যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَوَالْمُجَاهِدُونَفِيسَبِيلِاللهِ আয়াতটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন এমন সময় ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আল্লাহ্র শপথ, যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকত তা হলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি অন্ধ ছিলেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন, এমন অবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল তা আমার কাছে এতই ভারী লাগছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। তারপর তাঁর থেকে এই অবস্থা কেটে গেল, আর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ غَيْرَأُولِيالضَّرَرِঅক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩২] (আ.প্র. ৪২৩১, ই.ফা. ৪২৩৪)
সাহল ইবনু ‘সাদ আস্ –সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকামকে মাসজিদে বসা দেখে আমি তাঁর নিকট এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসলাম। তিনি আমাদের বললেন, যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, নাবী, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দ্বারা লেখাচ্ছিলেন : “লা ইয়াসতাবিল কা’ইদূনা মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুজাহিদূনা ফী সাবীলিল্লাহ”। তখন তাঁর নিকট ইবনু উম্মি মাকতূম (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি যদি জিহাদ করতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন অন্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল। তা এত ভারী লাগছিল যে, এতে আমার উরু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর এ অবস্থা দূরীভূত হয়। আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর অবতীর্ণ করেন : “গাইরু উলিয যারারি”। সহীহ : বুখারী (৪৫৯২)।
সাহল ইবনু সা‘দ (রঃ) বলেন থেকে বর্নিতঃ
আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রঃ) কে দেখলাম তিনি বসে আছেন। আমিও তার নিকট গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইব্ন সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর নাযিল হলোঃ (আরবি) “মু’মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে, তারা এবং যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়” (৪:৯৫)। ইতোমধ্যে ইব্ন উম্মু মাক্তুম (রাঃ) আগমন করলেন। তিনি তা লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। যদি আমার জিহাদ করার শক্তি থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ “অসুস্থগণ ব্যতীত”। আর তখন তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল, তা আমার উপর ভারী লাগছিল। মনে হলো আমার উরু ভেঙ্গে যাবে। এরপর তাঁর এ অবস্থা থেকে অবমুক্ত হলো। আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ আবদুর রহমান ইব্ন ইসহাকের ব্যাপারে আপত্তি নেই, আবদুর রহমান ইব্ন ইসহাক হতে আলী ইব্ন মুসহির ও আবূ মু’আবিয়া হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল ওয়াহিদ ইব্ন যিয়াদ (রহঃ) যে নু’মান ইব্ন সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন।
সাহল ইবনু সা‘দ (রঃ) বলেন থেকে বর্নিতঃ
আমি মারওয়ান (রঃ) কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পাশে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইব্ন সাবিত (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে লিখে নেওয়ার জন্য পড়ে শুনাচ্ছিলেনঃ (আরবি)। তিনি বললেন, তারপর তাঁর নিকট ইব্ন উম্মু মাকতুম (রাঃ) আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে লেখাচ্ছিলেন। তিনি (ইব্ন উম্মু মাকতুম) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসুল–এর উপর (ওয়াহী) অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তাঁর উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল। আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ (আরবি) “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত”।