উম্মু হারাম বিন্তু মিলহান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র নিকট দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তার জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র নিকট দু’আ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ‘উবাদা ইব্নু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন।
আনাস (রাঃ)-এর খালা থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ঘরে এলেন এবং আমাদের এখানেই মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করলেন। তারপর তিনি যখন জাগলেন তখন তিনি হাসছিলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! তখন জবাবে তিনি বললেন, আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হলো যে, আমার উম্মাতের মধ্যকার একদল লোক রাজা-বাদশাহ্দের সিংহাসনে আরোহণের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠে আরোহণ করবে। তখন আমি আরয করলাম, আপনি আমার জন্য দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল করে নেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল থাকবে। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পুনরায় জেগে আবারও হাসতে থাকেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি পূর্বের মতো উত্তর দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল রাখেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে ‘উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি সমুদ্রযুদ্ধে যাত্রা করেন এবং তাঁকেও সঙ্গে নিয়ে যান। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন তখন একটি খচ্চর তাঁর সামনে আনা হলো। তিনি তাতে আরোহণ করলেন তখন খচ্চরটি তাঁকে নীচে ফেলে দেয়। তাতে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (এবং এভাবে তিনি শহীদ হন।) (ই.ফা. ৪৭৮২, ই.সে. ৪৭৮৩)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উম্মু সুলাইমের বোন উম্মু হারাম বিনতু মিলকান (রাঃ) (অর্থাৎ আমার খালা) আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট দুপুরে বিশ্রাম নিলেন। অতঃপর তিনি হাসতে হাসতে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, (আমার উম্মাতের) কিছু লোক এই সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে। যেন তারা রাজার মত সিংহাসনে বসে আছে। উম্মু হারাম বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, যেন আমি তাদের দলভুক্ত হই। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের দলভুক্ত হবে। উম্মু হারাম বলেন, তিনি আবারো ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন? তিনি আবারো একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দু’আ করুন, যেন আল্লাহ আমাকে তাদের দলভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের প্রথম দলে থাকবে। আনাস (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) তাকে বিবাহ করেন। অতঃপর তিনি নৌ-যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উম্মু হারামকেও সাথে নেন। যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনকালে উম্মু হারামকে একটি খচ্চর বাহন হিসাবে দেয়া হয়। খচ্চরটিতে আরোহণ করলে সেটা তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি মারা যান।
উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক দিন আমার ঘরে ঘুমালেন। তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে কে হাসালো? তিনি বলেনঃ আমার উম্মতের কতক লোককে সমুদ্রপৃষ্ঠে উপবিষ্ট অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, যেভাবে বাদশাহ সিংহাসনে উপবিষ্ট থাকে। উম্মু হারাম(রাঃ) বলেন, আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আনাস(রাঃ) বলেন, তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। তিনি পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লেন, অতঃপর পূর্বের ন্যায় জাগ্রত হলেন। উম্মু হারাম(রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্বানুরুপ জবাব দেন। থাকে। উম্মু হারাম(রাঃ) বলেন, আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আনাস(রাঃ) বলেন, মুসলমানগণ মুআবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান (রাঃ) -র নেতৃত্বে সর্বপ্রথম নৌযুদ্ধে রওয়ানা হলে উম্মু হারাম (রাঃ) ও তার স্বামী উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) -এর সাথে জিহাদে রওয়ানা হলেন। তারা জিহাদ থেকে ফিরে এসে সিরিয়ায় অবতরণ করেন। আরোহণের জন্য তার নিকট একটি জন্তুযান আনা হলো। জন্তুটি তাকে ছুড়ে ফেলে দিলে তিনি তাতে নিহত হন। [২৭৭৬] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে খাওয়া দাওয়ার পর শয়ন (কায়লুলা) করলেন, এরপর হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনার হাসার কারণ কী? তিনি বললেন: আমি আমার উম্মতের একদল লোককে দেখলাম, সাগরের বুকে আরোহণ (নৌ অভিযান) করছে, তারা সিংহাসনের উপর বাদশাহদের ন্যায়। আমি বললাম: আল্লাহ্র নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন: তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন এবং হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম এবং তিনি আগের মত বললেন। আমি বললাম: আল্লাহ্র নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেন: তুমি প্রথম দলভুক্ত থাকবে। উবাদা ইব্ন সামিত (রাঃ) তাকে বিবাহ করলেন। এরপর তিনি সাগরে আরোহণ করে নৌ অভিযান করলেন। তাঁর সাথে ইনি (তাঁর স্ত্রী) ও সাগরে (নৌযানে) আরোহণ করলেন। যখন সমুদ্র হতে ফিরে এলে তাঁর জন্য একটি খচ্চর আনা হলো, তিনি তাতে আরোহণ করলেন; খচ্চর তাঁকে আছড়ে ফেলে দিলে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি মারা যান।