‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আসমা (রাঃ)-এর নিকট হতে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়। এর অনুসন্ধানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সাহাবীকে পাঠালেন। ইতোমধ্যে সলাতের সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে উযূ ব্যতীতই সলাত আদায় করলেন। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইব্নু হুযায়র (রাঃ) বললেন, (হে ‘আয়িশা) আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহ্র কসম! যখনই আপনি কোন সমস্যায় পড়েছেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা তা থেকে আপনাকে বের করে এনেছেন এবং মুসলিমদের জন্য এর মধ্যে বরকত রেখে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৯)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন যে, তিনি আসমা (রাঃ) থেকে গলার একছড়া হার ধার হিসাবে এনেছিলেন। এরপর তা হারিয়ে যায়। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে তা খোঁজ করে বের করার জন্য পাঠালেন। এমন সময় সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা ওযূতে সলাত আদায় করলেন। এরপর যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর খেদমতে হাযির হয়ে অভিযোগ করলেন, তখন তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হল। উসায়দ ইব্নু হুযায়র (রাঃ) বললেন, [হে ‘আয়িশা (রাঃ)!] আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম পুরষ্কার দান করুন! কারণ যখনই আপনার ওপর কোন অসুবিধা আসে, তখনই আল্লাহ্ তা’আলার তরফ থেকে তা আপনার জন্য বিপদমুক্তির ও উম্মাতের জন্য বারাকাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৬)
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার (আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েকজন পুরুষ লোককে তার খোঁজে পাঠান। এমন সময় সলাতের সময় উপস্থিত হয়। তাদের কারও অযু ছিল না এবং তারা পানিও পেল না। কাজেই অযু ছাড়াই তাঁরা সলাত আদায় করে নিলেন। (ফিরে এসে) তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] ইবনু নুমায়র হিশামের সূত্রে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ হার ‘আয়িশা (রাঃ) আসমা (রাঃ) থেকে ধার নিয়েছিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫০)
‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আসমা (রাঃ) থেকে একটি হার ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর তা হারিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাদের মধ্যে কিছু লোককে খুঁজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সলাতের সময় হয়ে গেল। তখন তারা ওযূ ছাড়াই সলাত আদায় করলেন। এরপর তারা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে (আয়িশাহ্) উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার ওপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে তখন আল্লাহ তা’আলা আপনার জন্যে এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাতে বারাকাত রেখেছেন। [১০১] (ই.ফা. ৭০২, ই.সে. ৭১৭)
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আসমা’ (রাঃ)-এর নিকট থেকে একটি হার ধার নেন এবং সেটি হারিয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির খোঁজে লোক পাঠান। ইত্যবসরে তাদের সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা উযুতে সলাত আদায় করেন। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তখন তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ বিন হুদায়র (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তমরূপে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহ্র শপথ! যখনই আপনার উপর কোন কঠিন বিপদ এসেছে, তখনই আল্লাহ তা থেকে আপনার জন্য নাযাতের পথ বের করে দিয়েছেন এবং তাতে মুসলিমদের জন্য বারাকাত রেখেছেন। [৫৬৫]
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসায়দ ইব্ন হুযায়র (রাঃ) এবং আরও কয়েক ব্যক্তিকে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর একটি হার তালাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন, যা তিনি যে মনযিলে অবতরণ করেছিলেন সেখানে হারিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হল, অথচ লোকদের উযূ ছিল না আর তারা পানিও পাচ্ছিলেন না। তখন তারা উযূ ব্যতীতই সালাত আদায় করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করলেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। উসায়দ ইব্ন হুযায়র(রাঃ)বলে উঠলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন, যখনই আপনার প্রতি এমন কোন বিপদ আপতিত হয়েছে যা আপনি অপছন্দ করেন, তার মধ্যেই আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার ও মুসলমানদের জন্য কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।