সাফওয়ান ইবনু ইয়া'লা ইব্নু উমাইয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইয়া'লা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) বলতেন যে, আহা! রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)- এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্তে যদি তাঁকে দেখতে পেতাম। ইয়া'লা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) বলেন ইতোমধ্যে নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) জি'রানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর উপর একটি কাপড় টানিয়ে ছায়া করে দেয়া হয়েছিল। আর সেখানে তাঁর সঙ্গে তাঁর কতিপয় সহাবীও ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে এক বেদুঈন আসল। তাঁর গায়ে ছিল একটি খুশবু মাখানো জোব্বা। সে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে গায়ে খুশবু মাখানো জোব্বা পরিধান ক'রে 'উমরাহ্ আদায়ের জন্য ইহ্রাম বেঁধেছে? (এমন সময়) 'উমার (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) হাত দিয়ে ইশারা করে ইয়া'লা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু)- কে আসতে বললেন। ইয়া'লা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) এলে 'উমার (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) তাঁর মাথাটি (কাপড়ের ছায়ায়) ঢুকিয়ে দিলেন। [তখন তিনি ইয়া'লা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) দেখতে পেলেন যে] নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)- এর চেহারা লাল বর্ণ হয়ে রয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস জোরে চলছে। এ অবস্থা কিছুক্ষণ পর্যন্ত ছিল, তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এল। তখন তিনি [নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)] বললেন, সে লোকটি কোথায়, কিছুক্ষণ আগে যে আমাকে “উমরাহ্র বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল। লোকটিকে খুঁজে আনা হলে তিনি বললেনঃ তোমার গায়ে যে খুশবু রয়েছে তা তুমি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জোব্বাটি খুলে ফেল। তারপর হাজ্জ পালনে যা কর, 'উমরাহ্তেও সেগুলোই কর। [১৫৩৬] (আ.প্র. ৩৯৮৬, ই.ফা. ৩৯৯০)
ইয়ালা ইব্নু ‘উমাইয়াহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলতেন, হায়! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় যদি তাঁকে দেখতে পারতাম। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘জিয়িররানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং চাঁদোয়া দিয়ে তাঁর উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন কতিপয় সাহাবী। এমন সময় সুগন্ধি মেখে এক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! ঐ সম্পর্কে আপনার মত কী, যে সুগন্ধি মেখে জুব্বা পরে ইহ্রাম বেঁধেছে? কিছু সময়ের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপেক্ষা করলেন, এমনি সময় ওয়াহী এল। ‘উমার (রাঃ) ইয়ালা (রাঃ)– কে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। ইয়ালা (রাঃ) এলেন এবং তাঁর মাথা ঐ চাদরের ভেতর ঢোকালেন। দেখলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুখমণ্ডল লাল রক্তিম বর্ণ এবং কিছু সময়ের জন্য বেশ জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছেন। তারপর তাঁর থেকে এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে দূর হওয়ার পর তিনি বললেন, প্রশ্নকারী কোথায় যে কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে ‘উমরাহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল? লোকটিকে খুঁজে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর নিকট নিয়ে আসা হল। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে সুগন্ধি তুমি তোমার শরীরে মেখেছ, তা তিনবার ধুয়ে ফেলবে আর জুব্বাটি খুলে ফেলবে। তারপর তুমি তোমার ‘উমরাহ্তে ঐ সমস্ত কাজ করবে, যা তুমি হাজ্জের মধ্যে করে থাক।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২০)
‘আবিস ইবনু রবীআ‘হ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আমি অবশ্যই তোমায় চুম্বন করছি এবং আমি জানি যে, তুমি অবশ্যই একটি পাথর। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি কখনও তোমায় চুম্বন করতাম না। (ই.ফা. ২৯৩৬, ই.সে. ২৯৩৪)
ইয়ালা ইব্ন উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বললেনঃ যদি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখতে পেতাম। এরপরে এক সময় আমরা জি’ইররানা নামক স্থানে ছিলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁবুর ভিতরে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট ওহী আসলে উমর (রাঃ) আমার দিকে ইশারা করলেনঃ এদিকে এসো। আমি তাঁবুর ভিতরে আমার মাথা ঢুকালাম। এমন সময় তাঁর নিকট একজন লোক আগমন করলো। সে উমরার জন্য জুব্বা পরিহিত অবস্থায় ইহ্রাম বেঁধেছিল এবং সুগন্ধি ব্যবহার করেছিল। সে বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে জুব্বা পরিহিত অবস্থায় ইহ্রাম বেঁধেছে? হঠাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে লাগলো। এজন্য নাক ডাকতে শুরু করলেন। তারপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা কেটে গেলে তিনি বললেনঃ একটু পূর্বে যে ব্যক্তি আমাকে প্রশ্ন করেছিল, সে কোথায়? সে লোকটিকে আনা হলে তিনি বললেনঃ জুব্বা খুলে ফেল, আর সুগন্ধি ধুয়ে ফেল, তারপর নতুন করে ইহ্রাম বাঁধো। আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ “ নতুন করে ইহ্রাম বাঁধ” নূহ্ ইব্ন হাবীব ব্যতীত অন্য কেউ এরূপ বলেছেন বলে আমি জানি না। আর এ বর্ণনাকে সুরক্ষিত (যথার্থ) বলেও মনে করি না। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।