওয়ান ইব্‌নু হাকামকে মসজিদে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখলাম। অতঃপর আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্‌নু সাবিত (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উপর অবতীর্ণ আয়াত, “মুসলিমদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়” (আন-নিসাঃ ৯৫) যখন তাকে দিয়ে লিখেছিলেন, ঠিক সে সময় অন্ধ ইব্‌নু উম্মু মাকতুম (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি জিহাদে যেতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই অংশ গ্রহণ করতাম।’ সে সময় আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর ওয়াহী নাযিল করেন। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উরু আমার উরুর উপর রাখা ছিল এবং তা আমার নিকট এতই ভারী মনে হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাবার আশংকা করছিলাম। অতঃপর ওয়াহী অবতীর্ণ হবার অবস্থা দূর হল, এ সময় ------ আয়াতটি আল্লাহ নাযিল করেন।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সূরা আন –নিসা হাঃ-৩০৩৩

সাহল ইবনু ‘সাদ আস্‌ –সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকামকে মাসজিদে বসা দেখে আমি তাঁর নিকট এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসলাম। তিনি আমাদের বললেন, যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, নাবী, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দ্বারা লেখাচ্ছিলেন : “লা ইয়াসতাবিল কা’ইদূনা মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুজাহিদূনা ফী সাবীলিল্লাহ”। তখন তাঁর নিকট ইবনু উম্মি মাকতূম (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি যদি জিহাদ করতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন অন্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল। তা এত ভারী লাগছিল যে, এতে আমার উরু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর এ অবস্থা দূরীভূত হয়। আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর অবতীর্ণ করেন : “গাইরু উলিয যারারি”। সহীহ : বুখারী (৪৫৯২)।


সুনান নাসাঈ অঃ->জিহাদ বাব->যারা ঘরে বসে থাকে (সঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও জিহাদ থেকে বিরত থাকে) তাদের উপর জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত হাঃ-৩০৯৯

সাহল ইবনু সা‘দ (রঃ) বলেন থেকে বর্নিতঃ

আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রঃ) কে দেখলাম তিনি বসে আছেন। আমিও তার নিকট গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর নাযিল হলোঃ (আরবি) “মু’মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে, তারা এবং যারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়” (৪:৯৫)। ইতোমধ্যে ইব্‌ন উম্মু মাক্‌তুম (রাঃ) আগমন করলেন। তিনি তা লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌। যদি আমার জিহাদ করার শক্তি থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ “অসুস্থগণ ব্যতীত”। আর তখন তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল, তা আমার উপর ভারী লাগছিল। মনে হলো আমার উরু ভেঙ্গে যাবে। এরপর তাঁর এ অবস্থা থেকে অবমুক্ত হলো। আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ আবদুর রহমান ইব্‌ন ইসহাকের ব্যাপারে আপত্তি নেই, আবদুর রহমান ইব্‌ন ইসহাক হতে আলী ইব্‌ন মুসহির ও আবূ মু’আবিয়া হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল ওয়াহিদ ইব্‌ন যিয়াদ (রহঃ) যে নু’মান ইব্‌ন সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন।


সুনান নাসাঈ অঃ->জিহাদ বাব->যারা ঘরে বসে থাকে (সঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও জিহাদ থেকে বিরত থাকে) তাদের উপর জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত হাঃ-৩১০০

সাহল ইবনু সা‘দ (রঃ) বলেন থেকে বর্নিতঃ

আমি মারওয়ান (রঃ) কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পাশে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে লিখে নেওয়ার জন্য পড়ে শুনাচ্ছিলেনঃ (আরবি)। তিনি বললেন, তারপর তাঁর নিকট ইব্‌ন উম্মু মাকতুম (রাঃ) আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে লেখাচ্ছিলেন। তিনি (ইব্‌ন উম্মু মাকতুম) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর রাসুল–এর উপর (ওয়াহী) অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তাঁর উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল। আল্লাহ্‌ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ (আরবি) “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত”।