সহিহ বুখারী অঃ->মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বাব->ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী। হাঃ-৩৬২০

ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যামানায় মুসায়লামাতুল কায্যাব আসল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তাঁর পর আমাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন, তাহলে আমি তাঁর অনুসরণ করব। তার জাতির অনেক লোক নিয়ে সে এসেছিল। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট আসলেন। আর তাঁর সাথী ছিলেন সাবিত ইব্‌ন কায়েস ইব্‌ন শাম্মাস (রাঃ)। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর হাতে খেজুরের একটি ডাল ছিল। তিনি সঙ্গী-সাথী পরিবেষ্টিত মুসায়লামার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তুমি যদি আমার নিকট খেজুরের এই ডালটিও চাও, তবুও আমি তা তোমাকে দিব না। তোমার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র যা ফায়সালা তা তুমি লঙ্ঘন করতে পারবে না। যদি তুমি কিছু দিন বেঁচেও থাক তবুও আল্লাহ্ তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করে দিবেন। অবশ্যই তুমি ঐ লোক যার সম্বন্ধে স্বপ্নে আমাকে সব কিছু দেখানো হয়েছে।


সহিহ বুখারী অঃ->মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বাব->ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী। হাঃ-৩৬২১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(ইব্‌ন ‘আব্বাস (রহঃ)...বলেন, ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম আমার দু’হাতে সোনার দু’টি বালা। বালা দু’টি আমাকে চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নেই আমার নিকট অহী এল, আপনি ফুঁ দিন। আমি তাই করলাম। বালা দু’টি উড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করলাম, আমার পর দু’জন কায্যাব বের হবে। এদের একজন আনসী, অপরজন ইয়ামামাহবাসী মুসায়লামাতুল কাজ্জাব।


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->বানু হানীফার প্রতিনিধি দল এবং সুমামাহ ইবনু উসাল (রাঃ)-এর ঘটনা হাঃ-৪৩৭৩

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে একবার মিথ্যুক মুসাইলামাহ (মাদীনাহয়) এসেছিল। সে বলতে লাগল, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি আমাকে তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যায় তাহলে আমি তাঁর অনুগত হয়ে যাব। সে তার গোত্রের বহু লোকজনসহ এসেছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাবিত ইবনু কায়স ইবনু সাম্মাসকে সঙ্গে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। মুসাইলামাহ তার সঙ্গী-সাথীদের মাঝে ছিল, এই অবস্থায় তিনি তার কাছে পৌঁছলেন। তিনি বললেন, যদি তুমি আমার কাছে এ ডালটিও চাও তবে তাও আমি তোমাকে দেব না। তোমার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র নির্দেশ কক্ষনো লঙ্ঘিত হবে না। যদি তুমি আমার আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করে দিবেন। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত আমার পক্ষ হতে তোমাকে জবাব দেবে। এরপর তিনি তার নিকট হতে চলে আসলেন। [৩৬২০] (আ.প্র. ৪০২৭, ই.ফা. ৪০৩১)


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->বানু হানীফার প্রতিনিধি দল এবং সুমামাহ ইবনু উসাল (রাঃ)-এর ঘটনা হাঃ-৪৩৭৪

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি “আমি তোমাকে তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমন আমাকে দেখানো হয়েছিল” সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাকে জানালেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদিন আমি ঘুমাচ্ছিলাম তখন স্বপ্নে দেখলাম, আমার দু'হাতে স্বর্ণের দু'টি কঙ্কন। কঙ্কন দু'টি আমাকে চিন্তিত করল। তখন ঘুমের মধ্যেই আমার প্রতি ওয়াহী করা হল, কাঁকন দু'টিতে ফুঁ দাও। আমি সে দু'টিতে ফুঁ দিলে তা উড়ে গেল। আমি এর ব্যাখ্যা করেছি দু'জন মিথ্যাচারী (নাবী) যারা আমার পরে বের হবে। তাদের একজন 'আনসী, অন্যজন মুসাইলামাহ। [৩৬২১] (আ.প্র. ৪০২৭, ই.ফা. ৪০৩১)


সহিহ মুসলিম অঃ->স্বপ্ন বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন হাঃ-৫৮২৮

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (ভণ্ড নাবী) মুসাইলামাহ্ কায্যাব নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমলে মাদীনায় আসলো, সে তখন বলতে থাকল- ‘মুহাম্মাদ যদি তার (মৃত্যুর) পরে আমাকে নেতৃত্ব দেয়ার ওয়া‘দা করে, তাহলে আমি তার অনুসরণ করব। সে তার সম্প্রদায়ের প্রচুর লোকজন নিয়ে মাদীনায় আসলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ), আর তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ছিল খেজুর শাখার একটি টুকরো। পরিশেষে তিনি সহচর বেষ্টিত মুসাইলামার সম্মুখে গিয়ে থামলেন এবং কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন (তুমি যদি আমার কাছে এ) সামান্য খেজুর ডালের টুকরাটিও আবদার করো, তবু আমি তা তোমাকে দিব না এবং আমি কিছুতেই তোমার বিষয়ে আল্লাহ্‌র আইন লঙ্ঘন করব না। আর যদি তুমি (অবাধ্য হয়ে) পিছনে ফিরে যাও, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে পরাভূত করবেন। আর আমি অবশ্যই ধারণা করি যে, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে। আর (আমি তোমার সঙ্গে বেশি কথা বলতে চাই না) এ সাবিত আমার তরফ থেকে তোমাকে উত্তর দিবে। তারপর তিনি তার নিকট হতে ফিরে চললেন। (ই.ফা. ৫৭৩৬, ই.সে. ৫৭৬৭)