মুয়াত্তা ইমাম মালিক > মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে জীবিত ব্যক্তির দাসদাসী আযাদ করা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭২
حدثني مالك عن عبد الرحمن بن أبي عمرة الأنصاري أن أمه أرادت أن توصي ثم أخرت ذلك إلى أن تصبح فهلكت وقد كانت همت بأن تعتق فقال عبد الرحمن فقلت للقاسم بن محمد أينفعها أن أعتق عنها فقال القاسم إن سعد بن عبادة قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم إن أمي هلكت فهل ينفعها أن أعتق عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم.
আবদুর রহমান ইবনু আবি আমরাহ্ আনসারী (র) থেকে বর্নিতঃ
তাঁর মাতা কিছু ওসীয়্যত করার ইচ্ছা করেছিলেন, পরে ভোর হওয়া পর্যন্ত উহাতে বিলম্ব করলেন, অতঃপর ওসীয়্যত করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়, তিনি (গোলাম বা বাঁদী) আযাদ করার সংকল্প করেছিলেন। আবদুর রহমান বলেন আমি কাসিম ইব্নু মুহাম্মাদ (র)-কে বললাম, তার পক্ষ হতে আমি আযাদ করলে ইহা তাঁর উপকার করবে কি? কাসিম বললেন সা’দ ইব্নু ‘উবাদা (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, আমার মাতার মৃত্যু হয়েছে, আমি তার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ করলে এটা তার উপকার করবে কি? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
আবদুর রহমান ইবনু আবি আমরাহ্ আনসারী (র) থেকে বর্নিতঃ
তাঁর মাতা কিছু ওসীয়্যত করার ইচ্ছা করেছিলেন, পরে ভোর হওয়া পর্যন্ত উহাতে বিলম্ব করলেন, অতঃপর ওসীয়্যত করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়, তিনি (গোলাম বা বাঁদী) আযাদ করার সংকল্প করেছিলেন। আবদুর রহমান বলেন আমি কাসিম ইব্নু মুহাম্মাদ (র)-কে বললাম, তার পক্ষ হতে আমি আযাদ করলে ইহা তাঁর উপকার করবে কি? কাসিম বললেন সা’দ ইব্নু ‘উবাদা (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, আমার মাতার মৃত্যু হয়েছে, আমি তার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ করলে এটা তার উপকার করবে কি? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
حدثني مالك عن عبد الرحمن بن أبي عمرة الأنصاري أن أمه أرادت أن توصي ثم أخرت ذلك إلى أن تصبح فهلكت وقد كانت همت بأن تعتق فقال عبد الرحمن فقلت للقاسم بن محمد أينفعها أن أعتق عنها فقال القاسم إن سعد بن عبادة قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم إن أمي هلكت فهل ينفعها أن أعتق عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৩
و حدثني مالك عن يحيى بن سعيد أنه قال توفي عبد الرحمن بن أبي بكر في نوم نامه فأعتقت عنه عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم رقابا كثيرة قال مالك وهذا أحب ما سمعت إلي في ذلك.
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্নিতঃ
আবদুর রহমান ইব্নু আবী বাকর (র)-এর আকস্মিক ওফাত [১] হয় তাঁর নিদ্রাতে। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী আয়িশা (রা) তাঁর পক্ষ হতে অনেকগুলো দাস-দাসী আযাদ করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন এই বিষয়ে যা শুনেছি তন্মধ্যে এটা আমার কাছে উত্তম।
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্নিতঃ
আবদুর রহমান ইব্নু আবী বাকর (র)-এর আকস্মিক ওফাত [১] হয় তাঁর নিদ্রাতে। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী আয়িশা (রা) তাঁর পক্ষ হতে অনেকগুলো দাস-দাসী আযাদ করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন এই বিষয়ে যা শুনেছি তন্মধ্যে এটা আমার কাছে উত্তম।
و حدثني مالك عن يحيى بن سعيد أنه قال توفي عبد الرحمن بن أبي بكر في نوم نامه فأعتقت عنه عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم رقابا كثيرة قال مالك وهذا أحب ما سمعت إلي في ذلك.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > দাস-দাসী আযাদ করার ফযীলত এবং নিষিদ্ধ যৌন সঙ্গমকারিণী ও জারজ সন্তানকে আযাদ করা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৫
و حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أنه أعتق ولد زنا وأمه.
নাফি‘ (র) আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জারজ সন্তান ও তার মাতাকে আযাদ করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
নাফি‘ (র) আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জারজ সন্তান ও তার মাতাকে আযাদ করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أنه أعتق ولد زنا وأمه.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৪
حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن الرقاب أيها أفضل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أغلاها ثمنا وأنفسها عند أهلها.
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করা হল, যেসব ব্যাপারে দাস-দাসী আযাদ করা ওয়াজিব উহাতে কোন প্রকার দাস-দাসী (আযাদ করা) উত্তম? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার মূল্য বেশি এবং যারা কর্তাদের (এবং তাদের পরিজনের) নিকট মনোরম ও আদরণীয়। (বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪)
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করা হল, যেসব ব্যাপারে দাস-দাসী আযাদ করা ওয়াজিব উহাতে কোন প্রকার দাস-দাসী (আযাদ করা) উত্তম? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার মূল্য বেশি এবং যারা কর্তাদের (এবং তাদের পরিজনের) নিকট মনোরম ও আদরণীয়। (বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪)
حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن الرقاب أيها أفضل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أغلاها ثمنا وأنفسها عند أهلها.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > যে আযাদ করবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তারই জন্য হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৭
و حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أن عائشة أم المؤمنين أرادت أن تشتري جارية تعتقها فقال أهلها نبيعكها على أن ولاءها لنا فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لا يمنعنك ذلك فإنما الولاء لمن أعتق.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) জনৈকা ক্রীতদাসীকে খরিদ করে আযাদ করার ইচ্ছা করলেন। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলল, আমরা উহাকে আপনার কাছে এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, উহার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকবে। আয়িশা (রা) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইহা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এই শর্তারোপ যেন তোমাকে (উহাকে ক্রয় কয়ে আযাদ করতে) বারণ না করে। অভিভাবকত্ব উহারই হবে, যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৯, মুসলিম ১৫০৪)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) জনৈকা ক্রীতদাসীকে খরিদ করে আযাদ করার ইচ্ছা করলেন। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলল, আমরা উহাকে আপনার কাছে এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, উহার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকবে। আয়িশা (রা) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইহা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এই শর্তারোপ যেন তোমাকে (উহাকে ক্রয় কয়ে আযাদ করতে) বারণ না করে। অভিভাবকত্ব উহারই হবে, যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৯, মুসলিম ১৫০৪)
و حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أن عائشة أم المؤمنين أرادت أن تشتري جارية تعتقها فقال أهلها نبيعكها على أن ولاءها لنا فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لا يمنعنك ذلك فإنما الولاء لمن أعتق.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৮
و حدثني مالك عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن أن بريرة جاءت تستعين عائشة أم المؤمنين فقالت عائشة إن أحب أهلك أن أصب لهم ثمنك صبة واحدة وأعتقك فعلت فذكرت ذلك بريرة لأهلها فقالوا لا إلا أن يكون لنا ولاؤك قال يحيى بن سعيد فزعمت عمرة أن عائشة ذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اشتريها وأعتقيها فإنما الولاء لمن أعتق.
‘আমরাহ বিনত আবদির রহমান (রা) থেকে বর্নিতঃ
বারীরা এলেন উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা)-এর নিকট সাহায্য চাইতে। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করে যে আমি তাদেরকে একবারে মূল্য পরিশোধ করব এবং তোমাকে আযাদ করে দিব তবে আমি উহা করব। বারীরা কর্তাদের নিকট এটা পেশ করলেন। তারা বলল, আমরা এতে রাজী নই, তবে যদি তোমার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকে। (সহীহ, বুখারী ২৫৬৪, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) মালিক (র) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) বলেছেন, ‘আমরাহ মনে করে ধারণা করি যে, আয়িশা (রা) এটা উল্লেখ করেছেন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বারীরাকে খরিদ কর এবং তাকে আযাদ করে দাও, অভিভাবকত্ব অবশ্য তারই জন্য থাকবে যে আযাদ করবে।
‘আমরাহ বিনত আবদির রহমান (রা) থেকে বর্নিতঃ
বারীরা এলেন উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা)-এর নিকট সাহায্য চাইতে। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করে যে আমি তাদেরকে একবারে মূল্য পরিশোধ করব এবং তোমাকে আযাদ করে দিব তবে আমি উহা করব। বারীরা কর্তাদের নিকট এটা পেশ করলেন। তারা বলল, আমরা এতে রাজী নই, তবে যদি তোমার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকে। (সহীহ, বুখারী ২৫৬৪, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) মালিক (র) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) বলেছেন, ‘আমরাহ মনে করে ধারণা করি যে, আয়িশা (রা) এটা উল্লেখ করেছেন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বারীরাকে খরিদ কর এবং তাকে আযাদ করে দাও, অভিভাবকত্ব অবশ্য তারই জন্য থাকবে যে আযাদ করবে।
و حدثني مالك عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن أن بريرة جاءت تستعين عائشة أم المؤمنين فقالت عائشة إن أحب أهلك أن أصب لهم ثمنك صبة واحدة وأعتقك فعلت فذكرت ذلك بريرة لأهلها فقالوا لا إلا أن يكون لنا ولاؤك قال يحيى بن سعيد فزعمت عمرة أن عائشة ذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اشتريها وأعتقيها فإنما الولاء لمن أعتق.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৯
و حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الولاء وعن هبته قال مالك في العبد يبتاع نفسه من سيده على أنه يوالي من شاء إن ذلك لا يجوز وإنما الولاء لمن أعتق ولو أن رجلا أذن لمولاه أن يوالي من شاء ما جاز ذلك لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الولاء لمن أعتق ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الولاء وعن هبته فإذا جاز لسيده أن يشترط ذلك له وأن يأذن له أن يوالي من شاء فتلك الهبة.
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকত্ব বিক্রি ও দান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ২৫৩৫, মুসলিম ১৫০৬) মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস নিজকে ক্রয় করে নেয় আপন কর্তা হতে এই শর্তে যে, সে যাকে চায় তাকে অভিভাবকত্ব প্রদান করবে। এটা জায়েয হবে না। অভিভাবকত্ব তার জন্য হবে, যে আযাদ করবে। আর যদি কোন ব্যক্তি নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসকে যাকে ইচ্ছা তাকে অভিভাবকত্ব প্রদানের অনুমতি দিয়েদেয় তবে এটা বৈধ হবে না। কারণ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে এবং তিনি স্বত্বাধিকার বিক্রয় ও দান করতে নিষেধ করেছেন। যদি কর্তার পক্ষে ক্রীতদাসের জন্য এইরূপ শর্ত করা বৈধ হয় অথবা সে ক্রীতদাসকে অনুমতি দেয় যে, সে যাকে ইচ্ছা অভিভাবকত্ব প্রদান করবে, তবে ইহা দান করা হল।
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকত্ব বিক্রি ও দান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ২৫৩৫, মুসলিম ১৫০৬) মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস নিজকে ক্রয় করে নেয় আপন কর্তা হতে এই শর্তে যে, সে যাকে চায় তাকে অভিভাবকত্ব প্রদান করবে। এটা জায়েয হবে না। অভিভাবকত্ব তার জন্য হবে, যে আযাদ করবে। আর যদি কোন ব্যক্তি নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসকে যাকে ইচ্ছা তাকে অভিভাবকত্ব প্রদানের অনুমতি দিয়েদেয় তবে এটা বৈধ হবে না। কারণ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে এবং তিনি স্বত্বাধিকার বিক্রয় ও দান করতে নিষেধ করেছেন। যদি কর্তার পক্ষে ক্রীতদাসের জন্য এইরূপ শর্ত করা বৈধ হয় অথবা সে ক্রীতদাসকে অনুমতি দেয় যে, সে যাকে ইচ্ছা অভিভাবকত্ব প্রদান করবে, তবে ইহা দান করা হল।
و حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الولاء وعن هبته قال مالك في العبد يبتاع نفسه من سيده على أنه يوالي من شاء إن ذلك لا يجوز وإنما الولاء لمن أعتق ولو أن رجلا أذن لمولاه أن يوالي من شاء ما جاز ذلك لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الولاء لمن أعتق ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الولاء وعن هبته فإذا جاز لسيده أن يشترط ذلك له وأن يأذن له أن يوالي من شاء فتلك الهبة.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৭৬
حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت جاءت بريرة فقالت إني كاتبت أهلي على تسع أواق في كل عام أوقية فأعينيني فقالت عائشة إن أحب أهلك أن أعدها لهم عنك عددتها ويكون لي ولاؤك فعلت فذهبت بريرة إلى أهلها فقالت لهم ذلك فأبوا عليها فجاءت من عند أهلها ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس فقالت لعائشة إني قد عرضت عليهم ذلك فأبوا علي إلا أن يكون الولاء لهم فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألها فأخبرته عائشة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم خذيها واشترطي لهم الولاء فإنما الولاء لمن أعتق ففعلت عائشة ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس فحمد الله وأثنى عليه ثم قال أما بعد فما بال رجال يشترطون شروطا ليست في كتاب الله ما كان من شرط ليس في كتاب الله فهو باطل وإن كان مائة شرط قضاء الله أحق وشرط الله أوثق وإنما الولاء لمن أعتق.
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
বারীরা (রা) (তার কাছে) এসে বললেন আমি আমার কর্তাদের সাথে প্রতি বৎসর এক উকীয়া (এক উকীয়াতে চল্লিশ দিরহাম হয়- আওজাস) হিসাবে (সর্বমোট) নয় উকীয়ার বিনিময়ে মুকাতাবত আযাদী লাভের কথা ঠিক) করেছি। আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করেন যে, আমি উহার ব্যবস্থা করি তবে উহা (আদায়) করব আর তোমার অভিভাবকত্ব আমার জন্য হবে। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট গেলেন এবং এই বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করলেন। তারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট হতে যখন (ফিরে) এলেন তখন (আয়িশার গৃহে) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। বারীরা আয়িশা (রা)-কে বললেন আমি তাদের নিকট সেই কথা পেশ করেছিলাম। তারা ইহা অস্বীকার করেছে। কিন্তু যদি অভিভাবকত্ব (তাদের জন্য বহাল থাকে তবে তারা রাজী। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনলেন। অতঃপর তাঁকে (আয়িশাকে) জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশা ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এটা শুনে) বললেন, তুমি বারীরাকে (মূল্য পরিশোধ করে) গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য (অভিভাবকত্বের) শর্ত মেনে নাও, (কিন্তু উহা যেহেতু অবৈধ তাই স্বত্ব তারা পাবে না)। অভিভাবকত্ব হবে যে আযাদ করবে তার। তারপর আয়িশা (রা) তাই করলেন অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের (সাহাবীদের) মাঝে কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও গুণ বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন লোকদের কি হল? তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, আর যেই সকল শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, উহা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও শত শর্তও হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুমই গ্রহণযোগ্য, আল্লাহর শর্ত অতি দৃঢ়। (জেনে রাখুন) অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৮, মুসলিম ১৫০৪)
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
বারীরা (রা) (তার কাছে) এসে বললেন আমি আমার কর্তাদের সাথে প্রতি বৎসর এক উকীয়া (এক উকীয়াতে চল্লিশ দিরহাম হয়- আওজাস) হিসাবে (সর্বমোট) নয় উকীয়ার বিনিময়ে মুকাতাবত আযাদী লাভের কথা ঠিক) করেছি। আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন। আয়িশা (রা) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করেন যে, আমি উহার ব্যবস্থা করি তবে উহা (আদায়) করব আর তোমার অভিভাবকত্ব আমার জন্য হবে। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট গেলেন এবং এই বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করলেন। তারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট হতে যখন (ফিরে) এলেন তখন (আয়িশার গৃহে) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। বারীরা আয়িশা (রা)-কে বললেন আমি তাদের নিকট সেই কথা পেশ করেছিলাম। তারা ইহা অস্বীকার করেছে। কিন্তু যদি অভিভাবকত্ব (তাদের জন্য বহাল থাকে তবে তারা রাজী। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনলেন। অতঃপর তাঁকে (আয়িশাকে) জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশা ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এটা শুনে) বললেন, তুমি বারীরাকে (মূল্য পরিশোধ করে) গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য (অভিভাবকত্বের) শর্ত মেনে নাও, (কিন্তু উহা যেহেতু অবৈধ তাই স্বত্ব তারা পাবে না)। অভিভাবকত্ব হবে যে আযাদ করবে তার। তারপর আয়িশা (রা) তাই করলেন অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের (সাহাবীদের) মাঝে কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও গুণ বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন লোকদের কি হল? তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, আর যেই সকল শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, উহা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও শত শর্তও হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুমই গ্রহণযোগ্য, আল্লাহর শর্ত অতি দৃঢ়। (জেনে রাখুন) অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে। (বুখারী ২১৬৮, মুসলিম ১৫০৪)
حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت جاءت بريرة فقالت إني كاتبت أهلي على تسع أواق في كل عام أوقية فأعينيني فقالت عائشة إن أحب أهلك أن أعدها لهم عنك عددتها ويكون لي ولاؤك فعلت فذهبت بريرة إلى أهلها فقالت لهم ذلك فأبوا عليها فجاءت من عند أهلها ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس فقالت لعائشة إني قد عرضت عليهم ذلك فأبوا علي إلا أن يكون الولاء لهم فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألها فأخبرته عائشة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم خذيها واشترطي لهم الولاء فإنما الولاء لمن أعتق ففعلت عائشة ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس فحمد الله وأثنى عليه ثم قال أما بعد فما بال رجال يشترطون شروطا ليست في كتاب الله ما كان من شرط ليس في كتاب الله فهو باطل وإن كان مائة شرط قضاء الله أحق وشرط الله أوثق وإنما الولاء لمن أعتق.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > ক্রীতদাস কর্তৃক অভিভাবকত্ব টেনে নেয় যখন তাকে আযাদ করা হয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৮০
حدثني مالك عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن أن الزبير بن العوام اشترى عبدا فأعتقه ولذلك العبد بنون من امرأة حرة فلما أعتقه الزبير قال هم موالي وقال موالي أمهم بل هم موالينا فاختصموا إلى عثمان بن عفان فقضى عثمان للزبير بولائهم . و حدثني مالك أنه بلغه أن سعيد بن المسيب سئل عن عبد له ولد من امرأة حرة لمن ولاؤهم فقال سعيد إن مات أبوهم وهو عبد لم يعتق فولاؤهم لموالي أمهم قال مالك ومثل ذلك ولد الملاعنة من الموالي ينسب إلى موالي أمه فيكونون هم مواليه إن مات ورثوه وإن جر جريرة عقلوا عنه فإن اعترف به أبوه ألحق به وصار ولاؤه إلى موالي أبيه وكان ميراثه لهم وعقله عليهم ويجلد أبوه الحد قال مالك وكذلك المرأة الملاعنة من العرب إذا اعترف زوجها الذي لاعنها بولدها صار بمثل هذه المنزلة إلا أن بقية ميراثه بعد ميراث أمه وإخوته لأمه لعامة المسلمين ما لم يلحق بأبيه وإنما ورث ولد الملاعنة الموالاة موالي أمه قبل أن يعترف به أبوه لأنه لم يكن له نسب ولا عصبة فلما ثبت نسبه صار إلى عصبته قال مالك الأمر المجتمع عليه عندنا في ولد العبد من امرأة حرة وأبو العبد حر أن الجد أبا العبد يجر ولاء ولد ابنه الأحرار من امرأة حرة يرثهم ما دام أبوهم عبدا فإن عتق أبوهم رجع الولاء إلى مواليه وإن مات وهو عبد كان الميراث والولاء للجد وإن العبد كان له ابنان حران فمات أحدهما وأبوه عبد جر الجد أبو الأب الولاء والميراث قال مالك في الأمة تعتق وهي حامل وزوجها مملوك ثم يعتق زوجها قبل أن تضع حملها أو بعدما تضع إن ولاء ما كان في بطنها للذي أعتق أمه لأن ذلك الولد قد كان أصابه الرق قبل أن تعتق أمه وليس هو بمنزلة الذي تحمل به أمه بعد العتاقة لأن الذي تحمل به أمه بعد العتاقة إذا عتق أبوه جر ولاءه قال مالك في العبد يستأذن سيده أن يعتق عبدا له فيأذن له سيده إن ولاء العبد المعتق لسيد العبد لا يرجع ولاؤه لسيده الذي أعتقه وإن عتق.
রবী‘আ ইবনু আবদির রহমান (র) থেকে বর্নিতঃ
যুবাইর ইব্নুল আওয়াম (রা) জনৈক ক্রীতদাসকে খরিদ করে উহাকে আযাদ করেছিলেন। সেই ক্রীতদাসের কয়েকটি ছেলে ছিল আযাদ স্ত্রীর ঔরসের। যুবাইর (রা) যখন উহাকে আযাদ করলেন তখন তিনি বললেন, এরা আমার মাওয়ালী। আযাদী প্রদান সূত্রে এদের উপর আমার অভিভাবকত্ব উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- তাই এরা এখন আমার অধীনস্থ ও অধিকারভুক্ত। অন্যদিকে এই সন্তানদের জননীকে যারা আযাদ করেছিলেন। [১] তাঁরা বললেন এরা আমাদের অধিকারভুক্ত। অতঃপর তাঁরা বিবাদ নিয়ে উসমান ইব্নু আফফান (রা)-এর কাছে গেলেন। উসমান (রা) উহাদের অভিভাবকত্ব-এর ফয়সালা দিলেন যুবাইরের পক্ষে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র)-কে প্রশ্ন করা হল জনৈক ক্রীতদাসী সম্বন্ধে, যার কয়েকটি ছেলে রয়েছে আযাদ স্ত্রীর ঔরসে। তাদের স্বত্বাধিকার কার জন্য হবে। সাঈদ বললেন, যদি আযাদী না পাওয়া অবস্থায় তাদের পিতার মৃত্যু হয় তবে তাদের অভিভাবকত্ব হবে তাদের মাতার মাওলাদের (আযাদী দাতার) জন্য। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন তদ্রুপ অনারব মুসলিম লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের সন্তান ও তার (সন্তানের মাতা) মাওলার দিকে সম্পর্কিত হবে। তাই মাতার কর্তারা এই ছেলের মাওলা হবে। যদি সে মারা যায় তবে তারা উহার মীরাস লাভ করবে। সে কোন অপরাধ করলে তারা উহার পক্ষ হতে খেসারত বা ক্ষতিপূরণ দিবে। আর উহার পিতা যদি উহার নসব স্বীকার করে নেয় তবে উহাকে পিতার দিকে সম্পর্কিত করা হবে। এবং উহার স্বত্বাধিকার তার পিতার অভিভাবকত্ব লাভ করবে। তার মীরাসও তাদের জন্য হবে, আর তার অপরাধের খেসারতও হবে তাদের উপর এবং (স্বীকারোক্তির পর) ছেলের পিতাকে (অপরাধের শাস্তিতে) বেত্রাঘাত করা হবে। মালিক (র) বলেন তদ্রুপ আরব লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের স্বামী যে স্ত্রীকে সন্তানের ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছে সে যদি উহার ছেলের নসব (জন্মসূত্র) স্বীকার করে তবে সে ছেলে ঐ রূপ মর্যাদাই লাভ করবে। কিন্তু (পার্থক্য এই থাকবে যে,) এই ছেলের মাতা ও ভগ্নীদের মীরাস বরাদ্দের পর অবশিষ্ট মীরাস যদি তার পিতার সাথে সে যুক্ত না হয় তবে সাধারণ মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত হবে। পক্ষান্তরে লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের ছেলের মীরাস তার অর্থাৎ মাতার মাওলারা লাভ করবে পিতা কর্তৃক ছেলের নসব স্বীকার করার পূর্ব পর্যন্ত। কারণ এই ছেলের নসব (জন্মসূত্র) নাই, ফলে তার কোন মীরাস লাভ করে এমন কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। আর যদি নসব প্রমাণিত হয় তবে তার মীরাস আসাবাগণ হবে। মালিক (র) বলেন আমাদের নিকট ইজমাঈ সর্বজন গৃহীত সিদ্ধান্ত যাতে কোন ইখতিলাফ নাই- মাসয়ালা হল এই, ক্রীতদাসের পুত্রগণ আযাদ স্ত্রীর ঔরসের হলেও ক্রীতদাসের পিতা আযাদ হলে, তবে পুত্রদের বড় বাপ অর্থাৎ দাদা স্বীয় ছেলের এমন পুত্রদের (নাতির) যারা আযাদ এবং আযাদ মাতার গর্ভে যাদের জন্ম, তাদের মীরাস লাভ করিবে, যতদিন পিতা ক্রীতদাস থাকে ততদিন। যদি তাদের পিতা আযাদ হয়ে যায় তবে পিতার মাওলাগণ অভিভাবকত্ব লাভ করবে। আর যদি ক্রীতদাস থাকতেই তার মৃত্যু হয় তবে মীরাস অধিকার দাদার জন্য থাকবে। আর যদি ক্রীতদাস পিতার আযাদ দুই পুত্র থাকে এবং উহাদের একজন মারা যায় তাদের পিতা গোলাম থাকা অবস্থায় তবে পুত্রের বড় বাপ-দাদা মীরাস ও অভিভাবকত্ব দুইটিই লাভ করবে। মালিক (র) বলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে ক্রীতদাসীকে আযাদ করা হল এবং তার স্বামী তখনও (অন্যের) দাস। অতঃপর সন্তান প্রসবের পূর্বে অথবা পরে তার স্বামীকে আযাদ করা হয় তবে পেটে যা ছিল উহার অর্থাৎ সন্তানের অভিভাবকত্ব যে তার জননীকে আযাদ করেছে সে-ই লাভ করবে। কারণ এই সন্তান তার মাতাকে আযাদী দেয়ার পূর্বের, ফলে দাসত্ব তাকে স্পর্শ করেছে। সে ঐ সন্তানতুল্য মর্যাদার অধিকারী নয় যাকে তার জননী গর্ভে ধারণ করেছে আযাদী লাভের পরে। কারণ আযাদী লাভের পর জননী সেই সন্তান গর্ভে ধারণ করেছে। সেই সন্তানের পিতা তার অভিভাবকত্ব প্রাপ্ত হবে, যদি পিতাকে আযাদ করা হয়ে থাকে। মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস গোলাম আযাদ করার জন্য তার কর্তার অনুমতি প্রার্থনা করেছে, কর্তা তাকে অনুমতি দিয়েছে তবে আযাদীপ্রাপ্ত ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব এই ক্রীতদাসের কর্তা লাভ করবে, এই (আযাদীপ্রাপ্ত) ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তার কর্তা যে তাকে আযাদ করেছে সে পাবে না, যদিও সে (পরে) আযাদী লাভ করে থাকে।
রবী‘আ ইবনু আবদির রহমান (র) থেকে বর্নিতঃ
যুবাইর ইব্নুল আওয়াম (রা) জনৈক ক্রীতদাসকে খরিদ করে উহাকে আযাদ করেছিলেন। সেই ক্রীতদাসের কয়েকটি ছেলে ছিল আযাদ স্ত্রীর ঔরসের। যুবাইর (রা) যখন উহাকে আযাদ করলেন তখন তিনি বললেন, এরা আমার মাওয়ালী। আযাদী প্রদান সূত্রে এদের উপর আমার অভিভাবকত্ব উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- তাই এরা এখন আমার অধীনস্থ ও অধিকারভুক্ত। অন্যদিকে এই সন্তানদের জননীকে যারা আযাদ করেছিলেন। [১] তাঁরা বললেন এরা আমাদের অধিকারভুক্ত। অতঃপর তাঁরা বিবাদ নিয়ে উসমান ইব্নু আফফান (রা)-এর কাছে গেলেন। উসমান (রা) উহাদের অভিভাবকত্ব-এর ফয়সালা দিলেন যুবাইরের পক্ষে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র)-কে প্রশ্ন করা হল জনৈক ক্রীতদাসী সম্বন্ধে, যার কয়েকটি ছেলে রয়েছে আযাদ স্ত্রীর ঔরসে। তাদের স্বত্বাধিকার কার জন্য হবে। সাঈদ বললেন, যদি আযাদী না পাওয়া অবস্থায় তাদের পিতার মৃত্যু হয় তবে তাদের অভিভাবকত্ব হবে তাদের মাতার মাওলাদের (আযাদী দাতার) জন্য। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন তদ্রুপ অনারব মুসলিম লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের সন্তান ও তার (সন্তানের মাতা) মাওলার দিকে সম্পর্কিত হবে। তাই মাতার কর্তারা এই ছেলের মাওলা হবে। যদি সে মারা যায় তবে তারা উহার মীরাস লাভ করবে। সে কোন অপরাধ করলে তারা উহার পক্ষ হতে খেসারত বা ক্ষতিপূরণ দিবে। আর উহার পিতা যদি উহার নসব স্বীকার করে নেয় তবে উহাকে পিতার দিকে সম্পর্কিত করা হবে। এবং উহার স্বত্বাধিকার তার পিতার অভিভাবকত্ব লাভ করবে। তার মীরাসও তাদের জন্য হবে, আর তার অপরাধের খেসারতও হবে তাদের উপর এবং (স্বীকারোক্তির পর) ছেলের পিতাকে (অপরাধের শাস্তিতে) বেত্রাঘাত করা হবে। মালিক (র) বলেন তদ্রুপ আরব লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের স্বামী যে স্ত্রীকে সন্তানের ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছে সে যদি উহার ছেলের নসব (জন্মসূত্র) স্বীকার করে তবে সে ছেলে ঐ রূপ মর্যাদাই লাভ করবে। কিন্তু (পার্থক্য এই থাকবে যে,) এই ছেলের মাতা ও ভগ্নীদের মীরাস বরাদ্দের পর অবশিষ্ট মীরাস যদি তার পিতার সাথে সে যুক্ত না হয় তবে সাধারণ মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত হবে। পক্ষান্তরে লি‘আনকারী স্ত্রীলোকের ছেলের মীরাস তার অর্থাৎ মাতার মাওলারা লাভ করবে পিতা কর্তৃক ছেলের নসব স্বীকার করার পূর্ব পর্যন্ত। কারণ এই ছেলের নসব (জন্মসূত্র) নাই, ফলে তার কোন মীরাস লাভ করে এমন কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। আর যদি নসব প্রমাণিত হয় তবে তার মীরাস আসাবাগণ হবে। মালিক (র) বলেন আমাদের নিকট ইজমাঈ সর্বজন গৃহীত সিদ্ধান্ত যাতে কোন ইখতিলাফ নাই- মাসয়ালা হল এই, ক্রীতদাসের পুত্রগণ আযাদ স্ত্রীর ঔরসের হলেও ক্রীতদাসের পিতা আযাদ হলে, তবে পুত্রদের বড় বাপ অর্থাৎ দাদা স্বীয় ছেলের এমন পুত্রদের (নাতির) যারা আযাদ এবং আযাদ মাতার গর্ভে যাদের জন্ম, তাদের মীরাস লাভ করিবে, যতদিন পিতা ক্রীতদাস থাকে ততদিন। যদি তাদের পিতা আযাদ হয়ে যায় তবে পিতার মাওলাগণ অভিভাবকত্ব লাভ করবে। আর যদি ক্রীতদাস থাকতেই তার মৃত্যু হয় তবে মীরাস অধিকার দাদার জন্য থাকবে। আর যদি ক্রীতদাস পিতার আযাদ দুই পুত্র থাকে এবং উহাদের একজন মারা যায় তাদের পিতা গোলাম থাকা অবস্থায় তবে পুত্রের বড় বাপ-দাদা মীরাস ও অভিভাবকত্ব দুইটিই লাভ করবে। মালিক (র) বলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে ক্রীতদাসীকে আযাদ করা হল এবং তার স্বামী তখনও (অন্যের) দাস। অতঃপর সন্তান প্রসবের পূর্বে অথবা পরে তার স্বামীকে আযাদ করা হয় তবে পেটে যা ছিল উহার অর্থাৎ সন্তানের অভিভাবকত্ব যে তার জননীকে আযাদ করেছে সে-ই লাভ করবে। কারণ এই সন্তান তার মাতাকে আযাদী দেয়ার পূর্বের, ফলে দাসত্ব তাকে স্পর্শ করেছে। সে ঐ সন্তানতুল্য মর্যাদার অধিকারী নয় যাকে তার জননী গর্ভে ধারণ করেছে আযাদী লাভের পরে। কারণ আযাদী লাভের পর জননী সেই সন্তান গর্ভে ধারণ করেছে। সেই সন্তানের পিতা তার অভিভাবকত্ব প্রাপ্ত হবে, যদি পিতাকে আযাদ করা হয়ে থাকে। মালিক (র) বলেন যে ক্রীতদাস গোলাম আযাদ করার জন্য তার কর্তার অনুমতি প্রার্থনা করেছে, কর্তা তাকে অনুমতি দিয়েছে তবে আযাদীপ্রাপ্ত ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব এই ক্রীতদাসের কর্তা লাভ করবে, এই (আযাদীপ্রাপ্ত) ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তার কর্তা যে তাকে আযাদ করেছে সে পাবে না, যদিও সে (পরে) আযাদী লাভ করে থাকে।
حدثني مالك عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن أن الزبير بن العوام اشترى عبدا فأعتقه ولذلك العبد بنون من امرأة حرة فلما أعتقه الزبير قال هم موالي وقال موالي أمهم بل هم موالينا فاختصموا إلى عثمان بن عفان فقضى عثمان للزبير بولائهم . و حدثني مالك أنه بلغه أن سعيد بن المسيب سئل عن عبد له ولد من امرأة حرة لمن ولاؤهم فقال سعيد إن مات أبوهم وهو عبد لم يعتق فولاؤهم لموالي أمهم قال مالك ومثل ذلك ولد الملاعنة من الموالي ينسب إلى موالي أمه فيكونون هم مواليه إن مات ورثوه وإن جر جريرة عقلوا عنه فإن اعترف به أبوه ألحق به وصار ولاؤه إلى موالي أبيه وكان ميراثه لهم وعقله عليهم ويجلد أبوه الحد قال مالك وكذلك المرأة الملاعنة من العرب إذا اعترف زوجها الذي لاعنها بولدها صار بمثل هذه المنزلة إلا أن بقية ميراثه بعد ميراث أمه وإخوته لأمه لعامة المسلمين ما لم يلحق بأبيه وإنما ورث ولد الملاعنة الموالاة موالي أمه قبل أن يعترف به أبوه لأنه لم يكن له نسب ولا عصبة فلما ثبت نسبه صار إلى عصبته قال مالك الأمر المجتمع عليه عندنا في ولد العبد من امرأة حرة وأبو العبد حر أن الجد أبا العبد يجر ولاء ولد ابنه الأحرار من امرأة حرة يرثهم ما دام أبوهم عبدا فإن عتق أبوهم رجع الولاء إلى مواليه وإن مات وهو عبد كان الميراث والولاء للجد وإن العبد كان له ابنان حران فمات أحدهما وأبوه عبد جر الجد أبو الأب الولاء والميراث قال مالك في الأمة تعتق وهي حامل وزوجها مملوك ثم يعتق زوجها قبل أن تضع حملها أو بعدما تضع إن ولاء ما كان في بطنها للذي أعتق أمه لأن ذلك الولد قد كان أصابه الرق قبل أن تعتق أمه وليس هو بمنزلة الذي تحمل به أمه بعد العتاقة لأن الذي تحمل به أمه بعد العتاقة إذا عتق أبوه جر ولاءه قال مالك في العبد يستأذن سيده أن يعتق عبدا له فيأذن له سيده إن ولاء العبد المعتق لسيد العبد لا يرجع ولاؤه لسيده الذي أعتقه وإن عتق.