মুয়াত্তা ইমাম মালিক > ওযূ ব্যতীত কুরআন পাঠে অনুমতি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৫৬
حدثني يحيى عن مالك عن أيوب بن أبي تميمة السختياني عن محمد بن سيرين أن عمر بن الخطاب كان في قوم وهم يقرءون القرآن فذهب لحاجته ثم رجع وهو يقرأ القرآن فقال له رجل يا أمير المؤمنين أتقرأ القرآن ولست على وضوء فقال له عمر من أفتاك بهذا أمسيلمة.
এক সময় উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যারা কুরআন পাঠ করতেছিলেন, (ইতিমধ্যে) তিনি প্রস্রাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করলেন এবং কুরআন পাঠ করতে শুরু করলেন। (এটা দেখে) এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আমিরুল মু’মিনীন! আপনি (কুরআন) পাঠ করতেছেন অথচ আপনি বে-ওযূ। তখন উমার (রা) বললেন এইরূপ ফত্ওয়া কে দিয়েছে? মুসায়লামা কি? (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
এক সময় উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যারা কুরআন পাঠ করতেছিলেন, (ইতিমধ্যে) তিনি প্রস্রাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করলেন এবং কুরআন পাঠ করতে শুরু করলেন। (এটা দেখে) এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আমিরুল মু’মিনীন! আপনি (কুরআন) পাঠ করতেছেন অথচ আপনি বে-ওযূ। তখন উমার (রা) বললেন এইরূপ ফত্ওয়া কে দিয়েছে? মুসায়লামা কি? (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
حدثني يحيى عن مالك عن أيوب بن أبي تميمة السختياني عن محمد بن سيرين أن عمر بن الخطاب كان في قوم وهم يقرءون القرآن فذهب لحاجته ثم رجع وهو يقرأ القرآن فقال له رجل يا أمير المؤمنين أتقرأ القرآن ولست على وضوء فقال له عمر من أفتاك بهذا أمسيلمة.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > তাহযিবুল কুরআন
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৫৭
حدثني يحيى عن مالك عن داود بن الحصين عن الأعرج عن عبد الرحمن بن عبد القاري أن عمر بن الخطاب قال، من فاته حزبه من الليل فقرأه حين تزول الشمس إلى صلاة الظهر فإنه لم يفته أو كأنه أدركه.
আবদুর রহমান ইবনু আবদিল কারী (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেন, যার রাত্রের (নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের) অংশ ছুটে যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে) পড়ে নিবে; তবে তার সে ওযীফা যেন ছুটেনি (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, যেন তা পূর্ণ করেছে। (সহীহ, মুসলিম ৭৪৭)
আবদুর রহমান ইবনু আবদিল কারী (র) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেন, যার রাত্রের (নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের) অংশ ছুটে যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে) পড়ে নিবে; তবে তার সে ওযীফা যেন ছুটেনি (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, যেন তা পূর্ণ করেছে। (সহীহ, মুসলিম ৭৪৭)
حدثني يحيى عن مالك عن داود بن الحصين عن الأعرج عن عبد الرحمن بن عبد القاري أن عمر بن الخطاب قال، من فاته حزبه من الليل فقرأه حين تزول الشمس إلى صلاة الظهر فإنه لم يفته أو كأنه أدركه.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৫৮
و حدثني عن مالك عن يحيى بن سعيد أنه قال كنت أنا ومحمد بن يحيى بن حبان جالسين فدعا محمد رجلا فقال أخبرني بالذي سمعت من أبيك فقال الرجل أخبرني أبي أنه أتى زيد بن ثابت فقال له كيف ترى في قراءة القرآن في سبع فقال زيد حسن ولأن أقرأه في نصف أو عشر أحب إلي وسلني لم ذاك قال فإني أسألك قال زيد لكي أتدبره وأقف عليه.
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি ও মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (র) (এক জায়গায়) বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনার পিতা হতে যা শুনেছেন তা আমার কাছে বলুন। সে ব্যক্তি বললেন, আমাকে আমার পিতা বলেছেন তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে গেলেন; তারপর তাঁকে বললেন, সাত দিনে কুরআন পাঠ (খতম) করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? (উত্তরে) যায়দ (রা) বললেন, ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ (শেষ) করা আমার কাছে অতি পছন্দনীয়। আর তুমি এর কারণ কি জানতে চাইলে শোন (তিনি বললেন), এটা এজন্য যে, (কুরআনকে) থেমে থেমে পড়লে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে পারব। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি ও মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (র) (এক জায়গায়) বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনার পিতা হতে যা শুনেছেন তা আমার কাছে বলুন। সে ব্যক্তি বললেন, আমাকে আমার পিতা বলেছেন তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে গেলেন; তারপর তাঁকে বললেন, সাত দিনে কুরআন পাঠ (খতম) করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? (উত্তরে) যায়দ (রা) বললেন, ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ (শেষ) করা আমার কাছে অতি পছন্দনীয়। আর তুমি এর কারণ কি জানতে চাইলে শোন (তিনি বললেন), এটা এজন্য যে, (কুরআনকে) থেমে থেমে পড়লে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে পারব। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن يحيى بن سعيد أنه قال كنت أنا ومحمد بن يحيى بن حبان جالسين فدعا محمد رجلا فقال أخبرني بالذي سمعت من أبيك فقال الرجل أخبرني أبي أنه أتى زيد بن ثابت فقال له كيف ترى في قراءة القرآن في سبع فقال زيد حسن ولأن أقرأه في نصف أو عشر أحب إلي وسلني لم ذاك قال فإني أسألك قال زيد لكي أتدبره وأقف عليه.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > কুরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬০
و حدثني عن مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إنما مثل صاحب القرآن كمثل صاحب الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনওয়ালা রশিতে বাঁধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে; আর যদি উহাকে ছেড়ে দেয়, তবে উহা চেপে যাবে। (বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ৭৮৯)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনওয়ালা রশিতে বাঁধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে; আর যদি উহাকে ছেড়ে দেয়, তবে উহা চেপে যাবে। (বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ৭৮৯)
و حدثني عن مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إنما مثل صاحب القرآن كمثل صاحب الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬২
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أنه قال أنزلت عبس وتولى في عبد الله بن أم مكتوم جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يقول يا محمد استدنيني وعند النبي صلى الله عليه وسلم رجل من عظماء المشركين فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يعرض عنه ويقبل على الآخر ويقول يا أبا فلان هل ترى بما أقول بأسا فيقول لا والدماء ما أرى بما تقول بأسا فأنزلت عبس وتولى أن جاءه الأعمى.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, عَبَسَ وَتَوَلَّى অবতীর্ণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম (রা)-এর শানে। তিনি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার কাছে বসতে দিন, সে সময় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে মনোযোগ ফিরিয়ে সে নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বলছিলেন হে আবূ ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যা বলি তাতে কোন ত্রুটি দেখেছ কি? (উত্তরে) সে বলছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যা বলেন তাতে কোন প্রকার ত্রুটি দেখছি না। অতঃপর এই সূরা [১] عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়। (সহীহ, মুত্তাসিল, ইমাম তিরমিযী আয়েশা (রা) কর্তৃক হাদীসটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন [তিরমিযী ৩৩৩১] আলবানী (রহ) হাদীসটি সহীহ বলেছেন)
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, عَبَسَ وَتَوَلَّى অবতীর্ণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম (রা)-এর শানে। তিনি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার কাছে বসতে দিন, সে সময় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে মনোযোগ ফিরিয়ে সে নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বলছিলেন হে আবূ ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যা বলি তাতে কোন ত্রুটি দেখেছ কি? (উত্তরে) সে বলছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যা বলেন তাতে কোন প্রকার ত্রুটি দেখছি না। অতঃপর এই সূরা [১] عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়। (সহীহ, মুত্তাসিল, ইমাম তিরমিযী আয়েশা (রা) কর্তৃক হাদীসটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন [তিরমিযী ৩৩৩১] আলবানী (রহ) হাদীসটি সহীহ বলেছেন)
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أنه قال أنزلت عبس وتولى في عبد الله بن أم مكتوم جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يقول يا محمد استدنيني وعند النبي صلى الله عليه وسلم رجل من عظماء المشركين فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يعرض عنه ويقبل على الآخر ويقول يا أبا فلان هل ترى بما أقول بأسا فيقول لا والدماء ما أرى بما تقول بأسا فأنزلت عبس وتولى أن جاءه الأعمى.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৫৯
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عبد الرحمن بن عبد القاري أنه قال سمعت عمر بن الخطاب يقول سمعت هشام بن حكيم بن حزام يقرأ سورة الفرقان على غير ما أقرؤها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أقرأنيها فكدت أن أعجل عليه ثم أمهلته حتى انصرف ثم لببته بردائه فجئت به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله إني سمعت هذا يقرأ سورة الفرقان على غير ما أقرأتنيها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أرسله ثم قال اقرأ يا هشام فقرأ القراءة التي سمعته يقرأ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا أنزلت ثم قال لي اقرأ فقرأتها فقال هكذا أنزلت إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف فاقرءوا ما تيسر منه.
আবদুর রহমান ইবনু আবদিল কারী (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-কে বলতে শুনেছি হিশাম ইবনু হাকিম ইবনু হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেভাবে পড়ে থাকি উহার ভিন্নরূপ পড়তে শুনলাম। অথচ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সে সূরাটি পড়ায়েছেন। (আমি ক্রোধে) তাঁকে ধরবার উপক্রম করেছিলাম। কিন্তু নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত তাঁকে আমি সময় দিলাম। অতঃপর তাঁর চাদর দ্বারা আমি তাঁকে পেঁচিয়ে নিলাম। পরে তাঁকে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে নিয়ে এলাম এবং আরজ করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ! সূরায়ে আল-ফুরকান আপনি আমাকে যেরূপ পড়ায়েছেন, আমি ইহাকে উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাঁকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তাঁকে বললেন, তুমি পাঠ কর। তারপর আমি যেরূপ কিরাআত পড়িতে তাঁকে শুনেছি সে কিরাআতই তিনি পড়লেন। (এই কিরাআত শুনে) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতঃপর আমাকে (উদ্দেশ্য করে) বললেন, তুমি পড়। আমি তা (ফুরকান) পাঠ করলাম। তিনি বললেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কুরআন সাত অক্ষরের উপর নাযিল হয়েছে, ফলে তোমরা তা হতে যেটি সহজ হয় সেটি পাঠ কর। (বুখারী ২৪১৯, মুসলিম ৮১৮)
আবদুর রহমান ইবনু আবদিল কারী (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-কে বলতে শুনেছি হিশাম ইবনু হাকিম ইবনু হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেভাবে পড়ে থাকি উহার ভিন্নরূপ পড়তে শুনলাম। অথচ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সে সূরাটি পড়ায়েছেন। (আমি ক্রোধে) তাঁকে ধরবার উপক্রম করেছিলাম। কিন্তু নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত তাঁকে আমি সময় দিলাম। অতঃপর তাঁর চাদর দ্বারা আমি তাঁকে পেঁচিয়ে নিলাম। পরে তাঁকে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে নিয়ে এলাম এবং আরজ করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ! সূরায়ে আল-ফুরকান আপনি আমাকে যেরূপ পড়ায়েছেন, আমি ইহাকে উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাঁকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তাঁকে বললেন, তুমি পাঠ কর। তারপর আমি যেরূপ কিরাআত পড়িতে তাঁকে শুনেছি সে কিরাআতই তিনি পড়লেন। (এই কিরাআত শুনে) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতঃপর আমাকে (উদ্দেশ্য করে) বললেন, তুমি পড়। আমি তা (ফুরকান) পাঠ করলাম। তিনি বললেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কুরআন সাত অক্ষরের উপর নাযিল হয়েছে, ফলে তোমরা তা হতে যেটি সহজ হয় সেটি পাঠ কর। (বুখারী ২৪১৯, মুসলিম ৮১৮)
حدثني يحيى عن مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عبد الرحمن بن عبد القاري أنه قال سمعت عمر بن الخطاب يقول سمعت هشام بن حكيم بن حزام يقرأ سورة الفرقان على غير ما أقرؤها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أقرأنيها فكدت أن أعجل عليه ثم أمهلته حتى انصرف ثم لببته بردائه فجئت به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله إني سمعت هذا يقرأ سورة الفرقان على غير ما أقرأتنيها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أرسله ثم قال اقرأ يا هشام فقرأ القراءة التي سمعته يقرأ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا أنزلت ثم قال لي اقرأ فقرأتها فقال هكذا أنزلت إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف فاقرءوا ما تيسر منه.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬১
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن الحارث بن هشام سأل رسول الله كيف يأتيك الوحي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أحيانا يأتيني في مثل صلصلة الجرس وهو أشده علي فيفصم عني وقد وعيت ما قال وأحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول قالت عائشة ولقد رأيته ينزل عليه في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقا.
আয়েশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
(একবার) হারিস ইবনু হিশাম (রা) নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করলেন আপনার কাছে ওহী কিরূপে আসে? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরে) বললেন, কখনও কখনও আমার কাছে (ওহী) আসে ঘণ্টাধ্বনির মত, এই (প্রকারের অবতীর্ণ) ওহী আমার উপর অতি কঠিন হয়। তারপর আমা হতে (এই অবস্থার) অবসান হয়, (এই দিকে) তিনি যা বলেছেন আমি তা হিফাযত করেছি। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করে আমার কাছে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তিনি যা বলেন আমি তা হিফাযত করি। আয়েশা (রা) বলেন, আমি অবশ্য রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর সেই অবস্থার অবসান হয়েছে, তখন তাঁর ললাট হতে ঘাম টপকাচ্ছে। (বুখারী ২, মুসলিম ২৩৩৩)
আয়েশা (রা) থেকে বর্নিতঃ
(একবার) হারিস ইবনু হিশাম (রা) নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করলেন আপনার কাছে ওহী কিরূপে আসে? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরে) বললেন, কখনও কখনও আমার কাছে (ওহী) আসে ঘণ্টাধ্বনির মত, এই (প্রকারের অবতীর্ণ) ওহী আমার উপর অতি কঠিন হয়। তারপর আমা হতে (এই অবস্থার) অবসান হয়, (এই দিকে) তিনি যা বলেছেন আমি তা হিফাযত করেছি। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করে আমার কাছে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তিনি যা বলেন আমি তা হিফাযত করি। আয়েশা (রা) বলেন, আমি অবশ্য রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর সেই অবস্থার অবসান হয়েছে, তখন তাঁর ললাট হতে ঘাম টপকাচ্ছে। (বুখারী ২, মুসলিম ২৩৩৩)
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن الحارث بن هشام سأل رسول الله كيف يأتيك الوحي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أحيانا يأتيني في مثل صلصلة الجرس وهو أشده علي فيفصم عني وقد وعيت ما قال وأحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول قالت عائشة ولقد رأيته ينزل عليه في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقا.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৩
و حدثني عن مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسير في بعض أسفاره وعمر بن الخطاب يسير معه ليلا فسأله عمر عن شيء فلم يجبه ثم سأله فلم يجبه ثم سأله فلم يجبه فقال عمر ثكلتك أمك عمر نزرت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات كل ذلك لا يجيبك قال عمر فحركت بعيري حتى إذا كنت أمام الناس وخشيت أن ينزل في قرآن فما نشبت أن سمعت صارخا يصرخ بي قال فقلت لقد خشيت أن يكون نزل في قرآن قال فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقال لقد أنزلت علي هذه الليلة سورة لهي أحب إلي مما طلعت عليه الشمس ثم قرأ إنا فتحنا لك فتحا مبينا.
যায়দ ইবনু আসলাম (র) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলছিলেন। রাত্রে উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। তখন উমার (রা) কোন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোন উত্তর দিলেন না। উমার (রা) পুনরায় সওয়াল করলেন। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে (উমার) আবার সওয়াল করলেন, কিন্তু (এইবারও) তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন উমার (রা) (মনে মনে) বললেন, উমার, তোমার মাতা তোমাকে হারিয়ে ফেলুন (এবং কাঁদতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ)। তুমি বিনয় সহকারে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সওয়াল করলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না। উমার (রা) বলেন, তারপর আমার উটকে আমি চালিত করলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলে গেলাম। আমি আশংকা করলাম আমার বিষয়ে কুরআন আবতীর্ণ হতে পারে। তারপর আমি (বেশিক্ষণ) অবস্থান করিনি, (হঠাৎ) এর উচ্চৈঃস্বরে আহ্বানকারী আমাকে ডাকছিল। তিনি (উমার) বলেন, আমি আশংকা করছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কুরআন নাযিল হয়েছে। (উমার) বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং সালাম করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে সূরাটি আমার কাছে অধিক প্রিয়, সে সব বস্তু অপেক্ষা যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا এই সূরাটি। (সহীহ, বুখারী ৪১৭৭)
যায়দ ইবনু আসলাম (র) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলছিলেন। রাত্রে উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। তখন উমার (রা) কোন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোন উত্তর দিলেন না। উমার (রা) পুনরায় সওয়াল করলেন। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে (উমার) আবার সওয়াল করলেন, কিন্তু (এইবারও) তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন উমার (রা) (মনে মনে) বললেন, উমার, তোমার মাতা তোমাকে হারিয়ে ফেলুন (এবং কাঁদতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ)। তুমি বিনয় সহকারে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সওয়াল করলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না। উমার (রা) বলেন, তারপর আমার উটকে আমি চালিত করলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলে গেলাম। আমি আশংকা করলাম আমার বিষয়ে কুরআন আবতীর্ণ হতে পারে। তারপর আমি (বেশিক্ষণ) অবস্থান করিনি, (হঠাৎ) এর উচ্চৈঃস্বরে আহ্বানকারী আমাকে ডাকছিল। তিনি (উমার) বলেন, আমি আশংকা করছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কুরআন নাযিল হয়েছে। (উমার) বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং সালাম করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে সূরাটি আমার কাছে অধিক প্রিয়, সে সব বস্তু অপেক্ষা যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا এই সূরাটি। (সহীহ, বুখারী ৪১৭৭)
و حدثني عن مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسير في بعض أسفاره وعمر بن الخطاب يسير معه ليلا فسأله عمر عن شيء فلم يجبه ثم سأله فلم يجبه ثم سأله فلم يجبه فقال عمر ثكلتك أمك عمر نزرت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات كل ذلك لا يجيبك قال عمر فحركت بعيري حتى إذا كنت أمام الناس وخشيت أن ينزل في قرآن فما نشبت أن سمعت صارخا يصرخ بي قال فقلت لقد خشيت أن يكون نزل في قرآن قال فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقال لقد أنزلت علي هذه الليلة سورة لهي أحب إلي مما طلعت عليه الشمس ثم قرأ إنا فتحنا لك فتحا مبينا.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৫
و حدثني عن مالك أنه بلغه أن عبد الله بن عمر مكث على سورة البقرة ثماني سنين يتعلمها.
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) সূরা বাকারা শিক্ষা করতে আট বৎসর অতিবাহিত করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) সূরা বাকারা শিক্ষা করতে আট বৎসর অতিবাহিত করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك أنه بلغه أن عبد الله بن عمر مكث على سورة البقرة ثماني سنين يتعلمها.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৪
- و حدثني عن مالك عن يحيى بن سعيد عن محمد بن إبراهيم بن الحارث التيمي عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي سعيد قال، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يخرج فيكم قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم وصيامكم مع صيامهم وأعمالكم مع أعمالهم يقرءون القرآن ولا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية تنظر في النصل فلا ترى شيئا وتنظر في القدح فلا ترى شيئا وتنظر في الريش فلا ترى شيئا وتتمارى في الفوق.
আবূ সাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্নিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমাদের মধ্যে এক সম্প্রদায় বের হবে যারা তুচ্ছ মনে করবে তোমাদের নামাযকে তাদের নামাযের মুকাবেলায় এবং তোমাদের রোযাসমূহকে তাদের রোযার মুকাবেলায় এবং তোমাদের আমলসমূহকে তাদের আমলসমূহের মুকাবেলায়। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের গলদেশের নিচে যাবে না। তারা ধর্ম হতে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর শিকারকে ভেদ করে বের হয়ে যায়। তীরের ফলা দেখবে, তাতেও কোন কিছু দেখবে না, তীরের লাকড়ি দেখবে, সেখানেও কিছু দেখতে পাবে না, পালকের প্রতি লক্ষ করবে, পালকেও কিছু দেখবে না, ধনুকের ছিলার দিকে দেখবে, সেখানে কিছু রক্ত লেগেছে কিনা সন্দেহ করবে। (বুখারী ৫০৫৮, মুসলিম ১০৬৫)
আবূ সাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্নিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমাদের মধ্যে এক সম্প্রদায় বের হবে যারা তুচ্ছ মনে করবে তোমাদের নামাযকে তাদের নামাযের মুকাবেলায় এবং তোমাদের রোযাসমূহকে তাদের রোযার মুকাবেলায় এবং তোমাদের আমলসমূহকে তাদের আমলসমূহের মুকাবেলায়। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের গলদেশের নিচে যাবে না। তারা ধর্ম হতে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর শিকারকে ভেদ করে বের হয়ে যায়। তীরের ফলা দেখবে, তাতেও কোন কিছু দেখবে না, তীরের লাকড়ি দেখবে, সেখানেও কিছু দেখতে পাবে না, পালকের প্রতি লক্ষ করবে, পালকেও কিছু দেখবে না, ধনুকের ছিলার দিকে দেখবে, সেখানে কিছু রক্ত লেগেছে কিনা সন্দেহ করবে। (বুখারী ৫০৫৮, মুসলিম ১০৬৫)
- و حدثني عن مالك عن يحيى بن سعيد عن محمد بن إبراهيم بن الحارث التيمي عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي سعيد قال، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يخرج فيكم قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم وصيامكم مع صيامهم وأعمالكم مع أعمالهم يقرءون القرآن ولا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية تنظر في النصل فلا ترى شيئا وتنظر في القدح فلا ترى شيئا وتنظر في الريش فلا ترى شيئا وتتمارى في الفوق.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক > কুরআনের সিজদাসমূহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৭
و حدثني عن مالك عن نافع مولى ابن عمر أن رجلا من أهل مصر أخبره أن عمر بن الخطاب قرأ سورة الحج فسجد فيها سجدتين ثم قال إن هذه السورة فضلت بسجدتين.
মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি’ (রা) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) একবার সূরা-এ হজ্জ পাঠ করলেন এবং তিনি এ সূরায় দু’টি সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয় এই সূরাকে দু’টি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি’ (রা) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) একবার সূরা-এ হজ্জ পাঠ করলেন এবং তিনি এ সূরায় দু’টি সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয় এই সূরাকে দু’টি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن نافع مولى ابن عمر أن رجلا من أهل مصر أخبره أن عمر بن الخطاب قرأ سورة الحج فسجد فيها سجدتين ثم قال إن هذه السورة فضلت بسجدتين.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৬
حدثني يحيى عن مالك عن عبد الله بن يزيد مولى الأسود بن سفيان عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أن أبا هريرة قرأ لهم إذا السماء انشقت فسجد فيها فلما انصرف أخبرهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سجد فيها.
আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান (র) থেকে বর্নিতঃ
আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের উদ্দেশ্যে (সূরা: ইনশিকাক, ৮৪) إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ পাঠ করলেন এবং এ সূরায় সিজদা করলেন। তিনি নামায সমাপ্ত করলে পর তদেরকে জানালেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সূরায় সিজদা করেন। (বুখারী ১০৭৪, মুসলিম ৫৭৮)
আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান (র) থেকে বর্নিতঃ
আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের উদ্দেশ্যে (সূরা: ইনশিকাক, ৮৪) إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ পাঠ করলেন এবং এ সূরায় সিজদা করলেন। তিনি নামায সমাপ্ত করলে পর তদেরকে জানালেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সূরায় সিজদা করেন। (বুখারী ১০৭৪, মুসলিম ৫৭৮)
حدثني يحيى عن مالك عن عبد الله بن يزيد مولى الأسود بن سفيان عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أن أبا هريرة قرأ لهم إذا السماء انشقت فسجد فيها فلما انصرف أخبرهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سجد فيها.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৯
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب عن الأعرج أن عمر بن الخطاب قرأ بالنجم إذا هوى فسجد فيها ثم قام فقرأ بسورة أخرى.
আ’রজ (র) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) (সূরা: আন-নাজম, ৫৩) و النَّجْمِ إِذَا هَوَى (সূরাটি) পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
আ’রজ (র) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) (সূরা: আন-নাজম, ৫৩) و النَّجْمِ إِذَا هَوَى (সূরাটি) পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن ابن شهاب عن الأعرج أن عمر بن الخطاب قرأ بالنجم إذا هوى فسجد فيها ثم قام فقرأ بسورة أخرى.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৬৮
و حدثني عن مالك عن عبد الله بن دينار أنه قال رأيت عبد الله بن عمر يسجد في سورة الحج سجدتين.
আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-কে সূরা-এ হজ্জে দু’টি সিজদা করতে দেখেছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (র) থেকে বর্নিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-কে সূরা-এ হজ্জে দু’টি সিজদা করতে দেখেছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حدثني عن مالك عن عبد الله بن دينار أنه قال رأيت عبد الله بن عمر يسجد في سورة الحج سجدتين.
মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৪৭০
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أن عمر بن الخطاب قرأ سجدة وهو على المنبر يوم الجمعة فنزل فسجد وسجد الناس معه ثم قرأها يوم الجمعة الأخرى فتهيأ الناس للسجود فقال على رسلكم إن الله لم يكتبها علينا إلا أن نشاء فلم يسجد ومنعهم أن يسجدوا ৭قال مالك ليس العمل على أن ينزل الإمام إذا قرأ السجدة على المنبر فيسجد ৭قال مالك الأمر عندنا أن عزائم سجود القرآن إحدى عشرة سجدة ليس في المفصل منها شيء ৭قال مالك لا ينبغي لأحد يقرأ من سجود القرآن شيئا بعد صلاة الصبح ولا بعد صلاة العصر وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس وعن الصلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس والسجدة من الصلاة فلا ينبغي لأحد أن يقرأ سجدة في تينك الساعتين ৭سئل مالك عمن قرأ سجدة وامرأة حائض تسمع هل لها أن تسجد قال مالك لا يسجد الرجل ولا المرأة إلا وهما طاهران ৭و سئل عن امرأة قرأت سجدة ورجل معها يسمع أعليه أن يسجد معها قال مالك ليس عليه أن يسجد معها إنما تجب السجدة على القوم يكونون مع الرجل فيأتمون به فيقرأ السجدة فيسجدون معه وليس على من سمع سجدة من إنسان يقرؤها ليس له بإمام أن يسجد تلك السجدة.
উরওয়াহ (র) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) একটি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন জুম’আ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করলেন এবং সিজদা করলেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করলেন। (সহীহ, বুখারী ১০৭৭) পরবর্তী জুম’আয় তিনি সে সূরা পাঠ করলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলেন। উমার (রা) তখন বললেন, আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেননি, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা। (এটা শুনে) তাঁরা আর সিজদা করলেন না। তিনি তাঁদেরকে সিজদা হতে বিরত রাখলেন। মালিক (র) বলেন, সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করলে, ইমামের মিম্বর হতে অবতরণ করে সিজদা করার প্রতি (আমাদের) আমল নেই (অর্থাৎ মিম্বর হতে অবতরণ জরুরী নয়)। মালিক (র) বলেন, আমাদের অভিমত এই যে, কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হচ্ছে এগারটি। এগুলোর একটিও মুফাস্সালাতে নেই। মালিক (র) বলেন, সুজুদুল কুরআন (কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের) হতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কারো পক্ষে উচিত নয়। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর (সূর্য) অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কারো পক্ষে উচিত নয় যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা। মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হয়েছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, আর একজন ঋতুমতী মহিলা তা শুনল। তবে সে মহিলা কি সিজদা করবে ? (উত্তরে) মালিক (র) বললেন, পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করবে না। ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, অন্য এক ব্যক্তি তা শুনতেছে। সে ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি ? (উত্তরে) মালিক (র) বলেন, সিজদা করা এ ব্যক্তির জন্য জরুরী নয়। সিজদা ওয়াজিব হয় সে লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাঁর পেছনে ইকতিদা করেন। অতঃপর তাঁদের ইমাম সিজদার আয়াত পাঠ করলে তাঁরাও তাঁর সাথে সিজদা করবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনেছে কোন লোকের মুখে (যিনি তা পাঠ করতেছেন), কিন্তু সে ব্যক্তি এ লোকের ইমাম নন, তাঁর জন্য এ সিজদা জরুরী নয়।
উরওয়াহ (র) থেকে বর্নিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) একটি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন জুম’আ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করলেন এবং সিজদা করলেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করলেন। (সহীহ, বুখারী ১০৭৭) পরবর্তী জুম’আয় তিনি সে সূরা পাঠ করলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলেন। উমার (রা) তখন বললেন, আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেননি, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা। (এটা শুনে) তাঁরা আর সিজদা করলেন না। তিনি তাঁদেরকে সিজদা হতে বিরত রাখলেন। মালিক (র) বলেন, সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করলে, ইমামের মিম্বর হতে অবতরণ করে সিজদা করার প্রতি (আমাদের) আমল নেই (অর্থাৎ মিম্বর হতে অবতরণ জরুরী নয়)। মালিক (র) বলেন, আমাদের অভিমত এই যে, কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হচ্ছে এগারটি। এগুলোর একটিও মুফাস্সালাতে নেই। মালিক (র) বলেন, সুজুদুল কুরআন (কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের) হতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কারো পক্ষে উচিত নয়। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর (সূর্য) অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কারো পক্ষে উচিত নয় যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা। মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হয়েছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, আর একজন ঋতুমতী মহিলা তা শুনল। তবে সে মহিলা কি সিজদা করবে ? (উত্তরে) মালিক (র) বললেন, পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করবে না। ইয়াহ্ইয়া (র) বলেন, মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, অন্য এক ব্যক্তি তা শুনতেছে। সে ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি ? (উত্তরে) মালিক (র) বলেন, সিজদা করা এ ব্যক্তির জন্য জরুরী নয়। সিজদা ওয়াজিব হয় সে লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাঁর পেছনে ইকতিদা করেন। অতঃপর তাঁদের ইমাম সিজদার আয়াত পাঠ করলে তাঁরাও তাঁর সাথে সিজদা করবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনেছে কোন লোকের মুখে (যিনি তা পাঠ করতেছেন), কিন্তু সে ব্যক্তি এ লোকের ইমাম নন, তাঁর জন্য এ সিজদা জরুরী নয়।
و حدثني عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أن عمر بن الخطاب قرأ سجدة وهو على المنبر يوم الجمعة فنزل فسجد وسجد الناس معه ثم قرأها يوم الجمعة الأخرى فتهيأ الناس للسجود فقال على رسلكم إن الله لم يكتبها علينا إلا أن نشاء فلم يسجد ومنعهم أن يسجدوا ৭قال مالك ليس العمل على أن ينزل الإمام إذا قرأ السجدة على المنبر فيسجد ৭قال مالك الأمر عندنا أن عزائم سجود القرآن إحدى عشرة سجدة ليس في المفصل منها شيء ৭قال مالك لا ينبغي لأحد يقرأ من سجود القرآن شيئا بعد صلاة الصبح ولا بعد صلاة العصر وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس وعن الصلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس والسجدة من الصلاة فلا ينبغي لأحد أن يقرأ سجدة في تينك الساعتين ৭سئل مالك عمن قرأ سجدة وامرأة حائض تسمع هل لها أن تسجد قال مالك لا يسجد الرجل ولا المرأة إلا وهما طاهران ৭و سئل عن امرأة قرأت سجدة ورجل معها يسمع أعليه أن يسجد معها قال مالك ليس عليه أن يسجد معها إنما تجب السجدة على القوم يكونون مع الرجل فيأتمون به فيقرأ السجدة فيسجدون معه وليس على من سمع سجدة من إنسان يقرؤها ليس له بإمام أن يسجد تلك السجدة.