সহিহ বুখারী অঃ->সৃষ্টির সূচনা বাব->ইবলীস ও তার বাহিনীর বর্ণনা হাঃ-৩২৯০

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হলো, তখন ইব্‌লীস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দারা! তোমাদের পিছনের লোকদের থেকে সতর্ক হও। কাজেই সামনের লোকেরা পিছনের লোকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফলে উভয় দলের মধ্যে নতুনভাবে লড়াই শুরু হল। হুযাইফাহ (রাঃ) হঠাৎ তার পিতা ইয়ামানকে দেখতে পেলেন। তখন তিনি (হুযাইফাহ) বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু আল্লাহর কসম, তারা বিরত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুক। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর সঙ্গে মিলত হওয়া পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ) দু’আ ও ইস্তিগফার করতে থাকেন।


সহিহ বুখারী অঃ->আনসারগণের মর্যাদা বাব->হুযাইফাহ ইব্‌নুল ইয়ামান ‘আবসী (রাঃ) - এর উল্লেখ। হাঃ-৩৮২৪

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধে মুশরিকগণ যখন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পড়লো, তখন ইব্‌লীস চীৎকার করে (মুসলমানগণকে) বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর। তখন অগ্রগামী দল পিছন দিকে ফিরে গেল (শত্রুদল মনে করে) নিজদলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল। এমন সময় হুযাইফাহ (রাঃ) পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ, কিন্তু তারা কেউই বিরত হয়নি। অবশেষে তাঁকে হত্যা করে ফেলল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। (অধস্তন রাবী হিশাম বলেন) আমার পিতা উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম, এ কথার কারণে হুযাইফাহ (রাঃ) - এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কল্যাণের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৭)


সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->শপথ করে ভুলে যখন শপথ ভঙ্গ করে। হাঃ-৬৬৬৮

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, উহূদের যুদ্ধে মুশরিকরা প্রকাশ্যতঃ পরাজিত হলে ইব্‌লিস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দারা! তোমরা পিছনের দিকে ফির। এতে সামনের লোকগুলো পিছনের দিকে ফিরল। তারপর পিছনের লোকগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হুযাইফা ইব্‌নু ইয়ামান (রাঃ) হঠাৎ তাঁর পিতাকে দেখে (মুসলিমদের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, এ তো আমার পিতা, আমার পিতা। আল্লাহ্‌র কসম! তারা ফিরল না। শেষে তারা তাঁকে হত্যা করল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌ তোমাদের ক্ষমা করুন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বললেন যে, আল্লাহ্‌র কসম! মৃত্যু পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মাঝে এ ব্যাপারটি বিদ্যমান ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৩)


সহিহ বুখারী অঃ->রক্তপণ বাব->ভুলবশতঃ হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ক্ষমা করা। হাঃ-৬৮৮৩

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, উহুদের দিন ইব্‌লীস লোকদের মধ্যে চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দারা! পিছনের দলের ওপর আক্রমন চালাও। ফলে তাদের সামনের লোকেরা পেছনের লোকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এমন কি তারা ইয়ামানকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমাদের মাফ করুন। রাবী বলেন, মুশরিকদের একটি দল পরাজিত হয়ে তায়েফ চলে গিয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৭)


সহিহ বুখারী অঃ->রক্তপণ বাব->ভিড়ে মারা গেলে বা হত্যা করা হলে হাঃ-৬৮৯০

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হয়ে গেল তখন ইব্‌লীস চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! পিছনের দলের উপর আক্রমণ কর। তখন সামনের লোকেরা পেছনের লোকেদের উপর আক্রমণ করল ও পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে তাঁর বাবা ইয়ামান আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! (এতো) আমার পিতা! আমার পিতা! তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! তারা তাকে হত্যা না করে থামল না। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, এ কারণে আল্লাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাত না হওয়া পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর অন্তরে এই স্মৃতি জাগরুক ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৩)