সহিহ বুখারী অঃ->ই’তিকাফ বাব->রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ এবং ই’তিকাফ সব মসজিদেই করা । হাঃ-২০২৭

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ হতে বের হবেন, তখন তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল ক্বদ্‌র) দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুরের পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার এ দু’চোখ দেখতে পায়।


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->লায়লাতুল ক্বদর-এর ফাযীলাত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান, তা কখন হবে তার বর্ণনা এবং তার অনুসন্ধানের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সময় হাঃ-২৬৫৯

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রমাযানের) মাঝের দশকে ই’তিকাফ করেন। অতঃপর ২০ তম দিন অতিবাহিত হবার পর এবং ২১ তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে যারা ই’তিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমাযান মাসের মাঝের দশকে তিনি ই’তিকাফ করলেন- যে রাতে তাঁর ই’তিকাফ হতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে (পুনরায়) ই’তিকাফ আরম্ভ করলেন ও লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি সাধারণত এ (মধ্যম) দশকে ই’তিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ই’তিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে ই’তিকাফ করতে চায়, যেন নিজ ই’তিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এ (ক্বদ্রের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম, কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সাজ্দাহ্ করতে দেখেছি। আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, ২১ তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের সলাত থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাঁর মুখমণ্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। (ই.ফা. ২৬৩৬,ই.সে. ২৬৩৫)


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->লায়লাতুল ক্বদর-এর ফাযীলাত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান, তা কখন হবে তার বর্ণনা এবং তার অনুসন্ধানের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সময় হাঃ-২৬৬০

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসের মাঝের দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, “সে যেন তার ই’তিকাফের স্থানে অবস্থান করে।” তিনি আরো বলেন, “তাঁর কপাল মুবারক কাদা ও পানিতে সিক্ত ছিল।” (ই.ফা. ২৬৩৭, ই.সে. ২৬৩৬)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->রমযান মাস বাব->যারা বলেন, লাইলাতুল ক্বদর একুশ তারিখের রাতে হাঃ-১৩৮২

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের মধ্যম দশকে ই’তিকাফ করতেন। একবছর তিনি এভাবে ইতিকাফ করাকালে একুশ তারিখে তিনি ই’তিকাফ হতে বেরিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি (মধ্যম দশকে) আমার সাথে ই’তিকাফে শরীক হয়েছে, সে যেন শেষ দশ দিনও ই’তিকাফ করে। আমি লাইলাতুল ক্বদর প্রত্যক্ষ করেছি কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি নিজেকে ক্বদরের রাতের সকালে পানি ও কাদায় সাজদাহ্‌ করতে দেখেছি। কাজেই তোমরা শেষ দশকে এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ করো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, ঐ রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, তখনকার মাসজিদ খেজুর পাতার চালনীর হওয়াতে ছাদ থেকে পানি পড়ছিলো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, একুশ তারিখ সকালে আমার চোখ দিয়ে আমি রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কপালে ও নাকে কাদামাটি লেগে থাকতে দেখেছি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->সালাম ফিরানোর পর কপাল না মোছা হাঃ-১৩৫৬

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রতি) মাসের মধ্যবর্তী দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। যখন বিংশতিতম রাত অতিবাহিত হওয়ার এবং একবিংশতিতম রাতের আগমনের সময় হত তিনি তাঁর ঘরে ফিরে আসতেন এবং তাঁর সঙ্গে যারা ই’তিকাফ করতেন তারাও ফিরে আসতেন। তারপর তিনি অন্য এক সাথে, যে মাসে ই’তিকাফ করেছিলেন ঐ রাতেও রয়ে গেলেন যে রাতে তিনি ঘরে ফিরে আসতেন এবং লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। তাঁদেরকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আদেশ করলেন। তারপর বললেন, আমি এই মধ্যবর্তী দশদিন ই’তিকাফ করতাম, পরে আমার কাছে প্রকাশ পেল যে, আমি এই শেষ দশ দিনেও ই’তিকাফ করি, অতএব জারা আমার সাথে গত মধ্যবর্তী দশদিন ই’তিকাফ করেছ তাঁরা স্বীয় ই’তিকাফের স্থানে স্থির থাকবে। আমি এই শবে কদরকে স্বপ্নে দেখেছিলাম কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে, অতএব তোমরা তা এই শেষ দশ রাতে প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি পানি এবং কাদার মধ্যে সিজদা করছি। আবূ সাঈদ (রাঃ)বলেন, আমাদের উপর একবিংশতিতম রাতে বৃষ্টি হল, বৃষ্টির পানি মসজিদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সালাত আদায় করার জায়গার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেল। আমি তাঁর দিকে লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ফজরের সালাত থেকে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন, আর তাঁর চেহারা পানি ও কাদা দ্বারা আপ্লুত ছিল।