আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন রকম লোকের সঙ্গে ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শান্তি। (এক) ঐ ব্যক্তি, যে পথের পাশে অতিরিক্ত পানির মালিক কিন্তু মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না। (দুই) ঐ ব্যক্তি যে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে ইমামের বায়’আত গ্রহণ করে। (বাদশাহ্) ঐ লোকের মনের বাসনা পূর্ণ করলে সে তার বায়’আত পূর্ণ করে। আর যদি তা না হয়, তাহলে বায়’আত ভঙ্গ করে। (তিন) সে ব্যক্তি যে ‘আসরের পর অন্য লোকের নিকট দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে এমন কসম খায়ে যে, আল্লাহ্র শপথ! এটার এত দাম হয়েছে। ক্রেতা সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাশ করে সে জিনিস কিনে নেয়। অথচ সে জিনিসের এত দাম হয়নি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৯)
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, এদের দিকে নযরও দেবেন না এবং এদেরকে পবিত্রও করবেন না, বরং এদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। যে ব্যক্তির নিকট অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও তা পথিককে দেয় না। যে ব্যবসায়ী ‘আস্রের পর [৪৬] তার পণ্য সামগ্রী ক্রেতার নিকট আল্লাহ্র কসম করে বিক্রি করে আর বলে, আমি এ পণ্য এতো এতো মূল্যে ক্রয় করেছিলাম, আর ক্রেতা তাকে সত্যবদী মনে করে, কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার তার উল্টো। যে ব্যক্তি ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধান) হাতে কেবল পার্থিব স্বার্থে বাই’আত গ্রহণ করে, যদি ইমাম তা কিছু পার্থিব সুযোগ দেয়, তাহলে সে তার বাই’আতের প্রতিজ্ঞান পূরণ করে, আর যদি তা থেকে কিছু না দেয় তাহলে আর প্রতিজ্ঞা পূরণ করে না। (ই.ফা. ১৯৮; ই.সে. ২০৫)
যুহায়র ইবনু হার্ব এবং সা’ঈদ ইবনু ‘আম্র আল আশ’আসী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী জারীর বর্ণিত হাদীসে যে ব্যক্তি তার পণ্যের ব্যাপারে অন্যের সাথে দাম দরাদরি করে’ কথাটির উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ১৯৯; ই.সে. ২০৬)
সুলাইমান (রাঃ) হতে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা, ৭২৭৪,ই.সে, ৭৩৩০)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন তিন ধরনের লোকের সাথে মহান আল্লাহ কথা বলবেন না- (১) যে ব্যক্তি তার কাছে রক্ষিত অতিরিক্ত পানি থেকে পথিক ব্যক্তিকে বাঁধা দেয়; (২) যে ব্যক্তি ‘আসরের পর কোন জিনিসের মূল্য নিয়ে মিথ্যা শপথ করে এবং (৩) যে ব্যক্তি ইমামের কাছে বাইআত গ্রহণ করে। এরপর ইমাম তাকে পার্থিব স্বার্থ দান করলে সে তার আনুগত্য করে, আর স্বার্থ হাসিল না হলে আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২২০৭)।
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তদ শাস্তি। (১) যার নিকট নির্জন প্রান্তরে অতিরিক্ত পানি আছে, সে তা পথিক মুসাফিরকে পান করতে বাধা দেয়। (২) যে বিক্রেতা আসরের পর তার পণ্য ক্রেতার নিকট বিক্রয় করে আর আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, সে এতো এতো মূল্যে তা ক্রয় করেছে এবং ক্রেতা তার কথা বিশ্বাস করেছে, অথচ আসল ব্যাপার তার বিপরীত।(৩) যে ব্যক্তি কেবল পার্থিব স্বার্থ লাভের অভিপ্রায়ে শাসকের আনুগত্য করার শপথ করে, শাসক তাকে কিছু দিলে শপথ পূর্ণ করে এবং না দিলে শপথ ভঙ্গ করে। [২২০৭]
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন শ্রেনীর লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবে না, তদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে পীড়াদায়ক শাস্তি। (১) যে ব্যক্তি মাঠে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রাখে কিন্তু তা পথিকদের ব্যবহার করতে দেয় না; (২) যে ব্যক্তি আসরের নামাযের পর অপর কোন ব্যক্তির নিকট পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করে এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, সে তা এত এত মূল্যে খরিদ করেছে এবং ক্রেতা তার কথা বিশ্বাস করে, অথচ তার কথা সত্য নয় এবং (৩) যে ব্যক্তি পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে নেতার কাছে আনুগত্যের শপথ নেয়, নেতা তাকে কিছু পার্থিব স্বার্থ দিলে সে তার শপথ পূর্ণ করে এবং না দিলে শপথ পূর্ণ করে না। [২৮৭০] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তিন প্রকারের লোক রয়েছে যাদের সাথে আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তারা হলো: ঐ ব্যক্তি যে পথের ধারে প্রয়োজনাতিরিক্ত পানির উপর কর্তৃত্ব করে এবং পথিকদেরকে ঐ পানি দেয় না; আর ঐ ব্যক্তি যে ইমামের হাতে বায়’আত গ্রহন করে পার্থিব সম্পদ লাভের জন্য, তারপর সে যা চায় তাকে তা দান করলে সে তার আনুগত্য বহাল থাকে আর যদি তাকে তা না দেওয়া হয়, তবে সে তার আনুগত্য রক্ষা করে না। আর ঐ ব্যক্তি যে আসরের পর অন্য ব্যক্তির সাথে মালের ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দরদাম করে। এক পর্যায়ে সে তাকে আল্লাহ্র নামে কসম করে বলে যে, তাকে এই এই দাম বলা হয়েছে, ফলে অন্য ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে।