সহিহ বুখারী অঃ->ওজু বাব->বিনা উযূতে কুরআন প্রভৃতি পাঠ। হাঃ-১৮৩

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর খালা। ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি বিছানায় প্রশস্ত দিকে শুলাম এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- ও তার স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শুলেন; আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তার মুখমন্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর সূরা আল-‘ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক হতে সুন্দরভাবে উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাড়িঁয়ে গেলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিয়ে ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর নিকট মুয়ায্‌যিন এলে তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফাজরের সালাত আদায় করলেন। (১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৩)


সহিহ বুখারী অঃ->বিতর বাব->বিত্‌রের বর্ণনা। [১] হাঃ-৯৯২

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরা আলে-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ঝুলন্ত মশ্‌কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক’আত, অতঃপর দু’ রাক’আত, অতঃপর দু’ রাক’আত, অতঃপর দু’ রাক’আত, অতঃপর দু’ রাকাত। অতঃপর বিত্‌র আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্‌যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।


সহিহ বুখারী অঃ->সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ বাব->সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে সালাতের মধ্যে হাতের সাহায্য নেয়া। হাঃ-১১৯৮

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, তিনি তাঁর খালা মু’মিনদের মা মাইমূনাহ (রাঃ) -এর ঘরে রাত কাটালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সহধর্মিণী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মধ্যরাত বা তার কিছু আগ বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে উঠে বসলেন এবং দু’হাতে মুখমন্ডল মুছে ঘুমের রেশ দূর করলেন। অতঃপর তিনি সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশ্‌কের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে উযূ করে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। ‘আবদুল্লাহ্‌‌ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেমন করেছিলেন, আমিও তেমন করলাম। অতঃপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কানে মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তাঁর পিছন হতে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন)। তিনি তখন দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর (দু’রাক‘আতের সাথে আর এক রাক‘আত দ্বারা বেজোড় করে) বিত্‌র আদায় করে শুয়ে পড়লেন। শেষে (ফজরের জামাআতের জন্য) মুআয্‌যিন এলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’রাক‘আত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করলেন। অতঃপর বেরিয়ে গেলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->‘‘হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে দাখিল করলে তাকে লাঞ্ছিত করলে; আর যালিমদের জন্য তো কোন সাহায্যকারী নেই।’’ (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৯২) হাঃ-৪৫৭১

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, তিনি মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তাঁর খালা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ লম্বালম্বির দিকে শুয়েছিলাম। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর দু’হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরাহ আলু ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং সুন্দরভাবে ‘উযু করলেন। এরপর সলাতে দণ্ডায়মান হলেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত তারপর দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সলাত আদায় করলেন। তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন আসল, তিনি হালকাভাবে দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২১০, ই.ফা. ৪২১৩)


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->‘‘হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আমরা শুনেছি এক আহবানকারীকে ঈমান আনার জন্য আহবান করতেঃ ‘‘তোমরা ঈমান আন তোমাদের রবের প্রতি।’’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৯৩) হাঃ-৪৫৭২

কুরায়ব (রহ.) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহধর্মিণী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মাইমূনাহ (রাঃ) হলেন তাঁর খালা। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে পড়লাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবার লম্বা দিকে শয়ন করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিদ্রামগ্ন হলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য আগে কিংবা সামান্য পরক্ষণে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং মুখ থেকে ঘুমের ভাব মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আলু ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের নিকট গিয়ে তাত্থেকে উত্তমরূপে উযূ করলেন। এরপর সলাতে দণ্ডায়মান হলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর তিনি বিতরের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। শেষে মুয়াযযিন ফাজ্রের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর বের হলেন এবং ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২১১, ই.ফা. ৪২১৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->মুসাফিরদের সালাত ও তার কসর বাব->রাত্রিকালীণ সলাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম হাঃ-১৬৭৪

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একদিন উম্মুল মুমিনীন মায়মুনাহ্ (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মূনাহ্ (রাঃ) তাঁর খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। এরপরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পর তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমন্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরাহ্‌ আ-লি ‘ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওযূ করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সলাত আদায় করলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন।[৩৩] তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু’ রাকআত সলাত আদায় করলেন। পরে আরো দু’ রাক‘আত, এরপর আরো দু’ রাক‘আত এবং পরে আরো দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিত্‌র পড়লেন।[৩৪] তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়ায্‌যিন এসে সলাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মাসজিদে) গিয়ে ফাজ্‌রের সলাত আদায় করতেন। (ই.ফা. ১৬৫৯, ই.সে. ১৬৬৬)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->নফল সালাত বাব->রাতের (তাহাজ্জুদ) সলাত সম্পর্কে হাঃ-১৩৬৭

ইবনু ‘আব্বাসের (রাঃ) মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক রাত তিনি তাঁর খালা রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রী মায়মূনাহর (রাঃ) ঘরে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি ঘুমিয়ে পড়ি আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর স্ত্রী লম্বালম্বী ঘুমালেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর রাতের অর্ধেক অথবা সামান্য অতিবাহিত হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হাত দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল হতে ঘুমের রেশ মুছতে মুছতে উঠে বসেন এবং সূরাহ আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর পানির একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গিয়ে তা থেকে খুব ভালভাবে উযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যা যা করেছেন তা করলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রেখে আমার কান ধরে টানলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত, দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত, দু’ রাক‘আত, আবার দু’ রাক‘আত এবং আবার দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী আল-কা‘নাবী বলেন, তিনি এভাবে ছয়বার আদায় করেন। অতঃপর বিতর করে বিশ্রাম নেন। অবশেষে মুয়াযযিন এলে তিনি উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সলাত আদায় করে বের হলেন এবং (মাসজিদে গিয়ে) ফাজরের সলাত আদায় করলেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন বাব->রাতে কত রাকআত সালাত আদায় করবে? হাঃ-১৩৬৩

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) তিনি তার খালা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে ঘুমালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশে আড়াআড়িভাবে শুয়ে পড়লাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রী লম্বালম্বি শুয়ে পড়েন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়েন। অর্ধরাত বা তার চেয়ে কম কিছু অথবা বেশি অতিবাহিত হলে তিনি জেগে তার দু’ হাত দিয়ে ঘুমের রেশ তাঁর চেহারা থেকে দূর করেন, অতঃপর সূরাহ আল-ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত পানির মশকের কাছে গিয়ে তা থেকে পানি নিয়ে উত্তমরূপে উযু করেন, তারপর সলাতে দাঁড়িয়ে যান। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে গেলাম এবং তিনি যা করলেন আমিও তদ্রূপ করলাম, তারপর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে মললেন। তারপর তিনি দু’ রাকআত সালাত পড়েন, তারপর দু’ রাকআত, তারপর দু’ রাকআত, তারপর দু’ রাকআত, তারপর দু’ রাকআত, তারপর দু’ রাকআত, তারপর বিত্‌র সালাত পড়েন। তারপর তিনি আরাম করেন, যাবত না তাঁর নিকট মুআযযিন আসে। অতঃপর তিনি হালকাভাবে দু’ রাকআত (ফজরের সুন্নাত) সালাত পড়েন, অতঃপর (ফজরের ফরয) সালাত আদায় করতে বেরিয়ে যান। [১৩৬৩]


সুনান নাসাঈ অঃ->বিতর, তাহাজ্জুদ এবং দিনের নফল সালাত বাব->নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর যিক্‌র হাঃ-১৬২০

কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একবার উম্মুল মুমিনীন মায়মূনা (রাঃ)-এর সাথে রাত্রি যাপন করেন। (তিনি সম্পর্কে তাঁর খালা ছিলেন) তিনি শুইলেন বালিশের প্রস্থে আর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার শুইলেন বালিশের দৈর্ঘে। রাসূলুল্লাহ‌্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুয়ে পড়লেন। যখন অর্ধ রাত্রি অতিবাহিত হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে বা পরে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন এবং হাত দ্বারা মুখমন্ডল থেকে নিদ্রার লক্ষন দূরীভূত করতে লাগলেন। তারপর সূরা আলে ইমরান’ এর শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর একটি লটকানো মশকের কাছে গেলেন এবং তাঁর (পানি) দ্বারা উত্তমরূপে ঊযূ করলেন এবং দাঁড়িয়ে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করলেন। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমিও দাঁড়িয়ে তাঁর মত করলাম এবং গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং (ঠিকমত না দাঁড়ানোর জন্য) আমার ডান কান মলতে লাগলেন। তারপর তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। পুনরায় দু’রাকআত, আবার দু’রাকআত, তারপরও দু’রাকআত, আবারও দু’রাকআত, পুনরায় দু’রাকআত সালাত আদায় করে বিত্‌রের সালাত আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। পড়ে মুয়ায্‌যিন তাঁর কাছে আসলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করলেন।