সহিহ বুখারী অঃ->হিবা ও তার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান বাব->হাদিয়া পাঠানো হলে ‘গ্রহণ করলাম’ এ কথা না বলে কেউ স্বীয় অধিকারভুক্ত করে নিলে। হাঃ-২৬০০

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কী? সে বলল, আমি রমাযানে দিনের বেলা স্ত্রী সম্ভোগ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এক নাগাড়ে দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতোমধ্যে এক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে আসল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর মাপার পাত্র। তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের চেয়ে বেশী অভাবী এমন কাউকে সদকা করে দিব? যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! কঙ্করময় মরুভূমির মাঝে (অর্থাৎ মদীনায়) আমাদের চেয়ে অভাবী কোন ঘর নেই। শেষে তিনি বললেন, যাও তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।


সহিহ বুখারী অঃ->শপথের কাফ্‌ফারা বাব->আর ধনী ও গরীব কখন কার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয়। হাঃ-৬৭০৯

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? লোকটি বলল, রমযানে (দিনের বেলা) আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে পার? লোকটি বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি কি এক নাগাড়ে দু’ মাস সওম পালন করতে পার? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তা হলে কি তুমি ষাটজন মিস্‌কীনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ বস। লোকটি বসল। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক ‘আরক’ আনা হলো যাতে ছিল খেজুর। আর ‘আরক’ হল মাপ করার জন্য বড় ধরণের পাত্র। তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তা সদকা করে দাও। লোকটি বলল, আমার চেয়েও অভাবীকে (তা দান করব)? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে ফেললেনঃ এমন কি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। তিনি বললেনঃ এটা তোমার পরিজনকেই খাওয়াও। [৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫২)


সহিহ বুখারী অঃ->শপথের কাফ্‌ফারা বাব->যে ব্যক্তি কাফ্‌ফারা আদায়ে দরিদ্রকে সাহায্য করে। হাঃ-৬৭১০

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ সেটা কী? লোকটি বলল, রমযানে (দিনের বেলা) আমি স্ত্রী সহবাস করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি দু’মাস লাগাতার সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তাহলে কি তুমি ষাটজন মিস্‌কীনকে খাদ্য খাওয়াতে পারবে? লোকটি বলল, না। রাবী বলেন, এমন সময় এক আনসার লোক একটি ‘আরক’ নিয়ে আসল। আর আরক হচ্ছে পরিমাপ পাত্র; তার মাঝে খেজুর ছিল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা নিয়ে গিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার চেয়ে অভাবী লোককে কি তা দান করব? যিনি আপনাকে হকের সাথে পাঠিয়েছেন সেই সত্ত্বার কসম! মদীনার দু’উপত্যকার মাঝে আমার চেয়ে বেশি অভাবী আর কেউ নেই। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যাও, এগুলো নিয়ে তোমার পরিবারকে খাওয়াও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৩)


সহিহ বুখারী অঃ->শপথের কাফ্‌ফারা বাব->দশজন মিস্‌কীনকে কাফ্‌ফারা প্রদান করা; তারা নিকটাত্মীয়ই হোক বা দূরেরই হোক। হাঃ-৬৭১১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? লোকটি বলল, রমযানে (দিনের বেলায়) আমি স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ করার মত তুমি কিছু পাবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি একনাগাড়ে দু’মাস সওম পালন করতে পারবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি ষাটজন মিস্‌কীনকে খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একটি ‘আরক’ আনা হল, যাতে খেজুর ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এটা নাও এবং গিয়ে তা সদকা করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে বেশি অভাবীকে কি দেব? এখানকার দু’ উপত্যকার মাঝে আমাদের চেয়ে অভাবী তো কেউ নেই। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারকে খাওয়াও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৪)


সহিহ বুখারী অঃ->শরীয়তের শাস্তি বাব->যে এমন কোন অপরাধ করল যা হদ - এর সীমার মধ্যে নয় এবং সে ইমামকে জানালো। তবে তাওবাহ্র পর তাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না, যখন সে ফতোয়া জানার জন্য আসে। হাঃ-৬৮২১

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, এক লোক রমযানে আপন স্ত্রীর সাথে যৌন সংযোগ করে ফেললো। তারপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে ফতোয়া জানতে চাইল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একটি গোলাম আযাদ করার সামর্থ্য তোমার আছে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->রমাযানের দিনে সওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা কঠোর হারাম, কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তবে তার উপর বড় ধরনের কাফ্‌ফারাহ্‌ ওয়াজিব- সে বিত্তশালী হোক বা বিত্তহীন, তবে বিত্তহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন সম্ভব হয়, তখন এ কাফ্‌ফারাহ আদায় করতে হবে হাঃ-২৪৮৫

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি বলরেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে? সে বলল, আমি রমাযানে সওমরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি যাকে তুমি আযাদ করে দিতে পার? সে বলল, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ক্রমাগত দু’মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। তারপর সে বসে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হ’ল। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো সদাক্বাহ করে দাও। তখন সে বলল, আমার চেয়েও অভাবী লোককে সদাক্বাহ করে দিব? (মাদীনার) দু’টি কংকরময় ভূমির মধ্যস্থিত স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী আর একটিও নেই। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন, তাহলে যাও এবং তোমার পরিবারকে খেতে দাও। (ই.ফা. ২৪৬২, ই.সে. ২৪৬১)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সওম (রোজা) বাব->কেউ রমযানের সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীসহবাস করলে তার কাফফারাহ হাঃ-২৩৯০

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়েছি। তিনি বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কাছে আযাদ করার মত কোন গোলাম আছে কি? সে বললো, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি একাটানা দুই মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বললো, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে কি? সে বললো, না। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট নিয়ে এলে তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো সদাক্বাহ করে দাও। লোকটি বললো, হে আল্লহর রাসূল! মাদীনাহর দুই পার্শ্বে আমাদের চাইতে অভাবী পরিবার আর নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি বললেনঃ তাহলে এগুলো তোমার পরিবারের লোকদের খাওয়াও। মুসাদ্দাসের বর্ণনায় রয়েছে তাঁর দাঁতগুলো প্রকাশ পেলো।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সওম (রোজা) বাব->কেউ রমযানের সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীসহবাস করলে তার কাফফারাহ হাঃ-২৩৯২

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভঙ্গ করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে একটি গোলাম আযাদ করার অথবা একটানা দুই মাস সওম পালন অথবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করানোর নির্দেশ দেন। ফলে লোকটি বলে, আমি এর কোনটিই করতে সক্ষম নই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর এলে তিনি তাকে বলেনঃ এগুলো নিয়ে গিয়ে সদাক্বাহ করে দাও। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চেয়ে অধিক গরীব লোক নেই। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি লোকটিকে বললেনঃ তাহলে এগুলো তুমি খাও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ হতে আয-যুহরীর মাধমে মালিকের শব্দে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সওম ভঙ্গ করে। তিনি তাতে বলেছেনঃ ‘অথবা একটি গোলাম আযাদ করো অথবা দুই মাস সওম রাখো কিংবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও’।