সহিহ বুখারী অঃ->আনসারগণের মর্যাদা বাব->আনসার গোত্রসমূহের মর্যাদা। হাঃ-৩৭৯০

আবূ উসায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আনসারদের মধ্যে বা আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, বানূ আবদুল আশহাল, বানূ হারিস ও বানূ সা’য়িদা। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৬)


সহিহ বুখারী অঃ->আনসারগণের মর্যাদা বাব->সা’দ ইব্‌নু ‘উবাদাহ (রাঃ) - এর মর্যাদা। হাঃ-৩৮০৭

আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম গোত্র হল, বানু নাজ্জার, তারপর বানু ‘আবদ-ই-আশহাল, তারপর বানু হারিস ইব্‌নু খাযরাজ তারপর বানু সায়িদাহ। আনসারদের সব গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তখন সা‘দ ইব্‌নু ‘উবাদাহ (রাঃ) যিনি ছিলেন প্রথম যুগের অন্যতম মুসলমান বললেন, আমার ধারণা যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন, তাঁকে বলা হল, আপনাদেরকে বহু গোত্রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩২)


সহিহ বুখারী অঃ->পোশাক-পরিচ্ছদ বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী ধরনের পোশাক ও বিছানা গ্রহণ করতেন। হাঃ-৫৮৪৩

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এক বছর যাবৎ অপেক্ষায় ছিলাম যে ‘উমার (রাঃ) -এর কাছে সে দু’টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো যারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বিরুদ্ধে জোট বদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু আমি তাঁকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের নিকটে গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ (তাঁরা হলেন) ‘আয়িশা ও হাফ্‌সাহ। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন কিছু বলে গণ্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ তাদের (মর্যাদার কথা) উল্লেখ করলেন, তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের হক আছে এবং এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা চলবে না। একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হচ্ছিল। সে আমার উপর শক্ত ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সে স্থানেই। স্ত্রী বললেনঃ তুমি আমাকে এমন বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসাহ্‌র কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহ্‌র রসূলের নাফরমানী করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কষ্ট দেয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মু সালমাহ (রাঃ) -এর কাছে এলাম এবং তাঁকেও তেমনি বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমার! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন। এক লোক ছিলেন আনসারী। তিনি যখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মজলিস থেকে দূরে থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, যা কিছু হতো সে সব আমি তাঁকে জানাতাম। আর আমি যখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতাম, আর তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর এখানে যা কিছু ঘটতো তা এসে আমাকে জানাতেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চারপাশে যারা (রাজা-সম্রাট) ছিল তাঁদের উপর রসুলের কর্তৃত্ব কায়িম হয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাস্‌সান শাসক। তার আক্রমনের আমরা আশঙ্কা করতাম। হঠাৎ আনসারী যখন বললঃ এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাকে বললামঃ কী সে ঘটনা! গাস্‌সানী কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চেয়েও ভয়াবহ। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম সকল কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কক্ষের কুঠুরিতে অবস্থান করছেন। প্রবেশ দ্বারে অল্প বয়স্ক একজন খাদিম বসে আছেন। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্যে অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যাতে তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেছে। তাঁর মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ, তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসাহ ও উম্মু সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মু সালামাহ আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সে সব আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে থাকার পর নামলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৩)


সহিহ বুখারী অঃ->আচার-ব্যবহার বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বাণীঃ আনসারদের গৃহগুলো উৎকৃষ্ট। হাঃ-৬০৫৩

আবূ উসাইদ সা‘ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আনসারদের গৃহগুলোর মধ্যে নাজ্জার গোত্রের গৃহগুলোই উৎকৃষ্ট।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনসারগণের উত্তম গৃহসমূহ। হাঃ-৬৩১৫

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আনসারদের ঘরসমূহের মাঝে সবচেয়ে ভাল ঘর হলো বানূ নাজ্জার সম্প্রদায়ের, তারপর বানূ আশহালের ঘর, তারপর বানূ হারিস ইবনু খাযরাজের ঘর, তারপরহলো বানূ সাইদাহ সম্প্রদায়ের গৃহ। আনাসারদের প্রত্যেকটি গৃহেই কল্যাণ বিরাজ করছে। সা’দ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উপর অন্যদের গুরুত্ব দিয়েছেন। লোকেরা বলল, তোমাদেরকেও অনেকের উপর স্থান দিয়েছেন। (ই.ফা.৬১৯৩, ই.সে. ৬২৩৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনসারগণের উত্তম গৃহসমূহ। হাঃ-৬৩১৮

ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু তালহাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ উসায়দ (রাঃ) কে ইবনু উতবার নিকট ভাষণ দিতে শুনেছি যে, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন আনসারদের গৃহসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম গৃহ বানূ নাজ্জারের ঘর, বানূ আশহালের ঘর, বানূ হারিস ইবনু খাযরাজের ঘর এবং বানূ সা’ইদার ঘর। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি যদি আনসাদের উপরে কাউকে মর্যাদায় অগ্রাধিকার দিতাম তাহলে আমার কাওমকে অগ্রাধিকার দিতাম। (ই.ফা.৬১৯৬, ই.সে. ৬২৪২)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনসারগণের উত্তম গৃহসমূহ। হাঃ-৬৩১৯

আবূ উসায়দ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ সালামাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন আনসারদের গৃহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে বানূ নাজ্জারের ঘর, এরপর বানূ আব্দুল আশহালের ঘর এরপর বানূ হারিস ইবনু খাযরাজের ঘর এরপর বানূ সা’ইদার ঘর। তাছাড়া প্রত্যেক আনসারীর গৃহেই কল্যাণ বিরাজ করছে। আবূ সালামাহ (রহঃ) বলেন, আবূউসায়দ (রাঃ) বলেছেন আমি যদি মিথ্যাচার করতাম তাহলে আমি বংশ বানূ সা’ইদাহ দিয়ে আরম্ভ করতাম। তাতে আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর অপবাদকারীরূপে গণ্য হতাম। ব্যাপারটি সা’দ ইবনু উবাদাহ(রাঃ) এর কাছে পৌছলে তিনি অস্বস্তিবোধ করলেন এবং তিনি বললেন, আমাদের পেছনে দেয়া হয়েছে। অতএব আমরা চার জনের মধ্যে চতুর্থ (শেষ) স্থান পড়ে গেছি। আমার গাধার পৃষ্ঠে গদি লাগাও আমিরসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট চলে যাব। তাঁর সাথে তাঁর ভাইয়ের ছেলে সাহলের কথোপকথন হচ্ছিল। সে বলেছিল, আপনি কি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট প্রতিবাদ জানানোর জন্য যাবেন বরং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বাধিক জ্ঞাত? চার জনের মাঝে চতুর্থ হওয়া কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তখন তিনি থামলেন এবংবললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। তারপর তিনি তার গাধার জিন খুলতে নির্দেশ দিলেন এবং তা খুলে ফেলা হলো। (ই.ফা.৬১৯৭, ই.সে. ৬২৪৩)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->আনসারদের কোন ঘর শ্রেষ্ঠ? হাঃ-৩৯১১

আবূ উসাইদ আস-সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আনসারদের ঘরগুলোর মাঝে ভাল হল বানু নাজ্জারের ঘরগুলো, তারপর বানু ‘আবদুল আশহালের ঘরগুলোর, তারপর ইবনুল হারিস ইবনুল খাযরাজ, তারপর বানু সা’ইদাহ্‌। আনসারদের প্রত্যেক পরিবারের মাঝেই মঙ্গল রয়েছে। সা’দ (রাঃ) বলেন, আমি দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের গোত্রের উপর অন্যান্য আনসার পরিবারকে মর্যাদা দিয়েছেন। সে সময় তাকে বলা হল, তিনি তোমাদেরকে তো অনেকের উপরই মর্যাদা দিয়েছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->আনসারদের কোন ঘর শ্রেষ্ঠ? হাঃ-৩৯১৩

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আনসারদের মাঝে বানু ‘আবদুল আশহালই ভাল। এই হাদীসের পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ।