সুনান নাসাঈ > যে হজ্জের ইহ্রাম বেঁধেছে এবং 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সাথে এনেছে, তার কী করনীয়
সুনান নাসাঈ ২৯৯০
أخبرنا محمد بن رافع، عن يحيى وهو ابن آدم عن سفيان وهو ابن عيينة قال: حدثني عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، قالت: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا نرى إلا الحج، قالت: فلما أن طاف بالبيت وبين الصفا والمروة قال: «من كان معه هدي فليقم على إحرامه، ومن لم يكن معه هدي، فليحلل»
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা হজ্জের নিয়্যতেই রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হই। যখন তিনি বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন, তখন বললেন : যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, সে তার ইহরামে স্থির থাকবে। আর যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) নেই, সে হালাল হয়ে যাবে।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা হজ্জের নিয়্যতেই রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হই। যখন তিনি বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন, তখন বললেন : যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, সে তার ইহরামে স্থির থাকবে। আর যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) নেই, সে হালাল হয়ে যাবে।
أخبرنا محمد بن رافع، عن يحيى وهو ابن آدم عن سفيان وهو ابن عيينة قال: حدثني عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة، قالت: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا نرى إلا الحج، قالت: فلما أن طاف بالبيت وبين الصفا والمروة قال: «من كان معه هدي فليقم على إحرامه، ومن لم يكن معه هدي، فليحلل»
সুনান নাসাঈ > যে ব্যক্তি উমরার ইহ্রাম বেঁধেছে এবং 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সঙ্গে এনেছে সে কি করবে?
সুনান নাসাঈ ২৯৯১
أخبرنا محمد بن حاتم، قال: أنبأنا سويد، قال: أنبأنا عبد الله، عن يونس، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، قالت: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، فمنا من أهل بالحج، ومنا من أهل بعمرة وأهدى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أهل بعمرة ولم يهد فليحلل، ومن أهل بعمرة فأهدى فلا يحل، ومن أهل بحجة فليتم حجه» قالت عائشة: وكنت ممن أهل بعمرة
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা বিদায় হজ্জে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ তো হজ্জের ইহ্রাম করে, আর কেউ কেউ উমরার ইহ্রাম করে এবং 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সঙ্গে নেয়। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে উমরার ইহ্রাম করেছে, আর কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, সে হালাল হয়ে যাবে। আর যে উমরার ইহ্রাম করেছে ও 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সঙ্গে এনেছে, সে হালাল হবে না। আর যে হজ্জের ইহ্রাম করেছে সে তার হজ্জ পূর্ণ করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন : আমি ঐ সকল লোকের মধ্যে ছিলাম, যারা উমরার ইহ্রাম করেছিল।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা বিদায় হজ্জে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ তো হজ্জের ইহ্রাম করে, আর কেউ কেউ উমরার ইহ্রাম করে এবং 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সঙ্গে নেয়। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে উমরার ইহ্রাম করেছে, আর কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, সে হালাল হয়ে যাবে। আর যে উমরার ইহ্রাম করেছে ও 'হাদী' (কুরবানীর পশু) সঙ্গে এনেছে, সে হালাল হবে না। আর যে হজ্জের ইহ্রাম করেছে সে তার হজ্জ পূর্ণ করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন : আমি ঐ সকল লোকের মধ্যে ছিলাম, যারা উমরার ইহ্রাম করেছিল।
أخبرنا محمد بن حاتم، قال: أنبأنا سويد، قال: أنبأنا عبد الله، عن يونس، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عائشة، قالت: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، فمنا من أهل بالحج، ومنا من أهل بعمرة وأهدى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أهل بعمرة ولم يهد فليحلل، ومن أهل بعمرة فأهدى فلا يحل، ومن أهل بحجة فليتم حجه» قالت عائشة: وكنت ممن أهل بعمرة
সুনান নাসাঈ ২৯৯২
أخبرنا محمد بن عبد الله بن المبارك، قال: حدثنا أبو هشام، قال: حدثنا وهيب بن خالد، عن منصور بن عبد الرحمن، عن أمه، عن أسماء بنت أبي بكر، قالت: قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج، فلما دنونا من مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لم يكن معه هدي فليحلل، ومن كان معه هدي فليقم على إحرامه» قالت: " وكان مع الزبير هدي، فأقام على إحرامه، ولم يكن معي هدي فأحللت، فلبست ثيابي وتطيبت من طيبي، ثم جلست إلى الزبير فقال: استأخري عني، فقلت: أتخشى أن أثب عليك "
আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা হজ্জের ইহ্রাম করে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়, আর যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, সে তার ইহ্রামের উপর স্থির থাকবে। আসমা (রাঃ) বলেন : যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) থাকায় তিনি তাঁর ইহ্রামে স্থির থাকেন। আর আমার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) না থাকায় আমি হালাল হয়ে যাই। আমি আমার পোশাক পরিধান করি, সুগন্ধি ব্যবহার করি এবং যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে বসি। তিনি বললেন : আমার থেকে দূরে থাক। আমি বলি : তুমি কি ভয় করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বো?
আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : আমরা হজ্জের ইহ্রাম করে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়, আর যার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, সে তার ইহ্রামের উপর স্থির থাকবে। আসমা (রাঃ) বলেন : যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) থাকায় তিনি তাঁর ইহ্রামে স্থির থাকেন। আর আমার সাথে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) না থাকায় আমি হালাল হয়ে যাই। আমি আমার পোশাক পরিধান করি, সুগন্ধি ব্যবহার করি এবং যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে বসি। তিনি বললেন : আমার থেকে দূরে থাক। আমি বলি : তুমি কি ভয় করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বো?
أخبرنا محمد بن عبد الله بن المبارك، قال: حدثنا أبو هشام، قال: حدثنا وهيب بن خالد، عن منصور بن عبد الرحمن، عن أمه، عن أسماء بنت أبي بكر، قالت: قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج، فلما دنونا من مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لم يكن معه هدي فليحلل، ومن كان معه هدي فليقم على إحرامه» قالت: " وكان مع الزبير هدي، فأقام على إحرامه، ولم يكن معي هدي فأحللت، فلبست ثيابي وتطيبت من طيبي، ثم جلست إلى الزبير فقال: استأخري عني، فقلت: أتخشى أن أثب عليك "
সুনান নাসাঈ > ইয়াওমুত্ তারবিয়া১ - এর আগে খুতবা
সুনান নাসাঈ ২৯৯৩
أخبرنا إسحق بن إبراهيم، قال: قرأت على أبي قرة موسى بن طارق، عن ابن جريج، قال: حدثني عبد الله بن عثمان بن خثيم، عن أبي الزبير، عن جابر " أن النبي صلى الله عليه وسلم، حين رجع من عمرة الجعرانة بعث أبا بكر على الحج فأقبلنا معه، حتى إذا كان بالعرج ثوب بالصبح، ثم استوى ليكبر فسمع الرغوة خلف ظهره، فوقف على التكبير، فقال: هذه رغوة ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم الجدعاء، لقد بدا لرسول الله صلى الله عليه وسلم في الحج فلعله أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم فنصلي معه، فإذا علي عليها، فقال له أبو بكر: أمير أم رسول؟ قال: لا بل رسول، أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم ببراءة أقرؤها على الناس في مواقف الحج، فقدمنا مكة فلما كان قبل التروية بيوم، قام أبو بكر رضي الله عنه فخطب الناس فحدثهم عن مناسكهم حتى إذا فرغ قام علي رضي الله عنه فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، ثم خرجنا معه حتى إذا كان يوم عرفة قام أبو بكر فخطب الناس فحدثهم عن مناسكهم، حتى إذا فرغ قام علي فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، ثم كان يوم النحر فأفضنا، فلما رجع أبو بكر خطب الناس فحدثهم عن إفاضتهم، وعن نحرهم، وعن مناسكهم، فلما فرغ قام علي فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، فلما كان يوم النفر الأول، قام أبو بكر فخطب الناس فحدثهم كيف ينفرون، وكيف يرمون، فعلمهم مناسكهم، فلما فرغ، قام علي فقرأ براءة على الناس حتى ختمها " قال أبو عبد الرحمن: " ابن خثيم، ليس بالقوي في الحديث، وإنما أخرجت هذا لئلا يجعل ابن جريج، عن أبي الزبير وما كتبناه إلا عن إسحق بن إبراهيم، ويحيى بن سعيد القطان، لم يترك حديث ابن خثيم، ولا عبد الرحمن، إلا أن علي بن المديني، قال: ابن خثيم منكر الحديث، وكأن علي بن المديني خلق للحديث " --- [حكم الألباني] ضعيف الإسناد
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমরা করে জিইররানা নামক স্থানে ফিরে আসার পরে (হজ্জের সময়) আবূ বকর (রাঃ) -কে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আসলাম। যখন 'আরজ' নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন সকাল হলে তিনি তাকবীর বলার জন্য প্রস্তুত হলেন। এমন সম্যে তাঁর পেছনে উটের ডাক শুনতে পেয়ে তিনি তাকবীর না দিয়ে বললেন : এতো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উটনী জাদ'আর ডাক। হয়তো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জের ব্যাপারে নতুন কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। হয়তো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশরীফ এনেছেন, আমরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করবো। হঠাৎ দেখা গেল এর আরোহী হলেন আলী (রাঃ)। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন : আপনি কি আমীর (হিসেবে এসেছেন), না 'দূত' (হিসেবে)। তিনি বললেন : আমি দূত (হিসেবে এসেছি)। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে সূরা (তাওবা বা) বারাআত সহ প্রেরণ করেছেন। আমি হজ্জের বিভিন্ন অবস্থান কেন্দ্রে লোকদের তা শুনাব। আমরা মক্কায় আগমন করলাম। যিলহাজ্জের ৮ তারিখের একদিন পূর্বে আবূ বকর (রাঃ) লোকের সামনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং তাদেরকে হজ্জের আহ্কাম শুনালেন। তিনি তাঁর খুতবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি লোকের মধ্যে (সূরা) বারাআত পাঠ করে শুনালেন এবং তা শেষ করলেন। পরে আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম। যখন আরাফার দিন উপস্থিত হলো, তখন আবূ বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তাদের কাছে হজ্জের আহ্কাম বর্ণনা করলেন। যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে (সূরা) বারাআত পাঠ করে শুনালেন। এরপর দশ তারিখ (কুরবানীর দিন) আসলে আমরা মুযদালিফা থেকে ইফাযা (প্রস্থান) করলাম। আবূ বকর (রাঃ) ফিরে এসে লোকের মধ্যে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি 'ইফাযা' ও কুরবানীর আহ্কাম এবং হজ্জের আহ্কাম বর্ণনা করলেন। তিনি যখন খুতবা শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে বারাআতের ঘোষণা শুনালেন, এবং তা (সূরা বারাআত শুনানো) শেষ করলেন। প্রথম নফরের দিন১ আসলে আবূ বকর (রাঃ) লোকের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন; কিরূপে নফর বা দেশের পথে যাত্রা করতে হবে এবং রমী (কংকর নিক্ষেপ) করতে হবে সে সমস্ত আহ্কাম তাদেরকে শিক্ষা দিলেন। তিনি খুতবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের নিকট সূরা বারাআত পড়ে শুনালেন এবং তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) হাদীস বর্ণনায় তেমন শক্তিশালী নন। আমি ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) আবু যুবায়র (রহঃ) থেকে’ এ সনদে বর্ণনা না করে ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) থেকে, তিনি আবূ যুবায়র (রাঃ)’ এ সনদে রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছি। কেননা প্রথমোক্ত সনদে ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) ও আবূ যুবায়র (রহঃ)-এর মধ্যের একজন রাবী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাকে উসূলে হাদীসের ভাষায় মুনকাতি' (আরবী) বলা হয়। আমি এ হাদিসটি ইসহাক ইব্ন রাহওয়াই ইব্ন ইবরাহীম (রহঃ) সুত্রে লিপিবদ্ধ করেছি। ইয়াহ্ইয়া ইব্ন সাঈদ আল-কাত্তান (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা বাদ দেননি। আর আবদুর রহমান থেকেও না। তবে আলী ইব্ন মাদীনী (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) -কে 'মুনকারুল হাদীস'১ বলে মন্তব্য করেছেন। আর আলী ইব্ন মাদীনী (রহঃ) তাঁর সৃষ্টি হাদীস শাস্ত্রের জন্যেই।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমরা করে জিইররানা নামক স্থানে ফিরে আসার পরে (হজ্জের সময়) আবূ বকর (রাঃ) -কে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আসলাম। যখন 'আরজ' নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন সকাল হলে তিনি তাকবীর বলার জন্য প্রস্তুত হলেন। এমন সম্যে তাঁর পেছনে উটের ডাক শুনতে পেয়ে তিনি তাকবীর না দিয়ে বললেন : এতো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উটনী জাদ'আর ডাক। হয়তো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জের ব্যাপারে নতুন কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। হয়তো রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশরীফ এনেছেন, আমরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করবো। হঠাৎ দেখা গেল এর আরোহী হলেন আলী (রাঃ)। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন : আপনি কি আমীর (হিসেবে এসেছেন), না 'দূত' (হিসেবে)। তিনি বললেন : আমি দূত (হিসেবে এসেছি)। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে সূরা (তাওবা বা) বারাআত সহ প্রেরণ করেছেন। আমি হজ্জের বিভিন্ন অবস্থান কেন্দ্রে লোকদের তা শুনাব। আমরা মক্কায় আগমন করলাম। যিলহাজ্জের ৮ তারিখের একদিন পূর্বে আবূ বকর (রাঃ) লোকের সামনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং তাদেরকে হজ্জের আহ্কাম শুনালেন। তিনি তাঁর খুতবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি লোকের মধ্যে (সূরা) বারাআত পাঠ করে শুনালেন এবং তা শেষ করলেন। পরে আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম। যখন আরাফার দিন উপস্থিত হলো, তখন আবূ বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তাদের কাছে হজ্জের আহ্কাম বর্ণনা করলেন। যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে (সূরা) বারাআত পাঠ করে শুনালেন। এরপর দশ তারিখ (কুরবানীর দিন) আসলে আমরা মুযদালিফা থেকে ইফাযা (প্রস্থান) করলাম। আবূ বকর (রাঃ) ফিরে এসে লোকের মধ্যে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি 'ইফাযা' ও কুরবানীর আহ্কাম এবং হজ্জের আহ্কাম বর্ণনা করলেন। তিনি যখন খুতবা শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে বারাআতের ঘোষণা শুনালেন, এবং তা (সূরা বারাআত শুনানো) শেষ করলেন। প্রথম নফরের দিন১ আসলে আবূ বকর (রাঃ) লোকের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন; কিরূপে নফর বা দেশের পথে যাত্রা করতে হবে এবং রমী (কংকর নিক্ষেপ) করতে হবে সে সমস্ত আহ্কাম তাদেরকে শিক্ষা দিলেন। তিনি খুতবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের নিকট সূরা বারাআত পড়ে শুনালেন এবং তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) হাদীস বর্ণনায় তেমন শক্তিশালী নন। আমি ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) আবু যুবায়র (রহঃ) থেকে’ এ সনদে বর্ণনা না করে ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) থেকে, তিনি আবূ যুবায়র (রাঃ)’ এ সনদে রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছি। কেননা প্রথমোক্ত সনদে ইব্ন জুরায়জ (রহঃ) ও আবূ যুবায়র (রহঃ)-এর মধ্যের একজন রাবী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাকে উসূলে হাদীসের ভাষায় মুনকাতি' (আরবী) বলা হয়। আমি এ হাদিসটি ইসহাক ইব্ন রাহওয়াই ইব্ন ইবরাহীম (রহঃ) সুত্রে লিপিবদ্ধ করেছি। ইয়াহ্ইয়া ইব্ন সাঈদ আল-কাত্তান (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা বাদ দেননি। আর আবদুর রহমান থেকেও না। তবে আলী ইব্ন মাদীনী (রহঃ) ইব্ন খুশায়ম (রহঃ) -কে 'মুনকারুল হাদীস'১ বলে মন্তব্য করেছেন। আর আলী ইব্ন মাদীনী (রহঃ) তাঁর সৃষ্টি হাদীস শাস্ত্রের জন্যেই।
أخبرنا إسحق بن إبراهيم، قال: قرأت على أبي قرة موسى بن طارق، عن ابن جريج، قال: حدثني عبد الله بن عثمان بن خثيم، عن أبي الزبير، عن جابر " أن النبي صلى الله عليه وسلم، حين رجع من عمرة الجعرانة بعث أبا بكر على الحج فأقبلنا معه، حتى إذا كان بالعرج ثوب بالصبح، ثم استوى ليكبر فسمع الرغوة خلف ظهره، فوقف على التكبير، فقال: هذه رغوة ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم الجدعاء، لقد بدا لرسول الله صلى الله عليه وسلم في الحج فلعله أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم فنصلي معه، فإذا علي عليها، فقال له أبو بكر: أمير أم رسول؟ قال: لا بل رسول، أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم ببراءة أقرؤها على الناس في مواقف الحج، فقدمنا مكة فلما كان قبل التروية بيوم، قام أبو بكر رضي الله عنه فخطب الناس فحدثهم عن مناسكهم حتى إذا فرغ قام علي رضي الله عنه فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، ثم خرجنا معه حتى إذا كان يوم عرفة قام أبو بكر فخطب الناس فحدثهم عن مناسكهم، حتى إذا فرغ قام علي فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، ثم كان يوم النحر فأفضنا، فلما رجع أبو بكر خطب الناس فحدثهم عن إفاضتهم، وعن نحرهم، وعن مناسكهم، فلما فرغ قام علي فقرأ على الناس براءة حتى ختمها، فلما كان يوم النفر الأول، قام أبو بكر فخطب الناس فحدثهم كيف ينفرون، وكيف يرمون، فعلمهم مناسكهم، فلما فرغ، قام علي فقرأ براءة على الناس حتى ختمها " قال أبو عبد الرحمن: " ابن خثيم، ليس بالقوي في الحديث، وإنما أخرجت هذا لئلا يجعل ابن جريج، عن أبي الزبير وما كتبناه إلا عن إسحق بن إبراهيم، ويحيى بن سعيد القطان، لم يترك حديث ابن خثيم، ولا عبد الرحمن، إلا أن علي بن المديني، قال: ابن خثيم منكر الحديث، وكأن علي بن المديني خلق للحديث " --- [حكم الألباني] ضعيف الإسناد
সুনান নাসাঈ > তামাত্তু' হজ্জকারী ব্যক্তি হজ্জের ইহ্রাম কখন করবে?
সুনান নাসাঈ ২৯৯৪
أخبرنا إسمعيل بن مسعود، قال: حدثنا خالد، قال: حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن جابر، قال: قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لأربع مضين من ذي الحجة فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أحلوا واجعلوها عمرة» فضاقت بذلك صدورنا، وكبر علينا، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «يا أيها الناس أحلوا، فلولا الهدي الذي معي لفعلت مثل الذي تفعلون»، فأحللنا حتى وطئنا النساء، وفعلنا ما يفعل الحلال، حتى إذا كان يوم التروية، وجعلنا مكة بظهر لبينا بالحج "
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতীত হওয়ার পর আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মক্কায়) আগমন করলাম। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তোমরা হালাল হয়ে যাও এবং একে ‘উমরা গণ্য কর। এতে আমাদের অন্তর সংকুচিত হলো এবং আমাদের কাছে তা ভারী মনে হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেন : হে লোকেরা! তোমরা হালাল হয়ে যাও, আমার নিকট যে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, যদি তা না থাকতো তাহলে তোমরা যা করছ আমিও তা করতাম (হালাল হয়ে যেতাম)। এরপর আমরা হালাল হয়ে গেলাম এবং স্ত্রী সহবাসও করলাম। হালাল ব্যক্তি যা যা করে আমরাও তাই করলাম। যখন ‘তারবিয়ার’ দিন [২] আসলো তখন আমরা মক্কাকে পেছনে রেখে (মিনার উদ্দেশ্যে রওনা করে) আমরা হজ্জের তাল্বিয়া পড়লাম।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতীত হওয়ার পর আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মক্কায়) আগমন করলাম। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তোমরা হালাল হয়ে যাও এবং একে ‘উমরা গণ্য কর। এতে আমাদের অন্তর সংকুচিত হলো এবং আমাদের কাছে তা ভারী মনে হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেন : হে লোকেরা! তোমরা হালাল হয়ে যাও, আমার নিকট যে 'হাদী' (কুরবানীর পশু) রয়েছে, যদি তা না থাকতো তাহলে তোমরা যা করছ আমিও তা করতাম (হালাল হয়ে যেতাম)। এরপর আমরা হালাল হয়ে গেলাম এবং স্ত্রী সহবাসও করলাম। হালাল ব্যক্তি যা যা করে আমরাও তাই করলাম। যখন ‘তারবিয়ার’ দিন [২] আসলো তখন আমরা মক্কাকে পেছনে রেখে (মিনার উদ্দেশ্যে রওনা করে) আমরা হজ্জের তাল্বিয়া পড়লাম।
أخبرنا إسمعيل بن مسعود، قال: حدثنا خالد، قال: حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن جابر، قال: قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لأربع مضين من ذي الحجة فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أحلوا واجعلوها عمرة» فضاقت بذلك صدورنا، وكبر علينا، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «يا أيها الناس أحلوا، فلولا الهدي الذي معي لفعلت مثل الذي تفعلون»، فأحللنا حتى وطئنا النساء، وفعلنا ما يفعل الحلال، حتى إذا كان يوم التروية، وجعلنا مكة بظهر لبينا بالحج "