ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এলে তিনি বললেনঃ এই প্রতিনিধি দলের প্রতি ‘মারহাবা’, যারা লাঞ্ছিত ও লজ্জিত হয়ে আসেনি। তারা বললঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা রাবি’য়া গোত্রের লোক। আমরা ও আপনার মাঝে অবস্থান করছে ‘মুযার’ গোত্র। এজন্য আমরা হারাম মাস ব্যতীত আপনার খিদমতে পৌছতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত নিয়ম-নীতি বাত্লিয়ে দেন যা অনুসরণ করে আমরা জান্নাতে যেতে পারি এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের পথ দেখাতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি চারটি ও চারটি নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা সালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং গানীমাতের মালের পঞ্চমাংশ দান করবে। আর কদুর খোলে, সবুজ রং করা কলসে, খেজুর মূলের পাত্রে আলকাতরা রঙানো পাত্রে পান করবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৩০)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আবদুল কায়স-এর (গোত্রের) একটি ওয়াফ্দ [২১] (প্রতিনিধি দল) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমরা রাবী‘আহ্ গোত্রের লোক। আমাদের এবং আপনার মধ্যে কাফির মুযার গোত্র বিদ্যমান। আমরা শাহরুল হারাম ব্যতীত আপনার নিকট নিরাপদে পৌঁছাতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিন আমরা যে সবের উপর ‘আমাল করতে পারি এবং আমাদের অন্যান্যদের তৎপ্রতি আহবান জানাতে পারি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের আমি চারটি বিষয় পালনের আদেশ করছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। তারপর তাদের এ সম্বন্ধে বর্ণনা দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, সলাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং তোমাদের গনীমাতলদ্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি দুববা, হানতাম, নাকীর, মুকাইয়্যার থেকে। [২২] খালাফ তাঁর বর্ণনায় আরও উল্লেখ করছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’ বলে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি অঙ্গুলি (সংকেতসূচক) বন্ধ করেন। (ই.ফা. ২৩; ই.সে. ২৩)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রবী‘আহ গোত্রের একটি শাখাগোত্র। আমাদেরও আপনার মাঝখানে কাফির মুদার গোত্রের এ জনপদ বাধা হয়ে আছে। এজন্য হারাম মাসে (মুহাররম, রজব, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ) ব্যতীত অন্য কোন সময়ে আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে এমন কিছু আদেশ দিন যা আমরা নিজেরা গ্রহন করবো এবং আমাদের অন্যান্য লোকদেরও সে দিকে আহবান করবো। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয় গ্রহণের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা– এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি নিজের হাত দিয়ে ইশারা করলেন। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘আল্লাহর প্রতি ঈমান’ বলে তিনি তাদেরকে এর ব্যাখ্যা করে বললেনঃ এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং গনীমাতের এক-পঞ্চমাংশ জমা দেয়া। আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি লাউয়ের খোল দ্বারা তৈরী পাত্র, মাটির সবুজ পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র এবং কালো রং-এর পাত্র ব্যবহার করতে। ইবনু উবাইদের বর্ণনায় মুকাইয়ার শব্দের স্থলে নাকীর শব্দ রয়েছে। মুসাদ্দাদ নাকীর ও মুকাইয়ার শব্দ বর্ণনা করেছেন কিন্তু মুযাফ্ফাত শব্দের উল্লেখ করেননি।
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমরা রবীআ গোত্রের লোক। আর আমরা ‘নিষিদ্ধ মাস’ ব্যতীত আপনার নিকট উপস্থিত হতে পারি না। অতএব আমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা আমরা আপনার নিকট হতে শিখে যেতে পারি এবং আমাদের অন্যান্য লোককে এর প্রতি আহবান করতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বস্তুর প্রতি আদেশ করছি এবং চারটি বস্তু হতে নিষেধ করছি। যে চার বস্তুর আদেশ করছি তা হল আল্লাহ্র প্রতি ঈমান। এরপর তিনি তাদের জন্য এর ব্যাখ্যা দিলেন যে, “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র রাসুল” এই সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, তোমরা যে গনীমতের মাল পাও, তার পঞ্চমাংশ আমার নিকট আদায় করা। আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছিঃ দুববা (কদুর খোল দ্বারা প্রস্তুত পাত্র), হান্তম (মাটির সবুজ পাত্র বিশেষ), নাকীর (কাঠের পাত্রবিশেষ) এবং মুযাফফাত (তৈলাক্ত পাত্র বিশেষ) হতে।