সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->তায়িফের যুদ্ধ হাঃ-৪৩৩৭

আনাস ইবনু মালিক (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হুনায়নের দিন হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রগুলো নিজেদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে এল। আর নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে ছিল দশ হাজার (ও কিছু সংখ্যক) তুলাকা [৭৭] সৈনিক। যুদ্ধে তারা সবাই তাঁর পাশ থেকে পিছনে সরে গেল। ফলে তিনি একাকী রয়ে গেলেন। সেই সময়ে তিনি আলাদা আলাদাভাবে দু'টি ডাক দিয়েছিলেন, তিনি ডান দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। এরপর তিনি বাম দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তরে বললেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাদা রঙের খচ্চরটির পিঠে ছিলেন। তিনি নিচে নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহ্‌র বান্দা এবং তাঁর রসূল। (শেষে) মুশরিকরাই পরাজিত হল। সে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গানীমাত হস্তগত হল। তিনি সেসব সম্পদ মুহাজির এবং নও-মুসলিমদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে কিছুই দেননি। তখন আনসারদের (কেউ কেউ) বললেন, কঠিন মুহূর্ত আসলে ডাকা হয় আমাদেরকে আর গানীমাত দেয়া হয় অন্যদেরকে। কথাটি নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাই তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুতে জমায়েত করে বললেন, ওহে আনসারগণ! একী কথা আমার কাছে পৌঁছল? তাঁরা চুপ করে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আনসারগণ! তোমরা কি খুশি থাকবে না যে, লোকজন দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা (বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহ্‌র রসূলকে সঙ্গে নিয়ে? তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই। তখন নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করে নেব। বর্ণনাকারী হিশাম (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ (আনাস ইবনু মালিক) আপনি কি এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকট হতে কখন বা অনুপস্থিত থাকতাম? [৩১৪৬] (আ.প্র. ৩৯৯৪, ই.ফা. ৩৯৯৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে হাঃ-২৩৩১

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাত্বফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার তুলাক্বাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দু’টি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বললেন, “আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাক্বাদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বললেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বন্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাঁদের এ উক্তি তাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল। তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুর নীচে একত্র করে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌঁছেছে? তাঁরা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সঙ্গে নিয়ে ফিরবে? তারা (উত্তরে) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই আনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, “আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ্! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন! তিনি বললেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যাব?” (ই.ফা. ২৩০৯, ই.সে. ২৩১০)