বনী যুহরা গোত্রের মিত্র মিকদাদ ইব্নু আমর কিনদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যিনি বদরের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে উপস্হিত ছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এক কাফেরের সঙ্গে আমার মুকাবিলা হল এবং আমাদের মধ্যে লড়াই বাধল। সে তলোয়ার দিয়ে আমার হাতে আঘাত করল এবং তা কেটে ফেলল। তারপর সে কোন গাছের আড়ালে আশ্রয় নিল আর বলল, আমি আল্লাহ্র জন্য মুসলিম হয়ে গেলাম। এ কথা বলার পর কি আমি তাকে হত্যা করতে পারব? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি তাকে হত্যা করবে না। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে তো আমার এক হাত কেটে দিয়েছে। আর কেটে ফেলার পরই এ কথা বলেছে, এতে কি আমি তাকে হত্যা করতে পারব? তিনি বললেনঃ তুমি তাকে হত্যা করবে না। তুমি যদি তাকে হত্যা কর তাহলে তাকে হত্যা করার আগে তুমি যেখানে ছিলে সে সেখানে এসে যাবে। আর সে ঐ কালিমা উচ্চারণ করার আগে যেখানে ছিল তুমি সেখানে চলে যাবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪০০)
হাবীব ইব্নু আবূ আমরা (রহঃ) সা’ঈদ (রহঃ)-এর সূত্রে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিকদাদ (রাঃ) -কে বলেছেনঃ উক্ত মু’মিন লোকটি যখন কাফেরদের মাঝে অবস্হান করছিল তখন সে আপন ঈমান গোপন রেখেছিল। এরপর সে তার ঈমান প্রকাশ করল আর তুমি তাকে হত্যা করে ফেললে। তুমিও তো এর আগে মক্কায় থাকাকালে আপন ঈমান লুকিয়ে রেখেছিলে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪০০)
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার মত কি? যদি আমি কোন কাফিরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই, আর সে আমার উপর আক্রমণ করে তরবারি দ্বারা আমার এক হাত কেটে ফেলে, অতঃপর সে এক বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে আমার আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করে এবং এ কথা বলে যে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। হে আল্লাহর রসূল, সে এ কথা বলে যে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। হে আল্লাহর রসূল! তার এ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করবো? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলেছে আর এটা কাটার পরই সে ঐ কথা বলেছে? এমতাবস্থায় আমি কি তাকে হত্যা করবো? এবারও রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে তাকে হত্যা করার পূর্বে তুমি যে অবস্থায় ছিলে, সে তোমার সে অবস্থায় এসে যাবে। আর ঐ কালিমা বলার পূর্বে সে যে অবস্থায় ছিল, তুমি সে অবস্থায় এসে যাবে। [৪২] (ই.ফা. ১৭৬; ই.সে. ১৮২)
আল-মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি কোন কাফিরের মোকাবিলায় লড়তে গিয়ে তার তরবারির আঘাতে আমার একটি হাত কেটে যায়। তারপর সে আমার পাল্টা আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য কোন গাছে আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম হয়েছি’- একথা বলার পর হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে হত্যা করবো? তিনি বললেনঃ না, তাকে হত্যা করো না। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি তাকে হত্যা করলে এ হত্যার পূর্বে তুমি (ঈমান আনার কারণে) যে মর্যাদায় ছিলে, সে ঐ মর্যাদায় পৌছে যাবে। আর এ কালেমা পাঠের পূর্বে সে যে অবস্থায় ছিল, তুমি তার অবস্থায় চলে যাবে।