আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্নিতঃ
বিদায় হাজ্জের পূর্ববর্তী হাজ্জে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ)-কে আমীরুল হাজ্জ নিযুক্ত করেছিলেন। সে সময় দশ তারিখে আবূ বাক্র (রাঃ) তাঁকে [আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে] একটি ছোট দলসহ লোকজনের মধ্যে এ ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন যে, আগামী বছর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আর উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না।[৮৩] (আ.প্র. ৪০১৭, ই.ফা. ৪০২১)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বাক্র (রাঃ) আমাকে সে কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় এ (কথা) ঘোষণা করার জন্য পাঠালেন যে, এ বছরের পরে আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আল্লাহ্র ঘর নগ্ন অবস্থায় কাউকে তওয়াফ করতে দেয়া হবে না। হুমাইদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে পুনরায় ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিবকে পাঠালেন এবং বললেন ঃ সূরায়ে বারাআতের নির্দেশাবলী ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই মীনাবাসীদের মধ্যে সূরায়ে বারাআত কুরবানীর দিন ঘোষণা করলেন এ বছরের পরে কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং নগ্নদেহে আল্লাহ্র ঘরের তাওয়াফ করবে না। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৫, ই.ফা. ৪২৯৭)
ইসহাক (রহ.) থেকে বর্নিতঃ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হাজ্জের পূর্বের বছর আবূ বাক্র (রাঃ)-কে যে হাজ্জের আমীর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেই হাজ্জে তিনি যেন লোকেদের মধ্যে ঘোষণা দেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং নগ্নদেহে কেউ আল্লাহ্র ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান বলেন, [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]’র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হাজ্জুল আকবারের দিন হল কুরবানীর দিন। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৬, ই.ফা. ৪২৯৮)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) নবম হিজরীর হাজ্জে আমাকে এ আদেশ দিয়ে পাঠিয়ে দেন যে, আমি কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় (সমবেত লোকদের) এ ঘোষণা করে দেই যে, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আল্লাহ্র ঘর নগ্নদেহে তাওয়াফ করবে না। হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন ঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)-কে পুনরায় এ নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করলেন যে, তুমি সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, মীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে (কুরবানীর পর) ‘আলী (রাঃ) আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করলেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। কেউ নগ্ন অবস্থায় ঘর তওয়াফ করবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন ঃ اَذَنَهُمْ অর্থ, তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৪, ই.ফা. ৪২৯৬)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের পূর্ববর্তী (বছরের) যে হাজ্জে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর সিদ্দীক্ব (রাঃ)-কে আমীর নিয়োগ করেছিলেন, সে হাজ্জের সময় তিনি (আবূ বকর) আমাকে সহ একদল লোকদের কুরবানীর দিন জনগণের মধ্যে নিম্নোক্ত ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেনঃ “এ বছরের পর মুশরিকরা আর হাজ্জ করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর ত্বওয়াফ করবে না”। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর এ হাদীস অনুযায়ী হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান বলতেন- “মহান হাজ্জের দিন হচ্ছে এ কুরবানীর দিন”। [৩৬] (ই.ফা. ৩১৫৩, ই.সে. ৩১৫০)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) নহরের দিন আমাকে এরূপ ঘোষণা দিতে পাঠালেন যে, ‘এ বছরের পর আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং কেউ উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না।’ আর এই কুরবানীর দিনই হচ্ছে হাজ্জে আকবার এবং হাজ্জে আকবার হল হাজ্জ। [১৯৪৬]