যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, শীঘ্রই একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এতে আরবের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। ইয়াজুজ ও মাজুজের দেয়ালে এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, একথা বলে দু’টি আঙ্গুল গোলাকার করে দেখালেন। যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব, অথচ আমাদের মধ্যে বহু নেক ব্যক্তি আছেন?” নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে।
যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রক্তবর্ণ চেহারা নিয়ে ঘুম থেকে জাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্’! আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। নিকটবর্তী এক দুর্যোগে আরব ধ্বংস হয়ে যাবে। ইয়াজূজ-মা‘জূজের (প্রতিরোধ) প্রাচীর আজ এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। সুফ্ইয়ান নব্বই কিংবা একশ’র রেখায় আঙ্গুল রেখে গিঁট বানিয়ে দেখলেন। জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ আমাদের মাঝে নেককার লোকও থাকবে? নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮১)
যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদ্বিগ্ন অবস্থায় এরূপ বলতে বলতে আমার গৃহে প্রবেশ করলেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই। আক্ষেপ আরবের জন্য মন্দ থেকে যা অতি নিকটবর্তী। বৃদ্ধাঙ্গুল ও তৎসংলগ্ন আঙ্গুল গোলাকৃতি করে তার দিকে ইশারা করে বললেনঃ আজ ইয়াজূজ ও মাজূজের দেয়াল এ পরিমাণ খুলে গেছে। যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদের মাঝে সৎ লোকেরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি পাপকাজ বৃদ্ধি পায়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫০)
যাইনাব বিনতু জাহ্শ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’-এর নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত ফিতনায় আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ ইয়া’জূজ-মা’জূজ এর দেয়াল এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় সুফ্ইয়ান নিজ হাত দ্বারা [১0] দশের গিট বানালেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে নেক লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে হবে। (ই.ফা. ৬৯৭১, ই.সে. ৭০২৯)
নবী (সাঃ)-এর স্ত্রী যাইনাব বিনতু জাহ্শ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলেন। তখন তাঁর বারাকাতময় চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করলো। তিনি বলছিলেন, ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। আরব বিশ্বের আগত অকল্যাণের দরুন বড়ই পরিতাপ যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। আজ ইয়া’জূজ মা’জূজ এর প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত আঙ্গুলির দ্বারা বেড় বানালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সা)! আমাদের মাঝে অনেক সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৭৩, ই.সে. ৭০৩১)
যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রক্তিমাভ মুখমণ্ডল নিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং তিনি বলছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই), ঘনিয়ে আশা দুর্যোগে আরবের দুর্ভাগ্য। ইয়াজূজ-মাজূজের প্রাচীর এতোটুকু ফাঁক হয়ে গেছে। তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুল দিয়ে দশ সংখ্যার বৃত্ত করে দেখান। যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা অবস্থায় কি আমরা ধ্বংস হবো? তিনি বলেনঃ (হাঁ) যখন পাপাচারের বিস্তার ঘটবে। [৩২৮৫]