জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-হাজ্জ
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭০
حدثنا محمد بن إسماعيل، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الله بن صالح، قال حدثني الليث، عن عبد الرحمن بن خالد، عن ابن شهاب، عن محمد بن عروة بن الزبير، عن عبد الله بن الزبير، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إنما سمي البيت العتيق لأنه لم يظهر عليه جبار " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي هذا الحديث عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا .
আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বাইতুল্লাহ্র) বাইতুল আতীক নাম এজন্য হয়েছে যে, কোন স্বেচ্ছাচারীই এর উপর কর্তৃত্ব প্রসার করতে সমর্থ হয়নি। যঈফ, যঈফা (৩২২২)
আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বাইতুল্লাহ্র) বাইতুল আতীক নাম এজন্য হয়েছে যে, কোন স্বেচ্ছাচারীই এর উপর কর্তৃত্ব প্রসার করতে সমর্থ হয়নি। যঈফ, যঈফা (৩২২২)
حدثنا محمد بن إسماعيل، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الله بن صالح، قال حدثني الليث، عن عبد الرحمن بن خالد، عن ابن شهاب، عن محمد بن عروة بن الزبير، عن عبد الله بن الزبير، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إنما سمي البيت العتيق لأنه لم يظهر عليه جبار " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي هذا الحديث عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৬৮
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن جدعان، عن الحسن، عن عمران بن حصين، أن النبي صلى الله عليه وسلم لما نزلت : ( يا أيها الناس اتقوا ربكم إن زلزلة الساعة شيء عظيم ) إلى قوله : (ولكن عذاب الله شديد ) قال أنزلت عليه هذه وهو في سفر فقال " أتدرون أى يوم ذلك " . فقالوا الله ورسوله أعلم . قال " ذلك يوم يقول الله لآدم ابعث بعث النار فقال يا رب وما بعث النار قال تسعمائة وتسعة وتسعون إلى النار وواحد إلى الجنة " . قال فأنشأ المسلمون يبكون فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قاربوا وسددوا فإنها لم تكن نبوة قط إلا كان بين يديها جاهلية قال فيؤخذ العدد من الجاهلية فإن تمت وإلا كملت من المنافقين وما مثلكم والأمم إلا كمثل الرقمة في ذراع الدابة أو كالشامة في جنب البعير ثم قال إني لأرجو أن تكونوا ربع أهل الجنة " . فكبروا ثم قال " إني لأرجو أن تكونوا ثلث أهل الجنة " . فكبروا ثم قال " إني لأرجو أن تكونوا نصف أهل الجنة " . فكبروا قال ولا أدري قال الثلثين أم لا . قال هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم .
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
“হে লোকেরা! তোমাদের প্রভুর গযব হতে নিজকে রক্ষা কর। কিয়ামাতের কম্পন বড়ই ভয়াবহ ব্যপার। যেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নিজের দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং লোকদেরকে তোমরা মাতালের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্থ নয়। বরং আল্লাহ্ তা’আলার শাস্তিই এতদূর কঠোর হবে” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ১-২)। রাবী বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটা কোন দিন? সাহাবীগন বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূলই সবচাইতে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আঃ)-কে বলবেনঃ জাহান্নামের বাহিনী প্রস্তুত কর। আদম (আঃ) বলবেনঃ হে প্রভু! জাহান্নামের বাহিনীর সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ (হাজারকে) নয় শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের এবং একজন জান্নাতের বাহিনী। একথা শুনে মুসলমানরা কান্নায় ভেংগে পড়েন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সমতল পথে চলো, আল্লাহ্ তা’আলার নৈকট্য খোঁজ কর, সোজা পথ ধর। প্রত্যেক নাবূয়্যাতের পূর্বেই রয়েছে জাহিলিয়াত। তিনি আরো বলেনঃ জাহিলিয়াত হতেই বেশি সংখ্যক নেয়া হবে। যদি এতে সংখ্যা পূর্ণ হয় তো ভালো, অন্যথায় মুনাফিকদের দিয়ে সংখ্যা পূর্ণ করা হবে। অপরাপর উম্মাতের ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেমন পশুর বাহুর দাগ অথবা উটের পার্শ্বদেশের তিলক (অর্থাৎ তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে)। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি দেন। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী। তারা এবারও তাকবীর ধ্বনি দেন। রাবী বলেন, তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছেন কি-না তা আমার মনে নেই। সনদ দুর্বল, তা’লীকুম রাগীব (৪/২২৯)
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
“হে লোকেরা! তোমাদের প্রভুর গযব হতে নিজকে রক্ষা কর। কিয়ামাতের কম্পন বড়ই ভয়াবহ ব্যপার। যেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নিজের দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং লোকদেরকে তোমরা মাতালের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্থ নয়। বরং আল্লাহ্ তা’আলার শাস্তিই এতদূর কঠোর হবে” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ১-২)। রাবী বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটা কোন দিন? সাহাবীগন বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূলই সবচাইতে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আঃ)-কে বলবেনঃ জাহান্নামের বাহিনী প্রস্তুত কর। আদম (আঃ) বলবেনঃ হে প্রভু! জাহান্নামের বাহিনীর সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ (হাজারকে) নয় শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের এবং একজন জান্নাতের বাহিনী। একথা শুনে মুসলমানরা কান্নায় ভেংগে পড়েন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সমতল পথে চলো, আল্লাহ্ তা’আলার নৈকট্য খোঁজ কর, সোজা পথ ধর। প্রত্যেক নাবূয়্যাতের পূর্বেই রয়েছে জাহিলিয়াত। তিনি আরো বলেনঃ জাহিলিয়াত হতেই বেশি সংখ্যক নেয়া হবে। যদি এতে সংখ্যা পূর্ণ হয় তো ভালো, অন্যথায় মুনাফিকদের দিয়ে সংখ্যা পূর্ণ করা হবে। অপরাপর উম্মাতের ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেমন পশুর বাহুর দাগ অথবা উটের পার্শ্বদেশের তিলক (অর্থাৎ তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে)। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি দেন। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী। তারা এবারও তাকবীর ধ্বনি দেন। রাবী বলেন, তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছেন কি-না তা আমার মনে নেই। সনদ দুর্বল, তা’লীকুম রাগীব (৪/২২৯)
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن جدعان، عن الحسن، عن عمران بن حصين، أن النبي صلى الله عليه وسلم لما نزلت : ( يا أيها الناس اتقوا ربكم إن زلزلة الساعة شيء عظيم ) إلى قوله : (ولكن عذاب الله شديد ) قال أنزلت عليه هذه وهو في سفر فقال " أتدرون أى يوم ذلك " . فقالوا الله ورسوله أعلم . قال " ذلك يوم يقول الله لآدم ابعث بعث النار فقال يا رب وما بعث النار قال تسعمائة وتسعة وتسعون إلى النار وواحد إلى الجنة " . قال فأنشأ المسلمون يبكون فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قاربوا وسددوا فإنها لم تكن نبوة قط إلا كان بين يديها جاهلية قال فيؤخذ العدد من الجاهلية فإن تمت وإلا كملت من المنافقين وما مثلكم والأمم إلا كمثل الرقمة في ذراع الدابة أو كالشامة في جنب البعير ثم قال إني لأرجو أن تكونوا ربع أهل الجنة " . فكبروا ثم قال " إني لأرجو أن تكونوا ثلث أهل الجنة " . فكبروا ثم قال " إني لأرجو أن تكونوا نصف أهل الجنة " . فكبروا قال ولا أدري قال الثلثين أم لا . قال هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৬৯
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا هشام بن أبي عبد الله، عن قتادة، عن الحسن، عن عمران بن حصين، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فتفاوت بين أصحابه في السير فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوته بهاتين الآيتين أيها الناس اتقوا ربكم إن زلزلة الساعة شيء عظيم ) إلى قوله : ( إن عذاب الله شديد ) فلما سمع ذلك أصحابه حثوا المطي وعرفوا أنه عند قول يقوله فقال " هل تدرون أى يوم ذلك " . قالوا الله ورسوله أعلم . قال " ذاك يوم ينادي الله فيه آدم فيناديه ربه فيقول يا آدم ابعث بعث النار . فيقول يا رب وما بعث النار فيقول من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعون إلى النار وواحد في الجنة " . فيئس القوم حتى ما أبدوا بضاحكة فلما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي بأصحابه قال " اعملوا وأبشروا فوالذي نفس محمد بيده إنكم لمع خليقتين ما كانتا مع شيء إلا كثرتاه يأجوج ومأجوج ومن مات من بني آدم وبني إبليس " . قال فسري عن القوم بعض الذي يجدون . فقال " اعملوا وأبشروا فوالذي نفس محمد بيده ما أنتم في الناس إلا كالشامة في جنب البعير أو كالرقمة في ذراع الدابة " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। চলার পথে তিনি ও তাঁর সাহাবিগণ আগে পিছে হয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা হাজ্জ এর প্রথম এ দুটি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ "হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামাতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার ... বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"-(সূরা হাজ্জ ১-২)। তাঁর সাহাবীগন এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তু্যানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগন তাঁর নিকট পৌঁছালে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জানো সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলই বেশী ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন যেদিন আল্লাহ্ তা'আলা আদম (আঃ) কে ডেকে বলবেন- "হে আদম দোজখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেনঃ হে আমার প্রতিপালক, দোজখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন দোজখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে"। সাহাবীগণ এই কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিলনা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই অবস্থা দেখে বললেনঃ কাজ করতে থাকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা দুটি জীবের সাক্ষাৎ পাবে। তাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। এ দুটি জীব হল ইয়া'যুজ ও মা'যুজ এবং আদম সন্তান ও ইবলিশের সন্তানদের মধ্যে যারা মারা গেছে তারা। বর্ণনাকারী বলেন, এতে লোকদের চিন্তা ও বিষণ্ণতা কিছুটা দূর হয়ে গেলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রান! (অন্যান্য জাতীর তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। চলার পথে তিনি ও তাঁর সাহাবিগণ আগে পিছে হয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা হাজ্জ এর প্রথম এ দুটি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ "হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামাতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার ... বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"-(সূরা হাজ্জ ১-২)। তাঁর সাহাবীগন এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তু্যানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগন তাঁর নিকট পৌঁছালে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জানো সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলই বেশী ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন যেদিন আল্লাহ্ তা'আলা আদম (আঃ) কে ডেকে বলবেন- "হে আদম দোজখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেনঃ হে আমার প্রতিপালক, দোজখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন দোজখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে"। সাহাবীগণ এই কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিলনা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই অবস্থা দেখে বললেনঃ কাজ করতে থাকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা দুটি জীবের সাক্ষাৎ পাবে। তাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। এ দুটি জীব হল ইয়া'যুজ ও মা'যুজ এবং আদম সন্তান ও ইবলিশের সন্তানদের মধ্যে যারা মারা গেছে তারা। বর্ণনাকারী বলেন, এতে লোকদের চিন্তা ও বিষণ্ণতা কিছুটা দূর হয়ে গেলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রান! (অন্যান্য জাতীর তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا هشام بن أبي عبد الله، عن قتادة، عن الحسن، عن عمران بن حصين، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فتفاوت بين أصحابه في السير فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوته بهاتين الآيتين أيها الناس اتقوا ربكم إن زلزلة الساعة شيء عظيم ) إلى قوله : ( إن عذاب الله شديد ) فلما سمع ذلك أصحابه حثوا المطي وعرفوا أنه عند قول يقوله فقال " هل تدرون أى يوم ذلك " . قالوا الله ورسوله أعلم . قال " ذاك يوم ينادي الله فيه آدم فيناديه ربه فيقول يا آدم ابعث بعث النار . فيقول يا رب وما بعث النار فيقول من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعون إلى النار وواحد في الجنة " . فيئس القوم حتى ما أبدوا بضاحكة فلما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي بأصحابه قال " اعملوا وأبشروا فوالذي نفس محمد بيده إنكم لمع خليقتين ما كانتا مع شيء إلا كثرتاه يأجوج ومأجوج ومن مات من بني آدم وبني إبليس " . قال فسري عن القوم بعض الذي يجدون . فقال " اعملوا وأبشروا فوالذي نفس محمد بيده ما أنتم في الناس إلا كالشامة في جنب البعير أو كالرقمة في ذراع الدابة " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭১
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا أبي وإسحاق بن يوسف الأزرق، عن سفيان الثوري، عن الأعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال أبو بكر أخرجوا نبيهم ليهلكن فأنزل الله : (أذن للذين يقاتلون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير ) الآية . فقال أبو بكر لقد علمت أنه سيكون قتال . قال هذا حديث حسن . وقد رواه عبد الرحمن بن مهدي وغيره عن سفيان عن الأعمش عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير مرسلا ليس فيه عن ابن عباس .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন মক্কাবাসীরা মক্কা হতে নির্বাসিত করে, তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এই লোকেরা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। এদের নিঃসন্দেহে অনিষ্ট হবে। এ কথার পটভূমিকায় আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হল। কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। এরা সেই লোক, যাদেরকে অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘর-বাড়ী হতে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। তাদের দোষ ছিল এই যে, তারা বলতঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের রব” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০)। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ আমি বুঝে গেলাম, শীঘ্রই লড়াই বেধে যাবে। সনদ দুর্বল
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন মক্কাবাসীরা মক্কা হতে নির্বাসিত করে, তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এই লোকেরা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। এদের নিঃসন্দেহে অনিষ্ট হবে। এ কথার পটভূমিকায় আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হল। কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। এরা সেই লোক, যাদেরকে অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘর-বাড়ী হতে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। তাদের দোষ ছিল এই যে, তারা বলতঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের রব” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০)। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ আমি বুঝে গেলাম, শীঘ্রই লড়াই বেধে যাবে। সনদ দুর্বল
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا أبي وإسحاق بن يوسف الأزرق، عن سفيان الثوري، عن الأعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال أبو بكر أخرجوا نبيهم ليهلكن فأنزل الله : (أذن للذين يقاتلون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير ) الآية . فقال أبو بكر لقد علمت أنه سيكون قتال . قال هذا حديث حسن . وقد رواه عبد الرحمن بن مهدي وغيره عن سفيان عن الأعمش عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير مرسلا ليس فيه عن ابن عباس .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭২
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو أحمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن الأعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، قال لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال رجل أخرجوا نبيهم فنزلت : ( أذن للذين يقاتلون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير * الذين أخرجوا من ديارهم بغير حق ) النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه .
সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কা হতে বের করা হলে এক ব্যক্তি বলেন, তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ “যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে যুদ্ধ করা হয়, কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে; আর আল্লাহ্ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম; যারা বহিষ্কৃত হয়েছে অন্যায়ভাবে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণকে।
সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কা হতে বের করা হলে এক ব্যক্তি বলেন, তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ “যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে যুদ্ধ করা হয়, কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে; আর আল্লাহ্ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম; যারা বহিষ্কৃত হয়েছে অন্যায়ভাবে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণকে।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو أحمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن الأعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، قال لما أخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال رجل أخرجوا نبيهم فنزلت : ( أذن للذين يقاتلون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير * الذين أخرجوا من ديارهم بغير حق ) النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-মু’মিনূন
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৬
حدثنا سويد بن نصر، أخبرنا عبد الله بن المبارك، عن سعيد بن يزيد أبي شجاع، عن أبي السمح، عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : (وهم فيها كالحون ) قال " تشويه النار فتقلص شفته العليا حتى تبلغ وسط رأسه وتسترخي شفته السفلى حتى تضرب سرته " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "তারা জাহান্নামে থাকবে বীভৎস চেহারায়" (সূরাঃ আল-মু'মিনুন- ১০৪) আয়াত প্রসঙ্গে বলেনঃ আগুন তাদেরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ঝলসিয়ে দিবে। ফলে তাদের উপরের ঠোঁট কুঞ্চিত হয়ে মাথার মাঝখানে পৌঁছে যাবে। আর নীচের ঠোঁট এত ঢিলা হয়ে যাবে যে, তা নাভী পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। যঈফ, ২৭১৩ নং হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "তারা জাহান্নামে থাকবে বীভৎস চেহারায়" (সূরাঃ আল-মু'মিনুন- ১০৪) আয়াত প্রসঙ্গে বলেনঃ আগুন তাদেরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ঝলসিয়ে দিবে। ফলে তাদের উপরের ঠোঁট কুঞ্চিত হয়ে মাথার মাঝখানে পৌঁছে যাবে। আর নীচের ঠোঁট এত ঢিলা হয়ে যাবে যে, তা নাভী পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। যঈফ, ২৭১৩ নং হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
حدثنا سويد بن نصر، أخبرنا عبد الله بن المبارك، عن سعيد بن يزيد أبي شجاع، عن أبي السمح، عن أبي الهيثم، عن أبي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : (وهم فيها كالحون ) قال " تشويه النار فتقلص شفته العليا حتى تبلغ وسط رأسه وتسترخي شفته السفلى حتى تضرب سرته " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৩
حدثنا يحيى بن موسى، وعبد بن حميد، وغير، واحد المعنى، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، عن يونس بن سليم، عن الزهري، عن عروة بن الزبير، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، قال سمعت عمر بن الخطاب، رضى الله عنه يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا نزل عليه الوحى سمع عند وجهه كدوي النحل فأنزل عليه يوما فمكثنا ساعة فسري عنه فاستقبل القبلة ورفع يديه وقال " اللهم زدنا ولا تنقصنا وأكرمنا ولا تهنا وأعطنا ولا تحرمنا وآثرنا ولا تؤثر علينا وأرضنا وارض عنا " . ثم قال صلى الله عليه وسلم " أنزل على عشر آيات من أقامهن دخل الجنة " . ثم قرأ : ( قد أفلح المؤمنون ) حتى ختم عشر آيات .
আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হত সে সময় তাঁর মুখমণ্ডলের নিকট হতে মৌমাছির আওয়াজের মত গুনগুন আওয়াজ শোনা যেত। একদিন তাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হল। আমি কিছুক্ষন প্রতীক্ষা করলাম। তাঁর উপর হতে ওয়াহীর বিশেষ অবস্থা সরে গেলে তিনি কিবলামুখী হয়ে তাঁর দুই হাত তুলে দু’আ করলেনঃ “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে বেশি দান কর, আমাদেরকে কম দিও না, আমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দাও, আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না, আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না, আমাদেরকে অগ্রগামী কর, আমাদের উপর অন্য কাউকে অগ্রগামী করো না, আমাদেরকে সুপ্রসন্ন কর এবং আমাদের উপর সুপ্রসন্ন থাক।” তারপর তিনি বললেনঃ আমার উপর এমন দশটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যার মানদণ্ডে কেউ কৃতকার্য হলে সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি “কাদ আফলাহাল মু’মিনূন” হতে শুরু করে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৪)
আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হত সে সময় তাঁর মুখমণ্ডলের নিকট হতে মৌমাছির আওয়াজের মত গুনগুন আওয়াজ শোনা যেত। একদিন তাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হল। আমি কিছুক্ষন প্রতীক্ষা করলাম। তাঁর উপর হতে ওয়াহীর বিশেষ অবস্থা সরে গেলে তিনি কিবলামুখী হয়ে তাঁর দুই হাত তুলে দু’আ করলেনঃ “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে বেশি দান কর, আমাদেরকে কম দিও না, আমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দাও, আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না, আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না, আমাদেরকে অগ্রগামী কর, আমাদের উপর অন্য কাউকে অগ্রগামী করো না, আমাদেরকে সুপ্রসন্ন কর এবং আমাদের উপর সুপ্রসন্ন থাক।” তারপর তিনি বললেনঃ আমার উপর এমন দশটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যার মানদণ্ডে কেউ কৃতকার্য হলে সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি “কাদ আফলাহাল মু’মিনূন” হতে শুরু করে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৪)
حدثنا يحيى بن موسى، وعبد بن حميد، وغير، واحد المعنى، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، عن يونس بن سليم، عن الزهري، عن عروة بن الزبير، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، قال سمعت عمر بن الخطاب، رضى الله عنه يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا نزل عليه الوحى سمع عند وجهه كدوي النحل فأنزل عليه يوما فمكثنا ساعة فسري عنه فاستقبل القبلة ورفع يديه وقال " اللهم زدنا ولا تنقصنا وأكرمنا ولا تهنا وأعطنا ولا تحرمنا وآثرنا ولا تؤثر علينا وأرضنا وارض عنا " . ثم قال صلى الله عليه وسلم " أنزل على عشر آيات من أقامهن دخل الجنة " . ثم قرأ : ( قد أفلح المؤمنون ) حتى ختم عشر آيات .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৪
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن سعيد، عن قتادة، عن أنس بن مالك، رضى الله عنه أن الربيع بنت النضر، أتت النبي صلى الله عليه وسلم وكان ابنها حارثة بن سراقة أصيب يوم بدر أصابه سهم غرب فأتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت أخبرني عن حارثة لئن كان أصاب خيرا احتسبت وصبرت وإن لم يصب الخير اجتهدت في الدعاء . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا أم حارثة إنها جنان في جنة وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى والفردوس ربوة الجنة وأوسطها وأفضلها " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث أنس .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাযর এর মেয়ে রুবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে উপস্থিত হলেন। উক্ত মহিলার পুত্র হারিসাহ ইবনু সুরাকাহ বদরের যুদ্ধে অদৃশ্য তীরের আঘাতে শহীদ হন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, আমাকে হারিসাহ এর অবস্থা সম্পর্কে বলুন। সে যদি কল্যানের অধিকারী হয়ে থাকে তবে আমি পুন্যের আশাবাদী থাকব এবং ধৈর্য ধারন করবো। আর সে যদি কল্যাণ লাভ না করে থাকে তবে আমি তাঁর জন্য দু'আ করতে আপ্রান চেষ্টা করবো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হারিসাহর মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর উদ্যান রয়েছে। তোমার ছেলে সু উচ্চ উদ্যান জান্নাতুল ফেরদাউদ লাভ করেছে। ফিরদাউস হল জান্নাতের উচ্চ ভুমি, জান্নাতের কেন্দ্রভূমি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্যান। সহীহঃ সহীহাহ (১৮১১, ২০০৩), মুখতাসারুল 'উলুবি (৭৬), বুখারী।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাযর এর মেয়ে রুবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে উপস্থিত হলেন। উক্ত মহিলার পুত্র হারিসাহ ইবনু সুরাকাহ বদরের যুদ্ধে অদৃশ্য তীরের আঘাতে শহীদ হন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, আমাকে হারিসাহ এর অবস্থা সম্পর্কে বলুন। সে যদি কল্যানের অধিকারী হয়ে থাকে তবে আমি পুন্যের আশাবাদী থাকব এবং ধৈর্য ধারন করবো। আর সে যদি কল্যাণ লাভ না করে থাকে তবে আমি তাঁর জন্য দু'আ করতে আপ্রান চেষ্টা করবো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে হারিসাহর মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর উদ্যান রয়েছে। তোমার ছেলে সু উচ্চ উদ্যান জান্নাতুল ফেরদাউদ লাভ করেছে। ফিরদাউস হল জান্নাতের উচ্চ ভুমি, জান্নাতের কেন্দ্রভূমি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্যান। সহীহঃ সহীহাহ (১৮১১, ২০০৩), মুখতাসারুল 'উলুবি (৭৬), বুখারী।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن سعيد، عن قتادة، عن أنس بن مالك، رضى الله عنه أن الربيع بنت النضر، أتت النبي صلى الله عليه وسلم وكان ابنها حارثة بن سراقة أصيب يوم بدر أصابه سهم غرب فأتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت أخبرني عن حارثة لئن كان أصاب خيرا احتسبت وصبرت وإن لم يصب الخير اجتهدت في الدعاء . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا أم حارثة إنها جنان في جنة وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى والفردوس ربوة الجنة وأوسطها وأفضلها " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث أنس .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৫
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، حدثنا مالك بن مغول، عن عبد الرحمن بن سعيد بن وهب الهمداني، أن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية : ( والذين يؤتون ما آتوا وقلوبهم وجلة ) قالت عائشة أهم الذين يشربون الخمر ويسرقون قال " لا يا بنت الصديق ولكنهم الذين يصومون ويصلون ويتصدقون وهم يخافون أن لا يقبل منهم أولئك الذين يسارعون في الخيرات وهم لها سابقون " . قال وقد روي هذا الحديث عن عبد الرحمن بن سعيد عن أبي حازم عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا .
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এই আয়াত প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলামঃ "তারা যা কিছুই দান করে তাতে তাদের অন্তর প্রকম্পিত থাকে"-(সূরা মূ'মিনূন ৬০)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরা কি মদখোর ও চোর? তিনি বললেনঃ হে সিদ্দীকের মেয়ে! না এরা তা নয়, যারা নামাজ আদায় করে, রোযা রাখে, দান-খয়রাত করে এবং মনে মনে এই ভয় পোষণ করে যে, তাদের পক্ষ হতে এগুলো কবুল করা হল কি না? এরাই "কল্যাণের কাজ দ্রুত শেষ করে এবং তাতে অগ্রগামী হয় "- (সূরা মূ'মিনূন ৬১)। সহীহঃ ইবনু মা-যাহ (৪১৯৮)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এই আয়াত প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলামঃ "তারা যা কিছুই দান করে তাতে তাদের অন্তর প্রকম্পিত থাকে"-(সূরা মূ'মিনূন ৬০)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরা কি মদখোর ও চোর? তিনি বললেনঃ হে সিদ্দীকের মেয়ে! না এরা তা নয়, যারা নামাজ আদায় করে, রোযা রাখে, দান-খয়রাত করে এবং মনে মনে এই ভয় পোষণ করে যে, তাদের পক্ষ হতে এগুলো কবুল করা হল কি না? এরাই "কল্যাণের কাজ দ্রুত শেষ করে এবং তাতে অগ্রগামী হয় "- (সূরা মূ'মিনূন ৬১)। সহীহঃ ইবনু মা-যাহ (৪১৯৮)
حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، حدثنا مالك بن مغول، عن عبد الرحمن بن سعيد بن وهب الهمداني، أن عائشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية : ( والذين يؤتون ما آتوا وقلوبهم وجلة ) قالت عائشة أهم الذين يشربون الخمر ويسرقون قال " لا يا بنت الصديق ولكنهم الذين يصومون ويصلون ويتصدقون وهم يخافون أن لا يقبل منهم أولئك الذين يسارعون في الخيرات وهم لها سابقون " . قال وقد روي هذا الحديث عن عبد الرحمن بن سعيد عن أبي حازم عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আন-নূর
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৯
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، حدثنا هشام بن حسان، حدثني عكرمة، عن ابن عباس، أن هلال بن أمية، قذف امرأته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن السحماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البينة وإلا حد في ظهرك " . قال فقال هلال يا رسول الله إذا رأى أحدنا رجلا على امرأته أيلتمس البينة فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " البينة وإلا حد في ظهرك " . قال فقال هلال والذي بعثك بالحق إني لصادق ولينزلن في أمري ما يبرئ ظهري من الحد فنزل : (والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم ) فقرأ حتى بلغ : ( والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ) قال فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم فأرسل إليهما فجاءا فقام هلال بن أمية فشهد والنبي صلى الله عليه وسلم يقول " إن الله يعلم أن أحدكما كاذب فهل منكما تائب " . ثم قامت فشهدت فلما كانت عند الخامسة : ( أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ) قالوا لها إنها موجبة فقال ابن عباس فتلكأت ونكست حتى ظننا أن سترجع فقالت لا أفضح قومي سائر اليوم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أبصروها فإن جاءت به أكحل العينين سابغ الأليتين خدلج الساقين فهو لشريك بن السحماء " . فجاءت به كذلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لولا ما مضى من كتاب الله عز وجل لكان لنا ولها شأن " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث هشام بن حسان وهكذا روى عباد بن منصور هذا الحديث عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم . ورواه أيوب عن عكرمة مرسلا ولم يذكر فيه عن ابن عباس .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হিলাল ইবনে উমাইয়াহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর যিনার অভিযোগ দায়ের করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রমান হাজির কর, অন্যথায় তোমার পিঠে চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেনঃ হিলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল! আমাদের মাঝে কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোন পুরুষ লোককে গর্হিত কাজে লিপ্ত দেখে তখন সে কি সাক্ষী খুঁজে বেড়াবে? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেন, প্রমান দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে শাস্তির চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাঃ) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহ পাঠিয়েছেন! অবশ্যই আমি সত্যবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিষয়ে ওয়াহী অবতীর্ণ হবে যা আমার পিঠ কে কষ্ট থেকে রেহাই দিবে। অতঃপর অবতীর্ণ হল- "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতিত আর কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগ) অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিসম্পাত হোক। আর স্ত্রীলোকটির কষ্ট রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, এ লোক (তার উত্থাপিত অভিযোগ) মিথ্যাবাদী। পঞ্চম বারে বলবে, সে (অভিযোগকারী স্বামী) সত্যবাদী হলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গযব পতিত হোক"- (সূরা- আন নূর ৬-৯)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবসর হয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয় কে ডেকে পাঠান। তাদেরর উভয়ে হাজির হলে হিলাল (রাঃ) দাঁড়িয়ে সাক্ষী দিলেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অবগত আছেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তোমাদের মধ্যে কে তওবা করতে প্রস্তুত? তারপর মেয়ে লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। সে যখন পঞ্চম বারে বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্র গজব নিপতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এ কথা (শাস্তিকে) অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে থেমে গেলো এবং পিছনে সরে আসলো। আমরা ধারনা করলাম যে সে তার কথা থেকে ফিরে আসবে। অতঃপর মেয়েলোকটি বলল, আমি চিরকালের জন্য আমার গোত্রে কালিমা লেপন করতে পারিনা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা এই মেয়েলোকটির উপর নজর রেখো। সে যদি কাজল বর্ণের চোখ, প্রশস্ত নিতম্ব ও পায়ের মাংস গোছাযুক্ত সন্তান প্রসব করে তবে সে সন্তান ইবনু সাহমারই। পরবর্তীতে মহিলাটি ঐরূপ সন্তানই প্রসব করলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যদি আগেই আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম (লি'আনের বিধান) না এসে যেত, তাহলে আমাদের এবং তার মধ্যে একটা বিরাট কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দেওয়া হতো)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ, (২০৬৭) বুখারী (৪৭৪৭)।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হিলাল ইবনে উমাইয়াহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর যিনার অভিযোগ দায়ের করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রমান হাজির কর, অন্যথায় তোমার পিঠে চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেনঃ হিলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল! আমাদের মাঝে কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোন পুরুষ লোককে গর্হিত কাজে লিপ্ত দেখে তখন সে কি সাক্ষী খুঁজে বেড়াবে? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেন, প্রমান দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে শাস্তির চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাঃ) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহ পাঠিয়েছেন! অবশ্যই আমি সত্যবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিষয়ে ওয়াহী অবতীর্ণ হবে যা আমার পিঠ কে কষ্ট থেকে রেহাই দিবে। অতঃপর অবতীর্ণ হল- "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতিত আর কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগ) অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিসম্পাত হোক। আর স্ত্রীলোকটির কষ্ট রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, এ লোক (তার উত্থাপিত অভিযোগ) মিথ্যাবাদী। পঞ্চম বারে বলবে, সে (অভিযোগকারী স্বামী) সত্যবাদী হলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গযব পতিত হোক"- (সূরা- আন নূর ৬-৯)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবসর হয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয় কে ডেকে পাঠান। তাদেরর উভয়ে হাজির হলে হিলাল (রাঃ) দাঁড়িয়ে সাক্ষী দিলেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অবগত আছেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তোমাদের মধ্যে কে তওবা করতে প্রস্তুত? তারপর মেয়ে লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। সে যখন পঞ্চম বারে বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্র গজব নিপতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এ কথা (শাস্তিকে) অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে থেমে গেলো এবং পিছনে সরে আসলো। আমরা ধারনা করলাম যে সে তার কথা থেকে ফিরে আসবে। অতঃপর মেয়েলোকটি বলল, আমি চিরকালের জন্য আমার গোত্রে কালিমা লেপন করতে পারিনা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা এই মেয়েলোকটির উপর নজর রেখো। সে যদি কাজল বর্ণের চোখ, প্রশস্ত নিতম্ব ও পায়ের মাংস গোছাযুক্ত সন্তান প্রসব করে তবে সে সন্তান ইবনু সাহমারই। পরবর্তীতে মহিলাটি ঐরূপ সন্তানই প্রসব করলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যদি আগেই আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম (লি'আনের বিধান) না এসে যেত, তাহলে আমাদের এবং তার মধ্যে একটা বিরাট কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দেওয়া হতো)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ, (২০৬৭) বুখারী (৪৭৪৭)।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن أبي عدي، حدثنا هشام بن حسان، حدثني عكرمة، عن ابن عباس، أن هلال بن أمية، قذف امرأته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن السحماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البينة وإلا حد في ظهرك " . قال فقال هلال يا رسول الله إذا رأى أحدنا رجلا على امرأته أيلتمس البينة فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " البينة وإلا حد في ظهرك " . قال فقال هلال والذي بعثك بالحق إني لصادق ولينزلن في أمري ما يبرئ ظهري من الحد فنزل : (والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم ) فقرأ حتى بلغ : ( والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ) قال فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم فأرسل إليهما فجاءا فقام هلال بن أمية فشهد والنبي صلى الله عليه وسلم يقول " إن الله يعلم أن أحدكما كاذب فهل منكما تائب " . ثم قامت فشهدت فلما كانت عند الخامسة : ( أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ) قالوا لها إنها موجبة فقال ابن عباس فتلكأت ونكست حتى ظننا أن سترجع فقالت لا أفضح قومي سائر اليوم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أبصروها فإن جاءت به أكحل العينين سابغ الأليتين خدلج الساقين فهو لشريك بن السحماء " . فجاءت به كذلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لولا ما مضى من كتاب الله عز وجل لكان لنا ولها شأن " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث هشام بن حسان وهكذا روى عباد بن منصور هذا الحديث عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم . ورواه أيوب عن عكرمة مرسلا ولم يذكر فيه عن ابن عباس .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৮১
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن أبي عدي، عن محمد بن إسحاق، عن عبد الله بن أبي بكر، عن عمرة، عن عائشة، قالت لما نزل عذري قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر فذكر ذلك وتلا القرآن فلما نزل أمر برجلين وامرأة فضربوا حدهم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من حديث محمد بن إسحاق .
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার নির্দোষিতার বর্ণনা করে আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে উঠে তা বর্ণনা করেন। তারপর কুরআন তিলাওয়াত করেন। মিম্বর হতে অবতরন করে তিনি দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন এবং তদানুযায়ী তাদেরকে (অপবাদ রতনাকারীদেরকে) হাদ্দের আওতায় শাস্তি দেওয়া হয়। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (২৫৬৭)
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার নির্দোষিতার বর্ণনা করে আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে উঠে তা বর্ণনা করেন। তারপর কুরআন তিলাওয়াত করেন। মিম্বর হতে অবতরন করে তিনি দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন এবং তদানুযায়ী তাদেরকে (অপবাদ রতনাকারীদেরকে) হাদ্দের আওতায় শাস্তি দেওয়া হয়। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (২৫৬৭)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن أبي عدي، عن محمد بن إسحاق، عن عبد الله بن أبي بكر، عن عمرة، عن عائشة، قالت لما نزل عذري قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر فذكر ذلك وتلا القرآن فلما نزل أمر برجلين وامرأة فضربوا حدهم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من حديث محمد بن إسحاق .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৮
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبد الملك بن أبي سليمان، عن سعيد بن جبير، قال سئلت عن المتلاعنين، في إمارة مصعب بن الزبير أيفرق بينهما فما دريت ما أقول فقمت من مكاني إلى منزل عبد الله بن عمر فاستأذنت عليه فقيل لي إنه قائل فسمع كلامي فقال لي ابن جبير ادخل ما جاء بك إلا حاجة قال فدخلت فإذا هو مفترش بردعة رحل له فقلت يا أبا عبد الرحمن المتلاعنان أيفرق بينهما فقال سبحان الله نعم إن أول من سأل عن ذلك فلان بن فلان أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أرأيت لو أن أحدنا رأى امرأته على فاحشة كيف يصنع إن تكلم تكلم بأمر عظيم وإن سكت سكت على أمر عظيم قال فسكت النبي صلى الله عليه وسلم فلم يجبه فلما كان بعد ذلك أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال إن الذي سألتك عنه قد ابتليت به فأنزل الله هذه الآيات في سورة النور : (والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم ) حتى ختم الآيات قال فدعا الرجل فتلاهن عليه ووعظه وذكره وأخبره أن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة فقال لا والذي بعثك بالحق ما كذبت عليها . ثم ثنى بالمرأة ووعظها وذكرها وأخبرها أن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة فقالت لا والذي بعثك بالحق ما صدق . فبدأ بالرجل فشهد أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين والخامسة أن لعنة الله عليه إن كان من الكاذبين ثم ثنى بالمرأة فشهدت أربع شهادات بالله إنه لمن الكاذبين والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ثم فرق بينهما . وفي الباب عن سهل بن سعد قال وهذا حديث حسن صحيح .
সা'ঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুস'আব ইবনুয যুবাইরের শাসনামলে আমাকে লি'আনকারী দম্পতি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তাদের কে পৃথক করে দিতে হবে কিনা? আমি এর কি উত্তর দিবো তা বুঝতে পারছিলাম না। আমি আমার ঘর হতে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এর ঘরের দিকে রওনা হলাম। আমি তার নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইবনু জুবাইর! ভিতরে এসো। নিশ্চয়ই তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে এসেছ। তিনি বলেন, আমি ভিতরে ঢুকলাম। তিনি তার হাওদার চাটাই বিছিয়ে উহার উপর শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! লি'আনকারী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিতে হবে কি? তিনি বললেন, সুবহানআল্লাহ! হ্যাঁ। অমুকের ছেলে অমুকই প্রথম এই প্রশ্ন করেছিল। সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনার কি মত, যদি আমাদের কোন লোক তার স্ত্রী কে অশ্লীল কাজে (ব্যাভিচার) লিপ্ত দেখে তখন সে কি করবে? সে যদি মুখে তা বলে, তবে সে একটা মারাত্মক বিষয়ে (যিনার অপবাদে) মুখ খুলল। আর যদি সে চুপ থাকে তাহলেও সে একটা চরম গর্হিত বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখলো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন এবং তাকে কিছুই বললেন না। লোকটি আবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ইতোপূর্বে যে বিষয়ে আপনার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখন আমি নিজেই সে পরীক্ষার সম্মুক্ষীন হয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আন-নূর এর আয়াত অবতীর্ণ করেন। (অনুবাদ)ঃ "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতিত আর কোন প্রমান নেই, তাদের প্রত্যেক এর কথা হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে বলবে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার আযাব পতিত হোক"। (সূরা আন-নূর ৬-৭)। তিনি আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি লোকটিকে ডেকে এই আয়াত গুলো পড়ে শুনান। তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অনেক হাল্কা ও সহজ। সে বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি তার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ আনিনি। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডাকেন, তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের কষ্টের তুলনায় দুনিয়ার কষ্ট খুবই হালকা। স্ত্রীলোকটি বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! সে সত্য কথা বলেনি। তারপর তিনি পুরুষ লোকটিকে ডাকলেন। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, সে সত্যবাদিদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিশাপ পতিত হোক। তিনি স্ত্রীলোকটিকেও এভাবে শপথ করান। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার বলল, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদিদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গজব পতিত হোক। তারপর তিনি স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিলেন। সহীহঃ মুসলিম (২০৬, ২০৭)
সা'ঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুস'আব ইবনুয যুবাইরের শাসনামলে আমাকে লি'আনকারী দম্পতি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তাদের কে পৃথক করে দিতে হবে কিনা? আমি এর কি উত্তর দিবো তা বুঝতে পারছিলাম না। আমি আমার ঘর হতে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এর ঘরের দিকে রওনা হলাম। আমি তার নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইবনু জুবাইর! ভিতরে এসো। নিশ্চয়ই তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে এসেছ। তিনি বলেন, আমি ভিতরে ঢুকলাম। তিনি তার হাওদার চাটাই বিছিয়ে উহার উপর শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! লি'আনকারী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিতে হবে কি? তিনি বললেন, সুবহানআল্লাহ! হ্যাঁ। অমুকের ছেলে অমুকই প্রথম এই প্রশ্ন করেছিল। সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনার কি মত, যদি আমাদের কোন লোক তার স্ত্রী কে অশ্লীল কাজে (ব্যাভিচার) লিপ্ত দেখে তখন সে কি করবে? সে যদি মুখে তা বলে, তবে সে একটা মারাত্মক বিষয়ে (যিনার অপবাদে) মুখ খুলল। আর যদি সে চুপ থাকে তাহলেও সে একটা চরম গর্হিত বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখলো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন এবং তাকে কিছুই বললেন না। লোকটি আবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ইতোপূর্বে যে বিষয়ে আপনার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখন আমি নিজেই সে পরীক্ষার সম্মুক্ষীন হয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আন-নূর এর আয়াত অবতীর্ণ করেন। (অনুবাদ)ঃ "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতিত আর কোন প্রমান নেই, তাদের প্রত্যেক এর কথা হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে বলবে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার আযাব পতিত হোক"। (সূরা আন-নূর ৬-৭)। তিনি আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি লোকটিকে ডেকে এই আয়াত গুলো পড়ে শুনান। তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অনেক হাল্কা ও সহজ। সে বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি তার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ আনিনি। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডাকেন, তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের কষ্টের তুলনায় দুনিয়ার কষ্ট খুবই হালকা। স্ত্রীলোকটি বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! সে সত্য কথা বলেনি। তারপর তিনি পুরুষ লোকটিকে ডাকলেন। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, সে সত্যবাদিদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিশাপ পতিত হোক। তিনি স্ত্রীলোকটিকেও এভাবে শপথ করান। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার বলল, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদিদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গজব পতিত হোক। তারপর তিনি স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিলেন। সহীহঃ মুসলিম (২০৬, ২০৭)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبد الملك بن أبي سليمان، عن سعيد بن جبير، قال سئلت عن المتلاعنين، في إمارة مصعب بن الزبير أيفرق بينهما فما دريت ما أقول فقمت من مكاني إلى منزل عبد الله بن عمر فاستأذنت عليه فقيل لي إنه قائل فسمع كلامي فقال لي ابن جبير ادخل ما جاء بك إلا حاجة قال فدخلت فإذا هو مفترش بردعة رحل له فقلت يا أبا عبد الرحمن المتلاعنان أيفرق بينهما فقال سبحان الله نعم إن أول من سأل عن ذلك فلان بن فلان أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أرأيت لو أن أحدنا رأى امرأته على فاحشة كيف يصنع إن تكلم تكلم بأمر عظيم وإن سكت سكت على أمر عظيم قال فسكت النبي صلى الله عليه وسلم فلم يجبه فلما كان بعد ذلك أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال إن الذي سألتك عنه قد ابتليت به فأنزل الله هذه الآيات في سورة النور : (والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم ) حتى ختم الآيات قال فدعا الرجل فتلاهن عليه ووعظه وذكره وأخبره أن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة فقال لا والذي بعثك بالحق ما كذبت عليها . ثم ثنى بالمرأة ووعظها وذكرها وأخبرها أن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة فقالت لا والذي بعثك بالحق ما صدق . فبدأ بالرجل فشهد أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين والخامسة أن لعنة الله عليه إن كان من الكاذبين ثم ثنى بالمرأة فشهدت أربع شهادات بالله إنه لمن الكاذبين والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ثم فرق بينهما . وفي الباب عن سهل بن سعد قال وهذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৮০
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أسامة، عن هشام بن عروة، أخبرني أبي، عن عائشة، قالت لما ذكر من شأني الذي ذكر وما علمت به قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطيبا فتشهد وحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله ثم قال " أما بعد أشيروا على في أناس أبنوا أهلي والله ما علمت على أهلي من سوء قط وأبنوا بمن والله ما علمت عليه من سوء قط ولا دخل بيتي قط إلا وأنا حاضر ولا غبت في سفر إلا غاب معي فقام سعد بن معاذ رضي الله عنه فقال ائذن لي يا رسول الله أن أضرب أعناقهم . وقام رجل من الخزرج وكانت أم حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل فقال كذبت أما والله أن لو كانوا من الأوس ما أحببت أن تضرب أعناقهم حتى كاد أن يكون بين الأوس والخزرج شر في المسجد وما علمت به فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي أم مسطح فعثرت فقالت تعس مسطح فقلت لها أى أم تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثانية فقالت تعس مسطح فقلت لها أى أم تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح فانتهرتها فقلت لها أى أم تسبين ابنك فقالت والله ما أسبه إلا فيك . فقلت في أى شيء قالت فبقرت إلى الحديث قلت وقد كان هذا قالت نعم . والله لقد رجعت إلى بيتي وكأن الذي خرجت له لم أخرج لا أجد منه قليلا ولا كثيرا ووعكت فقلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أرسلني إلى بيت أبي فأرسل معي الغلام فدخلت الدار فوجدت أم رومان في السفل وأبو بكر فوق البيت يقرأ فقالت أمي ما جاء بك يا بنية قالت فأخبرتها وذكرت لها الحديث فإذا هو لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت يا بنية خففي عليك الشأن فإنه والله لقلما كانت امرأة حسناء عند رجل يحبها لها ضرائر إلا حسدنها وقيل فيها فإذا هي لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت قلت وقد علم به أبي قالت نعم . قلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم . واستعبرت وبكيت فسمع أبو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرأ فنزل فقال لأمي ما شأنها قالت بلغها الذي ذكر من شأنها . ففاضت عيناه فقال أقسمت عليك يا بنية إلا رجعت إلى بيتك . فرجعت ولقد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بيتي فسأل عني خادمتي فقالت لا والله ما علمت عليها عيبا إلا أنها كانت ترقد حتى تدخل الشاة فتأكل خميرتها أو عجينتها وانتهرها بعض أصحابه فقال أصدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أسقطوا لها به فقالت سبحان الله والله ما علمت عليها إلا ما يعلم الصائغ على تبر الذهب الأحمر فبلغ الأمر ذلك الرجل الذي قيل له فقال سبحان الله والله ما كشفت كنف أنثى قط قالت عائشة فقتل شهيدا في سبيل الله قالت وأصبح أبواى عندي فلم يزالا عندي حتى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد صلى العصر ثم دخل وقد اكتنفني أبواى عن يميني وعن شمالي فتشهد النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله ثم قال " أما بعد يا عائشة إن كنت قارفت سوءا أو ظلمت فتوبي إلى الله فإن الله يقبل التوبة عن عباده " . قالت وقد جاءت امرأة من الأنصار وهي جالسة بالباب فقلت ألا تستحي من هذه المرأة أن تذكر شيئا . فوعظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فالتفت إلى أبي فقلت أجبه . قال فماذا أقول فالتفت إلى أمي فقلت أجيبيه . قالت أقول ماذا قالت فلما لم يجيبا تشهدت فحمدت الله وأثنيت عليه بما هو أهله ثم قلت أما والله لئن قلت لكم إني لم أفعل والله يشهد إني لصادقة ما ذاك بنافعي عندكم لي لقد تكلمتم وأشربت قلوبكم ولئن قلت إني قد فعلت والله يعلم أني لم أفعل لتقولن إنها قد باءت به على نفسها وإني والله ما أجد لي ولكم مثلا قالت والتمست اسم يعقوب فلم أقدر عليه إلا أبا يوسف حين قال : (فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون ) قالت وأنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم من ساعته فسكتنا فرفع عنه وإني لأتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه ويقول " البشرى يا عائشة فقد أنزل الله براءتك " . قالت وكنت أشد ما كنت غضبا فقال لي أبواى قومي إليه . فقلت لا والله لا أقوم إليه ولا أحمده ولا أحمدكما ولكن أحمد الله الذي أنزل براءتي لقد سمعتموه فما أنكرتموه ولا غيرتموه وكانت عائشة تقول أما زينب بنت جحش فعصمها الله بدينها فلم تقل إلا خيرا وأما أختها حمنة فهلكت فيمن هلك وكان الذي يتكلم فيه مسطح وحسان بن ثابت والمنافق عبد الله بن أبى ابن سلول وهو الذي كان يسوسه ويجمعه وهو الذي تولى كبره منهم هو وحمنة قالت فحلف أبو بكر أن لا ينفع مسطحا بنافعة أبدا فأنزل الله تعالى هذه الآية : (ولا يأتل أولو الفضل منكم والسعة ) إلى آخر الآية يعني أبا بكر : (أن يؤتوا أولي القربى والمساكين والمهاجرين في سبيل الله ) يعني مسطحا إلى قوله : (ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم ) قال أبو بكر بلى والله يا ربنا إنا لنحب أن تغفر لنا وعاد له بما كان يصنع . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث هشام بن عروة . وقد رواه يونس بن يزيد ومعمر وغير واحد عن الزهري عن عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص الليثي وعبيد الله بن عبد الله عن عائشة هذا الحديث أطول من حديث هشام بن عروة وأتم .
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন আমার বিষয়ে চর্চা হচ্ছিল যে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন। তিনি তাশাহহূদ পড়ে আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও গুনাগুন করার পর বলেনঃ তারপর তোমরা আমাকে ওইসব ব্যক্তির বিষয়ে বুদ্ধি দাও, যারা আমার সহধর্মিণীর ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আমার পরিবারের (স্ত্রীর) মধ্যে কখনো কোন দোষ দেখিনি। এসব ব্যাক্তি যার ব্যাপারে বদনাম রটিয়ে বেড়াচ্ছে, আল্লাহ্র কসম আমি এ ধরনের দুষ্কর্ম তার মধ্যে কখনও দেখিনি। সে (সাফওয়ান) আমার অনুপস্থিতিতে কখনও আমার ঘরে ঢুকেনি, আমি যখন উপস্থিত থাকতাম তখনই সে আমার ঘরে ঢুকত। আমি যখন সফরের কারনে ঘরে অনুপস্থিত থাকতাম তখন সেও আমার সঙ্গেই থাকতো। সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এদের ঘাড় উড়িয়ে দেই। তখন খাযরাজ বংশের এক লোক উঠে দাঁড়ালো। হাসসান ইবনু সাবিতের মা এই বংশের সন্তান। লোকটি বলল তুমি মিথ্যাবাদী। আল্লাহ্র কসম, এরা যদি আওস গোত্রের লোক হত, তাহলে তুমি তাদের ঘাড় উড়িয়ে দেওয়া কখনও পছন্দ করতে না। তর্ক-বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেলো যে, আওস ও খাজরায বংশদ্বয়ের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই মারামারি লেগে যাওয়ার উপক্রম হল। অথচ এ (অপবাদ) বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ওইদিন সন্ধারাতে আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম। আমার সাথে মিসতাহর মাও ছিল। সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি বললাম, হে! তুমি মা হয়ে ছেলের অমঙ্গল কামনা করছো? সে চুপ হয়ে গেলো। সে আবার হোঁচট খেলো এবং বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি তাকে তিরস্কার করে বললাম, হে! তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল ডাকছ? সে চুপ হয়ে গেলো। সে তৃতীয় বার হোঁচট খেলো এবং বলল, মিসতাহর সর্বনাশ হোক। আমি তাকে কঠোরভাবে বললাম, তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল চাচ্ছ? সে বলল, আল্লাহ্র কসম আমি তোমার জন্যই তাকে গালমন্দ করছি। আমি প্রশ্ন করলাম আমার জন্য কিভাবে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আমার নিকট সমস্ত ব্যাপার বর্ণনা করলো। আমি (তা শুনে) বললাম, এইসব কথা রটেছে নাকি? সে বলল হ্যাঁ। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বাড়ি ফিরে আসলাম। আল্লাহর কসম! আমার এমন অবস্থা হল যে, যে জন্য এসেছিলাম সে প্রয়োজনের কথা ভুলেই গেলাম। আমার গায়ে জ্বর এসে গেলো। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললাম, আমাকে আমার বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দিন। তিনি আমার সাথে একটি বালককে দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। আমি ঘরে ঢুকে উম্মু রুমানকে (মাকে) ঘরের নিচের অংশে দেখতে পেলাম। আর আবূ বকর (রাঃ) ঘরের উপরি তলে কুরআন পড়ছিলেন। মা প্রশ্ন করলেন, কন্যা তুমি কেন এসেছো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি মাকে সম্পূর্ণ বিষয়টি খুলে বললাম। কিন্তু আমি যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছি তিনি ততটা ভারাক্রান্ত নন। তিনি বললেন, “কন্যা! ব্যাপারটাকে হাল্কা ভাবে নাও। আল্লাহর কসম! কোন পুরুষের সুন্দরী স্ত্রী থাকলে, সে তাঁর প্রিয়পাত্রী হলে এবং তাঁর সতীন থাকলে তারা তাঁর সাথে হিংসা করবে না, তার বিষয়ে কিছু রটাবে না এরুপ কমই হয়ে থাকে। মোটকথা আমি যতটা দুঃখ পেলাম মা ততটা পেলেন না। আমি মাকে প্রশ্ন করলাম, আব্বাও কি ব্যাপারটা জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি ভারাক্রান্ত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। আবু বকর (রাঃ) আমার কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি ঘরের উপরিতলে কুরআন পাঠ করছিলেন। তিনি নেমে এসে মাকে বললেন, ওর কি হয়েছে? মা বললেন, ওর বিষয়ে যে সব মিথ্যা বলা হচ্ছে, এ সংবাদ সে শুনে ফেলেছে। এ কথা শুনে বাবার দু চোখে পানি এলো। তিনি বললেন, কন্যা! তোমাকে আল্লাহ তা’আলার নামে কসম করে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি ঘরে ফিরে এলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘরে এসে আমার কাজের মেয়েকে আমার বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। তবে এতটুকু যে, সে ঘুমিয়ে পড়ত, আর বকরি এসে তার পেষা আটা খেয়ে যেত। তাঁর কিছু সাহাবী মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট সত্য কথা বল। তারা তাকে অনেক দাবালেন ও ধমকালেন। সে বলল, সুবহানআল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি তাঁর ব্যাপারে তাই জানি স্বর্ণকার খাঁটি রঙ্গিন সোনা প্রসঙ্গে যা জানে। যে ব্যক্তিকে এই অপবাদের সাথে জড়ান হয়েছিল তাঁর কানেও এ খবর পৌঁছল। সে বলল, সুবহানআল্লাহ! আল্লাহ্র কসম! আমি কখনও কোন নারীর সতর খুলিনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। তিনি বলেন, আমার পিতা মাতা খুব ভোরে আমার নিকট এলেন। তারা আমার নিকট থাকতেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের নামাজ আদায় করে আমার ঘরে এলেন। আমার পিতা মাতা আমার ডান দিক বাঁ দিক হতে আমাকে ঘিরে বসেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালিমা শাহাদাত পাঠ করলেন, আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সম্মান ও গুনাগুন করলেন, তারপর বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ, তুমি যদি কোন মন্দ কাজ করে থাকো অথবা নিজের উপর জুলুম করে থাকো, তবে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাও। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আনসার বংশের একজন স্ত্রীলোক আসে। সে দরজার নিকট বসে ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাটির সামনে এ কথা বলতে লজ্জা বোধ করছেন না? মোটকথা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওয়াজ-নসীহত করলেন। আমি আমার পিতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তাঁর কথার উত্তর দিন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে কি উত্তর দিবো? আমি আমার মা এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তাঁকে এর উত্তর দিন। তিনিও বললেন, আমি তাঁকে কি বলবো? তাদের কেউই যখন উত্তর দেননি, তখন আমি কালেমা শাহাদাত তিলাওয়াত করলাম, আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও প্রশংসা করলাম, তারপর বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি যদি আপনাদের বলি, আমি কখনও তা করিনি এবং আল্লাহ্ তা'আলা সাক্ষী আছেন, আমি সত্যবাদিনী, তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবেনা। কেননা আপনারা তা আলোচনা করেছেন এবং তাতে আপনাদের মন রঞ্জিত হয়েছে। আর আমি যদি বলি, আমি করেছি এবং আল্লাহ্ তা'আলা জানেন আমি তা করিনি, তখন আপনারা বলবেন, সে নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আপনাদের এবং আমার জন্য কোন উদাহরন খুঁজে পাচ্ছি না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি ইয়াকুব (আঃ) এর নাম স্মরণ করতে চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। শুধু “ইউসুফ এর বাবা” স্মরনে আসছিলো। তিনি যখন বলেছিলেনঃ "পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা আমার সাহায্যস্থল"- (সুরা-ইউসুফ ১৮)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ঠিক সে সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ওয়াহি অবতীর্ণ হতে লাগলো। আমরা চুপ থাকলাম। তাঁর উপর হতে ওয়াহীর অবস্থা দূর হলে আমি তাঁর মুখমন্ডলে আনন্দের ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর মুখমণ্ডলের ঘাম মুছছেন আর বলছেনঃ হে ‘আয়িশাহ, তোমার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তখন উত্তেজিত অবস্থায় ছিলাম। আমার পিতা মাতা আমাকে বললেনঃ উঠে তাঁর নিকট যাও। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁর নিকট উঠে যাব না, তাঁর সুনাম ও করব না এবং আপনাদের প্রশংসাও করব না। বরং আমি সে আল্লাহ্ তা’আলার সুনাম করবো যিনি আমার নির্দোষিতার ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। আপনারা এ অপবাদ শুনেছেন, কিন্তু প্রত্যাখ্যান বা প্রতিহত করেন নি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, জাহাশ-কন্যা যাইনাবের দীনদারীর জন্য আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হিফাজাত করেছেন। সে ভালো ব্যতিত কখনও অন্য কিছু বলেনি। কিন্তু তাঁর বোন হামনা ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যারা এ অপবাদ রটায় তাদের মধ্যে ছিলঃ মিসতাহ, হাসান ইবনু সাবিত ও মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই। সে অপবাদ রটাত এবং তা ছড়িয়ে বেড়াত। সে ও হামনা ছিল এই আপত্তিকর অপবাদ ছড়ানোর বড় হোতা। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবু বকর (রাঃ) কসম করেন যে, তিনি আর কখনও মিসতাহর কোনভাবে উপকার করবেন না (ভরন পোষণ বহন করবেন না)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ "তোমাদের মধ্যে যারা (আবু বকর কে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে) ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, তারা আত্মীয়, গরীব ও আল্লাহ্ তা'আলার পথে মুহাজিরদের (মিসতাহ কে লক্ষ করে বলা হচ্ছে) কিছুই দেবে না ... তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কে মাফ করুন?" আল্লাহ্ তালা বড়ই ক্ষমাশীল, পরম করুনাময়" -(সূরা আন-নূর ২২)। আবু বকর (রাঃ) বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই আপনার ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি আগের মত মিসতাহর ভরণপোষণের ভার বহন করেন। সহীহঃ বুখারী (৪৭৫৭), মুসলিম।
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন আমার বিষয়ে চর্চা হচ্ছিল যে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন। তিনি তাশাহহূদ পড়ে আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও গুনাগুন করার পর বলেনঃ তারপর তোমরা আমাকে ওইসব ব্যক্তির বিষয়ে বুদ্ধি দাও, যারা আমার সহধর্মিণীর ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আমার পরিবারের (স্ত্রীর) মধ্যে কখনো কোন দোষ দেখিনি। এসব ব্যাক্তি যার ব্যাপারে বদনাম রটিয়ে বেড়াচ্ছে, আল্লাহ্র কসম আমি এ ধরনের দুষ্কর্ম তার মধ্যে কখনও দেখিনি। সে (সাফওয়ান) আমার অনুপস্থিতিতে কখনও আমার ঘরে ঢুকেনি, আমি যখন উপস্থিত থাকতাম তখনই সে আমার ঘরে ঢুকত। আমি যখন সফরের কারনে ঘরে অনুপস্থিত থাকতাম তখন সেও আমার সঙ্গেই থাকতো। সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এদের ঘাড় উড়িয়ে দেই। তখন খাযরাজ বংশের এক লোক উঠে দাঁড়ালো। হাসসান ইবনু সাবিতের মা এই বংশের সন্তান। লোকটি বলল তুমি মিথ্যাবাদী। আল্লাহ্র কসম, এরা যদি আওস গোত্রের লোক হত, তাহলে তুমি তাদের ঘাড় উড়িয়ে দেওয়া কখনও পছন্দ করতে না। তর্ক-বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেলো যে, আওস ও খাজরায বংশদ্বয়ের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই মারামারি লেগে যাওয়ার উপক্রম হল। অথচ এ (অপবাদ) বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ওইদিন সন্ধারাতে আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম। আমার সাথে মিসতাহর মাও ছিল। সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি বললাম, হে! তুমি মা হয়ে ছেলের অমঙ্গল কামনা করছো? সে চুপ হয়ে গেলো। সে আবার হোঁচট খেলো এবং বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি তাকে তিরস্কার করে বললাম, হে! তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল ডাকছ? সে চুপ হয়ে গেলো। সে তৃতীয় বার হোঁচট খেলো এবং বলল, মিসতাহর সর্বনাশ হোক। আমি তাকে কঠোরভাবে বললাম, তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল চাচ্ছ? সে বলল, আল্লাহ্র কসম আমি তোমার জন্যই তাকে গালমন্দ করছি। আমি প্রশ্ন করলাম আমার জন্য কিভাবে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আমার নিকট সমস্ত ব্যাপার বর্ণনা করলো। আমি (তা শুনে) বললাম, এইসব কথা রটেছে নাকি? সে বলল হ্যাঁ। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বাড়ি ফিরে আসলাম। আল্লাহর কসম! আমার এমন অবস্থা হল যে, যে জন্য এসেছিলাম সে প্রয়োজনের কথা ভুলেই গেলাম। আমার গায়ে জ্বর এসে গেলো। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললাম, আমাকে আমার বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দিন। তিনি আমার সাথে একটি বালককে দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। আমি ঘরে ঢুকে উম্মু রুমানকে (মাকে) ঘরের নিচের অংশে দেখতে পেলাম। আর আবূ বকর (রাঃ) ঘরের উপরি তলে কুরআন পড়ছিলেন। মা প্রশ্ন করলেন, কন্যা তুমি কেন এসেছো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি মাকে সম্পূর্ণ বিষয়টি খুলে বললাম। কিন্তু আমি যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছি তিনি ততটা ভারাক্রান্ত নন। তিনি বললেন, “কন্যা! ব্যাপারটাকে হাল্কা ভাবে নাও। আল্লাহর কসম! কোন পুরুষের সুন্দরী স্ত্রী থাকলে, সে তাঁর প্রিয়পাত্রী হলে এবং তাঁর সতীন থাকলে তারা তাঁর সাথে হিংসা করবে না, তার বিষয়ে কিছু রটাবে না এরুপ কমই হয়ে থাকে। মোটকথা আমি যতটা দুঃখ পেলাম মা ততটা পেলেন না। আমি মাকে প্রশ্ন করলাম, আব্বাও কি ব্যাপারটা জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি ভারাক্রান্ত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। আবু বকর (রাঃ) আমার কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি ঘরের উপরিতলে কুরআন পাঠ করছিলেন। তিনি নেমে এসে মাকে বললেন, ওর কি হয়েছে? মা বললেন, ওর বিষয়ে যে সব মিথ্যা বলা হচ্ছে, এ সংবাদ সে শুনে ফেলেছে। এ কথা শুনে বাবার দু চোখে পানি এলো। তিনি বললেন, কন্যা! তোমাকে আল্লাহ তা’আলার নামে কসম করে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি ঘরে ফিরে এলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘরে এসে আমার কাজের মেয়েকে আমার বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। তবে এতটুকু যে, সে ঘুমিয়ে পড়ত, আর বকরি এসে তার পেষা আটা খেয়ে যেত। তাঁর কিছু সাহাবী মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট সত্য কথা বল। তারা তাকে অনেক দাবালেন ও ধমকালেন। সে বলল, সুবহানআল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি তাঁর ব্যাপারে তাই জানি স্বর্ণকার খাঁটি রঙ্গিন সোনা প্রসঙ্গে যা জানে। যে ব্যক্তিকে এই অপবাদের সাথে জড়ান হয়েছিল তাঁর কানেও এ খবর পৌঁছল। সে বলল, সুবহানআল্লাহ! আল্লাহ্র কসম! আমি কখনও কোন নারীর সতর খুলিনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। তিনি বলেন, আমার পিতা মাতা খুব ভোরে আমার নিকট এলেন। তারা আমার নিকট থাকতেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের নামাজ আদায় করে আমার ঘরে এলেন। আমার পিতা মাতা আমার ডান দিক বাঁ দিক হতে আমাকে ঘিরে বসেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালিমা শাহাদাত পাঠ করলেন, আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সম্মান ও গুনাগুন করলেন, তারপর বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ, তুমি যদি কোন মন্দ কাজ করে থাকো অথবা নিজের উপর জুলুম করে থাকো, তবে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাও। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আনসার বংশের একজন স্ত্রীলোক আসে। সে দরজার নিকট বসে ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাটির সামনে এ কথা বলতে লজ্জা বোধ করছেন না? মোটকথা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওয়াজ-নসীহত করলেন। আমি আমার পিতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তাঁর কথার উত্তর দিন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে কি উত্তর দিবো? আমি আমার মা এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তাঁকে এর উত্তর দিন। তিনিও বললেন, আমি তাঁকে কি বলবো? তাদের কেউই যখন উত্তর দেননি, তখন আমি কালেমা শাহাদাত তিলাওয়াত করলাম, আল্লাহ্ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও প্রশংসা করলাম, তারপর বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি যদি আপনাদের বলি, আমি কখনও তা করিনি এবং আল্লাহ্ তা'আলা সাক্ষী আছেন, আমি সত্যবাদিনী, তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবেনা। কেননা আপনারা তা আলোচনা করেছেন এবং তাতে আপনাদের মন রঞ্জিত হয়েছে। আর আমি যদি বলি, আমি করেছি এবং আল্লাহ্ তা'আলা জানেন আমি তা করিনি, তখন আপনারা বলবেন, সে নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আপনাদের এবং আমার জন্য কোন উদাহরন খুঁজে পাচ্ছি না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি ইয়াকুব (আঃ) এর নাম স্মরণ করতে চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। শুধু “ইউসুফ এর বাবা” স্মরনে আসছিলো। তিনি যখন বলেছিলেনঃ "পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা আমার সাহায্যস্থল"- (সুরা-ইউসুফ ১৮)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ঠিক সে সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ওয়াহি অবতীর্ণ হতে লাগলো। আমরা চুপ থাকলাম। তাঁর উপর হতে ওয়াহীর অবস্থা দূর হলে আমি তাঁর মুখমন্ডলে আনন্দের ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর মুখমণ্ডলের ঘাম মুছছেন আর বলছেনঃ হে ‘আয়িশাহ, তোমার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তখন উত্তেজিত অবস্থায় ছিলাম। আমার পিতা মাতা আমাকে বললেনঃ উঠে তাঁর নিকট যাও। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁর নিকট উঠে যাব না, তাঁর সুনাম ও করব না এবং আপনাদের প্রশংসাও করব না। বরং আমি সে আল্লাহ্ তা’আলার সুনাম করবো যিনি আমার নির্দোষিতার ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। আপনারা এ অপবাদ শুনেছেন, কিন্তু প্রত্যাখ্যান বা প্রতিহত করেন নি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, জাহাশ-কন্যা যাইনাবের দীনদারীর জন্য আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হিফাজাত করেছেন। সে ভালো ব্যতিত কখনও অন্য কিছু বলেনি। কিন্তু তাঁর বোন হামনা ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যারা এ অপবাদ রটায় তাদের মধ্যে ছিলঃ মিসতাহ, হাসান ইবনু সাবিত ও মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই। সে অপবাদ রটাত এবং তা ছড়িয়ে বেড়াত। সে ও হামনা ছিল এই আপত্তিকর অপবাদ ছড়ানোর বড় হোতা। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবু বকর (রাঃ) কসম করেন যে, তিনি আর কখনও মিসতাহর কোনভাবে উপকার করবেন না (ভরন পোষণ বহন করবেন না)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ "তোমাদের মধ্যে যারা (আবু বকর কে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে) ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, তারা আত্মীয়, গরীব ও আল্লাহ্ তা'আলার পথে মুহাজিরদের (মিসতাহ কে লক্ষ করে বলা হচ্ছে) কিছুই দেবে না ... তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কে মাফ করুন?" আল্লাহ্ তালা বড়ই ক্ষমাশীল, পরম করুনাময়" -(সূরা আন-নূর ২২)। আবু বকর (রাঃ) বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই আপনার ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি আগের মত মিসতাহর ভরণপোষণের ভার বহন করেন। সহীহঃ বুখারী (৪৭৫৭), মুসলিম।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أسامة، عن هشام بن عروة، أخبرني أبي، عن عائشة، قالت لما ذكر من شأني الذي ذكر وما علمت به قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطيبا فتشهد وحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله ثم قال " أما بعد أشيروا على في أناس أبنوا أهلي والله ما علمت على أهلي من سوء قط وأبنوا بمن والله ما علمت عليه من سوء قط ولا دخل بيتي قط إلا وأنا حاضر ولا غبت في سفر إلا غاب معي فقام سعد بن معاذ رضي الله عنه فقال ائذن لي يا رسول الله أن أضرب أعناقهم . وقام رجل من الخزرج وكانت أم حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل فقال كذبت أما والله أن لو كانوا من الأوس ما أحببت أن تضرب أعناقهم حتى كاد أن يكون بين الأوس والخزرج شر في المسجد وما علمت به فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي أم مسطح فعثرت فقالت تعس مسطح فقلت لها أى أم تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثانية فقالت تعس مسطح فقلت لها أى أم تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح فانتهرتها فقلت لها أى أم تسبين ابنك فقالت والله ما أسبه إلا فيك . فقلت في أى شيء قالت فبقرت إلى الحديث قلت وقد كان هذا قالت نعم . والله لقد رجعت إلى بيتي وكأن الذي خرجت له لم أخرج لا أجد منه قليلا ولا كثيرا ووعكت فقلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أرسلني إلى بيت أبي فأرسل معي الغلام فدخلت الدار فوجدت أم رومان في السفل وأبو بكر فوق البيت يقرأ فقالت أمي ما جاء بك يا بنية قالت فأخبرتها وذكرت لها الحديث فإذا هو لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت يا بنية خففي عليك الشأن فإنه والله لقلما كانت امرأة حسناء عند رجل يحبها لها ضرائر إلا حسدنها وقيل فيها فإذا هي لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت قلت وقد علم به أبي قالت نعم . قلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم . واستعبرت وبكيت فسمع أبو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرأ فنزل فقال لأمي ما شأنها قالت بلغها الذي ذكر من شأنها . ففاضت عيناه فقال أقسمت عليك يا بنية إلا رجعت إلى بيتك . فرجعت ولقد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بيتي فسأل عني خادمتي فقالت لا والله ما علمت عليها عيبا إلا أنها كانت ترقد حتى تدخل الشاة فتأكل خميرتها أو عجينتها وانتهرها بعض أصحابه فقال أصدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أسقطوا لها به فقالت سبحان الله والله ما علمت عليها إلا ما يعلم الصائغ على تبر الذهب الأحمر فبلغ الأمر ذلك الرجل الذي قيل له فقال سبحان الله والله ما كشفت كنف أنثى قط قالت عائشة فقتل شهيدا في سبيل الله قالت وأصبح أبواى عندي فلم يزالا عندي حتى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد صلى العصر ثم دخل وقد اكتنفني أبواى عن يميني وعن شمالي فتشهد النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله ثم قال " أما بعد يا عائشة إن كنت قارفت سوءا أو ظلمت فتوبي إلى الله فإن الله يقبل التوبة عن عباده " . قالت وقد جاءت امرأة من الأنصار وهي جالسة بالباب فقلت ألا تستحي من هذه المرأة أن تذكر شيئا . فوعظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فالتفت إلى أبي فقلت أجبه . قال فماذا أقول فالتفت إلى أمي فقلت أجيبيه . قالت أقول ماذا قالت فلما لم يجيبا تشهدت فحمدت الله وأثنيت عليه بما هو أهله ثم قلت أما والله لئن قلت لكم إني لم أفعل والله يشهد إني لصادقة ما ذاك بنافعي عندكم لي لقد تكلمتم وأشربت قلوبكم ولئن قلت إني قد فعلت والله يعلم أني لم أفعل لتقولن إنها قد باءت به على نفسها وإني والله ما أجد لي ولكم مثلا قالت والتمست اسم يعقوب فلم أقدر عليه إلا أبا يوسف حين قال : (فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون ) قالت وأنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم من ساعته فسكتنا فرفع عنه وإني لأتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه ويقول " البشرى يا عائشة فقد أنزل الله براءتك " . قالت وكنت أشد ما كنت غضبا فقال لي أبواى قومي إليه . فقلت لا والله لا أقوم إليه ولا أحمده ولا أحمدكما ولكن أحمد الله الذي أنزل براءتي لقد سمعتموه فما أنكرتموه ولا غيرتموه وكانت عائشة تقول أما زينب بنت جحش فعصمها الله بدينها فلم تقل إلا خيرا وأما أختها حمنة فهلكت فيمن هلك وكان الذي يتكلم فيه مسطح وحسان بن ثابت والمنافق عبد الله بن أبى ابن سلول وهو الذي كان يسوسه ويجمعه وهو الذي تولى كبره منهم هو وحمنة قالت فحلف أبو بكر أن لا ينفع مسطحا بنافعة أبدا فأنزل الله تعالى هذه الآية : (ولا يأتل أولو الفضل منكم والسعة ) إلى آخر الآية يعني أبا بكر : (أن يؤتوا أولي القربى والمساكين والمهاجرين في سبيل الله ) يعني مسطحا إلى قوله : (ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم ) قال أبو بكر بلى والله يا ربنا إنا لنحب أن تغفر لنا وعاد له بما كان يصنع . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث هشام بن عروة . وقد رواه يونس بن يزيد ومعمر وغير واحد عن الزهري عن عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص الليثي وعبيد الله بن عبد الله عن عائشة هذا الحديث أطول من حديث هشام بن عروة وأتم .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৭৭
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن عبيد الله بن الأخنس، أخبرني عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، قال كان رجل يقال له مرثد بن أبي مرثد وكان رجلا يحمل الأسرى من مكة حتى يأتي بهم المدينة قال وكانت امرأة بغي بمكة يقال لها عناق وكانت صديقة له وإنه كان وعد رجلا من أسارى مكة يحمله قال فجئت حتى انتهيت إلى ظل حائط من حوائط مكة في ليلة مقمرة . قال فجاءت عناق فأبصرت سواد ظلي بجنب الحائط فلما انتهت إلى عرفته فقالت مرثد فقلت مرثد . فقالت مرحبا وأهلا هلم فبت عندنا الليلة . قال قلت يا عناق حرم الله الزنا . قالت يا أهل الخيام هذا الرجل يحمل أسراكم . قال فتبعني ثمانية وسلكت الخندمة فانتهيت إلى كهف أو غار فدخلت فجاءوا حتى قاموا على رأسي فبالوا فطل بولهم على رأسي وأعماهم الله عني . قال ثم رجعوا ورجعت إلى صاحبي فحملته وكان رجلا ثقيلا حتى انتهيت إلى الإذخر ففككت عنه كبله فجعلت أحمله ويعينني حتى قدمت المدينة فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله أنكح عناقا مرتين فأمسك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يرد على شيئا حتى نزلت : (الزاني لا ينكح إلا زانية أو مشركة والزانية لا ينكحها إلا زان أو مشرك وحرم ذلك على المؤمنين ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا مرثد الزاني لا ينكح إلا زانية أو مشركة والزانية لا ينكحها إلا زان أو مشرك فلا تنكحها " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه .
আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবার ও তার দাদা থেকে বর্নিতঃ
মারসাদ ইবনু আবী মারসাদ নামক এক লোক যুদ্ধবন্দীদেরকে মক্কা হতে মদিনায় নিয়ে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আনাক্ব নামে মক্কার এক দুশ্চরিত্রা নারী এই মারসাদের প্রেমিকা ছিল। সে (আবু মারসাদ) মক্কার এক বন্দি কে কথা দিয়েছিল যে, সে তাকে মদিনায় নিয়ে যাবে। মারসাদ বলেন, আমি এই উদ্দেশে রওনা হয়ে এক পূর্ণিমা রাতে মক্কার এক প্রাচীরের ছায়ায় পৌঁছলাম। আনাক্ব ও এলো। সে প্রাচীর গাত্রে আমার কাল ছায়া দেখতে পেলো। সে আমার নিকট পৌঁছে আমাকে চিনে ফেলল। সে প্রশ্ন করলোঃ মারসাদ নাকি? আমি বললাম, মারসাদ। সে আমাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং বলে, এসো এ রাতটা আমার সাথে কাটাও। আমি বললাম, হে আনাক্ব! আল্লাহ্ তা'আলা যিনা হারাম করে দিয়েছেন। সে (নিজেদের তাবুতে ফিরে গিয়ে)বলল, হে তাবুর অধিবাসীরা! এই ব্যক্তি তোমাদের বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে। এ কথা শোনা মাত্র আটজন আমার পিছু নিলো। আমি চলতে চলতে খানদামা পাহাড়ে গিয়ে একটি গুহা পেয়ে তাতে ঢুকে পড়লাম। লোকগুলিও আমার পিছে পিছে আসলো। তারা গুহাটিকে খালি মনে করে আমার মাথায় পেশাব করে দিলো। তাদের পেশাব আমার মাথায় এসে পড়লো। আল্লাহ্ তা'আলা এই লোকগুলিকে আমাকে দেখার ব্যাপারে অন্ধ করে দিলেন (তারা আমাকে দেখতে পেলো না)। তারা ফিরে গেলো, আমিও যাকে আনতে গিয়েছিলাম তার নিকট ফিরে এলাম। আমি তাকে তুলে নিলাম। তার দেহের ওজন খুব বেশি ছিল। আমি তাকে নিয়ে ইযখির নামক স্থানে পৌঁছে তার জিঞ্জীর খুলে দিলাম। আমি তাকে পিঠে তুলে নিলাম। তাকে বহন করা আমার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি মদিনায় পৌঁছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসুল! আনাক্বকে আমি বিয়ে করতে পারি? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব থাকলেন এবং আমার কথার কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "যিনাকারী পুরুষ যিনাকারিনী নারী বা মুশরিক নারীকেই কে বিবাহ করবে, আর যিনাকারিনী নারীকে শুধু যিনাকারী অথবা মুশরিক পুরুষরাই বিবাহ করবে আর মুমিনদের জন্য তা হারাম করা হয়েছে"- (সূরা আন-নূর ৩)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে মারসাদ, ব্যাভিচারী পুরুষ শুধু ব্যাভিচারী নারীকে বা মুশরিক নারীকেই বিয়ে করবে। আর ব্যাভিচারিনীকে শুধু ব্যাভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোকই বিবাহ করবে। অতএব তুমি তাকে বিয়ে করোনা। সনদ হাসান।
আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবার ও তার দাদা থেকে বর্নিতঃ
মারসাদ ইবনু আবী মারসাদ নামক এক লোক যুদ্ধবন্দীদেরকে মক্কা হতে মদিনায় নিয়ে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আনাক্ব নামে মক্কার এক দুশ্চরিত্রা নারী এই মারসাদের প্রেমিকা ছিল। সে (আবু মারসাদ) মক্কার এক বন্দি কে কথা দিয়েছিল যে, সে তাকে মদিনায় নিয়ে যাবে। মারসাদ বলেন, আমি এই উদ্দেশে রওনা হয়ে এক পূর্ণিমা রাতে মক্কার এক প্রাচীরের ছায়ায় পৌঁছলাম। আনাক্ব ও এলো। সে প্রাচীর গাত্রে আমার কাল ছায়া দেখতে পেলো। সে আমার নিকট পৌঁছে আমাকে চিনে ফেলল। সে প্রশ্ন করলোঃ মারসাদ নাকি? আমি বললাম, মারসাদ। সে আমাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং বলে, এসো এ রাতটা আমার সাথে কাটাও। আমি বললাম, হে আনাক্ব! আল্লাহ্ তা'আলা যিনা হারাম করে দিয়েছেন। সে (নিজেদের তাবুতে ফিরে গিয়ে)বলল, হে তাবুর অধিবাসীরা! এই ব্যক্তি তোমাদের বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে। এ কথা শোনা মাত্র আটজন আমার পিছু নিলো। আমি চলতে চলতে খানদামা পাহাড়ে গিয়ে একটি গুহা পেয়ে তাতে ঢুকে পড়লাম। লোকগুলিও আমার পিছে পিছে আসলো। তারা গুহাটিকে খালি মনে করে আমার মাথায় পেশাব করে দিলো। তাদের পেশাব আমার মাথায় এসে পড়লো। আল্লাহ্ তা'আলা এই লোকগুলিকে আমাকে দেখার ব্যাপারে অন্ধ করে দিলেন (তারা আমাকে দেখতে পেলো না)। তারা ফিরে গেলো, আমিও যাকে আনতে গিয়েছিলাম তার নিকট ফিরে এলাম। আমি তাকে তুলে নিলাম। তার দেহের ওজন খুব বেশি ছিল। আমি তাকে নিয়ে ইযখির নামক স্থানে পৌঁছে তার জিঞ্জীর খুলে দিলাম। আমি তাকে পিঠে তুলে নিলাম। তাকে বহন করা আমার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি মদিনায় পৌঁছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসুল! আনাক্বকে আমি বিয়ে করতে পারি? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব থাকলেন এবং আমার কথার কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "যিনাকারী পুরুষ যিনাকারিনী নারী বা মুশরিক নারীকেই কে বিবাহ করবে, আর যিনাকারিনী নারীকে শুধু যিনাকারী অথবা মুশরিক পুরুষরাই বিবাহ করবে আর মুমিনদের জন্য তা হারাম করা হয়েছে"- (সূরা আন-নূর ৩)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে মারসাদ, ব্যাভিচারী পুরুষ শুধু ব্যাভিচারী নারীকে বা মুশরিক নারীকেই বিয়ে করবে। আর ব্যাভিচারিনীকে শুধু ব্যাভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোকই বিবাহ করবে। অতএব তুমি তাকে বিয়ে করোনা। সনদ হাসান।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن عبيد الله بن الأخنس، أخبرني عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، قال كان رجل يقال له مرثد بن أبي مرثد وكان رجلا يحمل الأسرى من مكة حتى يأتي بهم المدينة قال وكانت امرأة بغي بمكة يقال لها عناق وكانت صديقة له وإنه كان وعد رجلا من أسارى مكة يحمله قال فجئت حتى انتهيت إلى ظل حائط من حوائط مكة في ليلة مقمرة . قال فجاءت عناق فأبصرت سواد ظلي بجنب الحائط فلما انتهت إلى عرفته فقالت مرثد فقلت مرثد . فقالت مرحبا وأهلا هلم فبت عندنا الليلة . قال قلت يا عناق حرم الله الزنا . قالت يا أهل الخيام هذا الرجل يحمل أسراكم . قال فتبعني ثمانية وسلكت الخندمة فانتهيت إلى كهف أو غار فدخلت فجاءوا حتى قاموا على رأسي فبالوا فطل بولهم على رأسي وأعماهم الله عني . قال ثم رجعوا ورجعت إلى صاحبي فحملته وكان رجلا ثقيلا حتى انتهيت إلى الإذخر ففككت عنه كبله فجعلت أحمله ويعينني حتى قدمت المدينة فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله أنكح عناقا مرتين فأمسك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يرد على شيئا حتى نزلت : (الزاني لا ينكح إلا زانية أو مشركة والزانية لا ينكحها إلا زان أو مشرك وحرم ذلك على المؤمنين ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا مرثد الزاني لا ينكح إلا زانية أو مشركة والزانية لا ينكحها إلا زان أو مشرك فلا تنكحها " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه .
জামে' আত-তিরমিজি > সূরা আল-ফুরক্বান
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৮২
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن واصل، عن أبي وائل، عن عمرو بن شرحبيل، عن عبد الله، قال قلت يا رسول الله أى الذنب أعظم قال " أن تجعل لله ندا وهو خلقك " . قال قلت ثم ماذا قال " أن تقتل ولدك خشية أن يطعم معك " . قال قلت ثم ماذا قال " أن تزني بحليلة جارك " . قال هذا حديث حسن غريب .
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কি? তিনি বলেনঃ তুমি কাউকে আল্লাহ তা’লার শারিক বা সমকক্ষ বানালে, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ তোমার সন্তানরা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদের কে হত্যা করা। তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার জিনায় লিপ্ত হওয়া। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৩৩৭), সহীহ আবূ দাউদ (২০০০), বুখারী (৪৭৬১), মুসলিম।
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কি? তিনি বলেনঃ তুমি কাউকে আল্লাহ তা’লার শারিক বা সমকক্ষ বানালে, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ তোমার সন্তানরা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদের কে হত্যা করা। তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার জিনায় লিপ্ত হওয়া। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৩৩৭), সহীহ আবূ দাউদ (২০০০), বুখারী (৪৭৬১), মুসলিম।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن واصل، عن أبي وائل، عن عمرو بن شرحبيل، عن عبد الله، قال قلت يا رسول الله أى الذنب أعظم قال " أن تجعل لله ندا وهو خلقك " . قال قلت ثم ماذا قال " أن تقتل ولدك خشية أن يطعم معك " . قال قلت ثم ماذا قال " أن تزني بحليلة جارك " . قال هذا حديث حسن غريب .
জামে' আত-তিরমিজি ৩১৮৩
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا سعيد بن الربيع أبو زيد، حدثنا شعبة، عن واصل الأحدب، عن أبي وائل، عن عبد الله، قال سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أى الذنب أعظم قال " أن تجعل لله ندا وهو خلقك وأن تقتل ولدك من أجل أن يأكل معك أو من طعامك وأن تزني بحليلة جارك " . قال وتلا هذه الآية : (والذين لا يدعون مع الله إلها آخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله إلا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذلك يلق أثاما * يضاعف له العذاب يوم القيامة ويخلد فيه مهانا ) . قال أبو عيسى حديث سفيان عن منصور والأعمش أصح من حديث شعبة عن واصل لأنه زاد في إسناده رجلا .
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রশ্ন করলাম, সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কোনটি? তিনি বলেনঃ (১) আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে তোমার শরীক বানানো অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন; (২) তোমার সন্তানেরা তোমার সাথে আহার করবে বা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদের কে হত্যা করা; (৩) তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনা করা। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ)ঃ “যারা আল্লাহ তা’আলার সাথে কোন মা’বূদকে ডাকেনা, আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে হত্যা করেনা এবং ব্যাভিচারেও জড়িত হয়না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামাতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনন্তকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় থাকবে।”- (সুরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, প্রাগুপ্ত।
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রশ্ন করলাম, সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কোনটি? তিনি বলেনঃ (১) আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে তোমার শরীক বানানো অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন; (২) তোমার সন্তানেরা তোমার সাথে আহার করবে বা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদের কে হত্যা করা; (৩) তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনা করা। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ)ঃ “যারা আল্লাহ তা’আলার সাথে কোন মা’বূদকে ডাকেনা, আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে হত্যা করেনা এবং ব্যাভিচারেও জড়িত হয়না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামাতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনন্তকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় থাকবে।”- (সুরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, প্রাগুপ্ত।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا سعيد بن الربيع أبو زيد، حدثنا شعبة، عن واصل الأحدب، عن أبي وائل، عن عبد الله، قال سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أى الذنب أعظم قال " أن تجعل لله ندا وهو خلقك وأن تقتل ولدك من أجل أن يأكل معك أو من طعامك وأن تزني بحليلة جارك " . قال وتلا هذه الآية : (والذين لا يدعون مع الله إلها آخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله إلا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذلك يلق أثاما * يضاعف له العذاب يوم القيامة ويخلد فيه مهانا ) . قال أبو عيسى حديث سفيان عن منصور والأعمش أصح من حديث شعبة عن واصل لأنه زاد في إسناده رجلا .