জামে' আত-তিরমিজি > রাতে নামায শেষে পাঠ করার দু'আ

জামে' আত-তিরমিজি ৩৪১৯

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن عمران بن أبي ليلى، حدثني أبي، حدثني ابن أبي ليلى، عن داود بن علي، هو ابن عبد الله بن عباس عن أبيه، عن جده ابن عباس، قال سمعت نبي الله صلى الله عليه وسلم يقول ليلة حين فرغ من صلاته ‏ "‏ اللهم إني أسألك رحمة من عندك تهدي بها قلبي وتجمع بها أمري وتلم بها شعثي وتصلح بها غائبي وترفع بها شاهدي وتزكي بها عملي وتلهمني بها رشدي وترد بها ألفتي وتعصمني بها من كل سوء اللهم أعطني إيمانا ويقينا ليس بعده كفر ورحمة أنال بها شرف كرامتك في الدنيا والآخرة اللهم إني أسألك الفوز في العطاء ويروى في القضاء ونزل الشهداء وعيش السعداء والنصر على الأعداء اللهم إني أنزل بك حاجتي وإن قصر رأيي وضعف عملي افتقرت إلى رحمتك فأسألك يا قاضي الأمور ويا شافي الصدور كما تجير بين البحور أن تجيرني من عذاب السعير ومن دعوة الثبور ومن فتنة القبور اللهم ما قصر عنه رأيي ولم تبلغه نيتي ولم تبلغه مسألتي من خير وعدته أحدا من خلقك أو خير أنت معطيه أحدا من عبادك فإني أرغب إليك فيه وأسألكه برحمتك رب العالمين اللهم ذا الحبل الشديد والأمر الرشيد أسألك الأمن يوم الوعيد والجنة يوم الخلود مع المقربين الشهود الركع السجود الموفين بالعهود إنك رحيم ودود وأنت تفعل ما تريد اللهم اجعلنا هادين مهتدين غير ضالين ولا مضلين سلما لأوليائك وعدوا لأعدائك نحب بحبك من أحبك ونعادي بعداوتك من خالفك اللهم هذا الدعاء وعليك الاستجابة وهذا الجهد وعليك التكلان اللهم اجعل لي نورا في قبري ونورا في قلبي ونورا من بين يدى ونورا من خلفي ونورا عن يميني ونورا عن شمالي ونورا من فوقي ونورا من تحتي ونورا في سمعي ونورا في بصري ونورا في شعري ونورا في بشري ونورا في لحمي ونورا في دمي ونورا في عظامي اللهم أعظم لي نورا وأعطني نورا واجعل لي نورا سبحان الذي تعطف العز وقال به سبحان الذي لبس المجد وتكرم به سبحان الذي لا ينبغي التسبيح إلا له سبحان ذي الفضل والنعم سبحان ذي المجد والكرم سبحان ذي الجلال والإكرام ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث ابن أبي ليلى من هذا الوجه ‏.‏ وقد روى شعبة وسفيان الثوري عن سلمة بن كهيل عن كريب عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم بعض هذا الحديث ولم يذكره بطوله ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায শেষে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হতে রাহমাত ও দয়া আশা করি, এর দ্বারা তুমি আমার মনকে হিদায়াত দান কর, আমার সকল কাজ গুছিয়ে দাও, আমার অগোছাল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে দাও, আমার অজানা কাজকে সংশোধন করে দাও, আমার উপস্থিতিকে উন্নত কর, আমার কাজকর্ম পরিচ্ছন্ন করে দাও, সরল-সঠিক পথ আমাকে শিখিয়ে দাও, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খারাপ হতে আমাকে নির্বিঘ্ন রাখ। হে আল্লাহ! আমাকে ঈমান ও দৃঢ় প্রত্যয় দান কর, যার পরে আর যেন কুফরী অবশিষ্ট না থাকে। আর তুমি আমাকে রাহমাত দান কর যার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমার মহান করুণার অধিকারী হতে পারি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দানের ব্যাপারে সাফল্য চাই, আরো আশা করি শহীদদের মত আতিথেয়তা, সৌভাগ্যবানদের জীবন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য। হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন তোমার নিকটেই পেশ করলাম। আমার বুদ্ধিমত্তা অক্ষম ও ত্রুটিপূর্ণ এবং আমার কর্মতৎপরতা দুর্বল হওয়ায় আমি তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। অতএব আমি তোমার নিকটে আশা করি, হে সকল কাজকর্ম ফায়সালাকারী, বক্ষসমূহের আরোগ্যকারী! আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হতে এমনভাবে দূরে সরিয়ে রাখ যেমন তুমি দুই সমুদ্রের মিলনকে প্রতিরোধ করে রাখ। তুমি আমাকে ধ্বংসকারী আহ্বান হতে ও কবরের সংকট হতে বিপদমুক্ত রাখ। হে আল্লাহ! আমার ধারণায় যে কল্যাণের কথা আসেনি, আমার ইচ্ছায় ও প্রার্থনা যে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, যে কল্যাণ তুমি তোমার কোন সৃষ্টিকে দান করার শপথ করেছ অথবা তোমার কোন বান্দাকে যে কল্যাণ তুমি দান করবে, হে বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী! তোমার দয়ার উসীলায় আমি সেই কল্যাণ আশা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মহাভীতির (কিয়ামতের) দিন নিরাপত্তা আশা করি এবং রুকূ-সিজদাকারী, তোমার নৈকট্য লাভকারী ও তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণকারী বান্দাদের সাথে চিরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা করি। নিশ্চয় তুমি অধিক দয়ালু ও অনুগ্রহপরায়ণ বন্ধু। তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হিদায়াতকারীদের ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা বিপথগামীও নয় এবং বিপথগামীকারীও নয়, যারা তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে শান্তি স্থাপনকারী এবং তোমার শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী। যে তোমায় ভালোবাসে আমরা তোমার মুহাব্বাতে তাকে ভালোবাসি এবং শত্রুতা বশতঃ যে তোমার বিরোধিতা করে, আমরা তার সাথে শত্রুতা রাখি। হে আল্লাহ! এই আমার আরযি এবং এটা ক্ববূল করা তোমার ইচ্ছাধীন। এই আমার প্রচেষ্টা এবং তোমার উপরই আমার আস্থা। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে একটি নূর ঢেলে দাও। আমার কবরে নূর দাও, আমার সম্মুখে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে (দৃষ্টিশক্তিতে) নূর, আমার পশমে নূর, আমার চামড়ায় নূর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর এবং আমার হাড়ে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার নূরকে বৃদ্ধি কর, আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য স্থায়ী নূরের ব্যবস্থা কর। তিনিই (আল্লাহ) পবিত্র যিনি সম্মান ও মহত্বের চাদরে আবৃত এবং নিজের জন্য তাকে বিশিষ্ট করে নিয়েছেন। তিনি পবিত্র, যিনি সম্মানের পোশাক পরিহিত এবং মর্যাদার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনিই পবিত্র, যিনি সমস্ত দানের ও নিয়ামাতের অধিকারী, যিনি সুমহান ও মর্যাদাবান। পবিত্র তিনি যিনি মহিমাময় ও মহাবুভব”। সনদ দুর্বল, আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইবনু আবূ লাইলার রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস এরকম জেনেছি। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) সালামা ইবনু কুহাইল হতে, তিনি কুরাইব হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন এবং এত দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেননি।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায শেষে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হতে রাহমাত ও দয়া আশা করি, এর দ্বারা তুমি আমার মনকে হিদায়াত দান কর, আমার সকল কাজ গুছিয়ে দাও, আমার অগোছাল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে দাও, আমার অজানা কাজকে সংশোধন করে দাও, আমার উপস্থিতিকে উন্নত কর, আমার কাজকর্ম পরিচ্ছন্ন করে দাও, সরল-সঠিক পথ আমাকে শিখিয়ে দাও, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খারাপ হতে আমাকে নির্বিঘ্ন রাখ। হে আল্লাহ! আমাকে ঈমান ও দৃঢ় প্রত্যয় দান কর, যার পরে আর যেন কুফরী অবশিষ্ট না থাকে। আর তুমি আমাকে রাহমাত দান কর যার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমার মহান করুণার অধিকারী হতে পারি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দানের ব্যাপারে সাফল্য চাই, আরো আশা করি শহীদদের মত আতিথেয়তা, সৌভাগ্যবানদের জীবন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য। হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন তোমার নিকটেই পেশ করলাম। আমার বুদ্ধিমত্তা অক্ষম ও ত্রুটিপূর্ণ এবং আমার কর্মতৎপরতা দুর্বল হওয়ায় আমি তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। অতএব আমি তোমার নিকটে আশা করি, হে সকল কাজকর্ম ফায়সালাকারী, বক্ষসমূহের আরোগ্যকারী! আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হতে এমনভাবে দূরে সরিয়ে রাখ যেমন তুমি দুই সমুদ্রের মিলনকে প্রতিরোধ করে রাখ। তুমি আমাকে ধ্বংসকারী আহ্বান হতে ও কবরের সংকট হতে বিপদমুক্ত রাখ। হে আল্লাহ! আমার ধারণায় যে কল্যাণের কথা আসেনি, আমার ইচ্ছায় ও প্রার্থনা যে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, যে কল্যাণ তুমি তোমার কোন সৃষ্টিকে দান করার শপথ করেছ অথবা তোমার কোন বান্দাকে যে কল্যাণ তুমি দান করবে, হে বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী! তোমার দয়ার উসীলায় আমি সেই কল্যাণ আশা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মহাভীতির (কিয়ামতের) দিন নিরাপত্তা আশা করি এবং রুকূ-সিজদাকারী, তোমার নৈকট্য লাভকারী ও তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণকারী বান্দাদের সাথে চিরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা করি। নিশ্চয় তুমি অধিক দয়ালু ও অনুগ্রহপরায়ণ বন্ধু। তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হিদায়াতকারীদের ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা বিপথগামীও নয় এবং বিপথগামীকারীও নয়, যারা তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে শান্তি স্থাপনকারী এবং তোমার শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী। যে তোমায় ভালোবাসে আমরা তোমার মুহাব্বাতে তাকে ভালোবাসি এবং শত্রুতা বশতঃ যে তোমার বিরোধিতা করে, আমরা তার সাথে শত্রুতা রাখি। হে আল্লাহ! এই আমার আরযি এবং এটা ক্ববূল করা তোমার ইচ্ছাধীন। এই আমার প্রচেষ্টা এবং তোমার উপরই আমার আস্থা। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে একটি নূর ঢেলে দাও। আমার কবরে নূর দাও, আমার সম্মুখে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে (দৃষ্টিশক্তিতে) নূর, আমার পশমে নূর, আমার চামড়ায় নূর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর এবং আমার হাড়ে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার নূরকে বৃদ্ধি কর, আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য স্থায়ী নূরের ব্যবস্থা কর। তিনিই (আল্লাহ) পবিত্র যিনি সম্মান ও মহত্বের চাদরে আবৃত এবং নিজের জন্য তাকে বিশিষ্ট করে নিয়েছেন। তিনি পবিত্র, যিনি সম্মানের পোশাক পরিহিত এবং মর্যাদার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনিই পবিত্র, যিনি সমস্ত দানের ও নিয়ামাতের অধিকারী, যিনি সুমহান ও মর্যাদাবান। পবিত্র তিনি যিনি মহিমাময় ও মহাবুভব”। সনদ দুর্বল, আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইবনু আবূ লাইলার রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস এরকম জেনেছি। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) সালামা ইবনু কুহাইল হতে, তিনি কুরাইব হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন এবং এত দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেননি।

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن عمران بن أبي ليلى، حدثني أبي، حدثني ابن أبي ليلى، عن داود بن علي، هو ابن عبد الله بن عباس عن أبيه، عن جده ابن عباس، قال سمعت نبي الله صلى الله عليه وسلم يقول ليلة حين فرغ من صلاته ‏ "‏ اللهم إني أسألك رحمة من عندك تهدي بها قلبي وتجمع بها أمري وتلم بها شعثي وتصلح بها غائبي وترفع بها شاهدي وتزكي بها عملي وتلهمني بها رشدي وترد بها ألفتي وتعصمني بها من كل سوء اللهم أعطني إيمانا ويقينا ليس بعده كفر ورحمة أنال بها شرف كرامتك في الدنيا والآخرة اللهم إني أسألك الفوز في العطاء ويروى في القضاء ونزل الشهداء وعيش السعداء والنصر على الأعداء اللهم إني أنزل بك حاجتي وإن قصر رأيي وضعف عملي افتقرت إلى رحمتك فأسألك يا قاضي الأمور ويا شافي الصدور كما تجير بين البحور أن تجيرني من عذاب السعير ومن دعوة الثبور ومن فتنة القبور اللهم ما قصر عنه رأيي ولم تبلغه نيتي ولم تبلغه مسألتي من خير وعدته أحدا من خلقك أو خير أنت معطيه أحدا من عبادك فإني أرغب إليك فيه وأسألكه برحمتك رب العالمين اللهم ذا الحبل الشديد والأمر الرشيد أسألك الأمن يوم الوعيد والجنة يوم الخلود مع المقربين الشهود الركع السجود الموفين بالعهود إنك رحيم ودود وأنت تفعل ما تريد اللهم اجعلنا هادين مهتدين غير ضالين ولا مضلين سلما لأوليائك وعدوا لأعدائك نحب بحبك من أحبك ونعادي بعداوتك من خالفك اللهم هذا الدعاء وعليك الاستجابة وهذا الجهد وعليك التكلان اللهم اجعل لي نورا في قبري ونورا في قلبي ونورا من بين يدى ونورا من خلفي ونورا عن يميني ونورا عن شمالي ونورا من فوقي ونورا من تحتي ونورا في سمعي ونورا في بصري ونورا في شعري ونورا في بشري ونورا في لحمي ونورا في دمي ونورا في عظامي اللهم أعظم لي نورا وأعطني نورا واجعل لي نورا سبحان الذي تعطف العز وقال به سبحان الذي لبس المجد وتكرم به سبحان الذي لا ينبغي التسبيح إلا له سبحان ذي الفضل والنعم سبحان ذي المجد والكرم سبحان ذي الجلال والإكرام ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث ابن أبي ليلى من هذا الوجه ‏.‏ وقد روى شعبة وسفيان الثوري عن سلمة بن كهيل عن كريب عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم بعض هذا الحديث ولم يذكره بطوله ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > রাতের তাহাজ্জুদ নামায আরম্ভ করার দু’আ

জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২০

حدثنا يحيى بن موسى، وغير، واحد، قالوا أخبرنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثنا يحيى بن أبي كثير، حدثنا أبو سلمة، قال سألت عائشة رضى الله عنها بأى شيء كان النبي صلى الله عليه وسلم يفتتح صلاته إذا قام من الليل قالت كان إذا قام من الليل افتتح صلاته فقال ‏ "‏ اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السموات والأرض وعالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن غريب ‏.‏

আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আয়িশাহ (রাঃ)- কে আমি প্রশ্ন করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে যখন (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দন্ডায়মান হতেন তখন কিসের মাধ্যমে নামায শুরু করতেন (তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে কি পাঠ করতেন)? তিনি বলেন, তিনি রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দাঁড়িয়ে তা আরম্ভ করে বলতেনঃ “হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা , প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাক”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৭), মুসলিম।

আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আয়িশাহ (রাঃ)- কে আমি প্রশ্ন করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে যখন (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দন্ডায়মান হতেন তখন কিসের মাধ্যমে নামায শুরু করতেন (তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে কি পাঠ করতেন)? তিনি বলেন, তিনি রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দাঁড়িয়ে তা আরম্ভ করে বলতেনঃ “হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা , প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাক”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৭), মুসলিম।

حدثنا يحيى بن موسى، وغير، واحد، قالوا أخبرنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثنا يحيى بن أبي كثير، حدثنا أبو سلمة، قال سألت عائشة رضى الله عنها بأى شيء كان النبي صلى الله عليه وسلم يفتتح صلاته إذا قام من الليل قالت كان إذا قام من الليل افتتح صلاته فقال ‏ "‏ اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السموات والأرض وعالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن غريب ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > (রাতের নামাযের বিশেষ দু’আ)

জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২১

حدثنا محمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، حدثنا يوسف بن الماجشون، حدثني أبي، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قام إلى الصلاة قال ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها إنه لا يصرف عني سيئها إلا أنت آمنت بك تباركت وتعاليت أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ فإذا ركع قال ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت خشع لك سمعي وبصري ومخي وعظامي وعصبي ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه قال ‏"‏ اللهم ربنا لك الحمد ملء السموات والأرضين وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ فإذا سجد قال ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت سجد وجهي للذي خلقه فصوره وشق سمعه وبصره فتبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ثم يكون آخر ما يقول بين التشهد والسلام ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أنت أعلم به مني أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.

আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার চেহারা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। “আমার নামায, আমার ইবাদাত (কুরবানী ও হাজ্জ), আমার প্রান ও আমার মৃত্যু জগতসমূহের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার জন্যই। তাঁর কোন শরীক নেই এবং এ (ঘোষণা দেয়ার) জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলমানদের দলভুক্ত”-(সূরা আন’আম ১৬২-৬৩)। হে আল্লাহ! তুমি রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তুমিই আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস। আমার নিজের উপর আমি অত্যাচার করেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে ভালো চরিত্রের পথনির্দেশ কর। তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সবচেয়ে ভাল চরিত্রের দিকে পথনির্দেশ করতে পারেনা। তুমি আমার হতে মন্দ চরিত্র দূর করে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে তা দূর করতে পারে না। তোমার উপর আমি ঈমান এনেছি। তুমি কল্যাণময়, সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি”। তারপর যখন রুকূ‘ দিতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার খুশির জন্যই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড় এবং আমার স্নায়ু তোমার জন্যই ঝুঁকে পড়েছে”। তিনি রুকূ‘ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমার প্রভু! আকাশ্মন্ডলী ও সম্পূর্ণ জগৎসমুহ এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে , সমস্ত কিছু পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা এবং তুমি যা আকাঙ্ক্ষা কর সেটাও পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা”। তিনি সাজদাহতে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার জন্যই ইসলাম ক্ববূল করলাম। আমার মুখমন্ডল তাঁর জন্য সাজদাহ্ করল। যিনি আমার চেহারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে সুন্দর মুখমন্ডল দান করেছেন এবং তা ভেদ করে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত মহান”। তারপর তাশাহহূদ ও সালামের মাঝখানের সময়ে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে , লুকায়িত ও প্রকাশ্য এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে যা কিছু আমি করেছি, তুমি তা ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই”। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭৩৮), মুসলিম।

আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার চেহারা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। “আমার নামায, আমার ইবাদাত (কুরবানী ও হাজ্জ), আমার প্রান ও আমার মৃত্যু জগতসমূহের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার জন্যই। তাঁর কোন শরীক নেই এবং এ (ঘোষণা দেয়ার) জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলমানদের দলভুক্ত”-(সূরা আন’আম ১৬২-৬৩)। হে আল্লাহ! তুমি রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তুমিই আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস। আমার নিজের উপর আমি অত্যাচার করেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে ভালো চরিত্রের পথনির্দেশ কর। তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সবচেয়ে ভাল চরিত্রের দিকে পথনির্দেশ করতে পারেনা। তুমি আমার হতে মন্দ চরিত্র দূর করে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে তা দূর করতে পারে না। তোমার উপর আমি ঈমান এনেছি। তুমি কল্যাণময়, সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি”। তারপর যখন রুকূ‘ দিতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার খুশির জন্যই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড় এবং আমার স্নায়ু তোমার জন্যই ঝুঁকে পড়েছে”। তিনি রুকূ‘ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমার প্রভু! আকাশ্মন্ডলী ও সম্পূর্ণ জগৎসমুহ এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে , সমস্ত কিছু পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা এবং তুমি যা আকাঙ্ক্ষা কর সেটাও পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা”। তিনি সাজদাহতে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার জন্যই ইসলাম ক্ববূল করলাম। আমার মুখমন্ডল তাঁর জন্য সাজদাহ্ করল। যিনি আমার চেহারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে সুন্দর মুখমন্ডল দান করেছেন এবং তা ভেদ করে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত মহান”। তারপর তাশাহহূদ ও সালামের মাঝখানের সময়ে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে , লুকায়িত ও প্রকাশ্য এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে যা কিছু আমি করেছি, তুমি তা ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই”। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭৩৮), মুসলিম।

حدثنا محمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، حدثنا يوسف بن الماجشون، حدثني أبي، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قام إلى الصلاة قال ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها إنه لا يصرف عني سيئها إلا أنت آمنت بك تباركت وتعاليت أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ فإذا ركع قال ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت خشع لك سمعي وبصري ومخي وعظامي وعصبي ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه قال ‏"‏ اللهم ربنا لك الحمد ملء السموات والأرضين وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ فإذا سجد قال ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت سجد وجهي للذي خلقه فصوره وشق سمعه وبصره فتبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ثم يكون آخر ما يقول بين التشهد والسلام ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أنت أعلم به مني أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২২

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا أبو الوليد الطيالسي، حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة، ويوسف بن الماجشون، قال عبد العزيز حدثني عمي، وقال، يوسف أخبرني أبي، حدثني الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قام إلى الصلاة قال ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك والخير كله في يديك والشر ليس إليك أنا بك وإليك تباركت وتعاليت أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ فإذا ركع قال ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت خشع لك سمعي وبصري وعظامي وعصبي ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع قال ‏"‏ اللهم ربنا لك الحمد ملء السماء وملء الأرض وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ فإذا سجد قال ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت سجد وجهي للذي خلقه فصوره وشق سمعه وبصره فتبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ثم يقول من آخر ما يقول بين التشهد والتسليم ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أسرفت وما أنت أعلم به مني أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রাতে তাহাজ্জুদ) নামাযে দন্ডায়মান হতেন তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার মুখমন্ডল তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। “আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য।তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ ! তুমিই বাদশাহ, তুমি ব্যতীত আর কোন মা ‘বূদ নেই , তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার দাস। আমার আত্মার প্রতি আমি যুলম করেছি এবং আমি আমার কৃত অন্যায় স্বীকার করেছি। সুতরাং আমার সকল অন্যায় তুমি ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। কেননা তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের রাস্তায় পরিচালিত করতে পারে না। আমাকে অপরাধ হতে তুমি ফিরিয়ে রাখ, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে খারাপ পথ হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তোমার সমীপে আমি উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য ও মঙ্গল তোমার আয়ত্তাধীন।আর খারাপের কিছুই তোমার দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। আমি তোমার জন্যই এবং তোমার নিকটেই আমার ফিরে আসা।তুমি মঙ্গলময় ও সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তিনি রুকূ‘তে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ‘ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম সুতরাং আমার কান , আমার চোখ , আমার সকল হাঁড় ও স্নায়ুগুলো তোমার জন্যই অবনমিত”। তিনি ((রুকূ‘ হতে) মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আকাশ-যমীন ও আ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এ সকল পূর্ণ পরিমাণ”।তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা তাঁর উদ্দেশে সাজদাহ করল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং (তা ভেদ করে) তার কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা বারাকাতময়”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে সবশেষে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য যে গুনাহ করেছি, যে উচ্ছৃংখলতা করেছি এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে, যা কিছু আমি (অন্যায়-অপরাধ) করেছি সে সব তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। সহীহঃ প্রাগুক্ত।

আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রাতে তাহাজ্জুদ) নামাযে দন্ডায়মান হতেন তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার মুখমন্ডল তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। “আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য।তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ ! তুমিই বাদশাহ, তুমি ব্যতীত আর কোন মা ‘বূদ নেই , তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার দাস। আমার আত্মার প্রতি আমি যুলম করেছি এবং আমি আমার কৃত অন্যায় স্বীকার করেছি। সুতরাং আমার সকল অন্যায় তুমি ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। কেননা তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের রাস্তায় পরিচালিত করতে পারে না। আমাকে অপরাধ হতে তুমি ফিরিয়ে রাখ, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে খারাপ পথ হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তোমার সমীপে আমি উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য ও মঙ্গল তোমার আয়ত্তাধীন।আর খারাপের কিছুই তোমার দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। আমি তোমার জন্যই এবং তোমার নিকটেই আমার ফিরে আসা।তুমি মঙ্গলময় ও সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তিনি রুকূ‘তে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ‘ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম সুতরাং আমার কান , আমার চোখ , আমার সকল হাঁড় ও স্নায়ুগুলো তোমার জন্যই অবনমিত”। তিনি ((রুকূ‘ হতে) মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আকাশ-যমীন ও আ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এ সকল পূর্ণ পরিমাণ”।তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা তাঁর উদ্দেশে সাজদাহ করল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং (তা ভেদ করে) তার কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা বারাকাতময়”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে সবশেষে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য যে গুনাহ করেছি, যে উচ্ছৃংখলতা করেছি এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে, যা কিছু আমি (অন্যায়-অপরাধ) করেছি সে সব তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। সহীহঃ প্রাগুক্ত।

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا أبو الوليد الطيالسي، حدثنا عبد العزيز بن أبي سلمة، ويوسف بن الماجشون، قال عبد العزيز حدثني عمي، وقال، يوسف أخبرني أبي، حدثني الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قام إلى الصلاة قال ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك والخير كله في يديك والشر ليس إليك أنا بك وإليك تباركت وتعاليت أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ فإذا ركع قال ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت خشع لك سمعي وبصري وعظامي وعصبي ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع قال ‏"‏ اللهم ربنا لك الحمد ملء السماء وملء الأرض وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ فإذا سجد قال ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت سجد وجهي للذي خلقه فصوره وشق سمعه وبصره فتبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ثم يقول من آخر ما يقول بين التشهد والتسليم ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أسرفت وما أنت أعلم به مني أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২৩

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২৩

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২৩

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হাত দুইখানি তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন), তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাঁর দু’হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে (দুই রাক‘আত শেষে) যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –(সূরা আন‘আম ৭৯)। ‘আমার নামায, আমার ‘ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশে।তাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- (সূরা আন‘আম ১৬২-১৬৩)।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা কত বারাকাতময়” তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা‘বূদ, তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই”। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ৭২৯)।

حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا سليمان بن داود الهاشمي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبيد الله بن أبي رافع، عن علي بن أبي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة المكتوبة رفع يديه حذو منكبيه ويصنع ذلك أيضا إذا قضى قراءته وأراد أن يركع ويصنعها إذا رفع رأسه من الركوع ولا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد وإذا قام من سجدتين رفع يديه كذلك فكبر ويقول حين يفتتح الصلاة بعد التكبير ‏"‏ وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت سبحانك أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت لبيك وسعديك وأنا بك وإليك ولا منجا منك ولا ملجأ إلا إليك أستغفرك وأتوب إليك ‏"‏ ‏.‏ ثم يقرأ فإذا ركع كان كلامه في ركوعه أن يقول ‏"‏ اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي خشع سمعي وبصري ومخي وعظمي لله رب العالمين ‏"‏ ‏.‏ فإذا رفع رأسه من الركوع قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏ ‏.‏ ثم يتبعها ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ملء السموات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد ‏"‏ ‏.‏ وإذا سجد قال في سجوده ‏"‏ اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت وأنت ربي سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ‏"‏ ‏.‏ ويقول عند انصرافه من الصلاة ‏"‏ اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت أنت إلهي لا إله إلا أنت ‏"‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند الشافعي وبعض أصحابنا ‏.‏ قال أبو عيسى وأحمد لا يراه وقال بعض أهل العلم من أهل الكوفة وغيرهم يقول هذا في صلاة التطوع ولا يقوله في المكتوبة ‏.‏ سمعت أبا إسماعيل الترمذي محمد بن إسماعيل بن يوسف يقول سمعت سليمان بن داود الهاشمي يقول وذكر هذا الحديث فقال هذا عندنا مثل حديث الزهري عن سالم عن أبيه ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > কুরআনের সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াতের পর সাজদাহতে যা বলতে হবে

জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২৪

حدثنا قتيبة، حدثنا محمد بن يزيد بن خنيس، حدثنا الحسن بن محمد بن عبيد الله بن أبي يزيد، قال قال لي ابن جريج أخبرني عبيد الله بن أبي يزيد، عن ابن عباس، قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله رأيتني الليلة وأنا نائم كأني أصلي خلف شجرة فسجدت الشجرة لسجودي وسمعتها وهي تقول اللهم اكتب لي بها عندك أجرا وضع عني بها وزرا واجعلها لي عندك ذخرا وتقبلها مني كما تقبلتها من عبدك داود ‏.‏ قال ابن جريج قال لي جدك قال ابن عباس فقرأ النبي صلى الله عليه وسلم سجدة ثم سجد ‏.‏ قال ابن عباس فسمعته وهو يقول مثل ما أخبر الرجل عن قول الشجرة ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه وفي الباب عن أبي سعيد ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এক লোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আজ রাতে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পেছনে নামায আদায় করছি। আমি সাজদাহ করলে আমার সাজদাহর মত গাছটিও সাজদাহ করে। ঐ গাছটিকে আমি বলতে শুনলাম, “হে আল্লাহ ! এ সাজদাহর বিনিময়ে আমার জন্য তোমার নিকট পুরস্কার লিপিবদ্ধ কর, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ অপসারণ কর, আমার জন্য এটাকে পুঁজি হিসেবে জমা রাখ এবং এটাকে আমার পক্ষ হতে গ্রহণ কর, যেমন তুমি তোমার বান্দা দাঊদ (‘আঃ) হতে গ্রহন করেছিলে”। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদকে বলেন, আমাকে তোমার দাদা বলেছেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার সাজদাহর আয়াত পাঠ করলেন এবং সাজদাহ করলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁকে সেই গাছের একই রকম দু‘আ আমি তিলাওয়াত করতে শুনলাম, যে প্রসঙ্গে আগে লোকটি তাঁকে জানিয়েছিল। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১০৫৩)।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এক লোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আজ রাতে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পেছনে নামায আদায় করছি। আমি সাজদাহ করলে আমার সাজদাহর মত গাছটিও সাজদাহ করে। ঐ গাছটিকে আমি বলতে শুনলাম, “হে আল্লাহ ! এ সাজদাহর বিনিময়ে আমার জন্য তোমার নিকট পুরস্কার লিপিবদ্ধ কর, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ অপসারণ কর, আমার জন্য এটাকে পুঁজি হিসেবে জমা রাখ এবং এটাকে আমার পক্ষ হতে গ্রহণ কর, যেমন তুমি তোমার বান্দা দাঊদ (‘আঃ) হতে গ্রহন করেছিলে”। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদকে বলেন, আমাকে তোমার দাদা বলেছেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার সাজদাহর আয়াত পাঠ করলেন এবং সাজদাহ করলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁকে সেই গাছের একই রকম দু‘আ আমি তিলাওয়াত করতে শুনলাম, যে প্রসঙ্গে আগে লোকটি তাঁকে জানিয়েছিল। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১০৫৩)।

حدثنا قتيبة، حدثنا محمد بن يزيد بن خنيس، حدثنا الحسن بن محمد بن عبيد الله بن أبي يزيد، قال قال لي ابن جريج أخبرني عبيد الله بن أبي يزيد، عن ابن عباس، قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله رأيتني الليلة وأنا نائم كأني أصلي خلف شجرة فسجدت الشجرة لسجودي وسمعتها وهي تقول اللهم اكتب لي بها عندك أجرا وضع عني بها وزرا واجعلها لي عندك ذخرا وتقبلها مني كما تقبلتها من عبدك داود ‏.‏ قال ابن جريج قال لي جدك قال ابن عباس فقرأ النبي صلى الله عليه وسلم سجدة ثم سجد ‏.‏ قال ابن عباس فسمعته وهو يقول مثل ما أخبر الرجل عن قول الشجرة ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه وفي الباب عن أبي سعيد ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৪২৫

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا خالد الحذاء، عن أبي العالية، عن عائشة، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في سجود القرآن بالليل ‏ "‏ سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره بحوله وقوته ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহর আয়াত পাঠ করার পর সাজদাহতে বলতেনঃ “সেই মহান সত্তার উদ্দেশে আমার মুখমন্ডল সাজদাহ করল যিনি তাকে তৈরী করেছেন এবং নিজের প্রবল ক্ষমতায় তার মাঝে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করেছেন”। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ১০৩৫), সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ১২৭৪)।

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহর আয়াত পাঠ করার পর সাজদাহতে বলতেনঃ “সেই মহান সত্তার উদ্দেশে আমার মুখমন্ডল সাজদাহ করল যিনি তাকে তৈরী করেছেন এবং নিজের প্রবল ক্ষমতায় তার মাঝে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করেছেন”। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ১০৩৫), সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ১২৭৪)।

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا خالد الحذاء، عن أبي العالية، عن عائشة، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في سجود القرآن بالليل ‏ "‏ سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره بحوله وقوته ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00