সুনান নাসাঈ > যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে, তার ‘হালাল’ (ইদ্দত শেষ) না হওয়া পর্যন্ত নিজ ঘরে অবস্থান করা
সুনান নাসাঈ ৩৫৩০
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا حماد، عن سعد بن إسحق، عن زينب، عن فريعة: أن زوجها خرج في طلب أعلاج له فقتل بطرف القدوم، قالت: فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم، فذكرت له النقلة إلى أهلي، وذكرت له حالا من حالها، قالت: فرخص لي، فلما أقبلت ناداني فقال: «امكثي في أهلك حتى يبلغ الكتاب أجله»
ফুরায়’আ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হয়ে কাদুমের প্রান্তে নিহত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত আমার পরিবারের লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলাম। এবং সে তাঁর নিজের কিছু অবস্থা বর্ণনা করল। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। যখন আমি রওনা হলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তোমার স্বামীর ঘরেই থাক।
ফুরায়’আ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হয়ে কাদুমের প্রান্তে নিহত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত আমার পরিবারের লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলাম। এবং সে তাঁর নিজের কিছু অবস্থা বর্ণনা করল। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। যখন আমি রওনা হলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তোমার স্বামীর ঘরেই থাক।
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا حماد، عن سعد بن إسحق، عن زينب، عن فريعة: أن زوجها خرج في طلب أعلاج له فقتل بطرف القدوم، قالت: فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم، فذكرت له النقلة إلى أهلي، وذكرت له حالا من حالها، قالت: فرخص لي، فلما أقبلت ناداني فقال: «امكثي في أهلك حتى يبلغ الكتاب أجله»
সুনান নাসাঈ ৩৫২৯
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا الليث، عن يزيد بن أبي حبيب، عن يزيد بن محمد، عن سعد بن إسحق، عن عمته زينب بنت كعب، عن الفريعة بنت مالك: أن زوجها تكارى علوجا ليعملوا له فقتلوه، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقالت: إني لست في مسكن له ولا يجري علي منه رزق، أفأنتقل إلى أهلي ويتاماي وأقوم عليهم؟ قال «افعلي»، ثم قال: «كيف قلت؟» فأعادت عليه قولها، قال: «اعتدي حيث بلغك الخبر»
ফুরায়’আ বিন্ত মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী অনারব গোলামদেরকে তার কাজের শ্রমিকরূপে নিয়োগ করেছিলেন। তারা তাকে হত্যা করলে তিনি এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট পৌঁছিয়ে বললেন, আমি তার কোন ঘরে অবস্থান করছি না (আমার স্বামীর কোন ঘরও নেই) এবং তিনি খোরপোষের কোন ব্যবস্থাও করে যাননি। আমি, আমার পরিবারের লোকের নিকট গিয়ে আমার ইয়াতীম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি? তিনি তাকে বললেনঃ তুমি এরুপ করতে পার। এরপর তিনি বললেনঃ কী বলেছিলে? তখন সে যা বলেছিল, তা আবার বললো। তিনি বললেনঃ ইদ্দত ঐ স্থানেই পালন কর, যেখানে (তোমার স্বামীর মৃত্যুর) সংবাদ তোমার কাছে পৌঁছেছে।
ফুরায়’আ বিন্ত মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী অনারব গোলামদেরকে তার কাজের শ্রমিকরূপে নিয়োগ করেছিলেন। তারা তাকে হত্যা করলে তিনি এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট পৌঁছিয়ে বললেন, আমি তার কোন ঘরে অবস্থান করছি না (আমার স্বামীর কোন ঘরও নেই) এবং তিনি খোরপোষের কোন ব্যবস্থাও করে যাননি। আমি, আমার পরিবারের লোকের নিকট গিয়ে আমার ইয়াতীম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি? তিনি তাকে বললেনঃ তুমি এরুপ করতে পার। এরপর তিনি বললেনঃ কী বলেছিলে? তখন সে যা বলেছিল, তা আবার বললো। তিনি বললেনঃ ইদ্দত ঐ স্থানেই পালন কর, যেখানে (তোমার স্বামীর মৃত্যুর) সংবাদ তোমার কাছে পৌঁছেছে।
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا الليث، عن يزيد بن أبي حبيب، عن يزيد بن محمد، عن سعد بن إسحق، عن عمته زينب بنت كعب، عن الفريعة بنت مالك: أن زوجها تكارى علوجا ليعملوا له فقتلوه، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقالت: إني لست في مسكن له ولا يجري علي منه رزق، أفأنتقل إلى أهلي ويتاماي وأقوم عليهم؟ قال «افعلي»، ثم قال: «كيف قلت؟» فأعادت عليه قولها، قال: «اعتدي حيث بلغك الخبر»
সুনান নাসাঈ ৩৫২৮
أخبرنا محمد بن العلاء، قال: حدثنا ابن إدريس، عن شعبة، وابن جريج، ويحيى بن سعيد، ومحمد بن إسحق، عن سعد بن إسحق، عن زينب بنت كعب، عن الفارعة بنت مالك: أن زوجها خرج في طلب أعلاج فقتلوه، - قال شعبة، وابن جريج - وكانت في دار قاصية، فجاءت ومعها أخوها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكروا له فرخص لها، حتى إذا رجعت دعاها فقال: «اجلسي في بيتك حتى يبلغ الكتاب أجله»
ফারিআ বিন্ত মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শু’বা এবং ইব্ন জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ তার (মহিলার) ঘর ছিল জনবসতি হতে দূরে। পরে সে তার ভাইকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হল এবং লোকেরা তাঁর কাছে অবস্থা বর্ণনা করলো। তিনি তাকে (অন্য ঘরে বাস করার) অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাক, যতক্ষণ না (ইদ্দতের) বিধান পূর্ণ হয়।
ফারিআ বিন্ত মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শু’বা এবং ইব্ন জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ তার (মহিলার) ঘর ছিল জনবসতি হতে দূরে। পরে সে তার ভাইকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হল এবং লোকেরা তাঁর কাছে অবস্থা বর্ণনা করলো। তিনি তাকে (অন্য ঘরে বাস করার) অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাক, যতক্ষণ না (ইদ্দতের) বিধান পূর্ণ হয়।
أخبرنا محمد بن العلاء، قال: حدثنا ابن إدريس، عن شعبة، وابن جريج، ويحيى بن سعيد، ومحمد بن إسحق، عن سعد بن إسحق، عن زينب بنت كعب، عن الفارعة بنت مالك: أن زوجها خرج في طلب أعلاج فقتلوه، - قال شعبة، وابن جريج - وكانت في دار قاصية، فجاءت ومعها أخوها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكروا له فرخص لها، حتى إذا رجعت دعاها فقال: «اجلسي في بيتك حتى يبلغ الكتاب أجله»
সুনান নাসাঈ > যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে যেখানে চায়, সেখানে ইদ্দত পালনের অনুমতি
সুনান নাসাঈ ৩৫৩১
أخبرني محمد بن إسمعيل بن إبراهيم، قال: حدثنا يزيد، قال: حدثنا ورقاء، عن ابن أبي نجيح، قال عطاء: عن ابن عباس: «نسخت هذه الآية عدتها في أهلها فتعتد حيث شاءت»، وهو قول الله عز وجل: {غير إخراج} [البقرة: 240]
ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(যে আয়াতে বলা হয়েছে “স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করবে”) এই আয়াত এখন মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এখন তার জন্য যেখানে ইচ্ছা সেখানে থেকে ইদ্দত পূর্ণ করার ইখ্তিয়ার আছে। মহান মহিয়ান আল্লাহ্র কালামঃ [আরবি] (আয়াত) তা রহিত করেছে।১
ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(যে আয়াতে বলা হয়েছে “স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করবে”) এই আয়াত এখন মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এখন তার জন্য যেখানে ইচ্ছা সেখানে থেকে ইদ্দত পূর্ণ করার ইখ্তিয়ার আছে। মহান মহিয়ান আল্লাহ্র কালামঃ [আরবি] (আয়াত) তা রহিত করেছে।১
أخبرني محمد بن إسمعيل بن إبراهيم، قال: حدثنا يزيد، قال: حدثنا ورقاء، عن ابن أبي نجيح، قال عطاء: عن ابن عباس: «نسخت هذه الآية عدتها في أهلها فتعتد حيث شاءت»، وهو قول الله عز وجل: {غير إخراج} [البقرة: 240]
সুনান নাসাঈ > যার স্বামী মারা গিয়েছে সে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির দিন হতে ইদ্দত পালন করবে
সুনান নাসাঈ ৩৫৩২
أخبرنا إسحق بن منصور، قال: حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن سعد بن إسحق، قال: حدثتني زينب بنت كعب، قالت: حدثتني فريعة بنت مالك، أخت أبي سعيد الخدري، قالت: توفي زوجي بالقدوم، فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت له إن دارنا شاسعة، فأذن لها، ثم دعاها فقال: «امكثي في بيتك أربعة أشهر وعشرا حتى يبلغ الكتاب أجله»
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমার স্বামী কাদুম নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমার ঘর লোকালয় হতে বহু দূরে অবস্থিত। তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে থাকার অনুমতি দান করলেন। এরপর ডেকে বললেনঃ নিজের (স্বামীর) ঘরেই চার মাস দশ দিন অতিবাহিত কর, তাহলে ইদ্দত পূর্ণ হবে।
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমার স্বামী কাদুম নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমার ঘর লোকালয় হতে বহু দূরে অবস্থিত। তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে থাকার অনুমতি দান করলেন। এরপর ডেকে বললেনঃ নিজের (স্বামীর) ঘরেই চার মাস দশ দিন অতিবাহিত কর, তাহলে ইদ্দত পূর্ণ হবে।
أخبرنا إسحق بن منصور، قال: حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن سعد بن إسحق، قال: حدثتني زينب بنت كعب، قالت: حدثتني فريعة بنت مالك، أخت أبي سعيد الخدري، قالت: توفي زوجي بالقدوم، فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت له إن دارنا شاسعة، فأذن لها، ثم دعاها فقال: «امكثي في بيتك أربعة أشهر وعشرا حتى يبلغ الكتاب أجله»
সুনান নাসাঈ > মুসলমান নারীর স্বামীর শোকপালনে সাজসজ্জা ত্যাগ করা, (ইয়াহুদী-খিস্টানের জন্য নয়)
সুনান নাসাঈ ৩৫৩৩
أخبرنا محمد بن سلمة، والحارث بن مسكين - قراءة عليه وأنا أسمع واللفظ له -، قال: أنبأنا ابن القاسم، عن مالك، عن عبد الله بن أبي بكر، عن حميد بن نافع، عن زينب بنت أبي سلمة، أنها أخبرته - بهذه الأحاديث الثلاثة -، قالت زينب: دخلت على أم حبيبة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين توفي أبوها أبو سفيان بن حرب، فدعت أم حبيبة بطيب فدهنت منه جارية، ثم مست بعارضيها، ثم قالت: والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث ليال، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا» قالت زينب: ثم دخلت على زينب بنت جحش، حين توفي أخوها وقد دعت بطيب ومست منه، ثم قالت: والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول على المنبر: «لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث ليال، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا»
যয়নাব বিন্ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ) –এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান (রাঃ) ইব্ন হারব ইন্তিকাল করেন। এ সময় উম্মু হাবীবা (রাঃ) সুগন্ধি আনান। তিনি তা বাঁদীর গায়ে লাগান, পরে নিজে তা নিজের চেহারায় মাখলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্র শপথ! এখন আমার সুগন্ধি লাগাবার কোন প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয নয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। এরপর আমি যয়নাব বিন্ত জাহশ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর ভাই ইন্তিকাল করেছিল। তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তা লাগিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্র শপথ! এখন আমার সুগন্ধির প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে মিম্বরে (দাঁড়িয়ে) বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয হয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। যয়নাব (রাঃ) বলেনঃ আমি উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে ব্যথা, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি। তিনি বললেনঃ (সুরমা লাগাবে) না। এখন তো শুধু চার মাস দশদিন (শোক করতে হয়,) অথচ জাহিলী যুগে এরূপ নারী এক বছর পর গোবর ছুঁড়ে মারত। হুমায়দ ইব্ন নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি যয়নাব (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ গোবর ছুঁড়ে মারার অর্থ কী? যয়নাব (রাঃ) বর্ণনা করলেন, জাহিলী যুগে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, সে নারী একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রবেশ করতো। আর সে নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করতো, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সে কোন প্রকার সুগন্ধি লাগাতো না। এক বছর পর গাধা, বকরী অথবা কোন পাখি তার কাছে আনা হতো। পরে সে তা তার লজ্জা স্থানে মর্দন করতো, ফলে ঐ প্রাণী মারা যেত। তারপর সে বের হত। এরপর তাকে উটের গোবর দেয়া হতো এবং সে তা ছুঁড়ে মারত। পরে সুগন্ধি মাখতো, অথবা মনে যা চাইতো, তা করতো।
যয়নাব বিন্ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ) –এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান (রাঃ) ইব্ন হারব ইন্তিকাল করেন। এ সময় উম্মু হাবীবা (রাঃ) সুগন্ধি আনান। তিনি তা বাঁদীর গায়ে লাগান, পরে নিজে তা নিজের চেহারায় মাখলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্র শপথ! এখন আমার সুগন্ধি লাগাবার কোন প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয নয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। এরপর আমি যয়নাব বিন্ত জাহশ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর ভাই ইন্তিকাল করেছিল। তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তা লাগিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্র শপথ! এখন আমার সুগন্ধির প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে মিম্বরে (দাঁড়িয়ে) বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয হয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। যয়নাব (রাঃ) বলেনঃ আমি উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে ব্যথা, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি। তিনি বললেনঃ (সুরমা লাগাবে) না। এখন তো শুধু চার মাস দশদিন (শোক করতে হয়,) অথচ জাহিলী যুগে এরূপ নারী এক বছর পর গোবর ছুঁড়ে মারত। হুমায়দ ইব্ন নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি যয়নাব (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ গোবর ছুঁড়ে মারার অর্থ কী? যয়নাব (রাঃ) বর্ণনা করলেন, জাহিলী যুগে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, সে নারী একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রবেশ করতো। আর সে নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করতো, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সে কোন প্রকার সুগন্ধি লাগাতো না। এক বছর পর গাধা, বকরী অথবা কোন পাখি তার কাছে আনা হতো। পরে সে তা তার লজ্জা স্থানে মর্দন করতো, ফলে ঐ প্রাণী মারা যেত। তারপর সে বের হত। এরপর তাকে উটের গোবর দেয়া হতো এবং সে তা ছুঁড়ে মারত। পরে সুগন্ধি মাখতো, অথবা মনে যা চাইতো, তা করতো।
أخبرنا محمد بن سلمة، والحارث بن مسكين - قراءة عليه وأنا أسمع واللفظ له -، قال: أنبأنا ابن القاسم، عن مالك، عن عبد الله بن أبي بكر، عن حميد بن نافع، عن زينب بنت أبي سلمة، أنها أخبرته - بهذه الأحاديث الثلاثة -، قالت زينب: دخلت على أم حبيبة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين توفي أبوها أبو سفيان بن حرب، فدعت أم حبيبة بطيب فدهنت منه جارية، ثم مست بعارضيها، ثم قالت: والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث ليال، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا» قالت زينب: ثم دخلت على زينب بنت جحش، حين توفي أخوها وقد دعت بطيب ومست منه، ثم قالت: والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول على المنبر: «لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحد على ميت فوق ثلاث ليال، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا»