আবূ সা’ইদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে– তা গ্রহণ করলেন। তখন আবু বক্র (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন্ বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে-এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কি আছে?)। মূলতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আবূ বক্র, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বক্র। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বক্র। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বক্রের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৫২)
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুৎবার কালে বললেন, আল্লাহ্ তাঁর এক প্রিয় বান্দাকে পার্থিব ভোগ বিলাস এবং তাঁর নিকট রক্ষিত নি’মাতসমূহ এ দু’য়ের মধ্যে যে কোন একটি বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দান করেছেন এবং ঐ বান্দা আল্লাহ্র নিকট রক্ষিত নিয়ামতসমূহ বেছে নিয়েছে। রাবী বলেন তখন আবূ বকর (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। তাঁর কান্না দেখে আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বান্দার খবর দিচ্ছেন যাকে এভাবে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে (তাতে কান্নার কী কারণ থাকতে পারে?) কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারলাম, ঐ বান্দা স্বয়ং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) আমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ দিয়ে, তার সঙ্গ দিয়ে আমার উপর সর্বাধিক ইহসান করেছে সে ব্যক্তি হল আবূ বকর (রাঃ)। আমি যদি আমার রব ছাড়া অন্য কাউকে আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে অবশ্যই আবূ বাক্রকে করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব, আন্তরিক ভালোবাসা আছে। মাসজিদের দিকে আবূ বাকরের দরজা ছাড়া অন্য কোন দরজা খোলা রাখা যাবে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮৯)
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর বসে বললেন, একজন বান্দাকে আল্লাহ তা‘আলা দু‘টি বিষয়ের মাঝে ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দিয়েছেন যে, (১) দুনিয়ার সম্পদ (প্রাচুর্য) দান করা, (২) এবং তাঁর নিজস্ব অবস্থায় বহাল থাকা। সুতরাং এ বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা বেছে নিলেন। এ কথা শুনে আবূ বকর (রাঃ) কান্নাকাটি করতে লাগলেন এবং বললেন, আমাদের পিতৃপুরুষ আপনার জন্য উৎসর্গকৃত হোক। ইখ্তিয়ারপ্রাপ্ত এ বান্দাটি ছিলেন স্বয়ং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে আবূ বক্রই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উপর সর্বাধিক অনুগ্রহ আবূ বাক্রের- সম্পদের ও সঙ্গ দানেও। আমি যদি কাউকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বক্রকেই করতাম। এখন তো ইসলামি ভ্রাতৃত্বই রয়েছে। মাসজিদের চতুস্পার্শে প্রবেশপথ যেন বন্ধ থাকে, শুধু আবূ বাক্রের দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। (ই.ফা. ৫৯৫৪, ই.সে. ৫৯৯৪)
আবু সা'ঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মাসজিদে নাববীর) মিম্বারে বসে বললেনঃ আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়ার ভোগবিলাস ও আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাস এ দুইয়ের মাঝে যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দান করলে ঐ বান্দা আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাসকে এখতিয়ার করেছেন। তখন আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার জন্য আমাদের বাবা-মা উৎসর্গিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা (তার কথায়) বিস্মিত হলাম এবং লোকেরা বলল, এই বৃদ্ধ লোকের প্রতি খেয়াল কর, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বান্দা প্রসঙ্গে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাকে আল্লাহ তা'আলা এখতিয়ার দিয়েছেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার ভোগ সামগ্ৰীও দান করতে পারেন কিংবা তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলার নিকট তাকে রক্ষিত ভোগসামগ্ৰীও দান করতে পারেন। অথচ এই লোক বলছেন, আপনার জন্য আমাদের বাবা-মাকে উৎসর্গ করলাম! সেই এখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) । আর আবু বাক্র (রাঃ) আমাদের মাঝে, তাঁর প্রসঙ্গে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লোকদের মাঝে স্বীয় মাল ও সাহচর্য দিয়ে আমার প্রতি সবচাইতে উপকার (কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ) করেছেন আবু বাক্র। আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বাক্রকেই একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই যথেষ্ট। মাসজিদে আবু বাক্রের দ্বার (বা জানালা) ছাড়া আর কোন দ্বার (বা জানালা) বাকি থাকবে না। সহীহঃ বুখারী (৩৬৫৪), মুসলিম (৭/১০৮) ।