জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মুজাদালাহ্

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০০

حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا يحيى بن آدم، حدثنا عبيد الله الأشجعي، عن الثوري، عن عثمان بن المغيرة الثقفي، عن سالم بن أبي الجعد، عن علي بن علقمة الأنماري، عن علي بن أبي طالب، قال لما نزلت ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا إذا ناجيتم الرسول فقدموا بين يدى نجواكم صدقة ‏)‏ ‏.‏ قال لي النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ما ترى دينارا ‏"‏ ‏.‏ قلت لا يطيقونه ‏.‏ قال ‏"‏ فنصف دينار ‏"‏ ‏.‏ قلت لا يطيقونه ‏.‏ قال ‏"‏ فكم ‏"‏ ‏.‏ قلت شعيرة ‏.‏ قال ‏"‏ إنك لزهيد ‏"‏ ‏.‏ قال فنزلت ‏:‏ ‏(‏أأشفقتم أن تقدموا بين يدى نجواكم صدقات ‏)‏ الآية ‏.‏ قال فبي خفف الله عن هذه الأمة ‏.‏ قال هذا حديث حسن غريب إنما نعرفه من هذا الوجه ‏.‏ ومعنى قوله شعيرة يعني وزن شعيرة من ذهب وأبو الجعد اسمه رافع ‏.‏

আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল : “ হে ঈমানদারগণ! তোমরা রাসূলের সাথে চুপি চুপি কথা বলার ইচ্ছা করলে তার পূর্বে সদাকা দেবে” (সূরা : আল-মুজাদালাহ-১২) , তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ এক দীনার নির্ধারণের ব্যাপারে তোমার কি মত? আমি বললাম , লোকদের সামর্থ্যে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে অর্ধ দীনার? আমি বললাম , তাও তাদের সামর্থ্যে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে কত নির্ধারণ করা যায়? আমি বললাম , এক বার্লির দানা পরিমাণ (সোনা)। তিনি বললেনঃ তুমি খুব কম নির্ধারণকারী। রাবী বলেন , তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : “ তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার পূর্বে সদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর?” (সূরা : আল-মুজাদালাহ-১৩) আলী (রাঃ) বলেন , আমার কারণে আল্লাহ তা’আলা এই উম্মতের জন্য বিধানটি হালকা (বাতিল) করেন। সনদ দুর্বল

আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল : “ হে ঈমানদারগণ! তোমরা রাসূলের সাথে চুপি চুপি কথা বলার ইচ্ছা করলে তার পূর্বে সদাকা দেবে” (সূরা : আল-মুজাদালাহ-১২) , তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ এক দীনার নির্ধারণের ব্যাপারে তোমার কি মত? আমি বললাম , লোকদের সামর্থ্যে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে অর্ধ দীনার? আমি বললাম , তাও তাদের সামর্থ্যে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে কত নির্ধারণ করা যায়? আমি বললাম , এক বার্লির দানা পরিমাণ (সোনা)। তিনি বললেনঃ তুমি খুব কম নির্ধারণকারী। রাবী বলেন , তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : “ তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার পূর্বে সদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর?” (সূরা : আল-মুজাদালাহ-১৩) আলী (রাঃ) বলেন , আমার কারণে আল্লাহ তা’আলা এই উম্মতের জন্য বিধানটি হালকা (বাতিল) করেন। সনদ দুর্বল

حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا يحيى بن آدم، حدثنا عبيد الله الأشجعي، عن الثوري، عن عثمان بن المغيرة الثقفي، عن سالم بن أبي الجعد، عن علي بن علقمة الأنماري، عن علي بن أبي طالب، قال لما نزلت ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا إذا ناجيتم الرسول فقدموا بين يدى نجواكم صدقة ‏)‏ ‏.‏ قال لي النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ما ترى دينارا ‏"‏ ‏.‏ قلت لا يطيقونه ‏.‏ قال ‏"‏ فنصف دينار ‏"‏ ‏.‏ قلت لا يطيقونه ‏.‏ قال ‏"‏ فكم ‏"‏ ‏.‏ قلت شعيرة ‏.‏ قال ‏"‏ إنك لزهيد ‏"‏ ‏.‏ قال فنزلت ‏:‏ ‏(‏أأشفقتم أن تقدموا بين يدى نجواكم صدقات ‏)‏ الآية ‏.‏ قال فبي خفف الله عن هذه الأمة ‏.‏ قال هذا حديث حسن غريب إنما نعرفه من هذا الوجه ‏.‏ ومعنى قوله شعيرة يعني وزن شعيرة من ذهب وأبو الجعد اسمه رافع ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০১

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس، عن شيبان، عن قتادة، حدثنا أنس بن مالك، أن يهوديا، أتى على النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه فقال السام عليكم فرد عليه القوم فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هل تدرون ما قال هذا ‏"‏ ‏.‏ قالوا الله ورسوله أعلم سلم يا نبي الله ‏.‏ قال ‏"‏ لا ولكنه قال كذا وكذا ردوه على ‏"‏ ‏.‏ فردوه قال ‏"‏ قلت السام عليكم ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏.‏ قال نبي الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك ‏"‏ إذا سلم عليكم أحد من أهل الكتاب فقولوا عليك ‏"‏ ‏.‏ قال ‏"‏ عليك ما قلت ‏"‏ ‏.‏ قال ‏:‏ ‏(‏وإذا جاءوك حيوك بما لم يحيك به الله ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ইয়াহূদী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের কাছে এসে বলল, “আস-সামু আলাইকুম" (তোমাদের মরণ হোক)। লোকেরা তার উত্তর দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে কী বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ? তারা বলেন, আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। হে আল্লাহ্‌র নাবী! সে সালাম দিয়েছে। তিনি বললেনঃ না, অথচ সে এই এই কথা বলেছে। আমার কাছে তাকে তোমরা ফিরিয়ে নিয়ে আস। অতঃপর তারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছ আস-সামু আলাইকুম? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে সময় বললেনঃ তোমাদেরকে আহলে কিতাবের কেউ সালাম করলে তোমরা বলবে, “আলাইকা মা কুলতা" (যা তুমি বলেছ তোমার উপর তা-ই বর্ষিত হোক)। তারপর এ আয়াত তিনি পাঠ করেন(অনুবাদ)-ঃ “যখন এরা তোমার কাছে আসে তখন তোমাকে এরূপ কথা দ্বারা অভিবাদন করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অভিবাদন করেননি"-(সুরা মুজাদালাহ্ ৮)। সহীহঃ ইরওয়া (হাঃ ৫/১১৭), মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ইয়াহূদী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের কাছে এসে বলল, “আস-সামু আলাইকুম" (তোমাদের মরণ হোক)। লোকেরা তার উত্তর দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে কী বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ? তারা বলেন, আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। হে আল্লাহ্‌র নাবী! সে সালাম দিয়েছে। তিনি বললেনঃ না, অথচ সে এই এই কথা বলেছে। আমার কাছে তাকে তোমরা ফিরিয়ে নিয়ে আস। অতঃপর তারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছ আস-সামু আলাইকুম? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে সময় বললেনঃ তোমাদেরকে আহলে কিতাবের কেউ সালাম করলে তোমরা বলবে, “আলাইকা মা কুলতা" (যা তুমি বলেছ তোমার উপর তা-ই বর্ষিত হোক)। তারপর এ আয়াত তিনি পাঠ করেন(অনুবাদ)-ঃ “যখন এরা তোমার কাছে আসে তখন তোমাকে এরূপ কথা দ্বারা অভিবাদন করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অভিবাদন করেননি"-(সুরা মুজাদালাহ্ ৮)। সহীহঃ ইরওয়া (হাঃ ৫/১১৭), মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس، عن شيبان، عن قتادة، حدثنا أنس بن مالك، أن يهوديا، أتى على النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه فقال السام عليكم فرد عليه القوم فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هل تدرون ما قال هذا ‏"‏ ‏.‏ قالوا الله ورسوله أعلم سلم يا نبي الله ‏.‏ قال ‏"‏ لا ولكنه قال كذا وكذا ردوه على ‏"‏ ‏.‏ فردوه قال ‏"‏ قلت السام عليكم ‏"‏ ‏.‏ قال نعم ‏.‏ قال نبي الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك ‏"‏ إذا سلم عليكم أحد من أهل الكتاب فقولوا عليك ‏"‏ ‏.‏ قال ‏"‏ عليك ما قلت ‏"‏ ‏.‏ قال ‏:‏ ‏(‏وإذا جاءوك حيوك بما لم يحيك به الله ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩২৯৯

حدثنا عبد بن حميد، والحسن بن علي الحلواني، حدثنا يزيد بن هارون، حدثنا محمد بن إسحاق، عن محمد بن عمرو بن عطاء، عن سليمان بن يسار، عن سلمة بن صخر الأنصاري، قال كنت رجلا قد أوتيت من جماع النساء ما لم يؤت غيري فلما دخل رمضان تظاهرت من امرأتي حتى ينسلخ رمضان فرقا من أن أصيب منها في ليلتي فأتتابع في ذلك إلى أن يدركني النهار وأنا لا أقدر أن أنزع فبينما هي تخدمني ذات ليلة إذ تكشف لي منها شيء فوثبت عليها فلما أصبحت غدوت على قومي فأخبرتهم خبري فقلت انطلقوا معي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره بأمري ‏.‏ فقالوا لا والله لا نفعل نتخوف أن ينزل فينا قرآن أو يقول فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقالة يبقى علينا عارها ولكن اذهب أنت فاصنع ما بدا لك ‏.‏ قال فخرجت فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته خبري ‏.‏ فقال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك ‏.‏ قال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك ‏.‏ قال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك وها أنا ذا فأمض في حكم الله فإني صابر لذلك ‏.‏ قال ‏"‏ أعتق رقبة ‏"‏ ‏.‏ قال فضربت صفحة عنقي بيدي فقلت لا والذي بعثك بالحق ما أصبحت أملك غيرها ‏.‏ قال ‏"‏ صم شهرين ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله وهل أصابني ما أصابني إلا في الصيام ‏.‏ قال ‏"‏ فأطعم ستين مسكينا ‏"‏ ‏.‏ قلت والذي بعثك بالحق لقد بتنا ليلتنا هذه وحشى ما لنا عشاء ‏.‏ قال ‏"‏ اذهب إلى صاحب صدقة بني زريق فقل له فليدفعها إليك فأطعم عنك منها وسقا ستين مسكينا ثم استعن بسائره عليك وعلى عيالك ‏"‏ ‏.‏ قال فرجعت إلى قومي فقلت وجدت عندكم الضيق وسوء الرأى ووجدت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم السعة والبركة أمر لي بصدقتكم فادفعوها إلى فدفعوها إلى ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن ‏.‏ قال محمد سليمان بن يسار لم يسمع عندي من سلمة بن صخر ‏.‏ قال ويقال سلمة بن صخر وسلمان بن صخر ‏.‏ وفي الباب عن خولة بنت ثعلبة وهي امرأة أوس بن الصامت ‏.

সালামাহ্ ইবনু সাখ্‌র আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ, যাকে এত যৌনশক্তি দেয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। রমাযান মাস এলে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যিহার করি, যাতে রমাযান মাসটা অতিক্রম হয়ে যায় এবং রাতে সহবাসের আশংকা হতে বেঁচে থাকতে পারি। একই ধারাবাহিকতায় আমার দিনগুলো (সঙ্গমহীন) অতিক্রম হবে এবং তাকে আমি ত্যাগও করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন সে রাতের বেলা আমার সেবা করছিল, হঠাৎ তার কোন জিনিস আমার সম্মুখে উন্মুক্ত হয়ে গেলে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ি (সঙ্গম করি)। সকালে উপনিত হয়ে আমি আমার গোত্রের লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার বিষয়টি জানাই। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চলো এবং আমার বিষয়টি তাঁকে জানাই। তারা বলল, না আল্লাহ্‌র ক্বসম! আমরা তা করতে অপারগ। আমাদের মনে হচ্ছে যে, আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হবে কিংবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করবেন আমাদের আমাদের জন্য যা লজ্জার বিষয় হয়ে থাকবে। বরং তুমি একাই যাও এবং যা তোমার উপযুক্ত মনে হয় তাই কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে আমার বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি আবার বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। আমি উপস্থিত। অতএব আল্লাহ্‌র বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তিনি বললেনঃ একটি দাসী মুক্ত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার ঘাড়ের উপরাংশে আমার হাত দিয়ে আঘাত করে বললাম, না সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে যিনি সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে ছাড়া আমি আর কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যে বিপদ আমার উপর এসেছে তা তো এ রোযার কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাও। আমি বললাম, সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে সত্যসহ যিনি পাঠিয়েছেন! আজ রাতে আমরাই অভুক্ত ছিলাম, আমাদের কাছে রাতের খাবার ছিল না। তিনি বললেনঃ যে লোক যুরাইক্ব গোত্রের যাকাত আদায় করে, তার কাছে তুমি যাও এবং তাকে বল, তাহলে তোমাকে সে কিছু দিবে। তার এক ওয়াসাক এর মাধ্যমে তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে এবং বাকি যা থাকে তা তুমি ও তোমার পরিজনের জন্য খরচ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমি আমার গোত্রের কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং তাদেরকে বললাম, তোমাদের কাছে আমি পেয়েছি সংকীর্ণতা ও কুপরামর্শ, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেয়েছি প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য। তিনি তোমাদের যাকাত আমাকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব তা আমার কাছে তোমরা অর্পন কর। অতএব তারা আমার কাছে তা অর্পণ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২০৬২)।

সালামাহ্ ইবনু সাখ্‌র আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ, যাকে এত যৌনশক্তি দেয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। রমাযান মাস এলে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যিহার করি, যাতে রমাযান মাসটা অতিক্রম হয়ে যায় এবং রাতে সহবাসের আশংকা হতে বেঁচে থাকতে পারি। একই ধারাবাহিকতায় আমার দিনগুলো (সঙ্গমহীন) অতিক্রম হবে এবং তাকে আমি ত্যাগও করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন সে রাতের বেলা আমার সেবা করছিল, হঠাৎ তার কোন জিনিস আমার সম্মুখে উন্মুক্ত হয়ে গেলে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ি (সঙ্গম করি)। সকালে উপনিত হয়ে আমি আমার গোত্রের লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার বিষয়টি জানাই। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চলো এবং আমার বিষয়টি তাঁকে জানাই। তারা বলল, না আল্লাহ্‌র ক্বসম! আমরা তা করতে অপারগ। আমাদের মনে হচ্ছে যে, আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হবে কিংবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করবেন আমাদের আমাদের জন্য যা লজ্জার বিষয় হয়ে থাকবে। বরং তুমি একাই যাও এবং যা তোমার উপযুক্ত মনে হয় তাই কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে আমার বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি আবার বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। আমি উপস্থিত। অতএব আল্লাহ্‌র বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তিনি বললেনঃ একটি দাসী মুক্ত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার ঘাড়ের উপরাংশে আমার হাত দিয়ে আঘাত করে বললাম, না সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে যিনি সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে ছাড়া আমি আর কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যে বিপদ আমার উপর এসেছে তা তো এ রোযার কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাও। আমি বললাম, সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে সত্যসহ যিনি পাঠিয়েছেন! আজ রাতে আমরাই অভুক্ত ছিলাম, আমাদের কাছে রাতের খাবার ছিল না। তিনি বললেনঃ যে লোক যুরাইক্ব গোত্রের যাকাত আদায় করে, তার কাছে তুমি যাও এবং তাকে বল, তাহলে তোমাকে সে কিছু দিবে। তার এক ওয়াসাক এর মাধ্যমে তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে এবং বাকি যা থাকে তা তুমি ও তোমার পরিজনের জন্য খরচ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমি আমার গোত্রের কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং তাদেরকে বললাম, তোমাদের কাছে আমি পেয়েছি সংকীর্ণতা ও কুপরামর্শ, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেয়েছি প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য। তিনি তোমাদের যাকাত আমাকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব তা আমার কাছে তোমরা অর্পন কর। অতএব তারা আমার কাছে তা অর্পণ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২০৬২)।

حدثنا عبد بن حميد، والحسن بن علي الحلواني، حدثنا يزيد بن هارون، حدثنا محمد بن إسحاق، عن محمد بن عمرو بن عطاء، عن سليمان بن يسار، عن سلمة بن صخر الأنصاري، قال كنت رجلا قد أوتيت من جماع النساء ما لم يؤت غيري فلما دخل رمضان تظاهرت من امرأتي حتى ينسلخ رمضان فرقا من أن أصيب منها في ليلتي فأتتابع في ذلك إلى أن يدركني النهار وأنا لا أقدر أن أنزع فبينما هي تخدمني ذات ليلة إذ تكشف لي منها شيء فوثبت عليها فلما أصبحت غدوت على قومي فأخبرتهم خبري فقلت انطلقوا معي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره بأمري ‏.‏ فقالوا لا والله لا نفعل نتخوف أن ينزل فينا قرآن أو يقول فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقالة يبقى علينا عارها ولكن اذهب أنت فاصنع ما بدا لك ‏.‏ قال فخرجت فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته خبري ‏.‏ فقال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك ‏.‏ قال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك ‏.‏ قال ‏"‏ أنت بذاك ‏"‏ ‏.‏ قلت أنا بذاك وها أنا ذا فأمض في حكم الله فإني صابر لذلك ‏.‏ قال ‏"‏ أعتق رقبة ‏"‏ ‏.‏ قال فضربت صفحة عنقي بيدي فقلت لا والذي بعثك بالحق ما أصبحت أملك غيرها ‏.‏ قال ‏"‏ صم شهرين ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله وهل أصابني ما أصابني إلا في الصيام ‏.‏ قال ‏"‏ فأطعم ستين مسكينا ‏"‏ ‏.‏ قلت والذي بعثك بالحق لقد بتنا ليلتنا هذه وحشى ما لنا عشاء ‏.‏ قال ‏"‏ اذهب إلى صاحب صدقة بني زريق فقل له فليدفعها إليك فأطعم عنك منها وسقا ستين مسكينا ثم استعن بسائره عليك وعلى عيالك ‏"‏ ‏.‏ قال فرجعت إلى قومي فقلت وجدت عندكم الضيق وسوء الرأى ووجدت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم السعة والبركة أمر لي بصدقتكم فادفعوها إلى فدفعوها إلى ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن ‏.‏ قال محمد سليمان بن يسار لم يسمع عندي من سلمة بن صخر ‏.‏ قال ويقال سلمة بن صخر وسلمان بن صخر ‏.‏ وفي الباب عن خولة بنت ثعلبة وهي امرأة أوس بن الصامت ‏.


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-হাশ্‌র

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০২

حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن نافع، عن ابن عمر، رضى الله عنهما قال حرق رسول الله صلى الله عليه وسلم نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فأنزل الله ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها فبإذن الله وليخزي الفاسقين ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.

ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানূ নাযীরের আল-বুওয়াইরা নামক খেজুর বাগানটি অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেন এবং কেটে ফেলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং যেগুলো তাদের কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার আদেশানুসারেই এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন"-(সূরা হাশ্‌র ৫)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮৪৪), বুখারী ও মুসলিম।

ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানূ নাযীরের আল-বুওয়াইরা নামক খেজুর বাগানটি অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেন এবং কেটে ফেলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং যেগুলো তাদের কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার আদেশানুসারেই এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন"-(সূরা হাশ্‌র ৫)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮৪৪), বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن نافع، عن ابن عمر، رضى الله عنهما قال حرق رسول الله صلى الله عليه وسلم نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فأنزل الله ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها فبإذن الله وليخزي الفاسقين ‏)‏ ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৪

حدثنا أبو كريب، حدثنا وكيع، عن فضيل بن غزوان، عن أبي حازم، عن أبي هريرة، أن رجلا، من الأنصار بات به ضيف فلم يكن عنده إلا قوته وقوت صبيانه فقال لامرأته نومي الصبية وأطفئي السراج وقربي للضيف ما عندك فنزلت هذه الآية ‏:‏ ‏(‏ ويؤثرون على أنفسهم ولو كان بهم خصاصة ‏)‏ هذا حديث حسن صحيح ‏.

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক রাতে আনসার লোকের এখানে একজন মেহমান আসে। তার কাছে তার ও তার সন্তানদের খাবার ছাড়া অতিরিক্ত খাবার ছিল না। তার সহধর্মিণীকে তিনি বলেন, বাচ্চাদের ঘুম পারিয়ে দাও, আলো নিভিয়ে ফেল এবং তোমার কাছে যে খাবার রয়েছে তা মেহমানের সম্মুখে পরিবেশন কর। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "আর নিজেদের উপর অন্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবপীড়িত হয়েও"- (সূরা হাশ্‌র ৯)। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৩২৭২), বুখারী ও মুসলিম আরও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন।

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক রাতে আনসার লোকের এখানে একজন মেহমান আসে। তার কাছে তার ও তার সন্তানদের খাবার ছাড়া অতিরিক্ত খাবার ছিল না। তার সহধর্মিণীকে তিনি বলেন, বাচ্চাদের ঘুম পারিয়ে দাও, আলো নিভিয়ে ফেল এবং তোমার কাছে যে খাবার রয়েছে তা মেহমানের সম্মুখে পরিবেশন কর। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ "আর নিজেদের উপর অন্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবপীড়িত হয়েও"- (সূরা হাশ্‌র ৯)। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৩২৭২), বুখারী ও মুসলিম আরও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন।

حدثنا أبو كريب، حدثنا وكيع، عن فضيل بن غزوان، عن أبي حازم، عن أبي هريرة، أن رجلا، من الأنصار بات به ضيف فلم يكن عنده إلا قوته وقوت صبيانه فقال لامرأته نومي الصبية وأطفئي السراج وقربي للضيف ما عندك فنزلت هذه الآية ‏:‏ ‏(‏ ويؤثرون على أنفسهم ولو كان بهم خصاصة ‏)‏ هذا حديث حسن صحيح ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৩

حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا حفص بن غياث، حدثنا حبيب بن أبي عمرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قول الله عز وجل ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها ‏)‏ ‏.‏ قال اللينة النخلةيخزي الفاسقين ‏)‏ قال استنزلوهم من حصونهم قال وأمروا بقطع النخل فحك في صدورهم ‏.‏ فقال المسلمون قد قطعنا بعضا وتركنا بعضا فلنسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم هل لنا فيما قطعنا من أجر وهل علينا فيما تركنا من وزر فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها ‏)‏ ‏.‏ الآية ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তার কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল-লীনাহ অর্থঃ খেজুর গাছ। "এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন" আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থাৎ মুসলমানরা তাদেরকে তাদের দুর্গগুলো হতে বহিষ্কার করে দেয়। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, যখন তাদেরকে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার আদেশ দেয়া হয় সে সময় তাদের মনে ধারণা (সন্দেহ) হয়। মুসলমানরা বলেন, আমরা কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলেছি এবং কিছু বৃক্ষ বহাল রেখেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমরা প্রশ্ন করবো যে, যে গাছগুলো আমরা কেটেছি তার কারণে আমাদেরকে সাওয়াব প্রদান করা হবে কি এবং যে বৃক্ষগুলো বহাল রেখেছি তার জন্য আমাদের কোন গুনাহ হবে কি? তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তাদের কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমেই"- (সূরা হাশ্‌র ৫)। হাদীসটির সানাদ সহীহ।

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তার কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল-লীনাহ অর্থঃ খেজুর গাছ। "এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন" আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থাৎ মুসলমানরা তাদেরকে তাদের দুর্গগুলো হতে বহিষ্কার করে দেয়। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, যখন তাদেরকে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার আদেশ দেয়া হয় সে সময় তাদের মনে ধারণা (সন্দেহ) হয়। মুসলমানরা বলেন, আমরা কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলেছি এবং কিছু বৃক্ষ বহাল রেখেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমরা প্রশ্ন করবো যে, যে গাছগুলো আমরা কেটেছি তার কারণে আমাদেরকে সাওয়াব প্রদান করা হবে কি এবং যে বৃক্ষগুলো বহাল রেখেছি তার জন্য আমাদের কোন গুনাহ হবে কি? তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ "যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তাদের কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমেই"- (সূরা হাশ্‌র ৫)। হাদীসটির সানাদ সহীহ।

حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا حفص بن غياث، حدثنا حبيب بن أبي عمرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قول الله عز وجل ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها ‏)‏ ‏.‏ قال اللينة النخلةيخزي الفاسقين ‏)‏ قال استنزلوهم من حصونهم قال وأمروا بقطع النخل فحك في صدورهم ‏.‏ فقال المسلمون قد قطعنا بعضا وتركنا بعضا فلنسألن رسول الله صلى الله عليه وسلم هل لنا فيما قطعنا من أجر وهل علينا فيما تركنا من وزر فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها ‏)‏ ‏.‏ الآية ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মুমতাহিনাহ

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৮

حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا محمد بن يوسف الفريابي، حدثنا قيس بن الربيع، عن الأغر بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن أبي نصر، عن ابن عباس، في قوله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات فامتحنوهن ‏)‏ قال كانت المرأة إذا جاءت النبي صلى الله عليه وسلم لتسلم حلفها بالله ما خرجت من بغض زوجي ما خرجت إلا حبا لله ولرسوله ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

“তোমাদের নিকট মু’মিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” ( সূরাঃ আল-মুমতাহানাহ-১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ্‌ তা’আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি। যঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ (৮/১৭৪)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

“তোমাদের নিকট মু’মিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” ( সূরাঃ আল-মুমতাহানাহ-১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ্‌ তা’আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি। যঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ (৮/১৭৪)

حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا محمد بن يوسف الفريابي، حدثنا قيس بن الربيع، عن الأغر بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن أبي نصر، عن ابن عباس، في قوله تعالى ‏:‏ ‏(‏ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات فامتحنوهن ‏)‏ قال كانت المرأة إذا جاءت النبي صلى الله عليه وسلم لتسلم حلفها بالله ما خرجت من بغض زوجي ما خرجت إلا حبا لله ولرسوله ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث غريب ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৬

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن إلا بالآية التي قال الله ‏:‏ ‏(‏إذا جاءك المؤمنات يبايعنك ‏)‏ الآية ‏.

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই'আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না.....”-(সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ১২)। মা'মার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাঊস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)।

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ)ঃ “হে নাবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই'আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না.....”-(সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ১২)। মা'মার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাঊস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن إلا بالآية التي قال الله ‏:‏ ‏(‏إذا جاءك المؤمنات يبايعنك ‏)‏ الآية ‏.


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৭

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا أبو نعيم، حدثنا يزيد بن عبد الله الشيباني، قال سمعت شهر بن حوشب، قال حدثتنا أم سلمة الأنصارية، قالت قالت امرأة من النسوة ما هذا المعروف الذي لا ينبغي لنا أن نعصيك فيه قال ‏ "‏ لا تنحن ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إن بني فلان قد أسعدوني على عمي ولا بد لي من قضائهن فأبى على فعاتبته مرارا فأذن لي في قضائهن فلم أنح بعد على قضائهن ولا غيره حتى الساعة ولم يبق من النسوة امرأة إلا وقد ناحت غيري ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏ وفيه عن أم عطية رضى الله عنها ‏.‏ قال عبد بن حميد أم سلمة الأنصارية هي أسماء بنت يزيد بن السكن ‏.‏

উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করল, 'মা'রূফ' বলতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে। হাসানঃ তা'লীক আ'লা ইবনু মাজাহ।

উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করল, 'মা'রূফ' বলতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে। হাসানঃ তা'লীক আ'লা ইবনু মাজাহ।

حدثنا عبد بن حميد، حدثنا أبو نعيم، حدثنا يزيد بن عبد الله الشيباني، قال سمعت شهر بن حوشب، قال حدثتنا أم سلمة الأنصارية، قالت قالت امرأة من النسوة ما هذا المعروف الذي لا ينبغي لنا أن نعصيك فيه قال ‏ "‏ لا تنحن ‏"‏ ‏.‏ قلت يا رسول الله إن بني فلان قد أسعدوني على عمي ولا بد لي من قضائهن فأبى على فعاتبته مرارا فأذن لي في قضائهن فلم أنح بعد على قضائهن ولا غيره حتى الساعة ولم يبق من النسوة امرأة إلا وقد ناحت غيري ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب ‏.‏ وفيه عن أم عطية رضى الله عنها ‏.‏ قال عبد بن حميد أم سلمة الأنصارية هي أسماء بنت يزيد بن السكن ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৫

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن الحسن بن محمد، هو ابن الحنفية عن عبيد الله بن أبي رافع، قال سمعت علي بن أبي طالب، يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا والزبير والمقداد بن الأسود فقال ‏"‏ انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها فائتوني به ‏"‏ ‏.‏ فخرجنا تتعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة فقلنا أخرجي الكتاب ‏.‏ فقالت ما معي من كتاب ‏.‏ فقلنا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ قال فأخرجته من عقاصها ‏.‏ قال فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس من المشركين بمكة يخبرهم ببعض أمر النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما هذا يا حاطب ‏"‏ ‏.‏ قال لا تعجل على يا رسول الله إني كنت امرأ ملصقا في قريش ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها أهليهم وأموالهم بمكة فأحببت إذ فاتني ذلك من نسب فيهم أن أتخذ فيهم يدا يحمون بها قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صدق ‏"‏ ‏.‏ فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إنه قد شهد بدرا فما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم ‏"‏ ‏.‏ قال وفيه أنزلت هذه السورة ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء ‏)‏ السورة ‏.‏ قال عمرو وقد رأيت ابن أبي رافع وكان كاتبا لعلي بن أبي طالب ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وفيه عن عمر وجابر بن عبد الله ‏.‏ وروى غير واحد عن سفيان بن عيينة هذا الحديث نحو هذا وذكروا هذا الحرف فقالوا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ وقد روي أيضا عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي نحو هذا الحديث ‏.‏ وذكر بعضهم فيه فقال لتخرجن الكتاب أو لنجردنك ‏.‏

'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি' (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বালিব-এর পুত্র 'আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে 'রাওযা খাখ" নামক জায়গায় পৌঁছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই 'রাওযা খাখ' নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। 'আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চুলের খোঁপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় তাদের আত্বীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সহযোগীতায় তারা তাদের মক্কাস্থ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্বীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগীতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে বদ্‌রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদ্রের মুজাহিদদের প্রতি উঁকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ "তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি"। 'আলী (রাঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি......”। 'আম্‌র (রহঃ) বলেন, আমি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফী'কে দেখেছি। তিনি 'আলী (রাঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম।

'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি' (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বালিব-এর পুত্র 'আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে 'রাওযা খাখ" নামক জায়গায় পৌঁছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই 'রাওযা খাখ' নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। 'আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চুলের খোঁপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় তাদের আত্বীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সহযোগীতায় তারা তাদের মক্কাস্থ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্বীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগীতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে বদ্‌রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদ্রের মুজাহিদদের প্রতি উঁকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ "তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি"। 'আলী (রাঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি......”। 'আম্‌র (রহঃ) বলেন, আমি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফী'কে দেখেছি। তিনি 'আলী (রাঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম।

حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن الحسن بن محمد، هو ابن الحنفية عن عبيد الله بن أبي رافع، قال سمعت علي بن أبي طالب، يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا والزبير والمقداد بن الأسود فقال ‏"‏ انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها فائتوني به ‏"‏ ‏.‏ فخرجنا تتعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة فقلنا أخرجي الكتاب ‏.‏ فقالت ما معي من كتاب ‏.‏ فقلنا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ قال فأخرجته من عقاصها ‏.‏ قال فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس من المشركين بمكة يخبرهم ببعض أمر النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ما هذا يا حاطب ‏"‏ ‏.‏ قال لا تعجل على يا رسول الله إني كنت امرأ ملصقا في قريش ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها أهليهم وأموالهم بمكة فأحببت إذ فاتني ذلك من نسب فيهم أن أتخذ فيهم يدا يحمون بها قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صدق ‏"‏ ‏.‏ فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق ‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إنه قد شهد بدرا فما يدريك لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم ‏"‏ ‏.‏ قال وفيه أنزلت هذه السورة ‏:‏ ‏(‏يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء ‏)‏ السورة ‏.‏ قال عمرو وقد رأيت ابن أبي رافع وكان كاتبا لعلي بن أبي طالب ‏.‏ قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وفيه عن عمر وجابر بن عبد الله ‏.‏ وروى غير واحد عن سفيان بن عيينة هذا الحديث نحو هذا وذكروا هذا الحرف فقالوا لتخرجن الكتاب أو لتلقين الثياب ‏.‏ وقد روي أيضا عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي نحو هذا الحديث ‏.‏ وذكر بعضهم فيه فقال لتخرجن الكتاب أو لنجردنك ‏.‏


জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আস্-সাফ্

জামে' আত-তিরমিজি ৩৩০৯

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن كثير، عن الأوزاعي، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن عبد الله بن سلام، قال قعدنا نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا فقلنا لو نعلم أى الأعمال أحب إلى الله لعملناه فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ سبح لله ما في السموات وما في الأرض وهو العزيز الحكيم * يا أيها الذين آمنوا لم تقولون ما لا تفعلون ‏)‏ قال عبد الله بن سلام فقرأها علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو سلمة فقرأها علينا ابن سلام ‏.‏ قال يحيى فقرأها علينا أبو سلمة ‏.‏ قال ابن كثير فقرأها علينا الأوزاعي ‏.‏ قال عبد الله فقرأها علينا ابن كثير ‏.‏ قال أبو عيسى وقد خولف محمد بن كثير في إسناد هذا الحديث عن الأوزاعي ‏.‏ وروى ابن المبارك عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن هلال بن أبي ميمونة عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن سلام أو عن أبي سلمة عن عبد الله بن سلام ‏.‏ وروى الوليد بن مسلم هذا الحديث عن الأوزاعي نحو رواية محمد بن كثير ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক সংখ্যক সাহাবী একসাথে বসে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে গিয়ে বললাম যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয় তা জানতে পারলে সেই কাজটি করতে আমরা ব্রতী হতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ঃ “আকাশ ও যমীনে বিদ্যমান সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল যা কার্যকর করো না"- (সূরা সাফ্ ১-২)? 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি পাঠ করে আমাদেরকে শুনান।

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক সংখ্যক সাহাবী একসাথে বসে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে গিয়ে বললাম যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয় তা জানতে পারলে সেই কাজটি করতে আমরা ব্রতী হতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ঃ “আকাশ ও যমীনে বিদ্যমান সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল যা কার্যকর করো না"- (সূরা সাফ্ ১-২)? 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি পাঠ করে আমাদেরকে শুনান।

حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، أخبرنا محمد بن كثير، عن الأوزاعي، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن عبد الله بن سلام، قال قعدنا نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا فقلنا لو نعلم أى الأعمال أحب إلى الله لعملناه فأنزل الله تعالى ‏:‏ ‏(‏ سبح لله ما في السموات وما في الأرض وهو العزيز الحكيم * يا أيها الذين آمنوا لم تقولون ما لا تفعلون ‏)‏ قال عبد الله بن سلام فقرأها علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أبو سلمة فقرأها علينا ابن سلام ‏.‏ قال يحيى فقرأها علينا أبو سلمة ‏.‏ قال ابن كثير فقرأها علينا الأوزاعي ‏.‏ قال عبد الله فقرأها علينا ابن كثير ‏.‏ قال أبو عيسى وقد خولف محمد بن كثير في إسناد هذا الحديث عن الأوزاعي ‏.‏ وروى ابن المبارك عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن هلال بن أبي ميمونة عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن سلام أو عن أبي سلمة عن عبد الله بن سلام ‏.‏ وروى الوليد بن مسلم هذا الحديث عن الأوزاعي نحو رواية محمد بن كثير ‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00