সহিহ বুখারী অঃ->আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) বাব->৬০/১০. অধ্যায়ঃ হাঃ-৩৩৬৬

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরী করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোন্‌টি? তিনি বললেন, মসজিদে আক্‌সা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। অতঃপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে।


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদ নির্মাণ হাঃ-১০৪৮

আবু যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রসুল! পৃথিবীতে কোন্ মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মাসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম এরপর কোনটি (মসজিদটি)। তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আক্বসা বা বায়তুল মাক্বদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, এ দুটি মাসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেনঃ) যে স্হানেই সলাতের সময় উপস্হিত হবে, তুমি সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মসজিদ। আবু কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই সলাতের সময় হবে, তুমি সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মসজিদ। (ইসলামিক ফাঊন্ডেশন বাংলাদেশ ১০৪২, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১০৫২)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদ নির্মাণ হাঃ-১০৪৯

ইবরাহীম ইবনু ইয়াযীদ আত্ তায়মী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে “সাদ্দাহ” অর্থাৎ মাসজিদের দরজার বাইরে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনাতাম। আমি সাজদার আয়াত পড়লে তিনি তখন সাজদাহ্ করতেন। আমি তাকে বলতাম, আব্বাজান! আপনি রাস্তায় সাজদাহ করছেন? তিনি বলতেন, আমি আবূ যার-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, মাসজিদুল হারাম (সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর পর কোন মসজিদ (নির্মিত হয়েছিল?) তিনি বললেন, মাসজিদুল আক্বসা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এ দু’টি মাসজিদের (নির্মিত কাজের) মধ্যে কতদিনের ব্যবধান? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। এছাড়া গোটা পৃথিবীইতো মসজিদ। সুতরাং যেখানেই সলাতের সময় হবে, সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। (ই. ফা. ১০৪৩ ই. সে. ১০৫৩)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->কিতাবুল সিয়াম (রোযা) বাব->আশূরার দিন রোযা পালন না করার সুযোগ হাঃ-৭৫৩

আইশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরাইশরা জাহিলী যুগে এমন একটি দিনে রোযা রাখত যে দিনটি ছিল আশূরা। সেদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও রোযা পালন করতেন। তিনি মাদীনায় আসার পরও ঐ রোযা পালন করেছেন এবং রোযা পালনের জন্য লোকদেরকেও আদেশ করেছেন। রমযান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর এটাই ফরয হিসাবে রয়ে গেল এবং তিনি আশূরার রোযা ছেড়ে দিলেন। ফলে এই দিনে যে লোক ইচ্ছা করে সে রোযা পালন করতে পারে আর যে ইচ্ছা না করে সে তা ছেড়েও দিতে পারে। -সহীহ, সহীহ্‌ আবূ দাঊদ (২১১০), বুখারী, মুসলিম


সুনান নাসাঈ অঃ->মসজিদ বাব->প্রথম মসজিদের আলোচনা হাঃ-৬৯০

ইবরাহীম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন : আমি রাস্তায় বসে আমার পিতার নিকট কুরআন পাঠ করতাম, যখন আমি সিজদার আয়াত পাঠ করলাম তিনি সিজদা করলেন, তখন আমি বললাম আব্বা ! আপনি রাস্তায় সিজদা করছেন ! তিনি বললেন, আমি আবূ যর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোন মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয় ? তিনি বলেছিলেন, মসজিদুল হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি ? তিনি বললেন, মসজিদুল আকসা। আমি বললাম, এতদুভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত ? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। আর যমীন তোমার জন্য মসজিদ (সিজদার স্থান)। অতএব যেখানেই সালাতের সময় হবে, সালাত আদায় করবে।