জামে' আত-তিরমিজি > স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাঁড়িপাল্লা ও বালতি দর্শন
জামে' আত-তিরমিজি ২২৯২
حدثنا إبراهيم بن سعيد الجوهري البغدادي، حدثنا أبو اليمان، عن شعيب، وهو ابن أبي حمزة عن ابن أبي حسين، وهو عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين عن نافع بن جبير، عن ابن عباس، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رأيت في المنام كأن في يدى سوارين من ذهب فهمني شأنهما فأوحي إلى أن أنفخهما فنفختهما فطارا فأولتهما كاذبين يخرجان من بعدي يقال لأحدهما مسيلمة صاحب اليمامة والعنسي صاحب صنعاء " . قال هذا حديث صحيح حسن غريب .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি কোন একদিন স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে যেন দুটি স্বর্ণের চুড়ি। বিষয়টি আমাকে চিন্তিত করে তুললো। তারপর আমার নিকট ওয়াহী প্রেরিত হলো যে, আমি যেন ঐ দুটিতে ফুঁ দেই। আমি দুটিতে ফুঁ দেয়ার পর তা উড়ে চলে গেল। আমি চুড়ি দুটির এই ব্যাখ্যা করলাম যে, আমার পরে দুইজন মিথ্যাবাদী (নাবূওয়াতের দাবিদার) আত্মপ্রকাশ করবে। তারা হলোঃ মুসাইলামা নামে ইয়ামামার অধিবাসী এবং আল-আনাসী নামে সানআর (ইয়ামানের রাজধানী) অধিবাসী। সহীহ, বুখারী।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি কোন একদিন স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে যেন দুটি স্বর্ণের চুড়ি। বিষয়টি আমাকে চিন্তিত করে তুললো। তারপর আমার নিকট ওয়াহী প্রেরিত হলো যে, আমি যেন ঐ দুটিতে ফুঁ দেই। আমি দুটিতে ফুঁ দেয়ার পর তা উড়ে চলে গেল। আমি চুড়ি দুটির এই ব্যাখ্যা করলাম যে, আমার পরে দুইজন মিথ্যাবাদী (নাবূওয়াতের দাবিদার) আত্মপ্রকাশ করবে। তারা হলোঃ মুসাইলামা নামে ইয়ামামার অধিবাসী এবং আল-আনাসী নামে সানআর (ইয়ামানের রাজধানী) অধিবাসী। সহীহ, বুখারী।
حدثنا إبراهيم بن سعيد الجوهري البغدادي، حدثنا أبو اليمان، عن شعيب، وهو ابن أبي حمزة عن ابن أبي حسين، وهو عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين عن نافع بن جبير، عن ابن عباس، عن أبي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رأيت في المنام كأن في يدى سوارين من ذهب فهمني شأنهما فأوحي إلى أن أنفخهما فنفختهما فطارا فأولتهما كاذبين يخرجان من بعدي يقال لأحدهما مسيلمة صاحب اليمامة والعنسي صاحب صنعاء " . قال هذا حديث صحيح حسن غريب .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৮৭
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا الأنصاري، حدثنا أشعث، عن الحسن، عن أبي بكرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم " من رأى منكم رؤيا " . فقال رجل أنا رأيت كأن ميزانا نزل من السماء فوزنت أنت وأبو بكر فرجحت أنت بأبي بكر ووزن أبو بكر وعمر فرجح أبو بكر ووزن عمر وعثمان فرجح عمر ثم رفع الميزان . فرأينا الكراهية في وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কোন একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? জনৈক ব্যক্তি বলল, আমি স্বপ্নে দেখি যে, আকাশ হতে একটি দাঁড়িপাল্লা নেমে এলো। তারপর আপনাকে ও আবূ বাক্রকে ওজন করা হলো। আবূ বাক্রের চেয়ে আপনার ওজন ভারী হলো। তারপর আবূ বাক্র ও উমারকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে আবূ বাক্রের ওজন বেশি হলো। তারপর উমার ও উসমানকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে উমারের ওজন বেশি হলো। তারপর দাঁড়িপাল্লা উঠিয়ে নেয়া হলো। এমন সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০৫৭)।
আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কোন একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? জনৈক ব্যক্তি বলল, আমি স্বপ্নে দেখি যে, আকাশ হতে একটি দাঁড়িপাল্লা নেমে এলো। তারপর আপনাকে ও আবূ বাক্রকে ওজন করা হলো। আবূ বাক্রের চেয়ে আপনার ওজন ভারী হলো। তারপর আবূ বাক্র ও উমারকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে আবূ বাক্রের ওজন বেশি হলো। তারপর উমার ও উসমানকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে উমারের ওজন বেশি হলো। তারপর দাঁড়িপাল্লা উঠিয়ে নেয়া হলো। এমন সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০৫৭)।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا الأنصاري، حدثنا أشعث، عن الحسن، عن أبي بكرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم " من رأى منكم رؤيا " . فقال رجل أنا رأيت كأن ميزانا نزل من السماء فوزنت أنت وأبو بكر فرجحت أنت بأبي بكر ووزن أبو بكر وعمر فرجح أبو بكر ووزن عمر وعثمان فرجح عمر ثم رفع الميزان . فرأينا الكراهية في وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৮৮
حدثنا أبو موسى الأنصاري، حدثنا يونس بن بكير، حدثني عثمان بن عبد الرحمن، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ورقة فقالت له خديجة إنه كان صدقك ولكنه مات قبل أن تظهر . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " أريته في المنام وعليه ثياب بياض ولو كان من أهل النار لكان عليه لباس غير ذلك " . قال هذا حديث غريب . وعثمان بن عبد الرحمن ليس عند أهل الحديث بالقوي .
আইশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওয়ারাকা ইবনু নাওফল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় (তিনি কি জন্নাতী না জাহান্নামী)। খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বলেন, তিনি তো আপনাকে সত্য বলে সমর্থন করেছিলেন এবং আপনার নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মারা যান। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আমি তাকে সাদা পোশাক পরে থাকা অবস্থায় স্বপ্নে দেখেছি। তিনি জাহান্নামী হলে তার পরিধানে অন্য রংয়ের পোশাক থাকত। যঈফ, মিশকাত (৪৬২৩), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আর হাদীস বিশারদদের মতে উসমান ইবনু আবদুর রহমান খুব একটা মজবুত রাবী নন।
আইশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওয়ারাকা ইবনু নাওফল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় (তিনি কি জন্নাতী না জাহান্নামী)। খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বলেন, তিনি তো আপনাকে সত্য বলে সমর্থন করেছিলেন এবং আপনার নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মারা যান। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আমি তাকে সাদা পোশাক পরে থাকা অবস্থায় স্বপ্নে দেখেছি। তিনি জাহান্নামী হলে তার পরিধানে অন্য রংয়ের পোশাক থাকত। যঈফ, মিশকাত (৪৬২৩), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আর হাদীস বিশারদদের মতে উসমান ইবনু আবদুর রহমান খুব একটা মজবুত রাবী নন।
حدثنا أبو موسى الأنصاري، حدثنا يونس بن بكير، حدثني عثمان بن عبد الرحمن، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة، قالت سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ورقة فقالت له خديجة إنه كان صدقك ولكنه مات قبل أن تظهر . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " أريته في المنام وعليه ثياب بياض ولو كان من أهل النار لكان عليه لباس غير ذلك " . قال هذا حديث غريب . وعثمان بن عبد الرحمن ليس عند أهل الحديث بالقوي .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৯৩
حدثنا الحسين بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، قال كان أبو هريرة يحدث أن رجلا، جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال إني رأيت الليلة ظلة ينطف منها السمن والعسل ورأيت الناس يستقون بأيديهم فالمستكثر والمستقل ورأيت سببا واصلا من السماء إلى الأرض وأراك يا رسول الله أخذت به فعلوت ثم أخذ به رجل بعدك فعلا ثم أخذ به رجل بعده فعلا ثم أخذ به رجل فقطع به ثم وصل له فعلا به . فقال أبو بكر أى رسول الله بأبي أنت وأمي والله لتدعني أعبرها فقال " اعبرها " . فقال أما الظلة فظلة الإسلام وأما ما ينطف من السمن والعسل فهو القرآن لينه وحلاوته وأما المستكثر والمستقل فهو المستكثر من القرآن والمستقل منه وأما السبب الواصل من السماء إلى الأرض فهو الحق الذي أنت عليه فأخذت به فيعليك الله ثم يأخذ به بعدك رجل آخر فيعلو به ثم يأخذ به بعده رجل آخر فيعلو به ثم يأخذ رجل آخر فينقطع به ثم يوصل له فيعلو أى رسول الله لتحدثني أصبت أو أخطأت . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أصبت بعضا وأخطأت بعضا " قال أقسمت بأبي أنت وأمي لتخبرني ما الذي أخطأت . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تقسم " . قال هذا حديث حسن صحيح .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে কোন একজন লোক এসে বলল, আমি আজ রাতে একটি ছায়াযুক্ত মেঘ স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি এবং তা হতে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। লোকদের দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ অল্প। আমি আরো দেখতে পেলাম যে, আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনাকে দেখলাম যে, আপনি সেটা ধরে উপরে উঠে গেছেন, তারপর আরেকজন সেটা ধরে উঠে গেছে, তারপর আরেকজন ধরল এবং সেও উঠে গেল। তারপর অপর একজন ধরলে সেটা ছিড়ে গেল। আবার সেটা জোড়া লেগে গেল এবং সেও তা ধরে উঠে গেল। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহ্র শপথ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, এর তাবীর (ব্যাখ্যা) কর। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ছায়াযুক্ত মেঘ হলো ইসলামের ছায়া, পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআনের কোমলতা, সুমিষ্টতা ও মাধুর্য। আর বেশি ও কম লাভকারী হল কুরআন হতে বেশি ও কম লাভকারী। আকাশ হতে যমীন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি তা ধরে আছেন, আপনাকে এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলা উপরে তুলে নিয়েছেন। তারপর সেটা আরেকজন ধারণ করবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং রশি ছিঁড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! বলুন, আমি সঠিক বলেছি না তাতে ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সামান্য তো সঠিকই বলেছ আর সামান্য ভুল বলেছ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ্র কসম! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আমাকে বলুন আমি কোথায় ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কসম দিয়ে বলো না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯১৮), বুখারী, মুসলিম।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে কোন একজন লোক এসে বলল, আমি আজ রাতে একটি ছায়াযুক্ত মেঘ স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি এবং তা হতে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। লোকদের দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ অল্প। আমি আরো দেখতে পেলাম যে, আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনাকে দেখলাম যে, আপনি সেটা ধরে উপরে উঠে গেছেন, তারপর আরেকজন সেটা ধরে উঠে গেছে, তারপর আরেকজন ধরল এবং সেও উঠে গেল। তারপর অপর একজন ধরলে সেটা ছিড়ে গেল। আবার সেটা জোড়া লেগে গেল এবং সেও তা ধরে উঠে গেল। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহ্র শপথ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, এর তাবীর (ব্যাখ্যা) কর। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ছায়াযুক্ত মেঘ হলো ইসলামের ছায়া, পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআনের কোমলতা, সুমিষ্টতা ও মাধুর্য। আর বেশি ও কম লাভকারী হল কুরআন হতে বেশি ও কম লাভকারী। আকাশ হতে যমীন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি তা ধরে আছেন, আপনাকে এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলা উপরে তুলে নিয়েছেন। তারপর সেটা আরেকজন ধারণ করবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং রশি ছিঁড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! বলুন, আমি সঠিক বলেছি না তাতে ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সামান্য তো সঠিকই বলেছ আর সামান্য ভুল বলেছ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ্র কসম! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আমাকে বলুন আমি কোথায় ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কসম দিয়ে বলো না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯১৮), বুখারী, মুসলিম।
حدثنا الحسين بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، قال كان أبو هريرة يحدث أن رجلا، جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال إني رأيت الليلة ظلة ينطف منها السمن والعسل ورأيت الناس يستقون بأيديهم فالمستكثر والمستقل ورأيت سببا واصلا من السماء إلى الأرض وأراك يا رسول الله أخذت به فعلوت ثم أخذ به رجل بعدك فعلا ثم أخذ به رجل بعده فعلا ثم أخذ به رجل فقطع به ثم وصل له فعلا به . فقال أبو بكر أى رسول الله بأبي أنت وأمي والله لتدعني أعبرها فقال " اعبرها " . فقال أما الظلة فظلة الإسلام وأما ما ينطف من السمن والعسل فهو القرآن لينه وحلاوته وأما المستكثر والمستقل فهو المستكثر من القرآن والمستقل منه وأما السبب الواصل من السماء إلى الأرض فهو الحق الذي أنت عليه فأخذت به فيعليك الله ثم يأخذ به بعدك رجل آخر فيعلو به ثم يأخذ به بعده رجل آخر فيعلو به ثم يأخذ رجل آخر فينقطع به ثم يوصل له فيعلو أى رسول الله لتحدثني أصبت أو أخطأت . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " أصبت بعضا وأخطأت بعضا " قال أقسمت بأبي أنت وأمي لتخبرني ما الذي أخطأت . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تقسم " . قال هذا حديث حسن صحيح .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৯৪
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا وهب بن جرير بن حازم، عن أبيه، عن أبي رجاء، عن سمرة بن جندب، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا صلى بنا الصبح أقبل على الناس بوجهه وقال " هل رأى أحد منكم الليلة رؤيا " . قال هذا حديث حسن صحيح . ويروى هذا الحديث عن عوف وجرير بن حازم عن أبي رجاء عن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في قصة طويلة . قال وهكذا روى محمد بن بشار هذا الحديث عن وهب بن جرير مختصرا .
সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায়ের পর লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করতেনঃ আজ রাতে তোমাদের মধ্যে কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৯৮-১৯৯), বুখারী।
সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায়ের পর লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করতেনঃ আজ রাতে তোমাদের মধ্যে কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৯৮-১৯৯), বুখারী।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا وهب بن جرير بن حازم، عن أبيه، عن أبي رجاء، عن سمرة بن جندب، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا صلى بنا الصبح أقبل على الناس بوجهه وقال " هل رأى أحد منكم الليلة رؤيا " . قال هذا حديث حسن صحيح . ويروى هذا الحديث عن عوف وجرير بن حازم عن أبي رجاء عن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في قصة طويلة . قال وهكذا روى محمد بن بشار هذا الحديث عن وهب بن جرير مختصرا .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৮৯
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عاصم، أخبرنا ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر قال " رأيت الناس اجتمعوا فنزع أبو بكر ذنوبا أو ذنوبين فيه ضعف والله يغفر له ثم قام عمر فنزع فاستحالت غربا فلم أر عبقريا يفري فريه حتى ضرب الناس بعطن " . قال وفي الباب عن أبي هريرة . وهذا حديث صحيح غريب من حديث ابن عمر .
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ) এর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি জনগণকে সমবেত হতে দেখলাম। আবূ বাক্র এক বালতি কি দুই বালতি পানি তুললো। তার মধ্যে সামান্য দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার দাঁড়ালো এবং পানি তুলতে লাগল। বালতিটি বেশ বিরাট আকার ধারণ করল। তার মতো করে কোন শক্তিশালী ব্যক্তিকে আমি কাজ করতে দেখিনি। আর সে এত পানি তুললো যে, লোকেরা তাদের উটের পানির চৌবাচ্চা পূর্ণ করে নিল। সহীহ, বুখারী, মুসলিম।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ) এর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি জনগণকে সমবেত হতে দেখলাম। আবূ বাক্র এক বালতি কি দুই বালতি পানি তুললো। তার মধ্যে সামান্য দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার দাঁড়ালো এবং পানি তুলতে লাগল। বালতিটি বেশ বিরাট আকার ধারণ করল। তার মতো করে কোন শক্তিশালী ব্যক্তিকে আমি কাজ করতে দেখিনি। আর সে এত পানি তুললো যে, লোকেরা তাদের উটের পানির চৌবাচ্চা পূর্ণ করে নিল। সহীহ, বুখারী, মুসলিম।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عاصم، أخبرنا ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر قال " رأيت الناس اجتمعوا فنزع أبو بكر ذنوبا أو ذنوبين فيه ضعف والله يغفر له ثم قام عمر فنزع فاستحالت غربا فلم أر عبقريا يفري فريه حتى ضرب الناس بعطن " . قال وفي الباب عن أبي هريرة . وهذا حديث صحيح غريب من حديث ابن عمر .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৯০
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عاصم، حدثنا ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، صلى الله عليه وسلم قال " رأيت امرأة سوداء ثائرة الرأس خرجت من المدينة حتى قامت بمهيعة وهي الجحفة وأولتها وباء المدينة ينقل إلى الجحفة " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب .
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্ন দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি এলোমেলো চুল ওয়ালা এক কালো মহিলাকে মাদীনা হতে বের হয়ে মাহ্ইয়াআহ-তে গিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। মাহ্ইয়াআহ হলো জুহ্ফা। তারপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি যে, মাদীনার মহামারী জুহ্ফাতে স্থানান্তরিত হলো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯২৪), বুখারী।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্ন দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি এলোমেলো চুল ওয়ালা এক কালো মহিলাকে মাদীনা হতে বের হয়ে মাহ্ইয়াআহ-তে গিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। মাহ্ইয়াআহ হলো জুহ্ফা। তারপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি যে, মাদীনার মহামারী জুহ্ফাতে স্থানান্তরিত হলো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯২৪), বুখারী।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عاصم، حدثنا ابن جريج، أخبرني موسى بن عقبة، أخبرني سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، عن رؤيا النبي، صلى الله عليه وسلم قال " رأيت امرأة سوداء ثائرة الرأس خرجت من المدينة حتى قامت بمهيعة وهي الجحفة وأولتها وباء المدينة ينقل إلى الجحفة " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب .
জামে' আত-তিরমিজি ২২৯১
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن أيوب، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " في آخر الزمان لا تكاد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثا والرؤيا ثلاث الحسنة بشرى من الله والرؤيا يحدث الرجل بها نفسه والرؤيا تحزين من الشيطان فإذا رأى أحدكم رؤيا يكرهها فلا يحدث بها أحدا وليقم فليصل " . قال أبو هريرة " يعجبني القيد وأكره الغل القيد ثبات في الدين " . قال وقال النبي صلى الله عليه وسلم " رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة " . قال أبو عيسى وقد روى عبد الوهاب الثقفي هذا الحديث عن أيوب مرفوعا ورواه حماد بن زيد عن أيوب ووقفه .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শেষ যামানায় মু’মিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে অধিক সত্যবাদীর স্বপ্নই বেশি সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ হতে সুসংবাদ, (২) স্বপ্নের আকারে ব্যক্তির মনের চিন্তা-ভাবনা ও (৩) শাইতানের পক্ষ হতে দুশ্চিন্তায় ফেলার স্বপ্ন। কাজেই তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন তা অন্যের নিকট প্রকাশ না করে বরং সে যেন তখন উঠে গিয়ে নামায আদায় করে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, (স্বপ্নে পায়ে) শৃংখল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং গলায় শৃংখল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃংখল দেখা হলো দ্বীনের উপর সুদৃঢ়তার প্রতীক। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নাবূওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। সহীহ, দেখুন ২২৮০ নং হাদীস।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শেষ যামানায় মু’মিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে অধিক সত্যবাদীর স্বপ্নই বেশি সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ হতে সুসংবাদ, (২) স্বপ্নের আকারে ব্যক্তির মনের চিন্তা-ভাবনা ও (৩) শাইতানের পক্ষ হতে দুশ্চিন্তায় ফেলার স্বপ্ন। কাজেই তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন তা অন্যের নিকট প্রকাশ না করে বরং সে যেন তখন উঠে গিয়ে নামায আদায় করে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, (স্বপ্নে পায়ে) শৃংখল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং গলায় শৃংখল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃংখল দেখা হলো দ্বীনের উপর সুদৃঢ়তার প্রতীক। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নাবূওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। সহীহ, দেখুন ২২৮০ নং হাদীস।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن أيوب، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " في آخر الزمان لا تكاد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثا والرؤيا ثلاث الحسنة بشرى من الله والرؤيا يحدث الرجل بها نفسه والرؤيا تحزين من الشيطان فإذا رأى أحدكم رؤيا يكرهها فلا يحدث بها أحدا وليقم فليصل " . قال أبو هريرة " يعجبني القيد وأكره الغل القيد ثبات في الدين " . قال وقال النبي صلى الله عليه وسلم " رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة " . قال أبو عيسى وقد روى عبد الوهاب الثقفي هذا الحديث عن أيوب مرفوعا ورواه حماد بن زيد عن أيوب ووقفه .