সহিহ বুখারী অঃ→মাগাযী বাব→তায়িফের যুদ্ধ হাঃ-৪৩৩১

আনাস ইবনু মালিক (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাঁর রসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে হাওয়াযিন গোত্রের সম্পদ থেকে গানীমাত হিসেবে যতটুকু দান করতে চেয়েছেন দান করলেন, তখন নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কতিপয় লোককে একশ' করে উট দান করলেন। (এ অবস্থা দেখে) আনসারদের কিছুসংখ্যক লোক বলে ফেললেন, আল্লাহ রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)- কে ক্ষমা করুন, তিনি কুরায়শদেরকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে বাদ দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তলোয়ার থেকে এখলো তাদের রক্ত টপটপ করে পড়ছে। আনাস (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) বলেন, তাঁদের একটি চামড়ার তৈরি তাঁবুতে জমায়েত এবং তাঁরা ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে অনুমতি দিলেন না। এরপর তাঁরা সবাই জমায়েত হলে নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের নিকট হতে কী কথা আমার নিকট পৌঁছল? আনসারদের জ্ঞানীগুণী লোকেরা বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের নেতৃস্থানীয় কেউ তো কিছু বলেনি, তবে আমাদের কতিপয় কমবয়সী লোকেরা বলেছে যে, আল্লাহ রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)- কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে (গানীমাতের মাল) দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারীগুলো থেকে এখনো তাদের রক্ত টপটপ করে পড়ছে। তখন নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি অবশ্য এমন কিছু লোককে দিচ্ছি যারা সবেমাত্র কুফ্‌র ত্যাগ করে ইসলামে প্রবেশ করেছে। আর তা এ জন্যে যেন তাদের মনকে আমি ঈমানের উপর সুদৃঢ় করতে পারি। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক ফিরে যাবে ধন-সম্পদ নিয়ে আর তোমরা বাড়ি ফিরে যাবে (আল্লাহ্‌র) নাবীকে সঙ্গে নিয়ে? আল্লাহ্‌র কসম! তোমরা যে জিনিস নিয়ে ফিরে যাবে তা অনেক উত্তম ঐ ধন-সম্পদ অপেক্ষা, যা নিয়ে তারা ফিরে যাবে। আনসারগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন, অচিরেই তোমরা (নিজেদের উপর) অন্যদের প্রবল অগ্রাধিকার দেখতে পাবে। অতএব, (আমার মৃত্যুর পর) আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে। আমি হাউজে কাউসারের নিকট থাকব। আনাস (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) বলেন, কিন্তু তাঁরা (আনসাররা) ধৈর্যধারণ করেননি। [৩১৪৬] (আ.প্র. ৩৯৮৮, ই.ফা. ৩৯৯২)


সহিহ মুসলিম অঃ→যাকাত বাব→ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে হাঃ-২৩২৬

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হুনায়নের দিনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা (গনীমাত হিসাবে) দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ’ উট প্রদান করলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলল, “আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। ” আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বললেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তাঁর মানে কি? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন - আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট (ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট) থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা (গনীমাতের) মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহ্‌র শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বললেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের (দানের ব্যাপারে) প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকবে। তারা বললেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব। (ই.ফা. ২৩০৪, ই.সে. ২৩০৫)


বিষয়ভিত্তিক হাদিস লোড হচ্ছে...

এ্যাডভান্স এনালাসিস লোড হচ্ছে...