মুয়াত্তা ইমাম মালিক > সাধবী [১] -এর বর্ণনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২১
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب أنه قال: { المحصنات من النساء }هن أولات الأزواج ويرجع ذلك إلى أن الله حرم الزنا.
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
সা‘ঈদ ইবনু মাসায়্যাব (র) বলেন : কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত الْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ সাধ্বী রমণিগণ “এরা হলেন ঐ সকল নারী যাদের স্বামী আছে।” এটা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
সা‘ঈদ ইবনু মাসায়্যাব (র) বলেন : কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত الْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ সাধ্বী রমণিগণ “এরা হলেন ঐ সকল নারী যাদের স্বামী আছে।” এটা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب أنه قال: { المحصنات من النساء }هن أولات الأزواج ويرجع ذلك إلى أن الله حرم الزنا.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২২
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب وبلغه عن القاسم بن محمد أنهما كانا يقولان إذا نكح الحر الأمة فمسها فقد أحصنته ১৯৮৮-قال مالك وكل من أدركت كان يقول ذلك تحصن الأمة الحر إذا نكحها فمسها فقد أحصنته ১৯৮৯-قال مالك يحصن العبد الحرة إذا مسها بنكاح ولا تحصن الحرة العبد إلا أن يعتق وهو زوجها فيمسها بعد عتقه فإن فارقها قبل أن يعتق فليس بمحصن حتى يتزوج بعد عتقه ويمس امرأته. قال مالك والأمة إذا كانت تحت الحر ثم فارقها قبل أن تعتق فإنه لا يحصنها نكاحه إياها وهي أمة حتى تنكح بعد عتقها ويصيبها زوجها فذلك إحصانها والأمة إذا كانت تحت الحر فتعتق وهي تحته قبل أن يفارقها فإنه يحصنها إذا عتقت وهي عنده إذا هو أصابها بعد أن تعتق ১৯৯১-و قال مالك والحرة النصرانية واليهودية والأمة المسلمة يحصن الحر المسلم إذا نكح إحداهن فأصابها
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু শিহাব (র) ও কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ (র) তারা উভয়ে বলতেন : স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করলে এর দ্বারা সে মুহসান বলে গণ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন, আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পেয়েছি তারা বলতেন : ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান [১] করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসান বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীনা নারী ক্রীতদাসকে তদ্রূপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তার স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তার সাথে সহবাস করে তবে সে মুহসান হবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করে দেয় তবে সে মুহসান হবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (র) বলেন : যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রয়েছে তার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে বিবাহ করে তার সাথে সংগত হলে সে মুহসানা (সধবা) হবে। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পুর্বে সে দাসত্ব হতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং এর পর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করে। মালিক (র) বলেন : খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীনা নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা (সাধবা) হবে।
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু শিহাব (র) ও কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ (র) তারা উভয়ে বলতেন : স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করলে এর দ্বারা সে মুহসান বলে গণ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন, আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পেয়েছি তারা বলতেন : ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান [১] করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসান বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীনা নারী ক্রীতদাসকে তদ্রূপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তার স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তার সাথে সহবাস করে তবে সে মুহসান হবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করে দেয় তবে সে মুহসান হবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (র) বলেন : যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রয়েছে তার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে বিবাহ করে তার সাথে সংগত হলে সে মুহসানা (সধবা) হবে। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পুর্বে সে দাসত্ব হতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং এর পর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করে। মালিক (র) বলেন : খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীনা নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা (সাধবা) হবে।
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب وبلغه عن القاسم بن محمد أنهما كانا يقولان إذا نكح الحر الأمة فمسها فقد أحصنته ১৯৮৮-قال مالك وكل من أدركت كان يقول ذلك تحصن الأمة الحر إذا نكحها فمسها فقد أحصنته ১৯৮৯-قال مالك يحصن العبد الحرة إذا مسها بنكاح ولا تحصن الحرة العبد إلا أن يعتق وهو زوجها فيمسها بعد عتقه فإن فارقها قبل أن يعتق فليس بمحصن حتى يتزوج بعد عتقه ويمس امرأته. قال مالك والأمة إذا كانت تحت الحر ثم فارقها قبل أن تعتق فإنه لا يحصنها نكاحه إياها وهي أمة حتى تنكح بعد عتقها ويصيبها زوجها فذلك إحصانها والأمة إذا كانت تحت الحر فتعتق وهي تحته قبل أن يفارقها فإنه يحصنها إذا عتقت وهي عنده إذا هو أصابها بعد أن تعتق ১৯৯১-و قال مالك والحرة النصرانية واليهودية والأمة المسلمة يحصن الحر المسلم إذا نكح إحداهن فأصابها
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > মুত‘আ [১] বিবাহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৩
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن عبد الله والحسن ابني محمد بن علي بن أبي طالب عن أبيهما عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر وعن أكل لحوم الحمر الإنسية.
আলী ইবনু আবূ তালিব (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর দিবসে মুত’আ বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশ্ত আহার করতেও নিষেধ করেছেন। (বুখারী ৪২১৬, মুসলিম ১৪০৭)
আলী ইবনু আবূ তালিব (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর দিবসে মুত’আ বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশ্ত আহার করতেও নিষেধ করেছেন। (বুখারী ৪২১৬, মুসলিম ১৪০৭)
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن عبد الله والحسن ابني محمد بن علي بن أبي طالب عن أبيهما عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر وعن أكل لحوم الحمر الإنسية.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৪
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير أن خولة بنت حكيم دخلت على عمر بن الخطاب فقالت إن ربيعة بن أمية استمتع بامرأة فحملت منه فخرج عمر بن الخطاب فزعا يجر رداءه فقال هذه المتعة ولو كنت تقدمت فيها لرجمت.
খাওলা বিন্তে হাকিম (রা) থেকে বর্নিতঃ
রবি’আ ইব্নু উমাইয়া (রা) এক মুওয়াল্লাদ [১] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমার ইব্নু খাত্তাব এটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন এবং আপন চাদর টানতে টানতে বের হলেন। অতঃপর তিনি বললেন : মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করতাম তবে এই (মুত‘আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করতাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
খাওলা বিন্তে হাকিম (রা) থেকে বর্নিতঃ
রবি’আ ইব্নু উমাইয়া (রা) এক মুওয়াল্লাদ [১] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমার ইব্নু খাত্তাব এটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন এবং আপন চাদর টানতে টানতে বের হলেন। অতঃপর তিনি বললেন : মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করতাম তবে এই (মুত‘আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করতাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير أن خولة بنت حكيم دخلت على عمر بن الخطاب فقالت إن ربيعة بن أمية استمتع بامرأة فحملت منه فخرج عمر بن الخطاب فزعا يجر رداءه فقال هذه المتعة ولو كنت تقدمت فيها لرجمت.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > ক্রীতদাসের বিবাহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৫
حدثني يحيى عن مالك أنه سمع ربيعة بن أبي عبد الرحمن يقول ينكح العبد أربع نسوة قال مالك وهذا أحسن ما سمعت في ذلك ১৯৯৭-قال مالك والعبد مخالف للمحلل إن أذن له سيده ثبت نكاحه وإن لم يأذن له سيده فرق بينهما والمحلل يفرق بينهما على كل حال إذا أريد بالنكاح التحليل ১৯৯৮- قال مالك في العبد إذا ملكته امرأته أو الزوج يملك امرأته إن ملك كل واحد منهما صاحبه يكون فسخا بغير طلاق وإن تراجعا بنكاح بعد لم تكن تلك الفرقة طلاقا ১৯৯৯-قال مالك والعبد إذا أعتقته امرأته إذا ملكته وهي في عدة منه لم يتراجعا إلا بنكاح جديد.
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি রবী‘আ ইব্নু আবদুর রহমান (র)-কে বলতে শুনেছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করতে পারে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তার বিবাহ বৈধ হবে। আর যদি মালিক তার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করে দেওয়া হবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে থাকে। মালিক (র) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তার মালিক হয়, অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাদের বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলে গণ্য হবে না। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তার মালিক হয়েছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে, তবে তারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে না। (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করতে হবে)।
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি রবী‘আ ইব্নু আবদুর রহমান (র)-কে বলতে শুনেছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করতে পারে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তার বিবাহ বৈধ হবে। আর যদি মালিক তার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করে দেওয়া হবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে থাকে। মালিক (র) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তার মালিক হয়, অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাদের বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলে গণ্য হবে না। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তার মালিক হয়েছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে, তবে তারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে না। (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করতে হবে)।
حدثني يحيى عن مالك أنه سمع ربيعة بن أبي عبد الرحمن يقول ينكح العبد أربع نسوة قال مالك وهذا أحسن ما سمعت في ذلك ১৯৯৭-قال مالك والعبد مخالف للمحلل إن أذن له سيده ثبت نكاحه وإن لم يأذن له سيده فرق بينهما والمحلل يفرق بينهما على كل حال إذا أريد بالنكاح التحليل ১৯৯৮- قال مالك في العبد إذا ملكته امرأته أو الزوج يملك امرأته إن ملك كل واحد منهما صاحبه يكون فسخا بغير طلاق وإن تراجعا بنكاح بعد لم تكن تلك الفرقة طلاقا ১৯৯৯-قال مالك والعبد إذا أعتقته امرأته إذا ملكته وهي في عدة منه لم يتراجعا إلا بنكاح جديد.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > মুশরিক স্বামীর পূর্বে তার স্ত্রী মুসলমান হলে তাদের বিবাহ সম্পর্কিত হুকুম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৭
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب أنه قال كان بين إسلام صفوان وبين إسلام امرأته نحو من شهرين قال ابن شهاب ولم يبلغنا أن امرأة هاجرت إلى الله ورسوله وزوجها كافر مقيم بدار الكفر إلا فرقت هجرتها بينها وبين زوجها إلا أن يقدم زوجها مهاجرا قبل أن تنقضي عدتها.
মালিক (র) ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছে : সাফওয়ান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্ততঃ দুই মাসের। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) ইব্নু শিহাব (র) বলেন : কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করলে এবং তার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফর থাকলে তবে তাঁর হিজরত তাঁর ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করবে। তবে যদি তাঁর স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে। (এমতাবস্থায় স্ত্রী তারই থাকবে)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছে : সাফওয়ান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্ততঃ দুই মাসের। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) ইব্নু শিহাব (র) বলেন : কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করলে এবং তার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফর থাকলে তবে তাঁর হিজরত তাঁর ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করবে। তবে যদি তাঁর স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে। (এমতাবস্থায় স্ত্রী তারই থাকবে)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب أنه قال كان بين إسلام صفوان وبين إسلام امرأته نحو من شهرين قال ابن شهاب ولم يبلغنا أن امرأة هاجرت إلى الله ورسوله وزوجها كافر مقيم بدار الكفر إلا فرقت هجرتها بينها وبين زوجها إلا أن يقدم زوجها مهاجرا قبل أن تنقضي عدتها.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৮
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب أن أم حكيم بنت الحارث بن هشام وكانت تحت عكرمة بن أبي جهل فأسلمت يوم الفتح وهرب زوجها عكرمة بن أبي جهل من الإسلام حتى قدم اليمن فارتحلت أم حكيم حتى قدمت عليه باليمن فدعته إلى الإسلام فأسلم وقدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فلما رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم وثب إليه فرحا وما عليه رداء حتى بايعه فثبتا على نكاحهما ذلك. قال مالك وإذا أسلم الرجل قبل امرأته وقعت الفرقة بينهما إذا عرض عليها الإسلام فلم تسلم لأن الله تبارك وتعالى يقول في كتابه { ولا تمسكوا بعصم الكوافر }.
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
হারিস ইবনু হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবনু আবূ জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবূল করেন। তার স্বামী ইকরামা ইবনু আবূ জাহল ইসলাম গ্রহণ না করে পলায়ন করে ইয়ামনের দিকে চলে যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়ে তার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানান। ইকরামা ইসলাম কবূল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে উপস্থিত হন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে আনন্দে এত দ্রুত উঠলেন যে, তাঁর পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রইল না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়‘আত গ্রহণ করলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন : স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলে সে যদি মুসলমান না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করিতেছেন : وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ . তোমরা অবিশ্বাসী নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখ না। (সূরা: মুমতাহিনাহ, ১০)
ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
হারিস ইবনু হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবনু আবূ জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবূল করেন। তার স্বামী ইকরামা ইবনু আবূ জাহল ইসলাম গ্রহণ না করে পলায়ন করে ইয়ামনের দিকে চলে যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়ে তার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানান। ইকরামা ইসলাম কবূল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে উপস্থিত হন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে আনন্দে এত দ্রুত উঠলেন যে, তাঁর পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রইল না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়‘আত গ্রহণ করলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন : স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলে সে যদি মুসলমান না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করিতেছেন : وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ . তোমরা অবিশ্বাসী নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখ না। (সূরা: মুমতাহিনাহ, ১০)
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب أن أم حكيم بنت الحارث بن هشام وكانت تحت عكرمة بن أبي جهل فأسلمت يوم الفتح وهرب زوجها عكرمة بن أبي جهل من الإسلام حتى قدم اليمن فارتحلت أم حكيم حتى قدمت عليه باليمن فدعته إلى الإسلام فأسلم وقدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فلما رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم وثب إليه فرحا وما عليه رداء حتى بايعه فثبتا على نكاحهما ذلك. قال مالك وإذا أسلم الرجل قبل امرأته وقعت الفرقة بينهما إذا عرض عليها الإسلام فلم تسلم لأن الله تبارك وتعالى يقول في كتابه { ولا تمسكوا بعصم الكوافر }.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১১২৬
حدثني مالك عن ابن شهاب أنه بلغه أن نساء كن في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلمن بأرضهن وهن غير مهاجرات وأزواجهن حين أسلمن كفار منهن بنت الوليد بن المغيرة وكانت تحت صفوان بن أمية فأسلمت يوم الفتح وهرب زوجها صفوان بن أمية من الإسلام فبعث إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن عمه وهب بن عمير برداء رسول الله صلى الله عليه وسلم أمانا لصفوان بن أمية ودعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الإسلام وأن يقدم عليه فإن رضي أمرا قبله وإلا سيره شهرين فلما قدم صفوان على رسول الله صلى الله عليه وسلم بردائه ناداه على رءوس الناس فقال يا محمد إن هذا وهب بن عمير جاءني بردائك وزعم أنك دعوتني إلى القدوم عليك فإن رضيت أمرا قبلته وإلا سيرتني شهرين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انزل أبا وهب فقال لا والله لا أنزل حتى تبين لي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بل لك تسير أربعة أشهر فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل هوازن بحنين فأرسل إلى صفوان بن أمية يستعيره أداة وسلاحا عنده فقال صفوان أطوعا أم كرها فقال بل طوعا فأعاره الأداة والسلاح الذي عنده ثم خرج صفوان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو كافر فشهد حنينا والطائف وهو كافر وامرأته مسلمة ولم يفرق رسول الله صلى الله عليه وسلم بينه وبين امرأته حتى أسلم صفوان واستقرت عنده امرأته بذلك النكاح.
মালিক (র) ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে স্ত্রীলোকেরা তাঁদের নিজের শহরে থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেন। তাঁরা মদীনার দিকে হিজরত করতে পারতেন না। তাঁরা মুসলমান হতেন অথচ তাঁদের স্বামীগণ কাফির রয়েছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবনু মুগীরার কন্যা। তিনি সাফওয়ান ইবনু উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলমান হলেন। আর তাঁর স্বামী সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া ইসলাম কবুল না করে পলায়ন করলেন। সাফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবনু উমায়রকে প্রেরণ করলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলেন এবং তাঁর নিকট আসতে বললেন, যদি সে খুশীতে মুসলমান হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হবে, নতুবা তাকে দুই মাস সময় দেয়া হবে। সাফওয়ান রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাদর নিয়ে আগমন করল এবং লোক সম্মুখে চিৎকার করে বলল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবনে উমায়র, সে আপনার চাদর নিয়ে আমার কাছে গিয়েছিল এবং সে বলেছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসতে আহ্বান জানিয়েছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলমান হই, উহা গ্রহণ করা হবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবূ ওহাব; (ইহা সাফওয়ানের কুনিয়াত), তুমি (উটের পিঠ হতে) অবতরণ কর। সাফওয়ান বলল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করবেন (ইহা সত্য কিনা)। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : বরং তোমাকে চার মাস সময় দেয়া হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযান) বের হলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করলেন তার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধারস্বরূপ দেয়ার জন্য। সাফওয়ান বললেন, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, (বাধ্যতামূলক নয়) বরং খুশীতে। সে তার নিকট যা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হতে) হুনায়ন-এর দিকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বাহির হল। সে তখনও কাফির। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হল, সে তখনও কাফির আর তার স্ত্রী মুসলমান। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান ও তার স্ত্রীকে পৃথক করেননি। পরে সাফওয়ান মুসলমান হলেন। তার স্ত্রীকে তাহার কাছে রাখা হল সেই (আগের) বিবাহে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে স্ত্রীলোকেরা তাঁদের নিজের শহরে থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেন। তাঁরা মদীনার দিকে হিজরত করতে পারতেন না। তাঁরা মুসলমান হতেন অথচ তাঁদের স্বামীগণ কাফির রয়েছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবনু মুগীরার কন্যা। তিনি সাফওয়ান ইবনু উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলমান হলেন। আর তাঁর স্বামী সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া ইসলাম কবুল না করে পলায়ন করলেন। সাফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবনু উমায়রকে প্রেরণ করলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলেন এবং তাঁর নিকট আসতে বললেন, যদি সে খুশীতে মুসলমান হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হবে, নতুবা তাকে দুই মাস সময় দেয়া হবে। সাফওয়ান রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাদর নিয়ে আগমন করল এবং লোক সম্মুখে চিৎকার করে বলল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবনে উমায়র, সে আপনার চাদর নিয়ে আমার কাছে গিয়েছিল এবং সে বলেছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসতে আহ্বান জানিয়েছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলমান হই, উহা গ্রহণ করা হবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবূ ওহাব; (ইহা সাফওয়ানের কুনিয়াত), তুমি (উটের পিঠ হতে) অবতরণ কর। সাফওয়ান বলল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করবেন (ইহা সত্য কিনা)। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : বরং তোমাকে চার মাস সময় দেয়া হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযান) বের হলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করলেন তার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধারস্বরূপ দেয়ার জন্য। সাফওয়ান বললেন, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, (বাধ্যতামূলক নয়) বরং খুশীতে। সে তার নিকট যা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হতে) হুনায়ন-এর দিকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বাহির হল। সে তখনও কাফির। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হল, সে তখনও কাফির আর তার স্ত্রী মুসলমান। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান ও তার স্ত্রীকে পৃথক করেননি। পরে সাফওয়ান মুসলমান হলেন। তার স্ত্রীকে তাহার কাছে রাখা হল সেই (আগের) বিবাহে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
حدثني مالك عن ابن شهاب أنه بلغه أن نساء كن في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلمن بأرضهن وهن غير مهاجرات وأزواجهن حين أسلمن كفار منهن بنت الوليد بن المغيرة وكانت تحت صفوان بن أمية فأسلمت يوم الفتح وهرب زوجها صفوان بن أمية من الإسلام فبعث إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن عمه وهب بن عمير برداء رسول الله صلى الله عليه وسلم أمانا لصفوان بن أمية ودعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الإسلام وأن يقدم عليه فإن رضي أمرا قبله وإلا سيره شهرين فلما قدم صفوان على رسول الله صلى الله عليه وسلم بردائه ناداه على رءوس الناس فقال يا محمد إن هذا وهب بن عمير جاءني بردائك وزعم أنك دعوتني إلى القدوم عليك فإن رضيت أمرا قبلته وإلا سيرتني شهرين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انزل أبا وهب فقال لا والله لا أنزل حتى تبين لي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بل لك تسير أربعة أشهر فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل هوازن بحنين فأرسل إلى صفوان بن أمية يستعيره أداة وسلاحا عنده فقال صفوان أطوعا أم كرها فقال بل طوعا فأعاره الأداة والسلاح الذي عنده ثم خرج صفوان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو كافر فشهد حنينا والطائف وهو كافر وامرأته مسلمة ولم يفرق رسول الله صلى الله عليه وسلم بينه وبين امرأته حتى أسلم صفوان واستقرت عنده امرأته بذلك النكاح.