সহিহ বুখারী অঃ->কোমল হওয়া বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সহাবীগণের জীবন যাপন কিরূপ ছিল এবং তাঁরা দুনিয়া থেকে কী অবস্থায় বিদায় নিলেন । হাঃ-৬৪৫৩

কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

কায়স (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমি সা‘দ ইব্‌নু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমিই সর্বপ্রথম আরব যে আল্লাহ্‌র পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধের সময় আমাদের অবস্থা দেখেছি যে হুবলা পাতা ও ঝাউগাছ ব্যতীত খাবারের কিছুই ছিল না। আমাদের মল বকরির মলের মত হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল সম্পূর্ন শুক্‌নো। আর এখন আবার বনূ আসাদ এসে ইসলামের উপর চলার জন্য আমাকে তিরস্কার করছে। এখন আমি শংকিত যে আমার পূর্বেকার চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেল।[মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৬৬, আহমাদ ১৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৯)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন এবং আলেমগণকে ঐক্যের ব্যাপারে যে উৎসাহ দান করেছেন। হাঃ-৭৩২৩

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) - কে কুরআন পড়াতাম। ‘উমর (রাঃ) যখন তার শেষ হজ্জ পালন করতে আসলেন, তখন ‘আবদুর রহমান (রাঃ) মিনায় আমাকে বললেন, তুমি আজ আমীরুল মু’মিনীনের কাছে থাকলে দেখতে পেতে যে, তাঁর কাছে এক লোক এসে বলল, এক লোক বলেছে, যদি আমীরুল মু’মিনীন মারা যেতেন, তাহলে আমরা অমুক লোকের হাতে বায়’আত নিতে পারতাম। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আজ বিকেলে অবশ্য অবশ্যই দাঁড়িয়ে আমি তাদেরকে সতর্ক করব, যারা মুসলিমদের হক ছিনিয়ে নিতে চায়। আমি বললাম, আপনি এমনটি করবেন না। কেননা, এখন হাজ্জের মৌসুম। এখন সাধারণ মানুষের সমবেত হওয়ার সময়। তারা আপনার মাজলিসকে কাবু করে ফেলবে। আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে বুঝতে পারবে না। হের-ফের করে চারদিকে রটিয়ে দেবে। বরং আপনি হিজরত ও সুন্নাতের আবাসভূমি মদীনায় পোঁছা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারা আপনার বক্তব্য হেফাজত করবে এবং তার উপযুক্ত মর্যাদা দিবে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমি মদীনায় পোঁছলে অবশ্য অবশ্যই সবচেয়ে আগে এটি করবো। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমরা মদীনায় পোঁছলাম। তখন ‘উমর (রাঃ) ভাষণ দিলেন, আল্লাহ্‌ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে ‘রজম’ – এর আয়াতও রয়েছে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮২৪)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->দুনিয়াবী ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি বাব->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের জীবন-যাপন হাঃ-২৩৬৬

কাইস (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ

সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আরবের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্‌ তা’আলার পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমরা নিজেরা জিহাদ করেছি। তখন খাবারের জন্য বাবলা গাছের ফল আর বুনো জাম ছাড়া আমাদের সাথে আর কিছু ছিল না। আমাদের এক একজন তা খেয়ে ছাগলের বিষ্ঠার ন্যায় পায়খানা করত। অথচ বর্তমানে আসাদ বংশের জনগণ ধর্মের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করছে। তাই যদি হয়, তাহলে তো আমি ব্যর্থ হয়েছি এবং আমার আমলও বিনষ্ট হয়ে গেল। সহীহ্‌ , দেখুন পূর্বের হাদীস।