জামে' আত-তিরমিজি > তালাকের সুন্নাত পদ্ধতি

জামে' আত-তিরমিজি ১১৭৫

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏‏ لاَ تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا وَمِنْكَ قَالَ ‏"‏ وَمِنِّي وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُهُمْ فِي مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ ‏.‏ وَسَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ خَشْرَمٍ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي أَسْلَمُ أَنَا مِنْهُ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ وَالشَّيْطَانُ لاَ يُسْلِمُ ‏.‏ وَ ‏"‏ لاَ تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ ‏"‏ وَالْمُغِيبَةُ الْمَرْأَةُ الَّتِي يَكُونُ زَوْجُهَا غَائِبًا وَالْمُغِيبَاتُ جَمَاعَةُ الْمُغِيبَةِ ‏.‏"

ইউনুস ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, এক লোক তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বললেন, তুমি কি আবদুল্লাহ ইবনু উমারকে চেন? সে তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উমার (রাঃ) (এর বিধান প্রসঙ্গে) প্রশ্ন করেন। তিনি তাকে নিজ স্ত্রীকে ফেরত নিতে হুকুম দিলেন। বর্ণনাকারী উমার (রাঃ) বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে) প্রশ্ন করলাম, এ তালাকও কি গণনা করা হবে? তিনি বললেনঃ কেন হবে না! তুমি কি মনে কর, যদি কোন লোক অপারগ হয় বা আহম্মকি করে (তাতে কি তালাক কার্যকর হবে না)। সহীহ্‌, ইবনু মাজাহ- (২০২২), বুখারী, মুসলিম


জামে' আত-তিরমিজি ১১৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ‏" ‏ ‏‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏‏

সালিম (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্নিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তার স্ত্রীকে হায়িয থাকা অবস্থায় তালাক দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট উমর (রাঃ) এর বিধান জানতে চাইলেন। তিনি বললেনঃ তাকে তার স্ত্রীকে ফিরত নেওয়ার হুকুম দাও। অতঃপর সে যেন তাকে তুহরে (পবিত্র অবস্থা চলাকালে) অথবা গর্ভাবস্থায় তালাক দেয়। সহীহ্‌, ইবনু মাজাহ- (২০২৩), মুসলিম


জামে' আত-তিরমিজি > যে ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে বায়িন তালাক দিয়েছে

জামে' আত-তিরমিজি ১১৭৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ لاَ تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا إِلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ لاَ تُؤْذِيهِ قَاتَلَكِ اللَّهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا ‏" ‏ ‏‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏‏ وَرِوَايَةُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنِ الشَّامِيِّينَ أَصْلَحُ وَلَهُ عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْعِرَاقِ مَنَاكِيرُ ‏‏

‘আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু রুকানা(রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সুত্রে থেকে বর্নিতঃ

তিনি (রুকানা) বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার স্ত্রীকে কাটাছিঁড়া (বাত্তা শব্দে) তালাক দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন করেনঃ এটা দ্বারা তোমার কি উদ্দেশ্য ছিল? আমি বললাম, এক তালাক। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলার শপথ! আমি বললাম, আল্লাহ তা’আলার শপথ (সত্য বলছি)। তিনি বললেনঃ তোমার যা উদ্দেশ্য ছিল তাই হয়েছে। যঈফ, ইবনু মাজাহ(২০৫১), আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সুত্রেই জেনেছি। আমি এই হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বললেন এর সনদে অস্থিরতা আছে। ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণিত আছে যে, রুকানা তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী ও অপারাপর আলিমদের মধ্যে ‘সোজাসুজি ও নিশ্চিত (বাত্তা) তালাক’ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। উমার (রাঃ) বাত্তা তালাককে এক তালাক গন্য করেছেন কিন্তু আলী (রাঃ) এটাকে তিন তালাক গন্য করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, এটা তালাক প্রদানকারীর নিয়াতের উপর নির্ভর করবে। সে এক তালাক এর নিয়াত করলে এক তালাক বলবৎ হবে, তিন তালাক এর নিয়াত করলে তিন তালাক বলবৎ হবে এবং দুই তালাকের নিয়াত করলে এক তালাক বলবৎ হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের এই মত। ইমাম মালিক বলেছেন, সে স্ত্রীর সাথে (বিয়ের পর) সহবাস করে থাকলে বাত্তা তালাক এর মাধ্যমে তিন তালাকই বলবৎ হবে। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, সে এক তালাক এর নিয়াত করলে এক তালাক, দুই তালাক এর নিয়াত করেলে দুই তালাক এবং তিন তালাক এর নিয়াত করলে তিন তালাকই বলবৎ হবে।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية