জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-জুমু'আহ্
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১০
حدثنا علي بن حجر، أخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثني ثور بن زيد الديلي، عن أبي الغيث، عن أبي هريرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزلت سورة الجمعة فتلاها فلما بلغ : ( وآخرين منهم لما يلحقوا بهم ) قال له رجل يا رسول الله من هؤلاء الذين لم يلحقوا بنا فلم يكلمه قال وسلمان الفارسي فينا قال فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على سلمان فقال " والذي نفسي بيده لو كان الإيمان بالثريا لتناوله رجال من هؤلاء " . قال أبو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه . وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني ضعفه يحيى بن معين . ثور بن زيد مدني وثور بن يزيد شامي وأبو الغيث اسمه سالم مولى عبد الله بن مطيع مدني ثقة .
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ সূরা আল-জুমু'আহ্ অবতীর্ণ হওয়াকালে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটেই ছিলাম। তিনি তা পাঠ করলেন। "আর তিনি তাদের জন্যও (রাসূল) যারা এখনো তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি"- (সূরা জুমু'আহ্ ৩) পর্যন্ত পৌঁছলে এক লোক তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো যারা আমাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথায় জবাব দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সালমান (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রাঃ)-এর উপর তাঁর হাত রেখে বললেনঃ সেই মহান সত্তার ক্বসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি ঈমান সুরাইয়্যাহ্ নক্ষত্রেও থাকে তবুও তাদের মাঝের কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০১৭), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ সূরা আল-জুমু'আহ্ অবতীর্ণ হওয়াকালে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটেই ছিলাম। তিনি তা পাঠ করলেন। "আর তিনি তাদের জন্যও (রাসূল) যারা এখনো তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি"- (সূরা জুমু'আহ্ ৩) পর্যন্ত পৌঁছলে এক লোক তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো যারা আমাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথায় জবাব দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সালমান (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রাঃ)-এর উপর তাঁর হাত রেখে বললেনঃ সেই মহান সত্তার ক্বসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি ঈমান সুরাইয়্যাহ্ নক্ষত্রেও থাকে তবুও তাদের মাঝের কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০১৭), বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا علي بن حجر، أخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثني ثور بن زيد الديلي، عن أبي الغيث، عن أبي هريرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزلت سورة الجمعة فتلاها فلما بلغ : ( وآخرين منهم لما يلحقوا بهم ) قال له رجل يا رسول الله من هؤلاء الذين لم يلحقوا بنا فلم يكلمه قال وسلمان الفارسي فينا قال فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على سلمان فقال " والذي نفسي بيده لو كان الإيمان بالثريا لتناوله رجال من هؤلاء " . قال أبو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه . وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني ضعفه يحيى بن معين . ثور بن زيد مدني وثور بن يزيد شامي وأبو الغيث اسمه سالم مولى عبد الله بن مطيع مدني ثقة .
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১১
حدثنا أحمد بن منيع، حدثنا هشيم، أخبرنا حصين، عن أبي سفيان، عن جابر، قال بينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قائما إذ قدمت عير المدينة فابتدرها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لم يبق منهم إلا اثنا عشر رجلا فيهم أبو بكر وعمر ونزلت الآية : ( وإذا رأوا تجارة أو لهوا انفضوا إليها وتركوك قائما ) . قال هذا حديث حسن صحيح .
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা জুমু'আহ্র সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ দিচ্ছিলেন। সে সময় মাদীনাহর একটি (ব্যবসায়ী) কাফিলা এসে হাযির হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মাঝ হতে আবূ বাক্র ও 'উমার (রাঃ)-সহ বারজন ব্যতীত প্রত্যেকেই সেদিকে তাড়াতাড়ি চলে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসায় বা কৌতুক, সে সময় আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে গেল"- (সূরা জুমু'আহ্ ১১)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা জুমু'আহ্র সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ দিচ্ছিলেন। সে সময় মাদীনাহর একটি (ব্যবসায়ী) কাফিলা এসে হাযির হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মাঝ হতে আবূ বাক্র ও 'উমার (রাঃ)-সহ বারজন ব্যতীত প্রত্যেকেই সেদিকে তাড়াতাড়ি চলে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসায় বা কৌতুক, সে সময় আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে গেল"- (সূরা জুমু'আহ্ ১১)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا أحمد بن منيع، حدثنا هشيم، أخبرنا حصين، عن أبي سفيان، عن جابر، قال بينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قائما إذ قدمت عير المدينة فابتدرها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لم يبق منهم إلا اثنا عشر رجلا فيهم أبو بكر وعمر ونزلت الآية : ( وإذا رأوا تجارة أو لهوا انفضوا إليها وتركوك قائما ) . قال هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মুনাফিকুন
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১২
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن زيد بن أرقم، قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن أبى ابن سلول، يقول لأصحابه : ( لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) و (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) فذكرت ذلك لعمي فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله بن أبى وأصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فأصابني شيء لم يصبني قط مثله فجلست في البيت فقال عمي ما أردت إلا أن كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فأنزل الله تعالى : ( إذا جاءك المنافقون ) فبعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأها ثم قال " إن الله قد صدقك " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে আমি তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গীদের জন্য তোমরা আর অর্থ খরচ করবে না, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত না (তার হতে) আলাদা হয়ে যায়। আমরা মাদীনায় ফিরে গেলে তখন অবশ্যই সেখানে প্রবলরা হীনদেরকে বহিষ্কার করবে। এ কথা আমি আমার চাচাকে জানালে তা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানান। আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাকেন এবং তাঁর নিকট আমি ঘটনাটি ব্যক্ত করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠান। শপথ করে তারা বলে যে, তারা (এ কথা) বলেনি। সে সময় রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মিথ্যাবাদী ও তাকে সত্যবাদী ধারণা করলেন। এতে আমার এত কষ্ট লাগল যে, আগে কখনও এ রকম কষ্ট হয়নি। আমি ভারাক্রান্ত মনে ঘরে বসে রইলাম। আমার চাচা বললেন, তুমি এমন ব্যাপারে কেন জড়িত হতে গেলে যার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তুমি মিথ্যাবাদী হলে ও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ হলে? এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা যখন "মুনাফিক্বরা যখন তোমার নিকট আসে" (অর্থাৎ সূরা আল-মুনাফিকূন) অবতীর্ণ করেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডেকে পাঠান এবং তিনি উক্ত সূরা তিলাওয়াত করেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমার সত্যবাদিতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০০, ৪৯০৪), মুসলিম (হাঃ৮/১১৯)।
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে আমি তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গীদের জন্য তোমরা আর অর্থ খরচ করবে না, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত না (তার হতে) আলাদা হয়ে যায়। আমরা মাদীনায় ফিরে গেলে তখন অবশ্যই সেখানে প্রবলরা হীনদেরকে বহিষ্কার করবে। এ কথা আমি আমার চাচাকে জানালে তা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানান। আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাকেন এবং তাঁর নিকট আমি ঘটনাটি ব্যক্ত করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠান। শপথ করে তারা বলে যে, তারা (এ কথা) বলেনি। সে সময় রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মিথ্যাবাদী ও তাকে সত্যবাদী ধারণা করলেন। এতে আমার এত কষ্ট লাগল যে, আগে কখনও এ রকম কষ্ট হয়নি। আমি ভারাক্রান্ত মনে ঘরে বসে রইলাম। আমার চাচা বললেন, তুমি এমন ব্যাপারে কেন জড়িত হতে গেলে যার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তুমি মিথ্যাবাদী হলে ও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ হলে? এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা যখন "মুনাফিক্বরা যখন তোমার নিকট আসে" (অর্থাৎ সূরা আল-মুনাফিকূন) অবতীর্ণ করেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডেকে পাঠান এবং তিনি উক্ত সূরা তিলাওয়াত করেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমার সত্যবাদিতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০০, ৪৯০৪), মুসলিম (হাঃ৮/১১৯)।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن زيد بن أرقم، قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن أبى ابن سلول، يقول لأصحابه : ( لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) و (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) فذكرت ذلك لعمي فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله بن أبى وأصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فأصابني شيء لم يصبني قط مثله فجلست في البيت فقال عمي ما أردت إلا أن كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فأنزل الله تعالى : ( إذا جاءك المنافقون ) فبعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأها ثم قال " إن الله قد صدقك " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৪
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، أنبأنا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، قال سمعت محمد بن كعب القرظي، منذ أربعين سنة يحدث عن زيد بن أرقم، رضى الله عنه أن عبد، الله بن أبى قال في غزوة تبوك : (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) قال فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فحلف ما قاله فلامني قومي وقالوا ما أردت إلى هذه فأتيت البيت ونمت كئيبا حزينا فأتاني النبي صلى الله عليه وسلم أو أتيته فقال " إن الله قد صدقك " . قال فنزلت هذه الآية : ( هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
আল-হাকাম ইবনু 'উতাইবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরাযীকে আমি চল্লিশ বছর আগে যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-এর মাধ্যমে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তাবূক যু্দ্ধ চলাকালীন সময়ে 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারলে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীন লোকদেরকে বের করে দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। কিন্তু সে এ কথা বলেনি বলে শপথ করে। এতে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে দোষারোপ করে এবং বলে, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে? আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ীতে ফিরে এসে অসার হয়ে শুয়ে রইলাম। আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বলেন বা আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সত্যবাদী ঘোষনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, (এই পরিপ্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয়(অনুবাদ)ঃ “এরা সেই লোক যারা বলে, রাসূলের সঙ্গী-সাথীদের জন্য তোমরা অর্থব্যয় বন্ধ করে দাও, যার ফলে তারা আলাদা হয়ে যায়"-(সূরা মুনাফিকুন ৭)। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০২)।
আল-হাকাম ইবনু 'উতাইবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরাযীকে আমি চল্লিশ বছর আগে যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-এর মাধ্যমে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তাবূক যু্দ্ধ চলাকালীন সময়ে 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারলে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীন লোকদেরকে বের করে দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। কিন্তু সে এ কথা বলেনি বলে শপথ করে। এতে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে দোষারোপ করে এবং বলে, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে? আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ীতে ফিরে এসে অসার হয়ে শুয়ে রইলাম। আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বলেন বা আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সত্যবাদী ঘোষনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, (এই পরিপ্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয়(অনুবাদ)ঃ “এরা সেই লোক যারা বলে, রাসূলের সঙ্গী-সাথীদের জন্য তোমরা অর্থব্যয় বন্ধ করে দাও, যার ফলে তারা আলাদা হয়ে যায়"-(সূরা মুনাফিকুন ৭)। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০২)।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، أنبأنا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، قال سمعت محمد بن كعب القرظي، منذ أربعين سنة يحدث عن زيد بن أرقم، رضى الله عنه أن عبد، الله بن أبى قال في غزوة تبوك : (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) قال فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فحلف ما قاله فلامني قومي وقالوا ما أردت إلى هذه فأتيت البيت ونمت كئيبا حزينا فأتاني النبي صلى الله عليه وسلم أو أتيته فقال " إن الله قد صدقك " . قال فنزلت هذه الآية : ( هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৬
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا أبو جناب الكلبي، عن الضحاك بن مزاحم، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال من كان له مال يبلغه حج بيت ربه أو تجب عليه فيه الزكاة فلم يفعل سأل الرجعة عند الموت . فقال رجل يا ابن عباس اتق الله إنما سأل الرجعة الكفار قال سأتلو عليك بذلك قرآنا : ( يا أيها الذين آمنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ) : (وأنفقوا مما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت ) إلى قوله : ( والله خبير بما تعملون ) قال فما يوجب الزكاة قال إذا بلغ المال مائتى درهم فصاعدا . قال فما يوجب الحج قال الزاد والبعير .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যার নিকটে তার রবের (প্রতিপালকের) ঘর (কা’বা) যিয়ারাতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আছে অথচ হাজ্জ করে না, অথবা এতটা সম্পদ আছে যাতে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় কিন্তু যাকাত আদায় করে না, সে মৃত্যুর সময় দুনিয়াতে আবার ফিরে আসার আরজ করবে। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে ইবনু আব্বস! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন, দুনিয়াতে ফিরে আসার আর্জি তো শুধু কাফিররাই করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি এখনই তোমাকে কুরাআন পাঠ করে শুনাচ্ছিঃ “ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার স্মরণ থেকে গাফিল না করে, যারা গাফিল হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা হতে খরচ কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় (মৃত্যু আসলে) সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে তুমি আরো কিছুকালের জন্য ছাড় দিলে আমি দান-খাইরাত করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো নির্ধারিতকাল (মৃত্যু) চলে আসবে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে কিছুই ছাড় দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা’আলা সে প্রসঙ্গে পূর্ণ অবগত’’ ( সূরাঃ আল-মুনাফিকুন-৯-১১)। লোকটি বলল, কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন, দুই শত দিরহাম বা ততোধিক মালে। সে বলল, কিসে হাজ্জ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ পাথেয় ও যানবাহন থাকলে। সনদ দুর্বল
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যার নিকটে তার রবের (প্রতিপালকের) ঘর (কা’বা) যিয়ারাতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আছে অথচ হাজ্জ করে না, অথবা এতটা সম্পদ আছে যাতে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় কিন্তু যাকাত আদায় করে না, সে মৃত্যুর সময় দুনিয়াতে আবার ফিরে আসার আরজ করবে। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে ইবনু আব্বস! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন, দুনিয়াতে ফিরে আসার আর্জি তো শুধু কাফিররাই করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি এখনই তোমাকে কুরাআন পাঠ করে শুনাচ্ছিঃ “ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার স্মরণ থেকে গাফিল না করে, যারা গাফিল হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা হতে খরচ কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় (মৃত্যু আসলে) সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে তুমি আরো কিছুকালের জন্য ছাড় দিলে আমি দান-খাইরাত করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো নির্ধারিতকাল (মৃত্যু) চলে আসবে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে কিছুই ছাড় দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা’আলা সে প্রসঙ্গে পূর্ণ অবগত’’ ( সূরাঃ আল-মুনাফিকুন-৯-১১)। লোকটি বলল, কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন, দুই শত দিরহাম বা ততোধিক মালে। সে বলল, কিসে হাজ্জ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ পাথেয় ও যানবাহন থাকলে। সনদ দুর্বল
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا أبو جناب الكلبي، عن الضحاك بن مزاحم، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال من كان له مال يبلغه حج بيت ربه أو تجب عليه فيه الزكاة فلم يفعل سأل الرجعة عند الموت . فقال رجل يا ابن عباس اتق الله إنما سأل الرجعة الكفار قال سأتلو عليك بذلك قرآنا : ( يا أيها الذين آمنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ) : (وأنفقوا مما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت ) إلى قوله : ( والله خبير بما تعملون ) قال فما يوجب الزكاة قال إذا بلغ المال مائتى درهم فصاعدا . قال فما يوجب الحج قال الزاد والبعير .
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৩
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن السدي، عن أبي سعيد الأزدي، حدثنا زيد بن أرقم، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان معنا أناس من الأعراب فكنا نبتدر الماء وكان الأعراب يسبقونا إليه فسبق أعرابي أصحابه فسبق الأعرابي فيملأ الحوض ويجعل حوله حجارة ويجعل النطع عليه حتى يجيء أصحابه . قال فأتى رجل من الأنصار أعرابيا فأرخى زمام ناقته لتشرب فأبى أن يدعه فانتزع قباض الماء فرفع الأعرابي خشبته فضرب بها رأس الأنصاري فشجه فأتى عبد الله بن أبى رأس المنافقين فأخبره وكان من أصحابه فغضب عبد الله بن أبى ثم قال : (لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) من حوله . يعني الأعراب وكانوا يحضرون رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الطعام فقال عبد الله إذا انفضوا من عند محمد فائتوا محمدا بالطعام فليأكل هو ومن عنده ثم قال لأصحابه لئن رجعتم إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل . قال زيد وأنا ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فسمعت عبد الله بن أبى فأخبرت عمي فانطلق فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرسل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فحلف وجحد . قال فصدقه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني قال فجاء عمي إلى فقال ما أردت إلا أن مقتك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبك والمسلمون . قال فوقع على من الهم ما لم يقع على أحد . قال فبينما أنا أسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قد خفقت برأسي من الهم إذ أتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرك أذني وضحك في وجهي فما كان يسرني أن لي بها الخلد في الدنيا . ثم إن أبا بكر لحقني فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما قال شيئا إلا أنه عرك أذني وضحك في وجهي . فقال أبشر . ثم لحقني عمر فقلت له مثل قولي لأبي بكر فلما أصبحنا قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المنافقين . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে গেলাম। কিছু সংখ্যক বেদুঈনও আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা পানির উৎসের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বেই বেদুঈনরা পানির উৎসে গিয়ে পৌঁছায়। এক বেদুঈন তার সঙ্গীদের পূর্বে পৌঁছে। সে হাউয (চৌবাচ্চা) সম্পূর্ণ করে তার চতুর্দিকে পাথর রেখে দিত এবং তার উপর চামড়া বিছিয়ে দিয়ে তা ঢেকে দিত, যাতে তার সাথী এসে যায় (এবং অন্যরা পানি নিতে না পারে)। উক্ত বেদুঈনের কাছে এসে এক আনসারী লোক তার উটকে পানি পান করানোর জন্য এর লাগাম (নাসারন্দ্রের দড়ি) হালকা করে ছেড়ে দিল, কিন্তু বেদুঈন তার উটকে পানি পান করতে বাধা দেয়। এতে আনসারী ব্যক্তি (ক্রুদ্ধ হয়ে) পানির উৎসগুলো সরিয়ে ফেলে। সে সময় একটি কাষ্ঠ খণ্ড তুলে নিয়ে বেদুঈন আনসারীর মাথায় জোড়ে আঘাত করে এবং এর ফলে তার মাথা ফেটে যায়। উক্ত আনসারী মুনাফিক্ব সরদার 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। আনসারী তার দলেরই লোক ছিল। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, যে বেদুঈনরা আল্লাহ তা'আলার রাসূলের সঙ্গে রয়েছে তাদেরকে সহায়তাদান বন্ধ করে দাও। তবেই তাঁর চারপাশ হতে তারা আলাদা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহার করার সময় তাঁর নিকট বেদুঈনরা হাযির হত (এবং তাঁর সঙ্গে আহার করত)। তাই 'আবদুল্লাহ বলল, যে সময় বেদুঈনরা মুহাম্মাদের নিকট হতে অন্যত্র চলে যাবে তাঁর নিকট তখন খাবার উপস্থিত করবে; যাতে তিনি ও তাঁর নিকট উপস্থিত (অন্যরা) তা আহার করেন। তারপর 'আবদুল্লাহ তার সাথীদেরকে আরো বলল, আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্মানিতরা তোমাদের মাঝের হীনদেরকে তাড়িয়ে দিবে। যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে একই সওয়ারীতে ছিলাম। 'আবদুল্লাহর কথা আমি শুনে ফেললাম এবং আমার চাচাকে জানালাম। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গিয়ে তা অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ('আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-কে) ডেকে পাঠান। সে শপথ করে এবং অস্বীকার করে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে অবিশ্বাস করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার চাচা আমার নিকট এসে বললেন, এটাই তো তুমি চেয়েছিলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং তিনি ও মুসলমানগণ তোমাকে মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এতটাই ভারাক্রান্ত হলাম যতটা কখনো কেউ হয়নি। তিনি আরো বলেন, তারপর আমি ভারাক্রান্ত হয়ে মাথা নত করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গেই সফর অব্যাহত রাখলাম। এ পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে আমার কান মললেন এবং আমার সম্মুখে হেসে দিলেন। যদি আমি চিরস্থায়ী জীবন (বা জান্নাত) লাভ করতাম তবুও এতটা খুশী হতাম না। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এসে আমার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কি বলেছেন? আমি বললাম, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি; তিনি কেবল আমার কান মলেছেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য সুখবর। অতঃপর আমার সঙ্গে 'উমার (রাঃ) এসে দেখা করেন। যে কথা আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলেছিলাম তাঁকেও তাই বললাম। অতঃপর আমরা ভোরে উপনিত হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করলেন। হাদীসটির সানাদ সহীহ।
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে গেলাম। কিছু সংখ্যক বেদুঈনও আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা পানির উৎসের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বেই বেদুঈনরা পানির উৎসে গিয়ে পৌঁছায়। এক বেদুঈন তার সঙ্গীদের পূর্বে পৌঁছে। সে হাউয (চৌবাচ্চা) সম্পূর্ণ করে তার চতুর্দিকে পাথর রেখে দিত এবং তার উপর চামড়া বিছিয়ে দিয়ে তা ঢেকে দিত, যাতে তার সাথী এসে যায় (এবং অন্যরা পানি নিতে না পারে)। উক্ত বেদুঈনের কাছে এসে এক আনসারী লোক তার উটকে পানি পান করানোর জন্য এর লাগাম (নাসারন্দ্রের দড়ি) হালকা করে ছেড়ে দিল, কিন্তু বেদুঈন তার উটকে পানি পান করতে বাধা দেয়। এতে আনসারী ব্যক্তি (ক্রুদ্ধ হয়ে) পানির উৎসগুলো সরিয়ে ফেলে। সে সময় একটি কাষ্ঠ খণ্ড তুলে নিয়ে বেদুঈন আনসারীর মাথায় জোড়ে আঘাত করে এবং এর ফলে তার মাথা ফেটে যায়। উক্ত আনসারী মুনাফিক্ব সরদার 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। আনসারী তার দলেরই লোক ছিল। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, যে বেদুঈনরা আল্লাহ তা'আলার রাসূলের সঙ্গে রয়েছে তাদেরকে সহায়তাদান বন্ধ করে দাও। তবেই তাঁর চারপাশ হতে তারা আলাদা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহার করার সময় তাঁর নিকট বেদুঈনরা হাযির হত (এবং তাঁর সঙ্গে আহার করত)। তাই 'আবদুল্লাহ বলল, যে সময় বেদুঈনরা মুহাম্মাদের নিকট হতে অন্যত্র চলে যাবে তাঁর নিকট তখন খাবার উপস্থিত করবে; যাতে তিনি ও তাঁর নিকট উপস্থিত (অন্যরা) তা আহার করেন। তারপর 'আবদুল্লাহ তার সাথীদেরকে আরো বলল, আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্মানিতরা তোমাদের মাঝের হীনদেরকে তাড়িয়ে দিবে। যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে একই সওয়ারীতে ছিলাম। 'আবদুল্লাহর কথা আমি শুনে ফেললাম এবং আমার চাচাকে জানালাম। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গিয়ে তা অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ('আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-কে) ডেকে পাঠান। সে শপথ করে এবং অস্বীকার করে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে অবিশ্বাস করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার চাচা আমার নিকট এসে বললেন, এটাই তো তুমি চেয়েছিলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং তিনি ও মুসলমানগণ তোমাকে মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এতটাই ভারাক্রান্ত হলাম যতটা কখনো কেউ হয়নি। তিনি আরো বলেন, তারপর আমি ভারাক্রান্ত হয়ে মাথা নত করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গেই সফর অব্যাহত রাখলাম। এ পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে আমার কান মললেন এবং আমার সম্মুখে হেসে দিলেন। যদি আমি চিরস্থায়ী জীবন (বা জান্নাত) লাভ করতাম তবুও এতটা খুশী হতাম না। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এসে আমার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কি বলেছেন? আমি বললাম, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি; তিনি কেবল আমার কান মলেছেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য সুখবর। অতঃপর আমার সঙ্গে 'উমার (রাঃ) এসে দেখা করেন। যে কথা আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলেছিলাম তাঁকেও তাই বললাম। অতঃপর আমরা ভোরে উপনিত হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করলেন। হাদীসটির সানাদ সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن السدي، عن أبي سعيد الأزدي، حدثنا زيد بن أرقم، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان معنا أناس من الأعراب فكنا نبتدر الماء وكان الأعراب يسبقونا إليه فسبق أعرابي أصحابه فسبق الأعرابي فيملأ الحوض ويجعل حوله حجارة ويجعل النطع عليه حتى يجيء أصحابه . قال فأتى رجل من الأنصار أعرابيا فأرخى زمام ناقته لتشرب فأبى أن يدعه فانتزع قباض الماء فرفع الأعرابي خشبته فضرب بها رأس الأنصاري فشجه فأتى عبد الله بن أبى رأس المنافقين فأخبره وكان من أصحابه فغضب عبد الله بن أبى ثم قال : (لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) من حوله . يعني الأعراب وكانوا يحضرون رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الطعام فقال عبد الله إذا انفضوا من عند محمد فائتوا محمدا بالطعام فليأكل هو ومن عنده ثم قال لأصحابه لئن رجعتم إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل . قال زيد وأنا ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فسمعت عبد الله بن أبى فأخبرت عمي فانطلق فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرسل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فحلف وجحد . قال فصدقه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني قال فجاء عمي إلى فقال ما أردت إلا أن مقتك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبك والمسلمون . قال فوقع على من الهم ما لم يقع على أحد . قال فبينما أنا أسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قد خفقت برأسي من الهم إذ أتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرك أذني وضحك في وجهي فما كان يسرني أن لي بها الخلد في الدنيا . ثم إن أبا بكر لحقني فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما قال شيئا إلا أنه عرك أذني وضحك في وجهي . فقال أبشر . ثم لحقني عمر فقلت له مثل قولي لأبي بكر فلما أصبحنا قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المنافقين . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৫
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول كنا في غزاة قال سفيان يرون أنها غزوة بني المصطلق فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال المهاجري يا للمهاجرين وقال الأنصاري يا للأنصار فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما بال دعوى الجاهلية " . قالوا رجل من المهاجرين كسع رجلا من الأنصار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعوها فإنها منتنة " . فسمع ذلك عبد الله بن أبى ابن سلول فقال أوقد فعلوها والله (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه " . وقال غير عمرو فقال له ابنه عبد الله بن عبد الله والله لا تنقلب حتى تقر أنك الذليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم العزيز . ففعل . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
আম্র ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একটি যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তা বনী মুসতালিক্বের যুদ্ধ ছিল। এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে মুহাজির লোক ডাকেন, হে মুহাজির ভাইয়েরা। আনসারী লোকটিও ডাকেন, হে আনসার ভাইয়েরা। তা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহিলী যুগের ডাকাডাকি হচ্ছে কেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ ডাকাডাকি বন্ধ কর, কারণ এটা ঘৃনিত ডাক। বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলের কানে পৌঁছলে সে বলল, এত বড় সাহস! এ কাজ তারা করেছে? আল্লাহ্র ক্বসম! যদি আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই সেখান হতে সম্মানিতরা হীনদেরকে বিতাড়িত করবে। 'উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিক্বের ঘাড় আমি উড়িয়ে দেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তাকে এড়িয়ে চল। লোকেরা যেন বলতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গীদের খুন করেন। 'আম্র ইবনু দীনার (রহঃ) ছাড়া অপর এক বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর ছেলে 'আবদুল্লাহ (রাঃ) (তার বাবাকে) বলেন, আল্লাহ্র ক্বসম! আপনি এ কথা যতক্ষণ স্বীকার না করবেন যে, “আপনিই হীন আর রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মহাসম্মানিত", ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মাদীনায় ফিরে যেতে পারবেন না। তারপর সে তা স্বীকার করে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
আম্র ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একটি যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তা বনী মুসতালিক্বের যুদ্ধ ছিল। এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে মুহাজির লোক ডাকেন, হে মুহাজির ভাইয়েরা। আনসারী লোকটিও ডাকেন, হে আনসার ভাইয়েরা। তা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহিলী যুগের ডাকাডাকি হচ্ছে কেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ ডাকাডাকি বন্ধ কর, কারণ এটা ঘৃনিত ডাক। বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলের কানে পৌঁছলে সে বলল, এত বড় সাহস! এ কাজ তারা করেছে? আল্লাহ্র ক্বসম! যদি আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই সেখান হতে সম্মানিতরা হীনদেরকে বিতাড়িত করবে। 'উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিক্বের ঘাড় আমি উড়িয়ে দেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তাকে এড়িয়ে চল। লোকেরা যেন বলতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গীদের খুন করেন। 'আম্র ইবনু দীনার (রহঃ) ছাড়া অপর এক বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর ছেলে 'আবদুল্লাহ (রাঃ) (তার বাবাকে) বলেন, আল্লাহ্র ক্বসম! আপনি এ কথা যতক্ষণ স্বীকার না করবেন যে, “আপনিই হীন আর রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মহাসম্মানিত", ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মাদীনায় ফিরে যেতে পারবেন না। তারপর সে তা স্বীকার করে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول كنا في غزاة قال سفيان يرون أنها غزوة بني المصطلق فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال المهاجري يا للمهاجرين وقال الأنصاري يا للأنصار فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما بال دعوى الجاهلية " . قالوا رجل من المهاجرين كسع رجلا من الأنصار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعوها فإنها منتنة " . فسمع ذلك عبد الله بن أبى ابن سلول فقال أوقد فعلوها والله (لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ) فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه " . وقال غير عمرو فقال له ابنه عبد الله بن عبد الله والله لا تنقلب حتى تقر أنك الذليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم العزيز . ففعل . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আত-তাগাবূন
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৭
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا إسرائيل، حدثنا سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، وسأله، رجل عن هذه الآية، ( يا أيها الذين آمنوا إن من أزواجكم وأولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) قال هؤلاء رجال أسلموا من أهل مكة وأرادوا أن يأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأبى أزواجهم وأولادهم أن يدعوهم أن يأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما أتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم رأوا الناس قد فقهوا في الدين هموا أن يعاقبوهم فأنزل الله عز وجل : ( يا أيها الذين آمنوا إن من أزواجكم وأولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) الآية . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক লোক তাঁর নিকট নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তান-সন্তুতিদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সাবধান থাকবে”- (সূরা তাগাবূন-১৪)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরা হল মাক্কাবাসীদের মাঝ হতে ইসলাম গ্রহণকারী, এরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (হিজরত করে) চলে আসতে চাচ্ছিল, কিন্তু তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা তাদের বাধা দিচ্ছিল যেন তারা তাদেরকে ছেড়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট চলে না আসে। পরে তারা (হিজরত করে) যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এখানে (মাদীনায়) চলে এসে প্রত্যক্ষ করেন যে, লোকেরা (তাদের আগে আগত ব্যক্তিগণ) দ্বীন বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান লাভ করেছে, তখন তারা তাদের স্ত্রীগণ ও সন্তানদের সাজা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আল্লাহ তা’আলা তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ)ঃ “হে মুমিনগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তানদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন............” (সূরা তাগাবূন ১৪)। হাদীসটি হাসান।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক লোক তাঁর নিকট নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তান-সন্তুতিদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সাবধান থাকবে”- (সূরা তাগাবূন-১৪)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরা হল মাক্কাবাসীদের মাঝ হতে ইসলাম গ্রহণকারী, এরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (হিজরত করে) চলে আসতে চাচ্ছিল, কিন্তু তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা তাদের বাধা দিচ্ছিল যেন তারা তাদেরকে ছেড়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট চলে না আসে। পরে তারা (হিজরত করে) যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এখানে (মাদীনায়) চলে এসে প্রত্যক্ষ করেন যে, লোকেরা (তাদের আগে আগত ব্যক্তিগণ) দ্বীন বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান লাভ করেছে, তখন তারা তাদের স্ত্রীগণ ও সন্তানদের সাজা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আল্লাহ তা’আলা তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ)ঃ “হে মুমিনগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তানদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন............” (সূরা তাগাবূন ১৪)। হাদীসটি হাসান।
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا إسرائيل، حدثنا سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، وسأله، رجل عن هذه الآية، ( يا أيها الذين آمنوا إن من أزواجكم وأولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) قال هؤلاء رجال أسلموا من أهل مكة وأرادوا أن يأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأبى أزواجهم وأولادهم أن يدعوهم أن يأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما أتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم رأوا الناس قد فقهوا في الدين هموا أن يعاقبوهم فأنزل الله عز وجل : ( يا أيها الذين آمنوا إن من أزواجكم وأولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) الآية . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আত-তাহরীম
জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৮
حدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، قال سمعت ابن عباس، رضى الله عنهما يقول لم أزل حريصا أن أسأل عمر عن المرأتين من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله عز وجل : (إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما ) حتى حج عمر وحججت معه فصببت عليه من الإداوة فتوضأ فقلت يا أمير المؤمنين من المرأتان من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال الله : ( إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما وإن تظاهرا عليه فإن الله هو مولاه ) فقال لي واعجبا لك يا ابن عباس قال الزهري وكره والله ما سأله عنه ولم يكتمه فقال لي هي عائشة وحفصة قال ثم أنشأ يحدثني الحديث فقال كنا معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت على امرأتي يوما فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني فقالت ما تنكر من ذلك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل . قال قلت في نفسي قد خابت من فعلت ذلك منهن وخسرت . قال وكان منزلي بالعوالي في بني أمية وكان لي جار من الأنصار كنا نتناوب النزول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فينزل يوما فيأتيني بخبر الوحى وغيره وأنزل يوما فآتيه بمثل ذلك . قال وكنا نحدث أن غسان تنعل الخيل لتغزونا . قال فجاءني يوما عشاء فضرب على الباب فخرجت إليه فقال حدث أمر عظيم . قلت أجاءت غسان قال أعظم من ذلك طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه . قال قلت في نفسي قد خابت حفصة وخسرت قد كنت أظن هذا كائنا قال فلما صليت الصبح شددت على ثيابي ثم انطلقت حتى دخلت على حفصة فإذا هي تبكي فقلت أطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا أدري هو ذا معتزل في هذه المشربة . قال فانطلقت فأتيت غلاما أسود فقلت استأذن لعمر . قال فدخل ثم خرج إلى . قال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فانطلقت إلى المسجد فإذا حول المنبر نفر يبكون فجلست إليهم ثم غلبني ما أجد فأتيت الغلام فقلت استأذن لعمر . فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فانطلقت إلى المسجد أيضا فجلست ثم غلبني ما أجد فأتيت الغلام فقلت استأذن لعمر . فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فوليت منطلقا فإذا الغلام يدعوني فقال ادخل فقد أذن لك فدخلت فإذا النبي صلى الله عليه وسلم متكئ على رمل حصير قد رأيت أثره في جنبه فقلت يا رسول الله أطلقت نساءك قال لا . قلت الله أكبر لقد رأيتنا يا رسول الله ونحن معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت يوما على امرأتي فإذا هي تراجعني فأنكرت ذلك فقالت ما تنكر فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل . قال فقلت لحفصة أتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم وتهجره إحدانا اليوم إلى الليل . فقلت قد خابت من فعلت ذلك منكن وخسرت أتأمن إحداكن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله فإذا هي قد هلكت فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم . قال فقلت لحفصة لا تراجعي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسأليه شيئا وسليني ما بدا لك ولا يغرنك أن كانت صاحبتك أوسم منك وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال فتبسم أخرى فقلت يا رسول الله أستأنس قال " نعم " . قال فرفعت رأسي فما رأيت في البيت إلا أهبة ثلاثة . قال فقلت يا رسول الله ادع الله أن يوسع على أمتك فقد وسع على فارس والروم وهم لا يعبدونه . فاستوى جالسا فقال " أوفي شك أنت يا ابن الخطاب أولئك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا " . قال وكان أقسم أن لا يدخل على نسائه شهرا فعاتبه الله في ذلك وجعل له كفارة اليمين .
উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবী সাওর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি উমার (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দু’জন সহধর্মিণী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে চাচ্ছিলাম যাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “যদি তোমরা দু’জন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে রুজু হও তবে তা ভাল, কারণ তোমাদের দু’জনের মন ঝুঁকে পড়েছে”- (সূরা তাহরীম ৪)। অবশেষে উমার (রাঃ) হাজ্জে গেলেন এবং আমিও তার সঙ্গে হাজ্জে গেলাম। পাত্র হতে আমি পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দু’জন স্ত্রী কে যাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেনঃ “যদি তোমরা দু’জন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা’য়ালার দিকে রুজু হও তবে ভাল, কেননা তোমাদের দু’জনের মন ঝুঁকে পড়েছে”- (সূরা তাহরীম ৪)। উমার (রাঃ) বলেন, হে ইবনু আব্বাস! আশ্চর্য (তুমি এটুকুও জান না)! যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এ কথায় প্রশ্ন করা তার নিকট মন্দ লেগেছে, কিন্তু তিনি তা লুকিয়ে রাখেননি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে বললেন, তারা দু’জন ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ। তারপর তিনি ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিতে আরম্ভ করেন। তিনি বলেন, আমরা কুরাইশগণ মহিলাদের উপর প্রভাবশালী ছিলাম। কিন্তু মাদীনায় পৌঁছে আমরা দেখলাম, এখানকার পুরুষদের উপর মহিলাদের প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। সুতরাং আমাদের মহিলারা এখানকার মহিলাদের অভ্যাস আয়ত্ত করে। একদিন আমি আমার সহধর্মিণীর উপর রাগ করলে সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করে। কিন্তু তার প্রত্যুত্তর করাটাকে আমি অপছন্দ করলাম। সে বলল, এতে আপনার মন্দ লাগার কি আছে। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণও তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন এবং সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কেউ কেউ তো তাঁর সংস্পর্শ থেকে চলে যান। উমার (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, যে তাদের মাঝে তা করে সে তো বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হল। উমার (রাঃ) বলেন, আমার বসতি ছিল মাদীনার উচ্চভূমিতে বনূ উমাইয়ার এলাকায়। আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিল। পর্যায়ক্রমে আমরা দু’জনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাজলিসে আসা-যাওয়া করতাম। তদনুযায়ী একদিন সে তাঁর মাজলিসে গিয়ে ওয়াহী ও অন্যান্য বিষয়ের খবর নিয়ে এসে তা আমাকে জানাত এবং একদিন আমি তথায় গিয়ে (ফিরে এসে) তাকে একই রকম খবর দিতাম। উমার (রাঃ) বলেন, আমাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছিল যে, আমাদের বিপক্ষে গাসসানীরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য তাদের ঘোড়াগুলো তৈরী করছে। একদা রাতের বেলা সে আমার দরজায় এসে করাঘাত করলে আমি তার নিকটে বেরিয়ে এলাম। সে বলল, একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। আমি বললাম, গাসসানীরা কি এসে গেছে? সে বলল, তার তুলনায়ও আরো মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, হাফসা হতভাগিনী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্বেই ভাবছিলাম এমন একটা কিছু ঘটবে। তিনি বলেন, আমি ফজরের নামাজ আদায় করে কাপড়-চোপড় পরিধান করে রওয়ানা হলাম এবং হাফসার কক্ষে দিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম যে, সে কাঁদছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন কি? হাফসা (রাঃ) বলেন, আমি জানি না, তবে তিনি ঐ উপরের কুঠরিতে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, তারপর ওখান হতে আমি বের হয়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলামের কাছে এসে বললাম, ‘উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন সে ভিতরে ঢুকল, তারপর আমার কাছে ফিরে এসে বলল, তাঁর নিকট আমি আপনার কথা বলেছি কিন্তু তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি মাসজিদে চলে এলাম। সেখানে আমি মিম্বারের আশেপাশে কিছু সংখ্যক লোককে কান্নারত দেখলাম। তাদের নিকট আমিও বসলাম, কিন্তু আমার অস্থিরতা বেড়ে গেল। তাই আমি পুনরায় ঐ দাসের নিকট এসে বললাম, তুমি ‘উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। অতঃপর সে ভিতর বাড়িতে প্রবেশ করে আবার ফিরে এসে বলল, আপনার কথা আমি তাঁকে বলেছি কিন্তু তিনি কিছুই বলেননি। আমি পুনরায় মসজিদে ফিরে এলাম এবং বসে পড়লাম, কিন্তু আমাকে একই চিন্তা চিন্তান্বিত করে তুলল। তাই আমি সেই গোলামের নিকট গিয়ে বললাম, উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। সে ভিতরে ঢুকে ফিরে এসে বলল, আপনার কথা আমি তাকে বলেছি কিন্তু তিনি কিছুই বলেননি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি ফিরে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দাসটি আমাকে ডেকে বলল, ভিতরে প্রবেশ করুন। তিনি আপনাকে ঢোকার অনুমতি দিয়েছেন। তারপর ভিতরে প্রবেশ করে আমি প্রত্যক্ষ করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর হেলাম দিয়ে শুয়ে আছেন এবং তাঁর প্রত্যেক বাহুতে চাটাইয়ের দাগ পড়ে আছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দেখুন, আমরা কুরাইশগণ মহিলাদের উপরে প্রভাব বিস্তার করে রাখতাম। কিন্তু মদীনায় পৌঁছে আমরা দেখলাম যে, একদল ব্যক্তিদের উপর তাদের নারীরাই প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। আমাদের মহিলারা তাদের নারীগণের এ অভ্যাস আয়ত্ত করে নিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম, কিন্তু সে আমার প্রতিটি কথার প্রত্যুত্তর করল। আমি তার এমন আচরণকে অতীব মন্দ মনে করলাম। সে বলল, কেন এটা আপনি পছন্দ করছেন না। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে কাটান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি হাফসাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে কি কথা কাটাকাটি কর? সে বলল, হ্যাঁ, আর আমাদের কেউ কেউ তো সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে কাটিয়ে দেয়। আমি বললাম, তোমাদের মাঝে যে এমন করেছে সে তো হতভাগিনী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সম্পর্কে তোমাদের কেউ কি নিরাপদ হয়ে গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কারো প্রতি নাখোশ হওয়ার কারণে আল্লাহ তা’য়ালাও তার উপর নাখোশ হবেন এবং ফলে সে ধ্বংস হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অল্প হাসলেন। উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি হাফসাকে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ঝগড়া করবেন না এবং তাঁর নিকট কোন কিছুর বায়না ধরবে না। যা কিছুর তোমার দরকার হয় আমার কাছে চাইবে। আর তুমি ধোঁকা খেও না, তোমার সতীন তোমার তুলনায় সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুব বেশী প্রিয়। উমার (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) তিনি আবার মুচকি হাসি দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সঙ্গে আরো কিছু সময় কাটাই? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উমার (রাঃ) বলেন, মাথা তুলে ঘরের মাঝে তাকিয়ে আমি কেবল তিনটি চামড়া ব্যতীত আর কিছুই দেখিন। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার উম্মাতের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট দু’আ করুন। তিনি তো পারস্য ও রোমের বসবাসকারীদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন, অথচ তারা আল্লাহ তাআলার ইবাদাত করে না। (এ কথায়) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে! তুমি এখনো সন্দেহের মাঝে আছ কি? এরা তো এরূপ লোক যাদেরকে নিজস্ব সৎকর্মের প্রতিদান পার্থিব জীবনেই দেয়া হয়েছে। উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাস তাঁর সহধর্মিণীদের সঙ্গে মেলামেশা না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কাফফারার (ক্ষতিপূরণ) বন্দোবস্ত করেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, উরওয়াহ (রহঃ) আমার নিকট ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ঊনত্রিশ দিন পার হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথমে আমার নিকট আসেন। তিনি বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আমি তোমার নিকট একটি বিষয় উল্লেখ করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে তুমি এ প্রসঙ্গে আলোচনা না করেই তাড়াহুড়া করে জবাব দিবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর এ আয়াতটি তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা কর...” (সূরা আহযাব ২৮)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি অবগত যে, আমার পিতা-মাতা আমাকে তাঁর হতে আলাদা হওয়ার অনুমতি দিবেন না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এ প্রসঙ্গে আমার পিতা-মাতার কি পরামর্শ চাইব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের বাসস্থান প্রত্যাশা করি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবী সাওর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি উমার (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দু’জন সহধর্মিণী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে চাচ্ছিলাম যাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “যদি তোমরা দু’জন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে রুজু হও তবে তা ভাল, কারণ তোমাদের দু’জনের মন ঝুঁকে পড়েছে”- (সূরা তাহরীম ৪)। অবশেষে উমার (রাঃ) হাজ্জে গেলেন এবং আমিও তার সঙ্গে হাজ্জে গেলাম। পাত্র হতে আমি পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দু’জন স্ত্রী কে যাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেনঃ “যদি তোমরা দু’জন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা’য়ালার দিকে রুজু হও তবে ভাল, কেননা তোমাদের দু’জনের মন ঝুঁকে পড়েছে”- (সূরা তাহরীম ৪)। উমার (রাঃ) বলেন, হে ইবনু আব্বাস! আশ্চর্য (তুমি এটুকুও জান না)! যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এ কথায় প্রশ্ন করা তার নিকট মন্দ লেগেছে, কিন্তু তিনি তা লুকিয়ে রাখেননি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে বললেন, তারা দু’জন ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ। তারপর তিনি ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিতে আরম্ভ করেন। তিনি বলেন, আমরা কুরাইশগণ মহিলাদের উপর প্রভাবশালী ছিলাম। কিন্তু মাদীনায় পৌঁছে আমরা দেখলাম, এখানকার পুরুষদের উপর মহিলাদের প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। সুতরাং আমাদের মহিলারা এখানকার মহিলাদের অভ্যাস আয়ত্ত করে। একদিন আমি আমার সহধর্মিণীর উপর রাগ করলে সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করে। কিন্তু তার প্রত্যুত্তর করাটাকে আমি অপছন্দ করলাম। সে বলল, এতে আপনার মন্দ লাগার কি আছে। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণও তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন এবং সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কেউ কেউ তো তাঁর সংস্পর্শ থেকে চলে যান। উমার (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, যে তাদের মাঝে তা করে সে তো বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হল। উমার (রাঃ) বলেন, আমার বসতি ছিল মাদীনার উচ্চভূমিতে বনূ উমাইয়ার এলাকায়। আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিল। পর্যায়ক্রমে আমরা দু’জনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাজলিসে আসা-যাওয়া করতাম। তদনুযায়ী একদিন সে তাঁর মাজলিসে গিয়ে ওয়াহী ও অন্যান্য বিষয়ের খবর নিয়ে এসে তা আমাকে জানাত এবং একদিন আমি তথায় গিয়ে (ফিরে এসে) তাকে একই রকম খবর দিতাম। উমার (রাঃ) বলেন, আমাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছিল যে, আমাদের বিপক্ষে গাসসানীরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য তাদের ঘোড়াগুলো তৈরী করছে। একদা রাতের বেলা সে আমার দরজায় এসে করাঘাত করলে আমি তার নিকটে বেরিয়ে এলাম। সে বলল, একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। আমি বললাম, গাসসানীরা কি এসে গেছে? সে বলল, তার তুলনায়ও আরো মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, হাফসা হতভাগিনী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্বেই ভাবছিলাম এমন একটা কিছু ঘটবে। তিনি বলেন, আমি ফজরের নামাজ আদায় করে কাপড়-চোপড় পরিধান করে রওয়ানা হলাম এবং হাফসার কক্ষে দিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম যে, সে কাঁদছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন কি? হাফসা (রাঃ) বলেন, আমি জানি না, তবে তিনি ঐ উপরের কুঠরিতে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, তারপর ওখান হতে আমি বের হয়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলামের কাছে এসে বললাম, ‘উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন সে ভিতরে ঢুকল, তারপর আমার কাছে ফিরে এসে বলল, তাঁর নিকট আমি আপনার কথা বলেছি কিন্তু তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি মাসজিদে চলে এলাম। সেখানে আমি মিম্বারের আশেপাশে কিছু সংখ্যক লোককে কান্নারত দেখলাম। তাদের নিকট আমিও বসলাম, কিন্তু আমার অস্থিরতা বেড়ে গেল। তাই আমি পুনরায় ঐ দাসের নিকট এসে বললাম, তুমি ‘উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। অতঃপর সে ভিতর বাড়িতে প্রবেশ করে আবার ফিরে এসে বলল, আপনার কথা আমি তাঁকে বলেছি কিন্তু তিনি কিছুই বলেননি। আমি পুনরায় মসজিদে ফিরে এলাম এবং বসে পড়লাম, কিন্তু আমাকে একই চিন্তা চিন্তান্বিত করে তুলল। তাই আমি সেই গোলামের নিকট গিয়ে বললাম, উমারের জন্য ঢোকার অনুমতি চাও। সে ভিতরে ঢুকে ফিরে এসে বলল, আপনার কথা আমি তাকে বলেছি কিন্তু তিনি কিছুই বলেননি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি ফিরে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দাসটি আমাকে ডেকে বলল, ভিতরে প্রবেশ করুন। তিনি আপনাকে ঢোকার অনুমতি দিয়েছেন। তারপর ভিতরে প্রবেশ করে আমি প্রত্যক্ষ করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর হেলাম দিয়ে শুয়ে আছেন এবং তাঁর প্রত্যেক বাহুতে চাটাইয়ের দাগ পড়ে আছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দেখুন, আমরা কুরাইশগণ মহিলাদের উপরে প্রভাব বিস্তার করে রাখতাম। কিন্তু মদীনায় পৌঁছে আমরা দেখলাম যে, একদল ব্যক্তিদের উপর তাদের নারীরাই প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। আমাদের মহিলারা তাদের নারীগণের এ অভ্যাস আয়ত্ত করে নিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম, কিন্তু সে আমার প্রতিটি কথার প্রত্যুত্তর করল। আমি তার এমন আচরণকে অতীব মন্দ মনে করলাম। সে বলল, কেন এটা আপনি পছন্দ করছেন না। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে কাটান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি হাফসাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে কি কথা কাটাকাটি কর? সে বলল, হ্যাঁ, আর আমাদের কেউ কেউ তো সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে কাটিয়ে দেয়। আমি বললাম, তোমাদের মাঝে যে এমন করেছে সে তো হতভাগিনী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সম্পর্কে তোমাদের কেউ কি নিরাপদ হয়ে গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কারো প্রতি নাখোশ হওয়ার কারণে আল্লাহ তা’য়ালাও তার উপর নাখোশ হবেন এবং ফলে সে ধ্বংস হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অল্প হাসলেন। উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি হাফসাকে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ঝগড়া করবেন না এবং তাঁর নিকট কোন কিছুর বায়না ধরবে না। যা কিছুর তোমার দরকার হয় আমার কাছে চাইবে। আর তুমি ধোঁকা খেও না, তোমার সতীন তোমার তুলনায় সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুব বেশী প্রিয়। উমার (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) তিনি আবার মুচকি হাসি দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সঙ্গে আরো কিছু সময় কাটাই? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উমার (রাঃ) বলেন, মাথা তুলে ঘরের মাঝে তাকিয়ে আমি কেবল তিনটি চামড়া ব্যতীত আর কিছুই দেখিন। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার উম্মাতের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট দু’আ করুন। তিনি তো পারস্য ও রোমের বসবাসকারীদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন, অথচ তারা আল্লাহ তাআলার ইবাদাত করে না। (এ কথায়) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে! তুমি এখনো সন্দেহের মাঝে আছ কি? এরা তো এরূপ লোক যাদেরকে নিজস্ব সৎকর্মের প্রতিদান পার্থিব জীবনেই দেয়া হয়েছে। উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাস তাঁর সহধর্মিণীদের সঙ্গে মেলামেশা না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কাফফারার (ক্ষতিপূরণ) বন্দোবস্ত করেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, উরওয়াহ (রহঃ) আমার নিকট ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ঊনত্রিশ দিন পার হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথমে আমার নিকট আসেন। তিনি বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আমি তোমার নিকট একটি বিষয় উল্লেখ করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে তুমি এ প্রসঙ্গে আলোচনা না করেই তাড়াহুড়া করে জবাব দিবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর এ আয়াতটি তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা কর...” (সূরা আহযাব ২৮)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি অবগত যে, আমার পিতা-মাতা আমাকে তাঁর হতে আলাদা হওয়ার অনুমতি দিবেন না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এ প্রসঙ্গে আমার পিতা-মাতার কি পরামর্শ চাইব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের বাসস্থান প্রত্যাশা করি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا عبد بن حميد، أخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، قال سمعت ابن عباس، رضى الله عنهما يقول لم أزل حريصا أن أسأل عمر عن المرأتين من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله عز وجل : (إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما ) حتى حج عمر وحججت معه فصببت عليه من الإداوة فتوضأ فقلت يا أمير المؤمنين من المرأتان من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال الله : ( إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما وإن تظاهرا عليه فإن الله هو مولاه ) فقال لي واعجبا لك يا ابن عباس قال الزهري وكره والله ما سأله عنه ولم يكتمه فقال لي هي عائشة وحفصة قال ثم أنشأ يحدثني الحديث فقال كنا معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت على امرأتي يوما فإذا هي تراجعني فأنكرت أن تراجعني فقالت ما تنكر من ذلك فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل . قال قلت في نفسي قد خابت من فعلت ذلك منهن وخسرت . قال وكان منزلي بالعوالي في بني أمية وكان لي جار من الأنصار كنا نتناوب النزول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فينزل يوما فيأتيني بخبر الوحى وغيره وأنزل يوما فآتيه بمثل ذلك . قال وكنا نحدث أن غسان تنعل الخيل لتغزونا . قال فجاءني يوما عشاء فضرب على الباب فخرجت إليه فقال حدث أمر عظيم . قلت أجاءت غسان قال أعظم من ذلك طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه . قال قلت في نفسي قد خابت حفصة وخسرت قد كنت أظن هذا كائنا قال فلما صليت الصبح شددت على ثيابي ثم انطلقت حتى دخلت على حفصة فإذا هي تبكي فقلت أطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا أدري هو ذا معتزل في هذه المشربة . قال فانطلقت فأتيت غلاما أسود فقلت استأذن لعمر . قال فدخل ثم خرج إلى . قال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فانطلقت إلى المسجد فإذا حول المنبر نفر يبكون فجلست إليهم ثم غلبني ما أجد فأتيت الغلام فقلت استأذن لعمر . فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فانطلقت إلى المسجد أيضا فجلست ثم غلبني ما أجد فأتيت الغلام فقلت استأذن لعمر . فدخل ثم خرج إلى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيئا . قال فوليت منطلقا فإذا الغلام يدعوني فقال ادخل فقد أذن لك فدخلت فإذا النبي صلى الله عليه وسلم متكئ على رمل حصير قد رأيت أثره في جنبه فقلت يا رسول الله أطلقت نساءك قال لا . قلت الله أكبر لقد رأيتنا يا رسول الله ونحن معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساؤهم فطفق نساؤنا يتعلمن من نسائهم فتغضبت يوما على امرأتي فإذا هي تراجعني فأنكرت ذلك فقالت ما تنكر فوالله إن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره إحداهن اليوم إلى الليل . قال فقلت لحفصة أتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم وتهجره إحدانا اليوم إلى الليل . فقلت قد خابت من فعلت ذلك منكن وخسرت أتأمن إحداكن أن يغضب الله عليها لغضب رسوله فإذا هي قد هلكت فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم . قال فقلت لحفصة لا تراجعي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسأليه شيئا وسليني ما بدا لك ولا يغرنك أن كانت صاحبتك أوسم منك وأحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال فتبسم أخرى فقلت يا رسول الله أستأنس قال " نعم " . قال فرفعت رأسي فما رأيت في البيت إلا أهبة ثلاثة . قال فقلت يا رسول الله ادع الله أن يوسع على أمتك فقد وسع على فارس والروم وهم لا يعبدونه . فاستوى جالسا فقال " أوفي شك أنت يا ابن الخطاب أولئك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا " . قال وكان أقسم أن لا يدخل على نسائه شهرا فعاتبه الله في ذلك وجعل له كفارة اليمين .