সহিহ বুখারী অঃ->অসীয়াত বাব->মৃত্যুর প্রাক্কালে দান খয়রাত করা। হাঃ-২৭৪৮

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! উত্তম সদকা কোন্‌টি? তিনি বলেন, সুস্থ এবং সম্পদের প্রতি অনুরাগ থাকা অবস্থায় দান খয়রাত করা, যখন তোমার ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং তুমি দারিদ্রের আশঙ্কা কর, আর তুমি এভাবে অপেক্ষায় থাকবে না যে, যখন তোমার প্রাণ কন্ঠাগত হবে, তখন তুমি বলবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু অথচ তা অমুকের জন্য হয়েই গেছে।


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->সুস্থ ও স্বাবলম্বী এবং সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকা অবস্থায় দান-খয়রাত করার ফাযীলাত হাঃ-২২৭২

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন্‌ ধরনের সদাক্বাহ্‌ বা দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, তুমি এমন অবস্থায় দান করবে, যখন তুমি সুস্থ-সবল, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শনকারী, দারিদ্র্যকে ভয়কারী ও এবং ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষাকারী। আর (সদাক্বাহ্‌ প্রদানে) বিলম্ব করবে না জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্ব করে প্রাণ কন্ঠনালী পর্যন্ত এসে গেলে তুমি বলবে, এটা অমুকের ওটা অমুকের- এরূপ ঠিক নয়। তখন তো এগুলো অমুকের হয়েই যাচ্ছে। অর্থাৎ তোমার মরার সাথে সাথে উত্তরাধীকারগণ নিয়ে নিবে। (ই.ফা. ২২৫১, ই.সে. ২২৫২)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->সুস্থ ও স্বাবলম্বী এবং সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকা অবস্থায় দান-খয়রাত করার ফাযীলাত হাঃ-২২৭৩

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন ধরনের দানে বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়? তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ! (আমি অবশ্য তোমাকে জানাচ্ছি) তুমি সুস্থ, সবল, ও অনুরক্ত অবস্থায় দান করবে যে, তুমি দারিদ্রকে ভয় কর এবং ধনী হওয়ার বাসনা রাখ। আর দানের ব্যাপারে জীবন বায়ু কন্ঠনালী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে, তখন বলতে থাকবে- অমুকের জন্য এটা, অমুকের জন্য ওটা। বরং তখন তো এসব অমুকের হয়েই যাবে। (অর্থাৎ তোমার আর দান করার প্রয়োজন হবে না বরং তোমার মৃত্যুর পর এ সব উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে)। (ই.ফা. ২২৫২, ই.সে. ২২৫৩)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->ওসিয়াত প্রসঙ্গে বাব->ওসিয়াতের দ্বারা ক্ষতিসাধন অন্যায় হাঃ-২৮৬৫

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ধরনের সদাক্বাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ সুস্থ ও সচ্ছল অবস্থায় সদাক্বাহ করা। যখন তুমি আরো বেঁচে থাকার আশা রাখো এবং গরীব হওয়ারও আশঙ্কা করো। তুমি এতটা বিলম্ব করবে না যে, প্রাণবায়ু উড়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তুমি বলবে, অমুকের জন্য এতটুকু অমুকের জন্য এতটুকু (সদাক্বাহ করলাম)। কেননা তখন তো সেটা অমুকের জন্য হয়েই গেছে।


সুনান নাসাঈ অঃ->ওয়াসিয়াত বাব->ওয়াসিয়াতে দেরী করা মাকরুহ হাঃ-৩৬১১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ্! কোন্ সাদাকায় সওয়াব বেশি? তিনি বললেন: ঐ সাদাকা, যা তুমি সুস্থ অবস্থায় কর এবং মালের প্রতি তোমার অত্যধিক লালসা থাকে, আর তুমি অভাবগ্রস্ততার ভয় কর এবং তোমার আরও বহুদিন বেঁচে থাকার আশা থাকে। আর সাদাকা করতে এত দেরী করবে না যে, তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়ে যায়। আর তুমি বলবে: এত অমুকের জন্য, অথচ তা তো অমুকের জন্য হয়েই গেছে।