সুনান নাসাঈ > বিতর সালাতের আদেশ
সুনান নাসাঈ ১৬৭৫
أخبرنا هناد بن السري، عن أبي بكر بن عياش، عن أبي إسحق، عن عاصم وهو ابن ضمرة، عن علي رضي الله عنه قال: أوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: «يا أهل القرآن، أوتروا، فإن الله عز وجل وتر يحب الوتر»
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বিত্রের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে কুরআনধারীগণ! তোমরা বিত্রের সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বেজোড় এবং তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বিত্রের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে কুরআনধারীগণ! তোমরা বিত্রের সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বেজোড় এবং তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।
أخبرنا هناد بن السري، عن أبي بكر بن عياش، عن أبي إسحق، عن عاصم وهو ابن ضمرة، عن علي رضي الله عنه قال: أوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: «يا أهل القرآن، أوتروا، فإن الله عز وجل وتر يحب الوتر»
সুনান নাসাঈ ১৬৭৬
أخبرني محمد بن إسمعيل بن إبراهيم، عن أبي نعيم، عن سفيان، عن أبي إسحق، عن عاصم بن ضمرة، عن علي رضي الله عنه قال: «الوتر ليس بحتم كهيئة المكتوبة، ولكنه سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم»
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বিত্রের সালাত ফরয সালাতের ন্যায় অত্যাবশ্যকীয় নয়। বরং তা সুন্নাত, যা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচলন করেছেন।[১]
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বিত্রের সালাত ফরয সালাতের ন্যায় অত্যাবশ্যকীয় নয়। বরং তা সুন্নাত, যা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচলন করেছেন।[১]
أخبرني محمد بن إسمعيل بن إبراهيم، عن أبي نعيم، عن سفيان، عن أبي إسحق، عن عاصم بن ضمرة، عن علي رضي الله عنه قال: «الوتر ليس بحتم كهيئة المكتوبة، ولكنه سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم»
সুনান নাসাঈ > নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে বিত্রের সালাত আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা
সুনান নাসাঈ ১৬৭৭
أخبرنا سليمان بن سلم، ومحمد بن علي بن الحسن بن شقيق، عن النضر بن شميل، قال: أنبأنا شعبة، عن أبي شمر، عن أبي عثمان، عن أبي هريرة قال: " أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بثلاث: النوم على وتر، وصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করে গেছেন। এক, (শেষ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে) বিত্রের সালাত আদায় করে নিদ্রা যাওয়া। দুই, প্রত্যেক মাসে (আইয়ামে বীযের) তিন দিন সাওম পালন করা। তিন, চাশতের (পূর্বাহ্ণের) দুই রাকআত সালাত আদায় করা।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করে গেছেন। এক, (শেষ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে) বিত্রের সালাত আদায় করে নিদ্রা যাওয়া। দুই, প্রত্যেক মাসে (আইয়ামে বীযের) তিন দিন সাওম পালন করা। তিন, চাশতের (পূর্বাহ্ণের) দুই রাকআত সালাত আদায় করা।
أخبرنا سليمان بن سلم، ومحمد بن علي بن الحسن بن شقيق، عن النضر بن شميل، قال: أنبأنا شعبة، عن أبي شمر، عن أبي عثمان، عن أبي هريرة قال: " أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بثلاث: النوم على وتر، وصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى "
সুনান নাসাঈ ১৬৭৮
أخبرنا محمد بن بشار، قال: حدثنا محمد، قال: حدثنا شعبة، ثم ذكر كلمة معناها، عن عباس الجريري، قال: سمعت أبا عثمان، عن أبي هريرة قال: " أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بثلاث: الوتر أول الليل، وركعتي الفجر، وصوم ثلاثة أيام من كل شهر "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করেছেন। এক, (রাত্রির শেষ ভাগে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে) রাত্রির প্রথম ভাগেই বিত্রের সালাত আদায় করে নেওয়া। দুই, ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করা। তিন, প্রত্যেক মাসে তিন দিন আইয়ামে বীযের সাওম পালন করা।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করেছেন। এক, (রাত্রির শেষ ভাগে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে) রাত্রির প্রথম ভাগেই বিত্রের সালাত আদায় করে নেওয়া। দুই, ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করা। তিন, প্রত্যেক মাসে তিন দিন আইয়ামে বীযের সাওম পালন করা।
أخبرنا محمد بن بشار، قال: حدثنا محمد، قال: حدثنا شعبة، ثم ذكر كلمة معناها، عن عباس الجريري، قال: سمعت أبا عثمان، عن أبي هريرة قال: " أوصاني خليلي صلى الله عليه وسلم بثلاث: الوتر أول الليل، وركعتي الفجر، وصوم ثلاثة أيام من كل شهر "
সুনান নাসাঈ > এক রাত্রে দুইবার বিত্রের সালাত আদায় করার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিষেধাজ্ঞা
সুনান নাসাঈ ১৬৭৯
أخبرنا هناد بن السري، عن ملازم بن عمرو، قال: حدثني عبد الله بن بدر، عن قيس بن طلق، قال: زارنا أبي طلق بن علي في يوم من رمضان، فأمسى بنا وقام بنا تلك الليلة، وأوتر بنا، ثم انحدر إلى مسجد فصلى بأصحابه حتى بقي الوتر، ثم قدم رجلا فقال له: أوتر بهم، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا وتران في ليلة»
কায়্স ইব্ন তল্ক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রমযানের একদিন আমার পিতা তল্ক ইব্ন আলী (রাঃ) আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাদের সাথে সন্ধ্যা করে ফেললেন, এবং ঐ রাত্রে আমাদের সাথে তারাবীহ্র সালাত আদায় করলেন আর আমাদের সাথে বিত্রের সালাতও আদায় করলেন। অতঃপর তিনি দ্রুত মসজিদে চলে গেলেন এবং তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায়ে লেগে গেলেন। যখন শুধু বিত্রের সালাত অবশিষ্ট রয়ে গেল, তিনি এক ব্যক্তিকে আগে বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি এদের নিয়ে বিত্রের সালাত আদায় করে নাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, “এক রাত্রে দুইবার বিত্রের সালাত আদায় করতে নেই।’’
কায়্স ইব্ন তল্ক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রমযানের একদিন আমার পিতা তল্ক ইব্ন আলী (রাঃ) আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাদের সাথে সন্ধ্যা করে ফেললেন, এবং ঐ রাত্রে আমাদের সাথে তারাবীহ্র সালাত আদায় করলেন আর আমাদের সাথে বিত্রের সালাতও আদায় করলেন। অতঃপর তিনি দ্রুত মসজিদে চলে গেলেন এবং তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায়ে লেগে গেলেন। যখন শুধু বিত্রের সালাত অবশিষ্ট রয়ে গেল, তিনি এক ব্যক্তিকে আগে বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি এদের নিয়ে বিত্রের সালাত আদায় করে নাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, “এক রাত্রে দুইবার বিত্রের সালাত আদায় করতে নেই।’’
أخبرنا هناد بن السري، عن ملازم بن عمرو، قال: حدثني عبد الله بن بدر، عن قيس بن طلق، قال: زارنا أبي طلق بن علي في يوم من رمضان، فأمسى بنا وقام بنا تلك الليلة، وأوتر بنا، ثم انحدر إلى مسجد فصلى بأصحابه حتى بقي الوتر، ثم قدم رجلا فقال له: أوتر بهم، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا وتران في ليلة»
সুনান নাসাঈ > বিত্রের সালাতের সময়
সুনান নাসাঈ ১৬৮১
أخبرنا إسحق بن منصور، قال: حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن أبي حصين، عن يحيى بن وثاب، عن مسروق، عن عائشة قالت: «أوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم من أوله وآخره وأوسطه وانتهى وتره إلى السحر»
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিত্রের সালাত আদায় করতেন (কখনো) রাত্রের প্রথম ভাগে, (কখনো) রাত্রের শেষ ভাগে (আবার কখনো) রাতের মধ্য ভাগে। কিন্তু শেষ বয়সে রাত্রের শেষ ভাগেই বিত্রের সালাত আদায় করা অভ্যাসে পরিনত করে নিয়েছিলেন।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিত্রের সালাত আদায় করতেন (কখনো) রাত্রের প্রথম ভাগে, (কখনো) রাত্রের শেষ ভাগে (আবার কখনো) রাতের মধ্য ভাগে। কিন্তু শেষ বয়সে রাত্রের শেষ ভাগেই বিত্রের সালাত আদায় করা অভ্যাসে পরিনত করে নিয়েছিলেন।
أخبرنا إسحق بن منصور، قال: حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن أبي حصين، عن يحيى بن وثاب، عن مسروق، عن عائشة قالت: «أوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم من أوله وآخره وأوسطه وانتهى وتره إلى السحر»
সুনান নাসাঈ ১৬৮২
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا الليث، عن نافع، أن ابن عمر قال: «من صلى من الليل فليجعل آخر صلاته وترا، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر بذلك»
নাফি (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্ন উমর (রাঃ) বলছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে সালাত আদায় করে সে যেন শেষে বিত্রের সালাত আদায় করে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নির্দেশ দিয়েছেন।
নাফি (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্ন উমর (রাঃ) বলছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে সালাত আদায় করে সে যেন শেষে বিত্রের সালাত আদায় করে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নির্দেশ দিয়েছেন।
أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا الليث، عن نافع، أن ابن عمر قال: «من صلى من الليل فليجعل آخر صلاته وترا، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر بذلك»
সুনান নাসাঈ ১৬৮০
أخبرنا محمد بن المثنى، قال: حدثنا محمد، قال: حدثنا شعبة، عن أبي إسحق، عن الأسود بن يزيد، قال: سألت عائشة عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: «كان ينام أول الليل ثم يقوم، فإذا كان من السحر أوتر، ثم أتى فراشه، فإذا كان له حاجة ألم بأهله، فإذا سمع الأذان وثب، فإن كان جنبا أفاض عليه من الماء، وإلا توضأ ثم خرج إلى الصلاة»
আসওয়াদ ইব্ন ইয়াযিদ থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি রাত্রের প্রথম ভাগে নিদ্রা যেতেন। তারপর জাগ্রত হয়ে যেতেন এবং যখন সাহারির সময় হয়ে যেত, তখন তিনি বিত্রের সালাত আদায় করতেন। তারপর তাঁর বিছানায় যেতেন। যদি তাঁর বিবির কাছে কোন প্রয়োজন হত তাহলে তিনি বিবির সাথে সহবাস পর্ব সেরে নিতেন। তারপর যখন আযান শুনতে পেতেন দ্রুত দাঁড়িয়ে যেতেন। যদি তার উপর গোসল ফরয হত তাহলে তা সেরে নিতেন, অন্যথায় উযু করে নিতেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে যেতেন।
আসওয়াদ ইব্ন ইয়াযিদ থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি রাত্রের প্রথম ভাগে নিদ্রা যেতেন। তারপর জাগ্রত হয়ে যেতেন এবং যখন সাহারির সময় হয়ে যেত, তখন তিনি বিত্রের সালাত আদায় করতেন। তারপর তাঁর বিছানায় যেতেন। যদি তাঁর বিবির কাছে কোন প্রয়োজন হত তাহলে তিনি বিবির সাথে সহবাস পর্ব সেরে নিতেন। তারপর যখন আযান শুনতে পেতেন দ্রুত দাঁড়িয়ে যেতেন। যদি তার উপর গোসল ফরয হত তাহলে তা সেরে নিতেন, অন্যথায় উযু করে নিতেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে যেতেন।
أخبرنا محمد بن المثنى، قال: حدثنا محمد، قال: حدثنا شعبة، عن أبي إسحق، عن الأسود بن يزيد، قال: سألت عائشة عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: «كان ينام أول الليل ثم يقوم، فإذا كان من السحر أوتر، ثم أتى فراشه، فإذا كان له حاجة ألم بأهله، فإذا سمع الأذان وثب، فإن كان جنبا أفاض عليه من الماء، وإلا توضأ ثم خرج إلى الصلاة»