সহিহ বুখারী অঃ->ওজু বাব->উযূর সময় কুলি করা। হাঃ-১৬৪

‘উসমান ইব্‌নু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর মুক্ত করা দাস হুমরান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘উসমান (রাঃ)-কে উযূর পানি আনাতে দেখলেন। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাস্‌হ করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু’রাক’আত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ্ তা’আলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (১৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৫)


সহিহ বুখারী অঃ->সাওম বাব->সায়িমের জন্য কাঁচা বা শুকনো দাঁতন ব্যবহার করা । হাঃ-১৯৩৪

হুমরান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে উযূ করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতের উপর পানি ঢাললেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন। অতঃপর তিনবার চেহারা (মুখমণ্ডল) ধুলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন এবং বামহাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। এরপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর ডান পা তিনবার ধুলেন অতঃপর বাম পা তিনবার ধুলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উযূ করতে দেখেছি আমার এ উযূর মতই। এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ উযূর মত উযূ করে দু’রাক’আত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোন কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।


সহিহ মুসলিম অঃ->তাহারাত (পবিত্রতা) বাব->ওযূ করার নিয়ম ও ওযূর পূর্ণতা হাঃ-৪২৬

‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ওযূর পানি চাইলেন। এরপর তিনি ওযূ করতে আরম্ভ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি [উসমান (রাঃ)] তিনবার তাঁর হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার তাঁর মুখমন্ডল ধুলেন এবং ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর বাম হাত অনুরূপভাবে ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন – অতঃপর তদ্রুপভাবে বাম পা ধুলেন তারপর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার এ ওযূর করার ন্যায় ওযূ করতে দেখেছি এবং ওযূ শেষে রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযূর ন্যায় ওযূ করবে এবং একান্ত মনোযোগের সাথে দু’রাকা’আত সলাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব বলেন, আমাদের ‘আলিমগণ বলতেন যে, সলাতের জন্য কারোর এ নিয়মের ওযূই হল পরিপূর্ণ ওযূ। (ই.ফা. ৪২৯, ই.সে. ৪৪৫)


সহিহ মুসলিম অঃ->তাহারাত (পবিত্রতা) বাব->ওযূ করার নিয়ম ও ওযূর পূর্ণতা হাঃ-৪২৭

‘উসমান এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘উসমান ইবনু ‘আফফানকে দেখেছেন তিনি ওযূর জন্যে এক পাত্র পানি আনিয়ে দু’হাতের উপর ঢেলে তিনবার ধুলেন। তারপর ডানহাত পানির পাত্রে প্রবেশ করিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, এরপর তিনবার মুখমণ্ডল এবং তিনবার দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধুইলেন। তারপর মাথা মাসাহ্ করলেন। অতঃপর উভয় পা (গোড়ালি পর্যন্ত) তিনবার ধুয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযূর ন্যায় ওযূ করার পর এমনভাবে দু’রাকআ’ত সলাত আদায় করবে যাতে তার অন্তরে কোন কল্পনার উদয় হয়নি; তবে তার পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ই.ফা.৪৩০, ই.সে. ৪৪৬)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উযুর বিবরণ হাঃ-১০৬

‘উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর মুক্ত দাস হুমরান ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-কে উযু করে দেখেছি। তিনি প্রথমে উভয় হাতে তিনবার করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন। তারপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, বাম হাতও অনুরূপ করলেন। এরপর মাথা মাসাহ্‌ করলেন। এরপর তিনবার ডান পা ধুলেন, বাম পাও অনুরূপ করলেন। সর্বশেষে বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি আমার এ উযুর ন্যায় উযু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার এ উযুর মত উযু করে দু’ রাক’আত সলাত আদায় করবে, যাতে তার মনে কোনরূপ পার্থিব খেয়াল ও খটকা আসবে না, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->সালাতের মধ্যে ওয়াস্‌ওয়াসা ও বিভিন্ন চিন্তা আসা অপছন্দনীয় হাঃ-৯০৫

যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ উত্তমরূপে উযু করে নির্ভুলভাবে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->কুলি করা ও নাক পরিষ্কার করা হাঃ-৮৪

হুমরান ইব্‌ন আবান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি উসমান ইব্‌ন আফফান (রাঃ)-কে উযূ করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতে পানি ঢেলে হাত ধৌত করেন। এরপর গড়গড়া করে কুলি করেন এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম হাতও। এরপরে মাথা মসেহ করেন এবং ডান পা তিনবার ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম পাও। এভাবে উযূ শেষ করে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ উযূ করতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করবে এবং তারপরে একাগ্রতার সাথে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->কোন হাত দ্বারা কুলি করতে হবে হাঃ-৮৫

হুমরান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি উসমান (রাঃ)-কে উযূর পানি চাইতে দেখলেন। (পানি আনা হলে) তিনি পাত্র হতে হাতে পানি ঢালেন এবং হস্তদ্বয় তিনবার করে ধৌত করেন। পরে ডান হাত পাত্রে ঢুকান এবং কুলি করেন ও পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করেন। এরপরে মাথা মসেহ করেন ও প্রত্যেক পা তিনবার করে ধৌত করেন ও বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি আমার ন্যায় উযূ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করবে এবং একাগ্রতা সহকারে দু’রাকাআত সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->হাত ও পায়ের কতটুকু ধৌত করতে হবে হাঃ-১১৬

হুমরান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উসমান (রাঃ) উযূর পানি আনতে বলেন। প্রথমে তিনি তিনবার উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। এরপর তিন-তিনবার ডান ও বাম হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। এরপর মাথা মসেহ করেন এবং তিন-তিনবার ডান ও বাম পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ উযূ করতে দেখেছি; তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করবে এবং দাঁড়িয়ে দু’রাকাত সালাত (তাহিয়্যাতুল উযূ) একাগ্রচিত্তে আদায় করবে, তার পেছনের গুনাহ্‌ মাফ করে দেওয়া হবে।