মালিক ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি ঘোষণা দিলেন যে, কে সারফ এর বেচা-কেনা (দিরহাম এর বিনিময়ে দীনার এর বেচা-কেনা) করবে? তালহা (রাঃ) বললেন, আমি করব। অবশ্য আমার পক্ষের বিনিময় প্রদানে আমার হিসাবরক্ষক গা’বা (এলাকা) হতে ফিরে আসা পর্যন্ত দেরি হবে। (বর্ণনাকারী) সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আমি যুহরী (রহঃ) হতে এটুকু মনে রেখেছি, এর হতে বেশী নয়। এরপর যুহরী (রহঃ) বলেন, মালিক ইবনু আওস (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, নগদ হাতে হাতে বিনিময় ছাড়া সোনার বদলে সোনা বিক্রি, গমের বদলে গম বিক্রি, খেজুরের বদলে খেজুর বিক্রি, যবের বদলে যব বিক্রি করা সুদ হিসাবে গণ্য। (২১৭০, ২৭৭৪, মুসলিম ২২/১৫, হাঃ ১৫৮৬, আহমাদ ১৬২) (আ.প্র. ১৯৮৬, ই.ফা. ২০০১)
মালিক ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি একশ’ দীনারের বিনিময়ে সার্ফ এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন তালহা ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সার্ফ [১২] করতে রাজী হলেন এবং আমার হতে স্বর্ণ নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমার খাযাঞ্চী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে ‘উমর (রাঃ) আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তার জিনিস গ্রহণ না করা পর্যন্ত তুমি তার হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নগদ নগদ না হলে স্বর্ণের বদলে স্বর্ণের বিক্রয় (সুদ) হবে। নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় সুদ হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় সুদ হবে।
মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি এ কথা বলতে বলতে আগালাম যে, দিরহাম বিনিময় করতে পারে এমন কে আছে? তখন তালহাহ্ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকটেই ছিলেন- তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণ আমাদেরকে দেখাও এবং তুমি পরে এসো। আমাদের গোলাম যখন আসবে তখন তোমার রৌপ্য দিয়ে দিব। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেনঃ কখনো নয়; আল্লাহ্র শপথ! হয় তুমি তার দিরহাম এখনই প্রদান করো, অন্যথায় তার স্বর্ণ তাকে ফিরিয়ে দাও। কারণ, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ নগদ নগদ বিক্রি না হলে সুদ হবে, গমের বিনিময়ে গম নগদ নগদ এবং হাতে হাতে বিক্রি না হলে সুদ হবে, যবের বিনিময়ে যব নগদ নগদ না হলে সুদ হবে এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর নগদ বিক্রি না হলে তাও সুদে পরিণত হবে। (ই. ফা. ৩৯১৪, ই. সে. ৩৯১৩)
উমার (রা:) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বর্ণের বিনিময় স্বর্ণের সাথে যদি উভয় পক্ষ হতে নগদ আদান-প্রদান না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। গমের বিনিময় গমের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হতে (সমান) আদান-প্রদান না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। খেজুরের বিনিময় খেজুরের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হতে নগদ লেনদেন (সম-পরিমাণ) না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। যবের বিনিময় যবের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হতে নগদ লেনদেন (সম-পরিমাণ) না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। সহীহ : ইবনু মাজাহ (২২৫৩)।
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নগদ আদান প্রদান না হলে সোনার বিনিময়ে স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত। গমের বিনিময়ে গম নগদ বিনিময় না হলে সূদ হবে। বার্লির সাথে বার্লির নগদ বিনিময় না হলে সূদ হবে। খেজুরের সাথে খেজুরের নগদ বিনিময় না হলে সূদ হবে। [২২৫৩]
হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রূপার বিনিময়ে সোনা (বিক্রী) সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়। গমের বিনিময়ে গম সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, যবের বিনিময়ে যব সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, খোরমার বিনিময়ে খোরমা সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়।