ইব্নু ‘উমার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বেশ ক’জন সহাবী রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে স্বপ্ন দেখতেন। অতঃপর তারা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তা বর্ণনা করতেন। আর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা দিতেন যা আল্লাহ্ ইচ্ছা করতেন। আমি তখন অল্প বয়সের যুবক। আর বিয়ের আগে মাসজিদই ছিল আমার ঘর। আমি মনে মনে নিজেকে সম্বোধন করে বললাম, যদি তোমার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকত তাহলে তুমি তাদের মত স্বপ্ন দেখতে। আমি এক রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বললাম, হে আল্লাহ্! আপনি যদি জানেন যে, আমার মধ্যে কোন কল্যাণ আছে তাহলে আমাকে কোন একটি স্বপ্ন দেখান। আমি ঐ অবস্থায়ই (ঘুমিয়ে) থাকলাম। দেখলাম আমার কাছে দু’জন ফেরেশ্তা এসেছেন। তাদের প্রত্যেকের হাতেই লোহার একটি করে হাতুড়ি। তারা আমাকে নিয়ে (জাহান্নামের দিকে) এগোচ্ছে। আর আমি তাদের দু’জনের মাঝে থেকে আল্লাহ্র কাছে দু‘আ করছি, হে আল্লাহ্! আমি জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর আমাকে দেখান হল যে, একজন ফেরেশ্তা আমার কাছে এসেছেন। তাঁর হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। সে আমাকে বলল, তোমার অবশ্যই কোন ভয় নেই। তুমি খুবই ভাল লোক, যদি অধিক করে সলাত আদায় করতে। তারা আমাকে নিয়ে চলল, অবশেষে তারা আমাকে জাহান্নামের (ধারে এনে) দাঁড় করাল, (যা দেখতে) কূপের মত গোল আকৃতির। আর কূপের মত এরও রয়েছে অনেক শিং। আর দু’শিং-এর মাঝখানে একজন ফেরেশ্তা, যার হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। আর আমি এতে কিছু লোককে (জাহান্নামে) শিকল পরিহিত দেখলাম। তাদের মাথা ছিল নিচের দিকে। কুরাইশের এক ব্যক্তিকে সেখানে আমি চিনে ফেললাম। অতঃপর তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে ফিরল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৫৫)
ইব্নু ‘উমার থেকে বর্নিতঃ
এ ঘটনা (স্বপ্ন) আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। আর হাফসাহ (রাঃ) তা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলেন : তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘আবদুল্লাহ্ তো নেক্কার লোক। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, এরপর থেকে তিনি সর্বদা অধিক করে (নফল) সলাত আদায় করতেন। [১৫১](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৪২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৫৫)
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে অবিবাহিত যুবক ছিলাম। আমি মাসজিদেই রাত কাটাতাম। আর যারাই স্বপ্নে কিছু দেখত তারা তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করত। আমি বললাম, হে আল্লাহ্! যদি তোমার নিকট আমার জন্য কোন কল্যাণ নিহিত থাকে, তাহলে আমাকে কোন স্বপ্ন দেখাও, যাতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আমি ঘুমিয়ে গেলাম, তখন দেখতে পেলাম যে দু’জন ফেরেশতা আমার কাছে এসে আমাকে নিয়ে চলল, এরপর তাদের সঙ্গে অপর একজন ফেরেশতার সাক্ষাৎ ঘটল। সে আমাকে বলল, তোমার কোন ভয়ের কারণ নেই। তুমি তো একজন নেক্কার লোক। এরপর তারা আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চলল, এটি যেন কূপের মত গোলাকার নির্মিত। আর এর মধ্যে বেশ কিছু লোক রয়েছে। এদের কতককে আমি চিনতে পারলাম। এরপর তারা আমাকে ডানদিকে নিয়ে চলল। যখন সকাল হল, আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর নিকট সব ঘটনা উল্লেখ করলাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৪৩ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৫৬)
হাফসাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
পরে হাফসাহ (রাঃ) বললেন যে, তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বলেছেন: ‘আবদুল্লাহ্ নেক্কার লোক। (তিনি আরও বলেছেন) যদি সে রাতে অধিক করে সলাত আদায় করত। যুহরী (রহঃ) বলেন, এরপর থেকে ‘আবদুল্লাহ্ (ইব্নু ‘উমার) (রাঃ) রাতে অধিক করে সলাত আদায় করতে লাগলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৪৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৫৬)
‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, সওম পালনকারী ব্যক্তি চুম্বন করতে পারে কি? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, কথাটি উম্মু সালামাকে জিজ্ঞেস কর। (তাঁকে জিজ্ঞেস করার পর) তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমূদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, শোন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহ তা’আলাকে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ভয় করি। (ই.ফা. ২৪৫৫, ই.সে. ২৪৫৪)
‘আব্দুর রহমান ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ (রাঃ) বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমার ভাই কঠোরভাবে যুদ্ধ করলেন। ঘটনাক্রমে নিজের তরবারি তার দিকে ঘুরে গেলে এর আঘাতেই তিনি নিহত হন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাহাবীগণ বলাবলি করলেন এবং তার মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে বললেন, তিনি তো নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে জিহাদকারি মুজাহিদ হিসেবে মারা গেছে। বর্ননাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া’র এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলে সেও তার পিতার সূত্রে একই কথা বললো। তবে সে এও বলেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের ধারণা মিথ্যা। সে জিহাদকারী মুজাহিদ হিসেবে মারা গেছে এবং তার জন্য দ্বিগুন সওয়াব রয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, একদা এক লোক রাস্তায় চলতে চলতে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। সে একটি কুপ দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করলো। কুপ থেকে উঠে সে দেখলো, একটি কুকুর হাপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে কাদামাটি চাটছে। সে ভাবলো, আমার যেরুপ পিপাসা পেয়েছিল কুকুরটিরও অনুরুপ পিপাসা পেয়েছে। সে আবার কুপের মধ্যে নামলো এবং পায়ের মোজায় পানি ভরে তা মুখে কামড়ে ধরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তার এ কাজে খুশী হয়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এসব প্রানীর সেবা করলেও আমাদেরকে সওয়াব দেয়া হবে? তিনি বললেন, প্রতিটি জীবিত প্রানীর সেবার জন্য সওয়াব আছে।
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আমি ছিলাম অবিবাহিত যুবক। আমি মসজিদেই রাত কাটাতাম। আমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বর্ণনা করতো। আমি মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমার জন্য কোন কল্যাণ থাকলে তা আমাকে স্বপ্নে দেখাও যার ব্যাখ্যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলে দিবেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি স্বপ্নে আমার নিকট দু’জন ফেরেশতাকে আসতে দেখলাম। তারা আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, পথিমধ্যে আরেকজন ফেরেশতা তাদের সাথে মিলিত হন। তিনি বলেন, তুমি ভয় পেয়ো না। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চললো। তা ছিলো একটি কূপের ন্যায়। তাতে আমি কিছু সংখ্যক লোক দেখতে পেলাম, যাদের কতককে আমি চিনতে পেরেছি। তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে গেলো। ভোর হলে আমি বিষয়টি হাফসা (রাঃ) কে বললাম। হাফসা (রাঃ) তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বললেন। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক। সে যদি রাতে অধিক নামায পড়তো। যুহরী (রাঃ) বলেন, তখন থেকে আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে বেশী বেশী নামায পড়তেন। [৩২৫১]
সাহল ইবনু ‘সাদ আস্ –সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকামকে মাসজিদে বসা দেখে আমি তাঁর নিকট এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসলাম। তিনি আমাদের বললেন, যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, নাবী, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দ্বারা লেখাচ্ছিলেন : “লা ইয়াসতাবিল কা’ইদূনা মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুজাহিদূনা ফী সাবীলিল্লাহ”। তখন তাঁর নিকট ইবনু উম্মি মাকতূম (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি যদি জিহাদ করতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন অন্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল। তা এত ভারী লাগছিল যে, এতে আমার উরু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর এ অবস্থা দূরীভূত হয়। আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর অবতীর্ণ করেন : “গাইরু উলিয যারারি”। সহীহ : বুখারী (৪৫৯২)।