সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একবার ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কয়েকজন নারী কথা বলছিলেন এবং তাঁরা অধিক পরিমাণ দাবী দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। আর ‘উমার (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন হে আল্লাহ্র রসূল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নারীদের ব্যাপার দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার নিকট ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শুনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনাকেই-তো অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজের ক্ষতিকারী নারীরা! তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহ্র রসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, হাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন রাস্তায় তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা ধরে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৫)
ইসমা’ঈল (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট (প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর নিকট কুরাইশের কয়েকজন মহিলা প্রশ্নাদি করছিলেন এবং তাদের আওয়াজ তাঁর আওয়াজের চেয়ে উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার (রাঃ) অনুমিত চাইলেন, তখন তাঁরা জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দেয়ার পর যখন তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে হাসি মুখে রাখুন; হে আল্লাহ্র রসূল! তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার নিকট যে সব মহিলা ছিলেন, তাদের প্রতি আমি আশ্চর্য হচ্ছি যে, তাঁরা তোমার আওয়াজ শোনা মাত্রই জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ্র রসূল! এদের ভয় করার ব্যাপারে আপনার হকই বেশি। এরপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে নিজের জানের দুশমনরা! তোমরা কি আমাকে ভয় কর, আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে ভয় কর না? তাঁরা জবাব দিলেনঃ আপনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনেক অধিক শক্ত ও কঠোর লোক। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে ইবনু খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন, যখনই শয়তার পথ চললেত চলতে তোমার সামনে আসে, তখনই সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য রাস্তা ধরে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৩)
সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘উমার (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন কুরায়শ নারীরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কথোপকথনে লিপ্ত ছিল এবং তারা উচ্চৈঃস্বরে বেশি বেশি কথা বলছিল। যখন ‘উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলেন এরা উঠে অভ্যন্তরে চলে গেল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার মুখকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআমি তাদের ব্যাপারে অবাক হচ্ছি যারা আমার নিকট উপবিষ্ট ছিল; আর ‘তোমার’ শব্দ শুনামাত্রই তারা অভ্যন্তরে চলে গেল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেই তো এদের অধিক ভয় করা উচিত। তারপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, ওহে! নিজের প্রাণের শত্রুরা! তোমরা আমাকে ভয় করো এবং আল্লাহর রসূলকে ভয় করো না। তারা বলল, হ্যাঁ, তুমি তো আল্লাহর রসূলের চাইতে অধিক তেজস্বী এবং রাগী। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃযাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! যখন শাইতান তোমাকে কোন রাস্তায় চলতে দেখে তখন সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ ধরে চলে। (ই.ফা. ৫৯৮৫, ই.সে. ৬০২৫)