ইবনু আবী আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(তিনি বলেন) খাইবারের দিন আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর তখন আমাদের পাতিলগুলোতে (গাধার গোশত) টগবগ করে ফুটছিল। রাবী বলেন, কোন কোন পাতিলের গোশত পাকানো হয়ে গিয়েছিল। এমন সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘোষণাকারী এসে ঘোষণা দিলেন, তোমরা (গৃহপালিত) গাধার গোশত থেকে একটুও খাবে না এবং তা ঢেলে দেবে। ইবনু আবী আওফা (রাঃ) বলেন, ঘোষণা শুনে আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যে, যেহেতু গাধাগুলো থেকে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করা হয়নি এ কারণেই তিনি সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। কেউ কেউ বললেন, তিনি চিরদিনের জন্যই গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা গাধা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে। [৩১৫৫] (আ.প্র. ৩৮৯৯, ই.ফা. ৩৯০২)
‘আলী ইবনু মুসহির শাইবানী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে গৃহপালিত গাধার গোশ্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, খাইবারের দিন আমাদের ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছিল। এখন আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গেই ছিলাম। শহরের বাইরে আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। সুতরাং আমরা সেগুলো যাবাহ করলাম। আমাদের ডেগ্চীসমূহ যখন টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘোষক ঘোষণা করল, ডেগ্চীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবগ গাধার গোশ্তের সামান্য অংশও খেয়ো না। আমি বললাম, কোন্ ধরনের গাধার গোশ্ত হারাম? রাবী বলেন, আমরা নিজেরা এ বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং বললাম, একেবারেই হারাম অথবা গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বাদ না দিয়ে রান্না করার কারণেই তা হারাম করা হয়েছে। (ই.ফা. ৪৮৫৫, ই.সে. ৪৮৫৬)
সুলাইমান শাইবানী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, খাইবারের রাতগুলোতে আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হই। অতঃপর খাইবারের দিন আমরা গৃহপালিত গাধা পেয়ে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং সেগুলো যাবাহ করলাম। যখন এর গোশ্ত ডেগচীতে টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘোষক ঘোষণা করল যে, ডেগ্চীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবং গাধাগুলোর গোশ্ত একটুও খেয়ো না। রাবী বলেন, তখান কিছু লোক বললো, যেহেতু গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বের করা হয়নি তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা হারাম করেছেন। অন্যরা বলল, না, তা চিরকালের জন্যই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (ই.ফা. ৪৮৫৬, ই.সে. ৪৮৫৭)
আবদুল্লাহ বিন আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল্লাহ বিন আবূ আওফা (রাঃ) এর নিকট গৃহপালিত গাধার গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধকালে আমরা দুর্ভিক্ষে পতিত হই। আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। লোকেরা মদীনার (শহরের) বাইরে কিছু গাধা পেলো। আমরা তা যবেহ করলাম। আমাদের হাঁড়িতে গোশত টগবগ করে ফুটছিল। ইতোমধ্যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ঘোষক ঘোষণা করলো যে, গোশতের পাতিলগুলোকে উল্টে ফেলে দাও এবং গাধার গোশত থেকে মোটেও খেও না। অতএব আমরা পাতিলগুলো উল্টে ফেলে দিলাম। আমি আবদুল্লাহ বিন আবূ আওফা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি তা চূড়ান্তভাবে হারাম করেছেন? রাবী বলেন, আপনি আমাদের জানিয়ে দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা কি বিষ্ঠা খাওয়ার কারণে হারাম করেছেন? [৩১৯২]