জামে' আত-তিরমিজি > রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের জীবন-যাপন
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭০
حدثنا صالح بن عبد الله، حدثنا أبو عوانة، عن عبد الملك بن عمير، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوما وأبو بكر وعمر فذكر نحو هذا الحديث ولم يذكر فيه عن أبي هريرة وحديث شيبان أتم من حديث أبي عوانة وأطول . وشيبان ثقة عندهم صاحب كتاب . وقد روي عن أبي هريرة هذا الحديث من غير هذا الوجه وروي عن ابن عباس أيضا .
আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কোন একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাক্র ও উমার (রাঃ) বের হলেন….। তারপর তিনি উক্ত মর্মে পূর্বোক্ত হাদীসের মতোই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। সহীহ্ , দেখুন পূর্বের হাদীস।
আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কোন একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাক্র ও উমার (রাঃ) বের হলেন….। তারপর তিনি উক্ত মর্মে পূর্বোক্ত হাদীসের মতোই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। সহীহ্ , দেখুন পূর্বের হাদীস।
حدثنا صالح بن عبد الله، حدثنا أبو عوانة، عن عبد الملك بن عمير، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوما وأبو بكر وعمر فذكر نحو هذا الحديث ولم يذكر فيه عن أبي هريرة وحديث شيبان أتم من حديث أبي عوانة وأطول . وشيبان ثقة عندهم صاحب كتاب . وقد روي عن أبي هريرة هذا الحديث من غير هذا الوجه وروي عن ابن عباس أيضا .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭১
حدثنا عبد الله بن أبي زياد، حدثنا سيار بن حاتم، عن سهل بن أسلم، عن يزيد بن أبي منصور، عن أنس بن مالك، عن أبي طلحة، قال شكونا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجوع ورفعنا عن بطوننا عن حجر حجر فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حجرين . قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه .
আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে অনাহারের অভিযোগ করলাম এবং নিজেদের পেটের কাপড় উঠিয়ে একটা পাথর (বাঁধা) দেখালাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাঁর পেটের কাপড় উঠিয়ে আমাদেরকে দু’টি পাথর বাঁধা দেখালেন। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল (১১২)
আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে অনাহারের অভিযোগ করলাম এবং নিজেদের পেটের কাপড় উঠিয়ে একটা পাথর (বাঁধা) দেখালাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাঁর পেটের কাপড় উঠিয়ে আমাদেরকে দু’টি পাথর বাঁধা দেখালেন। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল (১১২)
حدثنا عبد الله بن أبي زياد، حدثنا سيار بن حاتم، عن سهل بن أسلم، عن يزيد بن أبي منصور، عن أنس بن مالك، عن أبي طلحة، قال شكونا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجوع ورفعنا عن بطوننا عن حجر حجر فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حجرين . قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭২
حدثنا قتيبة، حدثنا أبو الأحوص، عن سماك بن حرب، قال سمعت النعمان بن بشير، يقول ألستم في طعام وشراب ما شئتم لقد رأيت نبيكم صلى الله عليه وسلم وما يجد من الدقل ما يملأ بطنه . قال وهذا حديث صحيح . قال أبو عيسى وروى أبو عوانة وغير واحد عن سماك بن حرب نحو حديث أبي الأحوص . وروى شعبة هذا الحديث عن سماك عن النعمان بن بشير عن عمر .
সিমাক ইবনু হারব (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি : এখন তোমরা কি নিজেদের খুশি মতো পানাহার করতে পারছো না? অথচ আমি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি এই নিকৃষ্ট ও শুকনো খেজুরও পেতেন না, যদ্ধারা তাঁর পেট ভরতে পারেন। সহীহ্ , মুখতাসার শামা-ইল (১১০), মুসলিম।
সিমাক ইবনু হারব (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি : এখন তোমরা কি নিজেদের খুশি মতো পানাহার করতে পারছো না? অথচ আমি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি এই নিকৃষ্ট ও শুকনো খেজুরও পেতেন না, যদ্ধারা তাঁর পেট ভরতে পারেন। সহীহ্ , মুখতাসার শামা-ইল (১১০), মুসলিম।
حدثنا قتيبة، حدثنا أبو الأحوص، عن سماك بن حرب، قال سمعت النعمان بن بشير، يقول ألستم في طعام وشراب ما شئتم لقد رأيت نبيكم صلى الله عليه وسلم وما يجد من الدقل ما يملأ بطنه . قال وهذا حديث صحيح . قال أبو عيسى وروى أبو عوانة وغير واحد عن سماك بن حرب نحو حديث أبي الأحوص . وروى شعبة هذا الحديث عن سماك عن النعمان بن بشير عن عمر .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৬৫
حدثنا عمر بن إسماعيل بن مجالد بن سعيد، حدثنا أبي، عن بيان، عن قيس بن أبي حازم، قال سمعت سعد بن أبي وقاص، يقول إني لأول رجل أهراق دما في سبيل الله وإني لأول رجل رمى بسهم في سبيل الله ولقد رأيتني أغزو في العصابة من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ما نأكل إلا ورق الشجر والحبلة حتى إن أحدنا ليضع كما تضع الشاة أو البعير وأصبحت بنو أسد يعزروني في الدين لقد خبت إذا وضل عملي . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث بيان .
কাইস (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি : আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার পথে রক্ত ঝরিয়েছে এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার রাস্তায় তীর ছুড়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাথে এক যুদ্ধাভিযানে যোগদান করি। তখন খাবারের জন্য আমরা গাছের পাতা ও বাবলা গাছের ফল ব্যতিত আর কিছুই পাইনি। ফলে আমাদের এক একজন ছাগল ও উটের বিষ্ঠার ন্যায় পায়খানা করত। কিন্তু বর্তমানে আসাদ বংশের জনগণ দ্বীনের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করছে। তাহলে তো আমি ব্যর্থ হলাম এবং আমার সব আমলও বাতিল হয়ে গেল। সহীহ্ , মুখতাসার শামাইল (১১৪), বুখারী, মুসলিম।
কাইস (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি : আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার পথে রক্ত ঝরিয়েছে এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার রাস্তায় তীর ছুড়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাথে এক যুদ্ধাভিযানে যোগদান করি। তখন খাবারের জন্য আমরা গাছের পাতা ও বাবলা গাছের ফল ব্যতিত আর কিছুই পাইনি। ফলে আমাদের এক একজন ছাগল ও উটের বিষ্ঠার ন্যায় পায়খানা করত। কিন্তু বর্তমানে আসাদ বংশের জনগণ দ্বীনের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করছে। তাহলে তো আমি ব্যর্থ হলাম এবং আমার সব আমলও বাতিল হয়ে গেল। সহীহ্ , মুখতাসার শামাইল (১১৪), বুখারী, মুসলিম।
حدثنا عمر بن إسماعيل بن مجالد بن سعيد، حدثنا أبي، عن بيان، عن قيس بن أبي حازم، قال سمعت سعد بن أبي وقاص، يقول إني لأول رجل أهراق دما في سبيل الله وإني لأول رجل رمى بسهم في سبيل الله ولقد رأيتني أغزو في العصابة من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ما نأكل إلا ورق الشجر والحبلة حتى إن أحدنا ليضع كما تضع الشاة أو البعير وأصبحت بنو أسد يعزروني في الدين لقد خبت إذا وضل عملي . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث بيان .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৬৮
حدثنا العباس بن محمد الدوري، حدثنا عبد الله بن يزيد، حدثنا حيوة بن شريح، أخبرني أبو هانئ الخولاني، أن أبا علي، عمرو بن مالك الجنبي أخبره عن فضالة بن عبيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا صلى بالناس يخر رجال من قامتهم في الصلاة من الخصاصة وهم أصحاب الصفة حتى تقول الأعراب هؤلاء مجانين أو مجانون فإذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف إليهم فقال " لو تعلمون ما لكم عند الله لأحببتم أن تزدادوا فاقة وحاجة " . قال فضالة وأنا يومئذ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকদের সাথে নিয়ে জামা‘আতে নামায় আদায় করতেন, তখন কিছু লোক অসহনীয় ক্ষুধার যন্ত্রনায় নামাযের মধ্যেই দাঁড়ানো অবস্থা হতে পড়ে যেতেন। তারা ছিলেন সুফ্ফার সদস্য। তাদের এ অবস্থা দেখে বেদুঈনরা বলত, এরা পাগল নাকি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন : আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট তোমাদের যে কি মর্যাদা রয়েছে তা তোমরা জানলে আরো ক্ষুধার্ত, আরো অভাব-অনটনে থাকতে পছন্দ করতে। ফাযালা (রাঃ) বলেন, সে সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। সহীহ্ , তা’লীকুর রাগীব (৪/১২০)।
ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকদের সাথে নিয়ে জামা‘আতে নামায় আদায় করতেন, তখন কিছু লোক অসহনীয় ক্ষুধার যন্ত্রনায় নামাযের মধ্যেই দাঁড়ানো অবস্থা হতে পড়ে যেতেন। তারা ছিলেন সুফ্ফার সদস্য। তাদের এ অবস্থা দেখে বেদুঈনরা বলত, এরা পাগল নাকি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন : আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট তোমাদের যে কি মর্যাদা রয়েছে তা তোমরা জানলে আরো ক্ষুধার্ত, আরো অভাব-অনটনে থাকতে পছন্দ করতে। ফাযালা (রাঃ) বলেন, সে সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। সহীহ্ , তা’লীকুর রাগীব (৪/১২০)।
حدثنا العباس بن محمد الدوري، حدثنا عبد الله بن يزيد، حدثنا حيوة بن شريح، أخبرني أبو هانئ الخولاني، أن أبا علي، عمرو بن مالك الجنبي أخبره عن فضالة بن عبيد، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا صلى بالناس يخر رجال من قامتهم في الصلاة من الخصاصة وهم أصحاب الصفة حتى تقول الأعراب هؤلاء مجانين أو مجانون فإذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف إليهم فقال " لو تعلمون ما لكم عند الله لأحببتم أن تزدادوا فاقة وحاجة " . قال فضالة وأنا يومئذ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৬৭
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد بن سيرين، قال كنا عند أبي هريرة وعليه ثوبان ممشقان من كتان فتمخط في أحدهما ثم قال بخ بخ يتمخط أبو هريرة في الكتان لقد رأيتني وإني لأخر فيما بين منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وحجرة عائشة من الجوع مغشيا على فيجيء الجائي فيضع رجله على عنقي يرى أن بي الجنون وما بي جنون وما هو إلا الجوع . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه.
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন একদিন আমরা আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি গোলাপী রংয়ের দুটি কাতান কাপড় পড়ে ছিলেন। তিনি একটি কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন এবং বললেন, বেশ, বেশ, আবূ হুরাইরা আজ কাতান কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করছে! অথচ আমার অবস্থা এরূপ ছিল যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বার ও আইশা (রাঃ)-এর ঘরের মাঝখানে ক্ষুধার তাড়নায় কাতর হয়ে পড়ে থাকতাম। এ পথে কেউ এসে আমার ঘাড়ের উপর পা রাখত এবং মনে করত যে, আমি পাগল হয়ে গেছি। অথচ আমার মধ্যে কোন পাগলামী ছিল না, বরং ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমার এরূপ অবস্থা হতো। সহীহ্ , বুখারী (৭৩২৪)।
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন একদিন আমরা আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি গোলাপী রংয়ের দুটি কাতান কাপড় পড়ে ছিলেন। তিনি একটি কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন এবং বললেন, বেশ, বেশ, আবূ হুরাইরা আজ কাতান কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করছে! অথচ আমার অবস্থা এরূপ ছিল যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বার ও আইশা (রাঃ)-এর ঘরের মাঝখানে ক্ষুধার তাড়নায় কাতর হয়ে পড়ে থাকতাম। এ পথে কেউ এসে আমার ঘাড়ের উপর পা রাখত এবং মনে করত যে, আমি পাগল হয়ে গেছি। অথচ আমার মধ্যে কোন পাগলামী ছিল না, বরং ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমার এরূপ অবস্থা হতো। সহীহ্ , বুখারী (৭৩২৪)।
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد بن سيرين، قال كنا عند أبي هريرة وعليه ثوبان ممشقان من كتان فتمخط في أحدهما ثم قال بخ بخ يتمخط أبو هريرة في الكتان لقد رأيتني وإني لأخر فيما بين منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وحجرة عائشة من الجوع مغشيا على فيجيء الجائي فيضع رجله على عنقي يرى أن بي الجنون وما بي جنون وما هو إلا الجوع . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه.
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৬৬
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا إسماعيل بن أبي خالد، حدثنا قيس، قال سمعت سعد بن مالك، يقول إني أول رجل من العرب رمى بسهم في سبيل الله ولقد رأيتنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وما لنا طعام إلا الحبلة وهذا السمر حتى إن أحدنا ليضع كما تضع الشاة ثم أصبحت بنو أسد يعزروني في الدين لقد خبت إذا وضل عملي . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن عتبة بن غزوان .
কাইস (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আরবের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমরা নিজেরা জিহাদ করেছি। তখন খাবারের জন্য বাবলা গাছের ফল আর বুনো জাম ছাড়া আমাদের সাথে আর কিছু ছিল না। আমাদের এক একজন তা খেয়ে ছাগলের বিষ্ঠার ন্যায় পায়খানা করত। অথচ বর্তমানে আসাদ বংশের জনগণ ধর্মের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করছে। তাই যদি হয়, তাহলে তো আমি ব্যর্থ হয়েছি এবং আমার আমলও বিনষ্ট হয়ে গেল। সহীহ্ , দেখুন পূর্বের হাদীস।
কাইস (রাহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আরবের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা’আলার পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমরা নিজেরা জিহাদ করেছি। তখন খাবারের জন্য বাবলা গাছের ফল আর বুনো জাম ছাড়া আমাদের সাথে আর কিছু ছিল না। আমাদের এক একজন তা খেয়ে ছাগলের বিষ্ঠার ন্যায় পায়খানা করত। অথচ বর্তমানে আসাদ বংশের জনগণ ধর্মের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করছে। তাই যদি হয়, তাহলে তো আমি ব্যর্থ হয়েছি এবং আমার আমলও বিনষ্ট হয়ে গেল। সহীহ্ , দেখুন পূর্বের হাদীস।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا إسماعيل بن أبي خالد، حدثنا قيس، قال سمعت سعد بن مالك، يقول إني أول رجل من العرب رمى بسهم في سبيل الله ولقد رأيتنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وما لنا طعام إلا الحبلة وهذا السمر حتى إن أحدنا ليضع كما تضع الشاة ثم أصبحت بنو أسد يعزروني في الدين لقد خبت إذا وضل عملي . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن عتبة بن غزوان .
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৬৯
حدثنا محمد بن إسماعيل، حدثنا آدم بن أبي إياس، حدثنا شيبان أبو معاوية، حدثنا عبد الملك بن عمير، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في ساعة لا يخرج فيها ولا يلقاه فيها أحد فأتاه أبو بكر فقال " ما جاء بك يا أبا بكر " . فقال خرجت ألقى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنظر في وجهه والتسليم عليه . فلم يلبث أن جاء عمر فقال " ما جاء بك يا عمر " . قال الجوع يا رسول الله قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وأنا قد وجدت بعض ذلك " . فانطلقوا إلى منزل أبي الهيثم بن التيهان الأنصاري وكان رجلا كثير النخل والشاء ولم يكن له خدم فلم يجدوه فقالوا لامرأته أين صاحبك فقالت انطلق يستعذب لنا الماء . فلم يلبثوا أن جاء أبو الهيثم بقربة يزعبها فوضعها ثم جاء يلتزم النبي صلى الله عليه وسلم ويفديه بأبيه وأمه ثم انطلق بهم إلى حديقته فبسط لهم بساطا ثم انطلق إلى نخلة فجاء بقنو فوضعه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أفلا تنقيت لنا من رطبه " . فقال يا رسول الله إني أردت أن تختاروا أو قال تخيروا من رطبه وبسره . فأكلوا وشربوا من ذلك الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا والذي نفسي بيده من النعيم الذي تسألون عنه يوم القيامة ظل بارد ورطب طيب وماء بارد " . فانطلق أبو الهيثم ليصنع لهم طعاما فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تذبحن ذات در " . قال فذبح لهم عناقا أو جديا فأتاهم بها فأكلوا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هل لك خادم " . قال لا . قال " فإذا أتانا سبى فائتنا " . فأتي النبي صلى الله عليه وسلم برأسين ليس معهما ثالث فأتاه أبو الهيثم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اختر منهما " . فقال يا نبي الله اختر لي . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " إن المستشار مؤتمن خذ هذا فإني رأيته يصلي واستوص به معروفا " . فانطلق أبو الهيثم إلى امرأته فأخبرها بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت امرأته ما أنت ببالغ ما قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم إلا أن تعتقه قال فهو عتيق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " إن الله لم يبعث نبيا ولا خليفة إلا وله بطانتان بطانة تأمره بالمعروف وتنهاه عن المنكر وبطانة لا تألوه خبالا ومن يوق بطانة السوء فقد وقي " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় ঘর হতে বের হলেন, যে সময়ে তিনি সচরাচর বের হন না এবং এ সময় কেউ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেও আসতো না। (এ মুহূর্তে) আবূ বকর (রাঃ) এসে উপস্থিত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন : হে আবূ বাক্র! আপনি কি মনে করে এলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দেখা করতে, তাঁর বারকাতময় মুখমন্ডল দেখতে ও তাঁকে সালাম প্রদানের উদ্দেশ্যে এসেছি। ইতোমধ্যে উমার (রাঃ)-ও এসে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেন : হে উমার! আপনার এ সময় আসার কারণ কি? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ক্ষুধার তাড়নায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমিও এরূপ কিছু অনুভব করছি। এই বলে তাঁরা আবুল হাইসাম ইবনু আত্তাইহান আল-আনসারী (রাঃ)-এর বাড়ীর দিকে যাত্রা শুরু করলেন। আর তিনি ছিলেন প্রচুর খেজুরগাছ ও বকরীর মালিক, কিন্তু তার কোন খাদিম ছিল না। তাঁরা তাকে বাড়ীতে না পেয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সাথী কোথায়? তিনি বললেন, তিনি আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গেছেন। ইতোমধ্যে আবুল হাইসাম (রাঃ) পানিভর্তি মশক নিয়ে ফিরে এলেন এবং সেটা রেখেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! তারপর তিনি তাঁদেরকে নিয়ে তাঁর বাগানে গেলেন এবং তাদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দিলেন। তারপর তিনি খেজুরগাছ হতে কয়েক গুচ্ছ খেজুর নামিয়ে এনে তাঁদের সামনে রাখলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ আমাদের জন্য পাকা খেজুর বেছে আলাদা করে নিয়ে আসলে না কেন? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি ভাবলাম যে, আপনারা নিজেদের ইচ্ছামতো তাজা কিংবা পাকা খেজুর বেছে খাবেন, (এজন্য দুরকম খেজুরই পেশ করলাম)। তারপর তাঁরা খেজুর খেয়ে সেই পানি পান করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই মহান সত্তার শপথ! কিয়ামাত দিবসে এসব নিয়ামাত প্রসঙ্গেও তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। এই সুশীতল ছায়া, সুস্বাদু কাঁচা-পাকা খেজুর ও ঠান্ডা পানি (কতই না সুন্দর নিয়ামাত)। এরপর আবুল হাইসাম (রাঃ) তাঁদের জন্য খাবার তৈরী করতে চলে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলে দিলেন : কোন অবস্থাতেই দুধেল পশু যবাহ করবে না। কাজেই তিনি নবীন একটি নর ছাগল যবাহ করলেন এবং রান্না করে তাঁদের জন্য নিয়ে এলেন। তাঁরা তা খেলেন। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করলেন : তোমার কি কোন খাদিম আছে? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যখন আমার নিকট বন্দী আসবে তুমি তখন এসো। পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুটি গোলাম আসে। তাদের সাথে তৃতীয় কোন গোলাম ছিল না। আবুল হাইসাম (রাঃ) তাঁর নিকট এলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ এদের মধ্যে যেটা ভালো লাগে বেছে নাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনিই আমাকে একটি পছন্দ করে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় তাকে আমানাতদার হতে হয়। ঠিক আছে, তুমি এটাই নাও। কেননা, আমি একে নামায আদায় করতে দেখেছি। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তার সাথে উত্তম আচরণ করার জন্য। আবুল হাইসাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপদেশ প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে তাকে জানিয়ে দেন। তার স্ত্রী বললেন, এক মুক্ত করা ব্যতীত আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তব্যের মর্ম পর্যন্ত পৌছ্তে পারবেন না। তিনি বললেন, ঠিক আছে, সে এখন মুক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যত নবী ও খলীফা প্রেরণ করেছেন, তাদের সকলকেই দুজন করে একান্ত পরামর্শক দিয়েছেন। একজন সাথী তো তাকে ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকে এবং অন্যায় কাজে প্রতিহত করে। আর অন্যজন তাকে ধ্বংস করার কোন সুযোগই ছাড়ে না। যাকে এই অসৎ পরামর্শক হতে হিফাযাত করা হয়েছে তাকেই বাঁচানো হয়েছে। সহীহ্ , সহীহাহ্ (১৬৪১), মুখতাসার শামাইল (১১৩)।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় ঘর হতে বের হলেন, যে সময়ে তিনি সচরাচর বের হন না এবং এ সময় কেউ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেও আসতো না। (এ মুহূর্তে) আবূ বকর (রাঃ) এসে উপস্থিত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন : হে আবূ বাক্র! আপনি কি মনে করে এলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দেখা করতে, তাঁর বারকাতময় মুখমন্ডল দেখতে ও তাঁকে সালাম প্রদানের উদ্দেশ্যে এসেছি। ইতোমধ্যে উমার (রাঃ)-ও এসে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেন : হে উমার! আপনার এ সময় আসার কারণ কি? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ক্ষুধার তাড়নায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমিও এরূপ কিছু অনুভব করছি। এই বলে তাঁরা আবুল হাইসাম ইবনু আত্তাইহান আল-আনসারী (রাঃ)-এর বাড়ীর দিকে যাত্রা শুরু করলেন। আর তিনি ছিলেন প্রচুর খেজুরগাছ ও বকরীর মালিক, কিন্তু তার কোন খাদিম ছিল না। তাঁরা তাকে বাড়ীতে না পেয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সাথী কোথায়? তিনি বললেন, তিনি আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গেছেন। ইতোমধ্যে আবুল হাইসাম (রাঃ) পানিভর্তি মশক নিয়ে ফিরে এলেন এবং সেটা রেখেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! তারপর তিনি তাঁদেরকে নিয়ে তাঁর বাগানে গেলেন এবং তাদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দিলেন। তারপর তিনি খেজুরগাছ হতে কয়েক গুচ্ছ খেজুর নামিয়ে এনে তাঁদের সামনে রাখলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ আমাদের জন্য পাকা খেজুর বেছে আলাদা করে নিয়ে আসলে না কেন? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি ভাবলাম যে, আপনারা নিজেদের ইচ্ছামতো তাজা কিংবা পাকা খেজুর বেছে খাবেন, (এজন্য দুরকম খেজুরই পেশ করলাম)। তারপর তাঁরা খেজুর খেয়ে সেই পানি পান করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই মহান সত্তার শপথ! কিয়ামাত দিবসে এসব নিয়ামাত প্রসঙ্গেও তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। এই সুশীতল ছায়া, সুস্বাদু কাঁচা-পাকা খেজুর ও ঠান্ডা পানি (কতই না সুন্দর নিয়ামাত)। এরপর আবুল হাইসাম (রাঃ) তাঁদের জন্য খাবার তৈরী করতে চলে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলে দিলেন : কোন অবস্থাতেই দুধেল পশু যবাহ করবে না। কাজেই তিনি নবীন একটি নর ছাগল যবাহ করলেন এবং রান্না করে তাঁদের জন্য নিয়ে এলেন। তাঁরা তা খেলেন। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করলেন : তোমার কি কোন খাদিম আছে? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যখন আমার নিকট বন্দী আসবে তুমি তখন এসো। পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুটি গোলাম আসে। তাদের সাথে তৃতীয় কোন গোলাম ছিল না। আবুল হাইসাম (রাঃ) তাঁর নিকট এলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ এদের মধ্যে যেটা ভালো লাগে বেছে নাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনিই আমাকে একটি পছন্দ করে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় তাকে আমানাতদার হতে হয়। ঠিক আছে, তুমি এটাই নাও। কেননা, আমি একে নামায আদায় করতে দেখেছি। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তার সাথে উত্তম আচরণ করার জন্য। আবুল হাইসাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপদেশ প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে তাকে জানিয়ে দেন। তার স্ত্রী বললেন, এক মুক্ত করা ব্যতীত আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তব্যের মর্ম পর্যন্ত পৌছ্তে পারবেন না। তিনি বললেন, ঠিক আছে, সে এখন মুক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যত নবী ও খলীফা প্রেরণ করেছেন, তাদের সকলকেই দুজন করে একান্ত পরামর্শক দিয়েছেন। একজন সাথী তো তাকে ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকে এবং অন্যায় কাজে প্রতিহত করে। আর অন্যজন তাকে ধ্বংস করার কোন সুযোগই ছাড়ে না। যাকে এই অসৎ পরামর্শক হতে হিফাযাত করা হয়েছে তাকেই বাঁচানো হয়েছে। সহীহ্ , সহীহাহ্ (১৬৪১), মুখতাসার শামাইল (১১৩)।
حدثنا محمد بن إسماعيل، حدثنا آدم بن أبي إياس، حدثنا شيبان أبو معاوية، حدثنا عبد الملك بن عمير، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في ساعة لا يخرج فيها ولا يلقاه فيها أحد فأتاه أبو بكر فقال " ما جاء بك يا أبا بكر " . فقال خرجت ألقى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنظر في وجهه والتسليم عليه . فلم يلبث أن جاء عمر فقال " ما جاء بك يا عمر " . قال الجوع يا رسول الله قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وأنا قد وجدت بعض ذلك " . فانطلقوا إلى منزل أبي الهيثم بن التيهان الأنصاري وكان رجلا كثير النخل والشاء ولم يكن له خدم فلم يجدوه فقالوا لامرأته أين صاحبك فقالت انطلق يستعذب لنا الماء . فلم يلبثوا أن جاء أبو الهيثم بقربة يزعبها فوضعها ثم جاء يلتزم النبي صلى الله عليه وسلم ويفديه بأبيه وأمه ثم انطلق بهم إلى حديقته فبسط لهم بساطا ثم انطلق إلى نخلة فجاء بقنو فوضعه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أفلا تنقيت لنا من رطبه " . فقال يا رسول الله إني أردت أن تختاروا أو قال تخيروا من رطبه وبسره . فأكلوا وشربوا من ذلك الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا والذي نفسي بيده من النعيم الذي تسألون عنه يوم القيامة ظل بارد ورطب طيب وماء بارد " . فانطلق أبو الهيثم ليصنع لهم طعاما فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تذبحن ذات در " . قال فذبح لهم عناقا أو جديا فأتاهم بها فأكلوا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هل لك خادم " . قال لا . قال " فإذا أتانا سبى فائتنا " . فأتي النبي صلى الله عليه وسلم برأسين ليس معهما ثالث فأتاه أبو الهيثم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اختر منهما " . فقال يا نبي الله اختر لي . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " إن المستشار مؤتمن خذ هذا فإني رأيته يصلي واستوص به معروفا " . فانطلق أبو الهيثم إلى امرأته فأخبرها بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت امرأته ما أنت ببالغ ما قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم إلا أن تعتقه قال فهو عتيق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " إن الله لم يبعث نبيا ولا خليفة إلا وله بطانتان بطانة تأمره بالمعروف وتنهاه عن المنكر وبطانة لا تألوه خبالا ومن يوق بطانة السوء فقد وقي " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
জামে' আত-তিরমিজি > মনের ঐশ্বর্যই আসল ঐশ্বর্য
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭৩
حدثنا أحمد بن بديل بن قريش اليامي الكوفي، حدثنا أبو بكر بن عياش، عن أبي حصين، عن أبي صالح، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس الغنى عن كثرة العرض ولكن الغنى غنى النفس " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وأبو حصين اسمه عثمان بن عاصم الأسدي .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পার্থিব সম্পদের আধিক্য থাকলেই ঐশ্বর্যশালী হওয়া যায় না। মনের ঐশ্বর্যই আসল ঐশ্বর্য। সহীহ্ , ইবনু মা-জাহা (৪১৩৭), বুখারী, মুসলিম।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পার্থিব সম্পদের আধিক্য থাকলেই ঐশ্বর্যশালী হওয়া যায় না। মনের ঐশ্বর্যই আসল ঐশ্বর্য। সহীহ্ , ইবনু মা-জাহা (৪১৩৭), বুখারী, মুসলিম।
حدثنا أحمد بن بديل بن قريش اليامي الكوفي، حدثنا أبو بكر بن عياش، عن أبي حصين، عن أبي صالح، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس الغنى عن كثرة العرض ولكن الغنى غنى النفس " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وأبو حصين اسمه عثمان بن عاصم الأسدي .
জামে' আত-তিরমিজি > নিজের সম্পদ গ্রহণ করা
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭৪
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن سعيد المقبري، عن أبي الوليد، قال سمعت خولة بنت قيس، وكانت، تحت حمزة بن عبد المطلب تقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " إن هذا المال خضرة حلوة من أصابه بحقه بورك له فيه ورب متخوض فيما شاءت به نفسه من مال الله ورسوله ليس له يوم القيامة إلا النار " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وأبو الوليد اسمه عبيد سنوطى.
হামযা ইবনু আবদুল মুত্তালিবের স্ত্রী খাওলা বিনতু কাইস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : এ পার্থিব ধন-সম্পদ হলো সবুজ-শ্যামল, মনোরম ও মধুময়। যে লোক সঠিক পন্থায় তার প্রয়োজন মুতাবিক তা গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বারকাত দেয়া হয়। এমন অনেক লোক আছে, যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেয়া এই সম্পদ নিজেদের খুশি মুতাবিক ভোগ-ব্যবহার করে। কিয়ামাত দিবসে তাদের জন্য জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই নেই। সহীহ্ , সহীহাহ্ (১৫৯২), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪০১৭)।
হামযা ইবনু আবদুল মুত্তালিবের স্ত্রী খাওলা বিনতু কাইস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : এ পার্থিব ধন-সম্পদ হলো সবুজ-শ্যামল, মনোরম ও মধুময়। যে লোক সঠিক পন্থায় তার প্রয়োজন মুতাবিক তা গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বারকাত দেয়া হয়। এমন অনেক লোক আছে, যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেয়া এই সম্পদ নিজেদের খুশি মুতাবিক ভোগ-ব্যবহার করে। কিয়ামাত দিবসে তাদের জন্য জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই নেই। সহীহ্ , সহীহাহ্ (১৫৯২), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪০১৭)।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن سعيد المقبري، عن أبي الوليد، قال سمعت خولة بنت قيس، وكانت، تحت حمزة بن عبد المطلب تقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " إن هذا المال خضرة حلوة من أصابه بحقه بورك له فيه ورب متخوض فيما شاءت به نفسه من مال الله ورسوله ليس له يوم القيامة إلا النار " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وأبو الوليد اسمه عبيد سنوطى.
জামে' আত-তিরমিজি > দিরহাম ও দীনারের দাসগণ অভিশপ্ত
জামে' আত-তিরমিজি ২৩৭৫
حدثنا بشر بن هلال الصواف، حدثنا عبد الوارث بن سعيد، عن يونس، عن الحسن، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لعن عبد الدينار لعن عبد الدرهم " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه عن أبي صالح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أيضا أتم من هذا وأطول .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দীনার ও দিরহামের দাসগণ অভিশপ্ত। আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত বর্ণনায় হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটি অন্য সূত্রেও আবূ সালিহ হতে তিনি আবূ হুরাইরা হতে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপভাবে আরও পূর্ণ ও দীর্ঘ বর্ণিত হয়েছে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৮০)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দীনার ও দিরহামের দাসগণ অভিশপ্ত। আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত বর্ণনায় হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটি অন্য সূত্রেও আবূ সালিহ হতে তিনি আবূ হুরাইরা হতে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপভাবে আরও পূর্ণ ও দীর্ঘ বর্ণিত হয়েছে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৮০)
حدثنا بشر بن هلال الصواف، حدثنا عبد الوارث بن سعيد، عن يونس، عن الحسن، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لعن عبد الدينار لعن عبد الدرهم " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه عن أبي صالح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أيضا أتم من هذا وأطول .