জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মুমতাহিনাহ

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৮

حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا محمد بن يوسف الفريابي، حدثنا قيس بن الربيع، عن الأغر بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن أبي نصر، عن ابن عباس، في قوله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات فامتحنوهن ‏)‏ قال كانت المرأة إذا جاءت النبي صلى الله عليه وسلم لتسلم حلفها بالله ما خرجت من بغض زوجي ما خرجت إلا حبا لله ولرسوله ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

“তোমাদের নিকট মু’মিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” ( সূরাঃ আল-মুমতাহানাহ-১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ্‌ তা’আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি। যঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ (৮/১৭৪)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

“তোমাদের নিকট মু’মিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” ( সূরাঃ আল-মুমতাহানাহ-১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ্‌ তা’আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি। যঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ (৮/১৭৪)

حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا محمد بن يوسف الفريابي، حدثنا قيس بن الربيع، عن الأغر بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن أبي نصر، عن ابن عباس، في قوله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات فامتحنوهن ‏)‏ قال كانت المرأة إذا جاءت النبي صلى الله عليه وسلم لتسلم حلفها بالله ما خرجت من بغض زوجي ما خرجت إلا حبا لله ولرسوله ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৬

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن إلا بالآية التي قال الله ‏:‏ ‏(‏إذا جاءك المؤمنات يبايعنك ‏)‏ الآية ‏.

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই'আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না.....”-(সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ১২)। মা'মার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাঊস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)।

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই'আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না.....”-(সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ১২)। মা'মার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাঊস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن إلا بالآية التي قال الله ‏:‏ ‏(‏إذا جاءك المؤمنات يبايعنك ‏)‏ الآية ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৭

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا أبو نعيم، حدثنا يزيد بن عبد الله الشيباني، قال سمعت شهر بن حوشب، قال حدثتنا أم سلمة الأنصارية، قالت قالت امرأة من النسوة ما هذا المعروف الذي لا ينبغي لنا أن نعصيك فيه قال ‏ "‏ لا تنحن ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إن بني فلان قد أسعدوني على عمي ولا بد لي من قضائهن فأبى على فعاتبته مرارا فأذن لي في قضائهن فلم أنح بعد على قضائهن ولا غيره حتى الساعة ولم يبق من النسوة امرأة إلا وقد ناحت غيري ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏ وفيه عن أم عطية رضى الله عنها ‏.‏ قال عبد بن حميد أم سلمة الأنصارية هي أسماء بنت يزيد بن السكن ‏.‏

উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করল, 'মা'রূফ' বলতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে। হাসানঃ তা'লীক আ'লা ইবনু মাজাহ।

উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করল, 'মা'রূফ' বলতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে। হাসানঃ তা'লীক আ'লা ইবনু মাজাহ।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا أبو نعيم، حدثنا يزيد بن عبد الله الشيباني، قال سمعت شهر بن حوشب، قال حدثتنا أم سلمة الأنصارية، قالت قالت امرأة من النسوة ما هذا المعروف الذي لا ينبغي لنا أن نعصيك فيه قال ‏ "‏ لا تنحن ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إن بني فلان قد أسعدوني على عمي ولا بد لي من قضائهن فأبى على فعاتبته مرارا فأذن لي في قضائهن فلم أنح بعد على قضائهن ولا غيره حتى الساعة ولم يبق من النسوة امرأة إلا وقد ناحت غيري ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏ وفيه عن أم عطية رضى الله عنها ‏.‏ قال عبد بن حميد أم سلمة الأنصارية هي أسماء بنت يزيد بن السكن ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৫

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن الحسن بن محمد، هو ابن الحنفية عن عبيد الله بن أبي رافع، قال سمعت علي بن أبي طالب، يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا والزبير والمقداد بن الأسود فقال ‏"‏ انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها فائتوني به ‏"‏ ‏.‏ فخرجنا تتعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة فقلنا أخرجي الكتاب ‏.‏ فقالت ما معي من كتاب ‏.‏ فقلنا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ قال فأخرجته من عقاصها ‏.‏ قال فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس من المشركين بمكة يخبرهم ببعض أمر النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما هذا يا حاطب ‏"‏ ‏.‏ قال لا تعجل على يا رسول الله إني كنت امرأ ملصقا في قريش ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها أهليهم وأموالهم بمكة فأحببت إذ فاتني ذلك من نسب فيهم أن أتخذ فيهم يدا يحمون بها قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صدق ‏"‏ ‏.‏ فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إنه قد شهد بدرا فما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم ‏"‏ ‏.‏ قال وفيه أنزلت هذه السورة ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء ‏)‏ السورة ‏.‏ قال عمرو وقد رأيت ابن أبي رافع وكان كاتبا لعلي بن أبي طالب ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وفيه عن عمر وجابر بن عبد الله ‏.‏ وروى غير واحد عن سفيان بن عيينة هذا الحديث نحو هذا وذكروا هذا الحرف فقالوا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ وقد روي أيضا عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي نحو هذا الحديث ‏.‏ وذكر بعضهم فيه فقال لتخرجن الكتاب أو لنجردنك ‏.‏

'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি' (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বালিব-এর পুত্র 'আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে 'রাওযা খাখ" নামক জায়গায় পৌঁছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই 'রাওযা খাখ' নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। 'আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চুলের খোঁপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় তাদের আত্বীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সহযোগীতায় তারা তাদের মক্কাস্থ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্বীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগীতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে বদ্‌রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদ্রের মুজাহিদদের প্রতি উঁকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ "তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি"। 'আলী (রাঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি......”। 'আম্‌র (রহঃ) বলেন, আমি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফী'কে দেখেছি। তিনি 'আলী (রাঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম।

'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি' (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বালিব-এর পুত্র 'আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে 'রাওযা খাখ" নামক জায়গায় পৌঁছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই 'রাওযা খাখ' নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। 'আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চুলের খোঁপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় তাদের আত্বীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সহযোগীতায় তারা তাদের মক্কাস্থ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্বীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগীতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে বদ্‌রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদ্রের মুজাহিদদের প্রতি উঁকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ "তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি"। 'আলী (রাঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি......”। 'আম্‌র (রহঃ) বলেন, আমি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফী'কে দেখেছি। তিনি 'আলী (রাঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن الحسن بن محمد، هو ابن الحنفية عن عبيد الله بن أبي رافع، قال سمعت علي بن أبي طالب، يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا والزبير والمقداد بن الأسود فقال ‏"‏ انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها فائتوني به ‏"‏ ‏.‏ فخرجنا تتعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة فقلنا أخرجي الكتاب ‏.‏ فقالت ما معي من كتاب ‏.‏ فقلنا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ قال فأخرجته من عقاصها ‏.‏ قال فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس من المشركين بمكة يخبرهم ببعض أمر النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما هذا يا حاطب ‏"‏ ‏.‏ قال لا تعجل على يا رسول الله إني كنت امرأ ملصقا في قريش ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها أهليهم وأموالهم بمكة فأحببت إذ فاتني ذلك من نسب فيهم أن أتخذ فيهم يدا يحمون بها قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صدق ‏"‏ ‏.‏ فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إنه قد شهد بدرا فما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم ‏"‏ ‏.‏ قال وفيه أنزلت هذه السورة ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء ‏)‏ السورة ‏.‏ قال عمرو وقد رأيت ابن أبي رافع وكان كاتبا لعلي بن أبي طالب ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وفيه عن عمر وجابر بن عبد الله ‏.‏ وروى غير واحد عن سفيان بن عيينة هذا الحديث نحو هذا وذكروا هذا الحرف فقالوا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ وقد روي أيضا عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي نحو هذا الحديث ‏.‏ وذكر بعضهم فيه فقال لتخرجن الكتاب أو لنجردنك ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আস্-সাফ্

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৯

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن كثير، عن الأوزاعي، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن عبد الله بن سلام، قال قعدنا نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا فقلنا لو نعلم أى الأعمال أحب إلى الله لعملناه فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ سبح لله ما في السموات وما في الأرض وهو العزيز الحكيم * يا أيها الذين آمنوا لم تقولون ما لا تفعلون ‏)‏ قال عبد الله بن سلام فقرأها علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو سلمة فقرأها علينا ابن سلام ‏.‏ قال يحيى فقرأها علينا أبو سلمة ‏.‏ قال ابن كثير فقرأها علينا الأوزاعي ‏.‏ قال عبد الله فقرأها علينا ابن كثير ‏.‏ قال أبو عيسى وقد خولف محمد بن كثير في إسناد هذا الحديث عن الأوزاعي ‏.‏ وروى ابن المبارك عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن هلال بن أبي ميمونة عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن سلام أو عن أبي سلمة عن عبد الله بن سلام ‏.‏ وروى الوليد بن مسلم هذا الحديث عن الأوزاعي نحو رواية محمد بن كثير ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক সংখ্যক সাহাবী একসাথে বসে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে গিয়ে বললাম যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয় তা জানতে পারলে সেই কাজটি করতে আমরা ব্রতী হতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ঃ “আকাশ ও যমীনে বিদ্যমান সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল যা কার্যকর করো না"- (সূরা সাফ্ ১-২)? 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি পাঠ করে আমাদেরকে শুনান।

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক সংখ্যক সাহাবী একসাথে বসে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে গিয়ে বললাম যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয় তা জানতে পারলে সেই কাজটি করতে আমরা ব্রতী হতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ঃ “আকাশ ও যমীনে বিদ্যমান সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল যা কার্যকর করো না"- (সূরা সাফ্ ১-২)? 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি পাঠ করে আমাদেরকে শুনান।

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن كثير، عن الأوزاعي، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن عبد الله بن سلام، قال قعدنا نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا فقلنا لو نعلم أى الأعمال أحب إلى الله لعملناه فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ سبح لله ما في السموات وما في الأرض وهو العزيز الحكيم * يا أيها الذين آمنوا لم تقولون ما لا تفعلون ‏)‏ قال عبد الله بن سلام فقرأها علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو سلمة فقرأها علينا ابن سلام ‏.‏ قال يحيى فقرأها علينا أبو سلمة ‏.‏ قال ابن كثير فقرأها علينا الأوزاعي ‏.‏ قال عبد الله فقرأها علينا ابن كثير ‏.‏ قال أبو عيسى وقد خولف محمد بن كثير في إسناد هذا الحديث عن الأوزاعي ‏.‏ وروى ابن المبارك عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن هلال بن أبي ميمونة عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن سلام أو عن أبي سلمة عن عبد الله بن سلام ‏.‏ وروى الوليد بن مسلم هذا الحديث عن الأوزاعي نحو رواية محمد بن كثير ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-জুমু'আহ্

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১০

حدثنا علي بن حجر، أخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثني ثور بن زيد الديلي، عن أبي الغيث، عن أبي هريرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزلت سورة الجمعة فتلاها فلما بلغ ‏:‏ ‏(‏ وآخرين منهم لما يلحقوا بهم ‏)‏ قال له رجل يا رسول الله من هؤلاء الذين لم يلحقوا بنا فلم يكلمه قال وسلمان الفارسي فينا قال فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على سلمان فقال ‏"‏ والذي نفسي بيده لو كان الإيمان بالثريا لتناوله رجال من هؤلاء ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه ‏.‏ وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني ضعفه يحيى بن معين ‏.‏ ثور بن زيد مدني وثور بن يزيد شامي وأبو الغيث اسمه سالم مولى عبد الله بن مطيع مدني ثقة ‏.

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ সূরা আল-জুমু'আহ্ অবতীর্ণ হওয়াকালে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটেই ছিলাম। তিনি তা পাঠ করলেন। "আর তিনি তাদের জন্যও (রাসূল) যারা এখনো তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি"- (সূরা জুমু'আহ্ ৩) পর্যন্ত পৌঁছলে এক লোক তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো যারা আমাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথায় জবাব দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সালমান (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রাঃ)-এর উপর তাঁর হাত রেখে বললেনঃ সেই মহান সত্তার ক্বসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি ঈমান সুরাইয়্যাহ্ নক্ষত্রেও থাকে তবুও তাদের মাঝের কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০১৭), বুখারী ও মুসলিম।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ সূরা আল-জুমু'আহ্ অবতীর্ণ হওয়াকালে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটেই ছিলাম। তিনি তা পাঠ করলেন। "আর তিনি তাদের জন্যও (রাসূল) যারা এখনো তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি"- (সূরা জুমু'আহ্ ৩) পর্যন্ত পৌঁছলে এক লোক তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো যারা আমাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথায় জবাব দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সালমান (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রাঃ)-এর উপর তাঁর হাত রেখে বললেনঃ সেই মহান সত্তার ক্বসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি ঈমান সুরাইয়্যাহ্ নক্ষত্রেও থাকে তবুও তাদের মাঝের কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০১৭), বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا علي بن حجر، أخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثني ثور بن زيد الديلي، عن أبي الغيث، عن أبي هريرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزلت سورة الجمعة فتلاها فلما بلغ ‏:‏ ‏(‏ وآخرين منهم لما يلحقوا بهم ‏)‏ قال له رجل يا رسول الله من هؤلاء الذين لم يلحقوا بنا فلم يكلمه قال وسلمان الفارسي فينا قال فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على سلمان فقال ‏"‏ والذي نفسي بيده لو كان الإيمان بالثريا لتناوله رجال من هؤلاء ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه ‏.‏ وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني ضعفه يحيى بن معين ‏.‏ ثور بن زيد مدني وثور بن يزيد شامي وأبو الغيث اسمه سالم مولى عبد الله بن مطيع مدني ثقة ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১১

حدثنا أحمد بن منيع، حدثنا هشيم، أخبرنا حصين، عن أبي سفيان، عن جابر، قال بينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قائما إذ قدمت عير المدينة فابتدرها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لم يبق منهم إلا اثنا عشر رجلا فيهم أبو بكر وعمر ونزلت الآية ‏:‏ ‏(‏ وإذا رأوا تجارة أو لهوا انفضوا إليها وتركوك قائما ‏)‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা জুমু'আহ্‌র সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ দিচ্ছিলেন। সে সময় মাদীনাহর একটি (ব্যবসায়ী) কাফিলা এসে হাযির হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মাঝ হতে আবূ বাক্‌র ও 'উমার (রাঃ)-সহ বারজন ব্যতীত প্রত্যেকেই সেদিকে তাড়াতাড়ি চলে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসায় বা কৌতুক, সে সময় আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে গেল"- (সূরা জুমু'আহ্ ১১)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা জুমু'আহ্‌র সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ দিচ্ছিলেন। সে সময় মাদীনাহর একটি (ব্যবসায়ী) কাফিলা এসে হাযির হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মাঝ হতে আবূ বাক্‌র ও 'উমার (রাঃ)-সহ বারজন ব্যতীত প্রত্যেকেই সেদিকে তাড়াতাড়ি চলে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "যখন তারা দেখল ব্যবসায় বা কৌতুক, সে সময় আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে গেল"- (সূরা জুমু'আহ্ ১১)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا أحمد بن منيع، حدثنا هشيم، أخبرنا حصين، عن أبي سفيان، عن جابر، قال بينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قائما إذ قدمت عير المدينة فابتدرها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لم يبق منهم إلا اثنا عشر رجلا فيهم أبو بكر وعمر ونزلت الآية ‏:‏ ‏(‏ وإذا رأوا تجارة أو لهوا انفضوا إليها وتركوك قائما ‏)‏ ‏.‏ قال هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মুনাফিকুন

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১২

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن زيد بن أرقم، قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن أبى ابن سلول، يقول لأصحابه ‏:‏ ‏(‏ لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ و ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ فذكرت ذلك لعمي فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله بن أبى وأصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فأصابني شيء لم يصبني قط مثله فجلست في البيت فقال عمي ما أردت إلا أن كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءك المنافقون ‏)‏ فبعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأها ثم قال ‏"‏ إن الله قد صدقك ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে আমি তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গীদের জন্য তোমরা আর অর্থ খরচ করবে না, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত না (তার হতে) আলাদা হয়ে যায়। আমরা মাদীনায় ফিরে গেলে তখন অবশ্যই সেখানে প্রবলরা হীনদেরকে বহিষ্কার করবে। এ কথা আমি আমার চাচাকে জানালে তা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানান। আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাকেন এবং তাঁর নিকট আমি ঘটনাটি ব্যক্ত করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠান। শপথ করে তারা বলে যে, তারা (এ কথা) বলেনি। সে সময় রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মিথ্যাবাদী ও তাকে সত্যবাদী ধারণা করলেন। এতে আমার এত কষ্ট লাগল যে, আগে কখনও এ রকম কষ্ট হয়নি। আমি ভারাক্রান্ত মনে ঘরে বসে রইলাম। আমার চাচা বললেন, তুমি এমন ব্যাপারে কেন জড়িত হতে গেলে যার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তুমি মিথ্যাবাদী হলে ও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ হলে? এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা যখন "মুনাফিক্বরা যখন তোমার নিকট আসে" (অর্থাৎ সূরা আল-মুনাফিকূন) অবতীর্ণ করেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডেকে পাঠান এবং তিনি উক্ত সূরা তিলাওয়াত করেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমার সত্যবাদিতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০০, ৪৯০৪), মুসলিম (হাঃ৮/১১৯)।

যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে আমি তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গীদের জন্য তোমরা আর অর্থ খরচ করবে না, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত না (তার হতে) আলাদা হয়ে যায়। আমরা মাদীনায় ফিরে গেলে তখন অবশ্যই সেখানে প্রবলরা হীনদেরকে বহিষ্কার করবে। এ কথা আমি আমার চাচাকে জানালে তা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানান। আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাকেন এবং তাঁর নিকট আমি ঘটনাটি ব্যক্ত করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠান। শপথ করে তারা বলে যে, তারা (এ কথা) বলেনি। সে সময় রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মিথ্যাবাদী ও তাকে সত্যবাদী ধারণা করলেন। এতে আমার এত কষ্ট লাগল যে, আগে কখনও এ রকম কষ্ট হয়নি। আমি ভারাক্রান্ত মনে ঘরে বসে রইলাম। আমার চাচা বললেন, তুমি এমন ব্যাপারে কেন জড়িত হতে গেলে যার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তুমি মিথ্যাবাদী হলে ও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ হলে? এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা যখন "মুনাফিক্বরা যখন তোমার নিকট আসে" (অর্থাৎ সূরা আল-মুনাফিকূন) অবতীর্ণ করেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডেকে পাঠান এবং তিনি উক্ত সূরা তিলাওয়াত করেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমার সত্যবাদিতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০০, ৪৯০৪), মুসলিম (হাঃ৮/১১৯)।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن زيد بن أرقم، قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن أبى ابن سلول، يقول لأصحابه ‏:‏ ‏(‏ لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ و ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ فذكرت ذلك لعمي فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله بن أبى وأصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فأصابني شيء لم يصبني قط مثله فجلست في البيت فقال عمي ما أردت إلا أن كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءك المنافقون ‏)‏ فبعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأها ثم قال ‏"‏ إن الله قد صدقك ‏"‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৪

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، أنبأنا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، قال سمعت محمد بن كعب القرظي، منذ أربعين سنة يحدث عن زيد بن أرقم، رضى الله عنه أن عبد، الله بن أبى قال في غزوة تبوك ‏:‏ ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ قال فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فحلف ما قاله فلامني قومي وقالوا ما أردت إلى هذه فأتيت البيت ونمت كئيبا حزينا فأتاني النبي صلى الله عليه وسلم أو أتيته فقال ‏"‏ إن الله قد صدقك ‏"‏ ‏.‏ قال فنزلت هذه الآية ‏:‏ ‏(‏ هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

আল-হাকাম ইবনু 'উতাইবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরাযীকে আমি চল্লিশ বছর আগে যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-এর মাধ্যমে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তাবূক যু্দ্ধ চলাকালীন সময়ে 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারলে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীন লোকদেরকে বের করে দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। কিন্তু সে এ কথা বলেনি বলে শপথ করে। এতে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে দোষারোপ করে এবং বলে, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে? আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ীতে ফিরে এসে অসার হয়ে শুয়ে রইলাম। আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বলেন বা আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সত্যবাদী ঘোষনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, (এই পরিপ্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয়(অনুবাদ)ঃ “এরা সেই লোক যারা বলে, রাসূলের সঙ্গী-সাথীদের জন্য তোমরা অর্থব্যয় বন্ধ করে দাও, যার ফলে তারা আলাদা হয়ে যায়"-(সূরা মুনাফিকুন ৭)। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০২)।

আল-হাকাম ইবনু 'উতাইবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরাযীকে আমি চল্লিশ বছর আগে যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-এর মাধ্যমে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি যে, তাবূক যু্দ্ধ চলাকালীন সময়ে 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারলে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীন লোকদেরকে বের করে দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। কিন্তু সে এ কথা বলেনি বলে শপথ করে। এতে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে দোষারোপ করে এবং বলে, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে? আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ীতে ফিরে এসে অসার হয়ে শুয়ে রইলাম। আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বলেন বা আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সত্যবাদী ঘোষনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, (এই পরিপ্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয়(অনুবাদ)ঃ “এরা সেই লোক যারা বলে, রাসূলের সঙ্গী-সাথীদের জন্য তোমরা অর্থব্যয় বন্ধ করে দাও, যার ফলে তারা আলাদা হয়ে যায়"-(সূরা মুনাফিকুন ৭)। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯০২)।

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، أنبأنا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، قال سمعت محمد بن كعب القرظي، منذ أربعين سنة يحدث عن زيد بن أرقم، رضى الله عنه أن عبد، الله بن أبى قال في غزوة تبوك ‏:‏ ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ قال فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فحلف ما قاله فلامني قومي وقالوا ما أردت إلى هذه فأتيت البيت ونمت كئيبا حزينا فأتاني النبي صلى الله عليه وسلم أو أتيته فقال ‏"‏ إن الله قد صدقك ‏"‏ ‏.‏ قال فنزلت هذه الآية ‏:‏ ‏(‏ هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৬

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا أبو جناب الكلبي، عن الضحاك بن مزاحم، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال من كان له مال يبلغه حج بيت ربه أو تجب عليه فيه الزكاة فلم يفعل سأل الرجعة عند الموت ‏.‏ فقال رجل يا ابن عباس اتق الله إنما سأل الرجعة الكفار قال سأتلو عليك بذلك قرآنا ‏:‏ ‏(‏ يا أيها الذين آمنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ‏)‏ ‏:‏ ‏(‏وأنفقوا مما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت ‏)‏ إلى قوله ‏:‏ ‏(‏ والله خبير بما تعملون ‏)‏ قال فما يوجب الزكاة قال إذا بلغ المال مائتى درهم فصاعدا ‏.‏ قال فما يوجب الحج قال الزاد والبعير ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যার নিকটে তার রবের (প্রতিপালকের) ঘর (কা’বা) যিয়ারাতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আছে অথচ হাজ্জ করে না, অথবা এতটা সম্পদ আছে যাতে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় কিন্তু যাকাত আদায় করে না, সে মৃত্যুর সময় দুনিয়াতে আবার ফিরে আসার আরজ করবে। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে ইবনু আব্বস! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন, দুনিয়াতে ফিরে আসার আর্জি তো শুধু কাফিররাই করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি এখনই তোমাকে কুরাআন পাঠ করে শুনাচ্ছিঃ “ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার স্মরণ থেকে গাফিল না করে, যারা গাফিল হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা হতে খরচ কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় (মৃত্যু আসলে) সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে তুমি আরো কিছুকালের জন্য ছাড় দিলে আমি দান-খাইরাত করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো নির্ধারিতকাল (মৃত্যু) চলে আসবে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে কিছুই ছাড় দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা’আলা সে প্রসঙ্গে পূর্ণ অবগত’’ ( সূরাঃ আল-মুনাফিকুন-৯-১১)। লোকটি বলল, কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন, দুই শত দিরহাম বা ততোধিক মালে। সে বলল, কিসে হাজ্জ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ পাথেয় ও যানবাহন থাকলে। সনদ দুর্বল

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যার নিকটে তার রবের (প্রতিপালকের) ঘর (কা’বা) যিয়ারাতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আছে অথচ হাজ্জ করে না, অথবা এতটা সম্পদ আছে যাতে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় কিন্তু যাকাত আদায় করে না, সে মৃত্যুর সময় দুনিয়াতে আবার ফিরে আসার আরজ করবে। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে ইবনু আব্বস! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন, দুনিয়াতে ফিরে আসার আর্জি তো শুধু কাফিররাই করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি এখনই তোমাকে কুরাআন পাঠ করে শুনাচ্ছিঃ “ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার স্মরণ থেকে গাফিল না করে, যারা গাফিল হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি, তা হতে খরচ কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় (মৃত্যু আসলে) সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে তুমি আরো কিছুকালের জন্য ছাড় দিলে আমি দান-খাইরাত করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো নির্ধারিতকাল (মৃত্যু) চলে আসবে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে কিছুই ছাড় দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা’আলা সে প্রসঙ্গে পূর্ণ অবগত’’ ( সূরাঃ আল-মুনাফিকুন-৯-১১)। লোকটি বলল, কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন, দুই শত দিরহাম বা ততোধিক মালে। সে বলল, কিসে হাজ্জ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ পাথেয় ও যানবাহন থাকলে। সনদ দুর্বল

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا جعفر بن عون، أخبرنا أبو جناب الكلبي، عن الضحاك بن مزاحم، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال من كان له مال يبلغه حج بيت ربه أو تجب عليه فيه الزكاة فلم يفعل سأل الرجعة عند الموت ‏.‏ فقال رجل يا ابن عباس اتق الله إنما سأل الرجعة الكفار قال سأتلو عليك بذلك قرآنا ‏:‏ ‏(‏ يا أيها الذين آمنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ‏)‏ ‏:‏ ‏(‏وأنفقوا مما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت ‏)‏ إلى قوله ‏:‏ ‏(‏ والله خبير بما تعملون ‏)‏ قال فما يوجب الزكاة قال إذا بلغ المال مائتى درهم فصاعدا ‏.‏ قال فما يوجب الحج قال الزاد والبعير ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৩

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن السدي، عن أبي سعيد الأزدي، حدثنا زيد بن أرقم، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان معنا أناس من الأعراب فكنا نبتدر الماء وكان الأعراب يسبقونا إليه فسبق أعرابي أصحابه فسبق الأعرابي فيملأ الحوض ويجعل حوله حجارة ويجعل النطع عليه حتى يجيء أصحابه ‏.‏ قال فأتى رجل من الأنصار أعرابيا فأرخى زمام ناقته لتشرب فأبى أن يدعه فانتزع قباض الماء فرفع الأعرابي خشبته فضرب بها رأس الأنصاري فشجه فأتى عبد الله بن أبى رأس المنافقين فأخبره وكان من أصحابه فغضب عبد الله بن أبى ثم قال ‏:‏ ‏(‏لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ من حوله ‏.‏ يعني الأعراب وكانوا يحضرون رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الطعام فقال عبد الله إذا انفضوا من عند محمد فائتوا محمدا بالطعام فليأكل هو ومن عنده ثم قال لأصحابه لئن رجعتم إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏.‏ قال زيد وأنا ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فسمعت عبد الله بن أبى فأخبرت عمي فانطلق فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرسل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فحلف وجحد ‏.‏ قال فصدقه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني قال فجاء عمي إلى فقال ما أردت إلا أن مقتك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبك والمسلمون ‏.‏ قال فوقع على من الهم ما لم يقع على أحد ‏.‏ قال فبينما أنا أسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قد خفقت برأسي من الهم إذ أتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرك أذني وضحك في وجهي فما كان يسرني أن لي بها الخلد في الدنيا ‏.‏ ثم إن أبا بكر لحقني فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما قال شيئا إلا أنه عرك أذني وضحك في وجهي ‏.‏ فقال أبشر ‏.‏ ثم لحقني عمر فقلت له مثل قولي لأبي بكر فلما أصبحنا قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المنافقين ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.

যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে গেলাম। কিছু সংখ্যক বেদুঈনও আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা পানির উৎসের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বেই বেদুঈনরা পানির উৎসে গিয়ে পৌঁছায়। এক বেদুঈন তার সঙ্গীদের পূর্বে পৌঁছে। সে হাউয (চৌবাচ্চা) সম্পূর্ণ করে তার চতুর্দিকে পাথর রেখে দিত এবং তার উপর চামড়া বিছিয়ে দিয়ে তা ঢেকে দিত, যাতে তার সাথী এসে যায় (এবং অন্যরা পানি নিতে না পারে)। উক্ত বেদুঈনের কাছে এসে এক আনসারী লোক তার উটকে পানি পান করানোর জন্য এর লাগাম (নাসারন্দ্রের দড়ি) হালকা করে ছেড়ে দিল, কিন্তু বেদুঈন তার উটকে পানি পান করতে বাধা দেয়। এতে আনসারী ব্যক্তি (ক্রুদ্ধ হয়ে) পানির উৎসগুলো সরিয়ে ফেলে। সে সময় একটি কাষ্ঠ খণ্ড তুলে নিয়ে বেদুঈন আনসারীর মাথায় জোড়ে আঘাত করে এবং এর ফলে তার মাথা ফেটে যায়। উক্ত আনসারী মুনাফিক্ব সরদার 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। আনসারী তার দলেরই লোক ছিল। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, যে বেদুঈনরা আল্লাহ তা'আলার রাসূলের সঙ্গে রয়েছে তাদেরকে সহায়তাদান বন্ধ করে দাও। তবেই তাঁর চারপাশ হতে তারা আলাদা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহার করার সময় তাঁর নিকট বেদুঈনরা হাযির হত (এবং তাঁর সঙ্গে আহার করত)। তাই 'আবদুল্লাহ বলল, যে সময় বেদুঈনরা মুহাম্মাদের নিকট হতে অন্যত্র চলে যাবে তাঁর নিকট তখন খাবার উপস্থিত করবে; যাতে তিনি ও তাঁর নিকট উপস্থিত (অন্যরা) তা আহার করেন। তারপর 'আবদুল্লাহ তার সাথীদেরকে আরো বলল, আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্মানিতরা তোমাদের মাঝের হীনদেরকে তাড়িয়ে দিবে। যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে একই সওয়ারীতে ছিলাম। 'আবদুল্লাহর কথা আমি শুনে ফেললাম এবং আমার চাচাকে জানালাম। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গিয়ে তা অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ('আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-কে) ডেকে পাঠান। সে শপথ করে এবং অস্বীকার করে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে অবিশ্বাস করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার চাচা আমার নিকট এসে বললেন, এটাই তো তুমি চেয়েছিলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং তিনি ও মুসলমানগণ তোমাকে মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এতটাই ভারাক্রান্ত হলাম যতটা কখনো কেউ হয়নি। তিনি আরো বলেন, তারপর আমি ভারাক্রান্ত হয়ে মাথা নত করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গেই সফর অব্যাহত রাখলাম। এ পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে আমার কান মললেন এবং আমার সম্মুখে হেসে দিলেন। যদি আমি চিরস্থায়ী জীবন (বা জান্নাত) লাভ করতাম তবুও এতটা খুশী হতাম না। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এসে আমার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কি বলেছেন? আমি বললাম, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি; তিনি কেবল আমার কান মলেছেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য সুখবর। অতঃপর আমার সঙ্গে 'উমার (রাঃ) এসে দেখা করেন। যে কথা আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলেছিলাম তাঁকেও তাই বললাম। অতঃপর আমরা ভোরে উপনিত হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করলেন। হাদীসটির সানাদ সহীহ।

যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে গেলাম। কিছু সংখ্যক বেদুঈনও আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা পানির উৎসের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বেই বেদুঈনরা পানির উৎসে গিয়ে পৌঁছায়। এক বেদুঈন তার সঙ্গীদের পূর্বে পৌঁছে। সে হাউয (চৌবাচ্চা) সম্পূর্ণ করে তার চতুর্দিকে পাথর রেখে দিত এবং তার উপর চামড়া বিছিয়ে দিয়ে তা ঢেকে দিত, যাতে তার সাথী এসে যায় (এবং অন্যরা পানি নিতে না পারে)। উক্ত বেদুঈনের কাছে এসে এক আনসারী লোক তার উটকে পানি পান করানোর জন্য এর লাগাম (নাসারন্দ্রের দড়ি) হালকা করে ছেড়ে দিল, কিন্তু বেদুঈন তার উটকে পানি পান করতে বাধা দেয়। এতে আনসারী ব্যক্তি (ক্রুদ্ধ হয়ে) পানির উৎসগুলো সরিয়ে ফেলে। সে সময় একটি কাষ্ঠ খণ্ড তুলে নিয়ে বেদুঈন আনসারীর মাথায় জোড়ে আঘাত করে এবং এর ফলে তার মাথা ফেটে যায়। উক্ত আনসারী মুনাফিক্ব সরদার 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানায়। আনসারী তার দলেরই লোক ছিল। 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, যে বেদুঈনরা আল্লাহ তা'আলার রাসূলের সঙ্গে রয়েছে তাদেরকে সহায়তাদান বন্ধ করে দাও। তবেই তাঁর চারপাশ হতে তারা আলাদা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহার করার সময় তাঁর নিকট বেদুঈনরা হাযির হত (এবং তাঁর সঙ্গে আহার করত)। তাই 'আবদুল্লাহ বলল, যে সময় বেদুঈনরা মুহাম্মাদের নিকট হতে অন্যত্র চলে যাবে তাঁর নিকট তখন খাবার উপস্থিত করবে; যাতে তিনি ও তাঁর নিকট উপস্থিত (অন্যরা) তা আহার করেন। তারপর 'আবদুল্লাহ তার সাথীদেরকে আরো বলল, আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্মানিতরা তোমাদের মাঝের হীনদেরকে তাড়িয়ে দিবে। যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে একই সওয়ারীতে ছিলাম। 'আবদুল্লাহর কথা আমি শুনে ফেললাম এবং আমার চাচাকে জানালাম। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গিয়ে তা অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ('আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-কে) ডেকে পাঠান। সে শপথ করে এবং অস্বীকার করে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে অবিশ্বাস করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার চাচা আমার নিকট এসে বললেন, এটাই তো তুমি চেয়েছিলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং তিনি ও মুসলমানগণ তোমাকে মিথ্যুক বলে আখ্যায়িত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এতটাই ভারাক্রান্ত হলাম যতটা কখনো কেউ হয়নি। তিনি আরো বলেন, তারপর আমি ভারাক্রান্ত হয়ে মাথা নত করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গেই সফর অব্যাহত রাখলাম। এ পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে আমার কান মললেন এবং আমার সম্মুখে হেসে দিলেন। যদি আমি চিরস্থায়ী জীবন (বা জান্নাত) লাভ করতাম তবুও এতটা খুশী হতাম না। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এসে আমার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কি বলেছেন? আমি বললাম, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি; তিনি কেবল আমার কান মলেছেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য সুখবর। অতঃপর আমার সঙ্গে 'উমার (রাঃ) এসে দেখা করেন। যে কথা আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলেছিলাম তাঁকেও তাই বললাম। অতঃপর আমরা ভোরে উপনিত হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করলেন। হাদীসটির সানাদ সহীহ।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن السدي، عن أبي سعيد الأزدي، حدثنا زيد بن أرقم، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان معنا أناس من الأعراب فكنا نبتدر الماء وكان الأعراب يسبقونا إليه فسبق أعرابي أصحابه فسبق الأعرابي فيملأ الحوض ويجعل حوله حجارة ويجعل النطع عليه حتى يجيء أصحابه ‏.‏ قال فأتى رجل من الأنصار أعرابيا فأرخى زمام ناقته لتشرب فأبى أن يدعه فانتزع قباض الماء فرفع الأعرابي خشبته فضرب بها رأس الأنصاري فشجه فأتى عبد الله بن أبى رأس المنافقين فأخبره وكان من أصحابه فغضب عبد الله بن أبى ثم قال ‏:‏ ‏(‏لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ‏)‏ من حوله ‏.‏ يعني الأعراب وكانوا يحضرون رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الطعام فقال عبد الله إذا انفضوا من عند محمد فائتوا محمدا بالطعام فليأكل هو ومن عنده ثم قال لأصحابه لئن رجعتم إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏.‏ قال زيد وأنا ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فسمعت عبد الله بن أبى فأخبرت عمي فانطلق فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرسل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فحلف وجحد ‏.‏ قال فصدقه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني قال فجاء عمي إلى فقال ما أردت إلا أن مقتك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبك والمسلمون ‏.‏ قال فوقع على من الهم ما لم يقع على أحد ‏.‏ قال فبينما أنا أسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قد خفقت برأسي من الهم إذ أتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرك أذني وضحك في وجهي فما كان يسرني أن لي بها الخلد في الدنيا ‏.‏ ثم إن أبا بكر لحقني فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما قال شيئا إلا أنه عرك أذني وضحك في وجهي ‏.‏ فقال أبشر ‏.‏ ثم لحقني عمر فقلت له مثل قولي لأبي بكر فلما أصبحنا قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المنافقين ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩১৫

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول كنا في غزاة قال سفيان يرون أنها غزوة بني المصطلق فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال المهاجري يا للمهاجرين وقال الأنصاري يا للأنصار فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما بال دعوى الجاهلية ‏"‏ ‏.‏ قالوا رجل من المهاجرين كسع رجلا من الأنصار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ دعوها فإنها منتنة ‏"‏ ‏.‏ فسمع ذلك عبد الله بن أبى ابن سلول فقال أوقد فعلوها والله ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه ‏"‏ ‏.‏ وقال غير عمرو فقال له ابنه عبد الله بن عبد الله والله لا تنقلب حتى تقر أنك الذليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم العزيز ‏.‏ ففعل ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

আম্‌র ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একটি যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তা বনী মুসতালিক্বের যুদ্ধ ছিল। এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে মুহাজির লোক ডাকেন, হে মুহাজির ভাইয়েরা। আনসারী লোকটিও ডাকেন, হে আনসার ভাইয়েরা। তা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহিলী যুগের ডাকাডাকি হচ্ছে কেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ ডাকাডাকি বন্ধ কর, কারণ এটা ঘৃনিত ডাক। বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলের কানে পৌঁছলে সে বলল, এত বড় সাহস! এ কাজ তারা করেছে? আল্লাহ্‌র ক্বসম! যদি আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই সেখান হতে সম্মানিতরা হীনদেরকে বিতাড়িত করবে। 'উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিক্বের ঘাড় আমি উড়িয়ে দেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তাকে এড়িয়ে চল। লোকেরা যেন বলতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গীদের খুন করেন। 'আম্‌র ইবনু দীনার (রহঃ) ছাড়া অপর এক বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর ছেলে 'আবদুল্লাহ (রাঃ) (তার বাবাকে) বলেন, আল্লাহ্‌র ক্বসম! আপনি এ কথা যতক্ষণ স্বীকার না করবেন যে, “আপনিই হীন আর রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মহাসম্মানিত", ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মাদীনায় ফিরে যেতে পারবেন না। তারপর সে তা স্বীকার করে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

আম্‌র ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একটি যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তা বনী মুসতালিক্বের যুদ্ধ ছিল। এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে মুহাজির লোক ডাকেন, হে মুহাজির ভাইয়েরা। আনসারী লোকটিও ডাকেন, হে আনসার ভাইয়েরা। তা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহিলী যুগের ডাকাডাকি হচ্ছে কেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ ডাকাডাকি বন্ধ কর, কারণ এটা ঘৃনিত ডাক। বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলের কানে পৌঁছলে সে বলল, এত বড় সাহস! এ কাজ তারা করেছে? আল্লাহ্‌র ক্বসম! যদি আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই সেখান হতে সম্মানিতরা হীনদেরকে বিতাড়িত করবে। 'উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিক্বের ঘাড় আমি উড়িয়ে দেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তাকে এড়িয়ে চল। লোকেরা যেন বলতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গীদের খুন করেন। 'আম্‌র ইবনু দীনার (রহঃ) ছাড়া অপর এক বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর ছেলে 'আবদুল্লাহ (রাঃ) (তার বাবাকে) বলেন, আল্লাহ্‌র ক্বসম! আপনি এ কথা যতক্ষণ স্বীকার না করবেন যে, “আপনিই হীন আর রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মহাসম্মানিত", ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মাদীনায় ফিরে যেতে পারবেন না। তারপর সে তা স্বীকার করে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول كنا في غزاة قال سفيان يرون أنها غزوة بني المصطلق فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال المهاجري يا للمهاجرين وقال الأنصاري يا للأنصار فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما بال دعوى الجاهلية ‏"‏ ‏.‏ قالوا رجل من المهاجرين كسع رجلا من الأنصار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ دعوها فإنها منتنة ‏"‏ ‏.‏ فسمع ذلك عبد الله بن أبى ابن سلول فقال أوقد فعلوها والله ‏(‏لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ‏)‏ فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه ‏"‏ ‏.‏ وقال غير عمرو فقال له ابنه عبد الله بن عبد الله والله لا تنقلب حتى تقر أنك الذليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم العزيز ‏.‏ ففعل ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00