সহিহ বুখারী অঃ->আনসারগণের মর্যাদা বাব->মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আনসারের প্রতিনিধি দল এবং আকাবার বায়’আত। হাঃ-৩৮৯২

আবূ ইদরীস আইযুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, ‘উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ) যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে এবং আকাবার রাতে উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন - তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বললেন, এস তোমরা আমার কাছে একথার উপর বায়’আত [১] কর যে, তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, তোমরা চুরি করবে না, তোমরা ব্যভিচার করবে না; তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমরা অপবাদ আরোপ করবে না যা তোমরা নিজে হতে বানিয়ে নাও, তোমরা নেক কাজে আমার নাফরমানী করবে না, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এসব শর্ত পূরণ করে চলবে সে আল্লাহ তা’আলার নিকট তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে। আর যে এ সবের কোন কিছুতে লিপ্ত হয় এবং তাকে এ কারণে দুনিয়াতে শাস্তি দেয়া হয়, তবে এ শাস্তি তার প্রতি কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এ সবের কোনটিতে লিপ্ত হল আর আল্লাহ তা গোপন রাখেন, তবে তার ব্যাপারটি আল্লাহ তা’আলার ওপর ন্যস্ত। তিনি ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন আর ইচছা করলে ক্ষমা করবেন। ‘উবাদাহ (রাঃ) বলেন, আমিও এসব শর্তের উপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট হাতে বায়’আত করেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১০)


সহিহ বুখারী অঃ->শরীয়তের শাস্তি বাব->চোরের তাওবাহ। হাঃ-৬৮০১

উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একটি দলের সঙ্গে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে বায়’আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের এ মর্মে বায়’আত করছি যে, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তান হত্যা করবে না, সামনে বা পিছনে কারো অপবাদ দিবে না, শারীয়াত সম্মত কাজে আমার অবাধ্যতা করবে না, তোমাদের মধ্যে যে আপন ওয়াদাগুলো মেনে চলবে তার বিনিময় আল্লাহ্‌র নিকট। আর যে এগুলো থেকে কিছু করে ফেলবে আর সে জন্য দুনিয়াতে যদি তার শাস্তি হয়ে যায়, তাহলে এটি হবে তার জন্য গুনাহ্‌র কাফ্‌ফারা এবং গুনাহ্‌র পবিত্রতা। আর যার (দোষ) আল্লাহ্‌ গোপন রেখেছেন তার ব্যাপারটি আল্লাহ্‌র উপর। (আল্লাহ্‌) ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, চোর যদি হাত কেটে দেয়ার পর তাওবাহ করে তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। তেমনি শরীয়াতের শাস্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেকটি লোকের ব্যাপারেই এ বিধান প্রযোজ্য যখন সে তাওবাহ করবে, তখন তার সাক্ষ্য গ্রহণীয় হবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৫)


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->মহিলাদের বায়’আত গ্রহণ। হাঃ-৭২১৩

উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা এক মজলিসে ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বললেনঃ তোমরা আমার নিকট বায়’আত কর যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না; তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং কোন ব্যক্তিকে এমন মিথ্যা অপবাদ দেবে না যা তোমাদেই গড়া আর ন্যায় সঙ্গত কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের যারা এ অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহ্‌র কাছে। আর যে এর কোন একটি করবে দুনিয়ায় এ কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হবে, তাহলে এটা তার কাফ্‌ফারা (পাপ মোচন) হয়ে যাবে। আর যদি কেউ এর কোন একটি অপরাধ করে ফেলে আর আল্লাহ্‌ তা গোপন রাখেন, তাহলে তার বিষয়টি আল্লাহ্‌র উপর ন্যস্ত। তিনি ইচ্ছে করলে তাকে শাস্তি দিবেন আর ইচ্ছে করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর আমরা এর উপর বায়’আত করলাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২০)


সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ও চাওয়া। হাঃ-৭৪৬৮

উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে বায়'আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়'আত এ শর্তে কবূল করছি যে, তোমরা আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থানের ব্যাপারে কোন অপবাদ রটনা করবে না, কোন ন্যয়সঙ্গত কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের যারা এ সব পূর্ণ করবে, আল্লাহ্‌র কাছে তার প্রতিদান আছে। আর কেউ এ সব জিনিসের কোনটায় জড়িয়ে পড়লে তাকে যদি সে জন্য দুনিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ্ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬০)


সহিহ মুসলিম অঃ->অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি বাব->হুদূদ’ তথা শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দণ্ড কার্যকরে অপরাধীর পাপ ক্ষমা হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে হাঃ-৪৩৫৩

উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, আমরা কোন এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন যে, তোমরা আমার কাছে এর উপর বাই’আত কর যে, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না এবং কাউকে হত্যা করবে না যাকে হত্যা করা আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। কিন্তু, ন্যায়সঙ্গতভাবে (অর্থাৎ- কিসাস হিসেবে অথবা মুরতাদ হলে কিংবা বিয়ের পর যিনা করলে)। অতএব, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তা পূর্ণ করবে, সে তার পুরস্কার আল্লাহ্‌র কাছে পাবে। আর যদি কেউ উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে থাকে, তবে তাই তার জন্য কাফ্‌ফারা (বদলা) হয়ে যাবে। আর যদি কোন ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয় অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি মহান আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন। (ই. ফা. ৪৩১২, ই. সে. ৪৩১৩)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->হাদ্দ বা দন্ডবিধি বাব->হাদ্দ প্রতিষ্ঠিতহলে গুনাহ মাফ হয়ে যায় হাঃ-১৪৩৯

উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে কোন এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা এই কথার উপর আমার নিকট বাই’আত করঃ আল্লাহ তা‘আলার সাথে তোমরা কোন অংশীদার স্থাপন করবে না, চুরি করবে না এবং যিনা-ব্যভিচার করবেনা। তারপর তিনি বাই’আত বিষয়ক পূর্ণ আয়াত তাদেরকে তিলাওয়াত করে শুনালেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের যে লোক এই বাই’আত পূর্ণ করবে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট রয়েছে তার জন্য পুরষ্কার। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এবং এর জন্য তাকে শাস্তিও প্রদান করা হলে তাতে তার গুণাহের কাফফারা হয়ে যাবে। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপকর্ম করে বসলে এবং আল্লাহ তা‘আলা সেটাকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে দিলে তার প্রসঙ্গটি আল্লাহ তা‘আলার উপর ন্যস্ত। তাকে আল্লাহ তা‘আলা চাইলে শাস্তিও দিতে পারেন আবার মাফও করে দিতে পারেন। সহীহ্, ইরওয়া (২৩৩৪), নাসা-ঈ


সুনান নাসাঈ অঃ->বায়‘আত বাব->জিহাদ করার উপর বায়‘য়াত হাঃ-৪১৬১

উবাদা ইব্‌ন সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবা বেষ্টিত অবস্থায় বললেনঃ তোমরা আমার নিকট এ কথার উপর বায়‘আত কর যে, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যাভিচার করবে না, স্বীয় সন্তানদের হত্যা করবে না। আর তোমরা কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং ন্যায় কাজে আমার অবাধ্যতা প্রকাশ করবে না; যে ব্যক্তি এরূপ বায়‘য়াত পূর্ণ করবে, তার সওয়াব আল্লাহ্‌র যিম্মায়, আর যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে কোন অপরাধ করবে, তারপর শাস্তি ভোগ করবে, তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। আর কেউ যদি কোন অপরাধ করে এবং আল্লাহ্‌ তা‘য়ালা তা ঢেকে রাখেন, তার ব্যাপার আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। যদি তিনি ইচ্ছে করেন, তবে তাকে ক্ষমাও করতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->বায়‘আত বাব->মুশরিক হতে পৃথক থাকার বায়‘আত হাঃ-৪১৭৮

উবাদা ইব্‌ন সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি একদল লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাদের থেকে এ ব্যপারে বায়‘আত গ্রহণ করছি যে, তোমরা আল্লাহ্‌ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজের সন্তানকে হত্যা করবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিবে না, ভাল কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ সকল অঙ্গীকার পূর্ণ করবে তার সওয়াব আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এই কার্যাবলীর কোন একটি করে ফেলবে এবং পৃথিবীতে এর শাস্তি ভোগ করবে, তবে তা তার পবিত্রতার উপায় হবে। আর যদি আল্লাহ্‌ তা‘আলা তার পাপ গোপন রাখেন তবে তা আল্লাহ্‌র মরযী, তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তি দেবেন।