সহিহ মুসলিম অঃ->‘ইল্‌ম বাব->কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতের অনুকরণ নিষিদ্ধ হওয়া ও এর অনুসারীদের হতে সতর্কতা অবলম্বন এবং কুরআনে বর্ণিত বিষয়ে মতভেদ নিষিদ্ধকরণ হাঃ-৬৬৬৮

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করলেনঃ “তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাবকে অবতীর্ণ করেছেন, যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট মজবুত সাংবিধানিক; এগুলো কিতাবের মূলনীতি আর অন্যগুলো অস্পষ্ট। যাদের হৃদয়ে বক্রতা রয়েছে, শুধু তারাই ফিতনাহ্ এবং ভুল ব্যাখ্যার জন্য যা অস্পষ্ট তার অনুকরণ করে। মূলতঃ আল্লাহ ভিন্ন অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না; আর যারা ‘ইল্‌মে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি, সবই আমাদের রবের নিকট থেকে সত্য এবং বুদ্ধিমান ছাড়া আর কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না” – (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩ : ৭)। তিনি (‘আয়িশাহ্) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সেসব লোকদের দেখতে পাবে যারা অস্পষ্ট আয়াতের অর্থের অনুসরণ করে, এরাই সেসব ব্যক্তি, যাদের কথা আল্লাহ আলোচনা করেছেন, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাক। (ই. ফা. ৬৫৩৩, ই. সে. ৬৫৮৫)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সুন্নাহ বাব->কুরআন নিয়ে ঝগড়া পরিহার এবং অস্পষ্ট আয়াতের অনুসরণ নিষিদ্ধ হাঃ-৪৫৯৮

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত পড়লেনঃ “তিনিই আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু সংখ্যক আয়াত মুহকাম... হতে কিন্তু “জ্ঞানী ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহন করে না” (৩-৭ পর্যন্ত)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন তোমরা দেখবে সেসব লোককে যারা মুতাশাবিহ আয়াতের অনুসরণ করছে, তখন মনে করবে, এরাই সেসব লোক আল্লাহ যাদের নাম নিয়েছেন। সুতরাং, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->ভূমিকা বাব->বিদ‘আত ও ঝগড়াঝাটি হতে বেঁচে থাকা হাঃ-৪৭

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন (অনুবাদ): “তিনি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন, এগুলো কিতাবের মূল অংশ, আর অন্যগুলো রূপক। যাদের অন্তরে সত্য লঙ্ঘন প্রবণতা আছে শুধু তারাই বিশৃঙ্খলা ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা রূপক তার অনুসরণ করে। আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কেউ তার ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী তারা বলে, আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম, সমস্তই আমার রবের নিকট থেকে আগত। বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ব্যতীত অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না”-(সূরাহ আলে-ইমরান ২:৭)। অতঃপর তিনি বলেন, হে আয়িশাহ! যখন তুমি তাদেরকে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বাদানুবাদ করতে দেখবে, তখন মনে করবে যে, এরা সেই লোক যাদের আল্লাহ্‌ অপদস্থ করেন। তোমরা তাদের পরিহার করো। [৪৭]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সূরা আ –লি ‘ইমরান হাঃ-২৯৯৪

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এ আয়াত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা হলঃ “তিনিই তোমাদের উপর এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কিছু আয়াত মুহকাম, এগুলো কিতাবের মূল এবং অন্যগুলো মুতাশাবিহাত। যাদের মনে কুটিলতা আছে, তারাই ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে …. শুধু বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই শিক্ষা গ্রহণ করে” – (সূরা আলি ইমরান ৭)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের অনুসারীদের দেখলে অনুধাবন করে নিবে যে, আল্লাহ তা’আলা এদেরই নামোল্লেখ করেছেন। কাজেই তোমরা তাদের পরিহার করবে। সহীহ : বুখারী (৪৫৭৪), মুসলিম।