সহিহ মুসলিম অঃ->হিবাত (দান) বাব->দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ হাঃ-৪০৭৪

নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাঁর মা বিনতু রাওয়াহা (রাঃ) তাঁর পিতার নিকট স্বীয় পুত্রের জন্যে তাঁর সম্পদ থেকে কিছু দান করার অনুরোধ করলেন। এক বছর যাবৎ তিনি এ ব্যাপারে গড়িমসি করেন। পরে তা দেয়ার ইচ্ছা জাগল। বিনতু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, আমার পুত্রকে যা দিবেন তার উপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে সাক্ষী না রাখা পর্যন্ত আমি খুশি হবো না। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলেন। সে সময় আমি বালক ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এর মা বিনতু রাওয়াহা চায় যে, আমি তাঁর পুত্রকে যা দান করেছি আপনাকে তার সাক্ষী রাখি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে বাশীর! এ ছাড়া তোমার কি আর কোন পুত্র আছে? বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুল্‌মের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। (ই.ফা. ৪০৩৭, ই.সে. ৪০৩৬)


সুনান নাসাঈ অঃ->বিশেষ দান বাব->‘নাহল’ সম্পর্কিত নু’মান ইব্‌ন বশীর (রাঃ) –এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ হাঃ-৩৬৮১

নু‘মান ইব্‌ন বশীর আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তার মাতা, রাওয়াহার কন্যা তার পিতার কাছে তার মাল হতে তার পুত্রের জন্য কিছু দান দাবি করলেন। তিনি এক বছর পর্যন্ত এ ব্যাপারে টাল-বাহানা করতে লাগলেন। পরে ভাল মনে হলে তিনি তাকে দান করলেন। তিনি (নু‘মানের মা) বললেন : রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। এরপর তিনি (নু‘মানের পিতা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়ে) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! এর মা রাওয়াহার কন্যা একে কিছু দান করার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করায় আমি তাকে দান করেছি। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি এই ছেলেকে যেরূপ দান করেছ, সেরূপ তাদের সকলকে দান করেছ? তিনি বললেন: না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।


সুনান নাসাঈ অঃ->বিশেষ দান বাব->‘নাহল’ সম্পর্কিত নু’মান ইব্‌ন বশীর (রাঃ) –এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ হাঃ-৩৬৮২

নু‘মান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন: আমার মাতা আমার পিতার নিকট আমার জন্য কিছু দান চাইলে তিনি আমাকে তা দান করলেন। তখন আমার মাতা বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। তিনি [নু‘মান (রাঃ)] বলেন: আমার পিতা আমার হাত ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন। ঐ সময় আমি ছোট বালক ছিলাম। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর মা, রাওয়াহার কন্যা আমার নিকট কিছু দান চায় এবং এতে আপনি সাক্ষী থাকলে সে সন্তুষ্ট হবে। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: তুমি একে যা দান করেছো তাকেও কি এই দানের অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন: না। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।