সহিহ বুখারী অঃ->খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) বাব->খুমুস ইমামের জন্য, অধিকার রয়েছে আত্মীয়গনের কাউকে বাদ দিয়ে কাউকে প্রদানের। হাঃ-৩১৪০

জুবাইর ইব্‌নু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইব্‌নু ‘আফ্‌ফান (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বানূ মুত্তালিবকে দিয়েছেন, আর আমাদের বাদ দিয়েছেন। অথচ আমরা এবং তারা আপনার সঙ্গে একই স্তরে সম্পর্কিত। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বানূ মুত্তালিব ও বানূ হাশিম একই স্তরের। লায়স (রহঃ) বলেন, ইউনুস (রহঃ) আমাকে এ হাদীসটিতে আরো বেশি বলেছেন যে, জুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানূ আবদ শাম্‌স ও বানূ নাওফালকে অংশ দেননি। ইবনু ইসহাক (রহঃ) বলেন, আবদ শাম্‌স, হাশিম ও মুত্তালিব একই মায়ের গর্ভজাত সহোদর ভাই। তাঁদের মাতা হলেন আতিকা বিনতু মুররা আর নাওফাল ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই।


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->খাইবার [৪৭]-এর যুদ্ধ হাঃ-৪২২৯

যুবায়র ইবনু মুত'ঈম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং 'উসমান ইবনু আফ্‌ফান (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি খাইবারের প্রাপ্ত খুমুস থেকে বানু মুত্তালিবকে অংশ দিয়েছেন, আমাদেরকে দেননি। অথচ আমরা ও তারা সম্পর্কের দিক থেকে আপনার কাছে একই পর্যায়ের। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিঃসন্দেহে বানী হাশিম এবং বানু মুত্তালিব সম-মর্যাদার অধিকারী। যুবায়র (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানু 'আবদে শাম্‌স ও বানু নাওফিলকে (খাইবার যুদ্ধের খুমুস থেকে) কিছুই বণ্টন করেননি। [৩১৪০] (আ.প্র.৩৯০৫, ই.ফা. ৩৯০৯)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->কর, ফাই ও প্রশাসক বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনিমতের মাল থেকে যে এক-পঞ্চমাংশ নিতেন তা কোথায় ব্যয় করতেন এবং নিকটাত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে হাঃ-২৯৭৮

জুবাইর ইবনু মুত্ব’ইম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা তিনি এবং ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) গনীমাতের এক-পঞ্চমাংশ বণ্টন সম্পর্কে আলাপ করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলেন, যা তিনি হাশিম ও মুত্তালিব বংশের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের ভাই বনু মুত্তালিবের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ বণ্টন করলেন, আর আমাদের কিছুই দিলেন না। অথচ আপনার সাথে আত্মীয়তার বন্ধনের দিক থেকে তারা এবং আমরা একই পর্যায়ভুক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব একই। জুবাইর (রাঃ) বলেন, তিনি বনু ‘আবদে শামস ও বনু নাওফাল বংশীয়দের তা প্রদান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকরও (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটাত্মীয়দেরকে এক-পঞ্চমাংশ থেকে দেননি, যেভাবে তিনি বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবদেরকে তা দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর (রাঃ)এক-পঞ্চমাংশ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নীতি অনুসরণ করতেন। ব্যতিক্রম ছিল, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটাত্মীয়দেরকে এক-পঞ্চমাংশ থেকে ভাগ দিতেন না, যদিও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে দিতেন। কিন্তু ‘উমার (রাঃ) এবং পরে ‘উসমান (রাঃ) তাদেরকে তা থেকে দিয়েছেন। সহীহঃ ইরওয়া (১২৪২)।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->জিহাদ বাব->যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনীমত) বণ্টন হাঃ-২৮৮১

জুবায়র বিন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ও উসমান বিন আফফান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন খায়বারে প্রাপ্ত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে তাঁর সাথে আলাপ করার জন্য। তারা বললেন, আপনি আমাদের ভ্রাতৃগোষ্ঠী বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবের মধ্যে বন্টন করেছেন, অথচ আমাদের আত্মীয় সম্পর্ক তো একই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবকে একই মনে করি। [২৮৮১] তাহকিক আলবানীঃ সহীহ।


সুনান নাসাঈ অঃ->যুদ্ধলব্ধ মাল বণ্টন বাব->যুদ্ধলব্ধ মাল বণ্টন হাঃ-৪১৩৬

জুবায়র ইব্‌ন মুত‘ইম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এবং উসমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়ে হুনায়নের মালের ব্যাপারে বললেন, যা তিনি বনূ হাশিম এবং বনূ মুত্তালিবের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন। তারা দু’জন বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌। আপনি আমাদের ভাই বনূ আবদুল মুত্তালিবকে দান করলেন এবং আমাদেরকে কিছুই দিলেন না। অথচ আমরাও আপনার ঐরূপ আত্মীয়? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বললেনঃ আমি তো বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবকে একই মনে করি। জুবায়ের ইব্‌ন মুত‘ইম (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনূ আবদ শামস ও বনূ নওফলকে তা থেকে কিছুই দিলেন না, যেমন তিনি বনূ হাশিম এবং আবদুল মুত্তালিবকে দিলেন।