মুয়াত্তা ইমাম মালিক > নামাযে এরূপ কোন বস্তুর দিকে দেখা যা নামায হতে মনোযোগ দূরে সরিয়ে দেয় অথবা অন্য দিকে ব্যস্ত রাখে

মুয়াত্তা ইমাম মালিক ২১৩

و حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبس خميصة لها علم ثم أعطاها أبا جهم وأخذ من أبي جهم أنبجانية له فقال يا رسول الله ولم فقال إني نظرت إلى علمها في الصلاة.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) শামী চাদর পরিধান করেছিলেন। সেটাতে ফুল, বুটা দ্বারা কারুকার্য করা ছিল; অতঃপর আবূ জাহমকে সেটা ফিরিয়ে দিয়ে (তৎপরিবর্তে) আবূ জাহম হতে আমবিজানিয়া (মোটা পশমী কাপড়) গ্রহণ করলেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমালেন নামাযে এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পতিত হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন বটে তবে এরূপ হাদীস বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে)

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) শামী চাদর পরিধান করেছিলেন। সেটাতে ফুল, বুটা দ্বারা কারুকার্য করা ছিল; অতঃপর আবূ জাহমকে সেটা ফিরিয়ে দিয়ে (তৎপরিবর্তে) আবূ জাহম হতে আমবিজানিয়া (মোটা পশমী কাপড়) গ্রহণ করলেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমালেন নামাযে এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পতিত হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন বটে তবে এরূপ হাদীস বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে)

و حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبس خميصة لها علم ثم أعطاها أبا جهم وأخذ من أبي جهم أنبجانية له فقال يا رسول الله ولم فقال إني نظرت إلى علمها في الصلاة.


মুয়াত্তা ইমাম মালিক ২১২

حدثني يحيى عن مالك عن علقمة بن أبي علقمة عن أمه أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت أهدى أبو جهم بن حذيفة لرسول الله صلى الله عليه وسلم خميصة شامية لها علم فشهد فيها الصلاة فلما انصرف قال ردي هذه الخميصة إلى أبي جهم فإني نظرت إلى علمها في الصلاة فكاد يفتنني.

আলকামা ইবনু আবি আলকামা (র) থেকে বর্নিতঃ

নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আবূ জাহম ইবনু হুযাইফা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে শামী চাদর উপহারস্বরূপ পেশ করলেন, যাতে ফুল, বুটা ইত্যাদি দ্বারা কারুকার্য করা ছিল। এটা পরিধান করে তিনি নামায আদায় করলেন। নামায হতে ফিরে তিনি ফরমালেন এই চাদরখানা আবূ জাহম-এর কাছে ফিরিয়ে দাও। কেননা এটার কারুকার্যের দিকে নামাযে আমার দৃষ্টি পতিত হয়েছে। এটা নামাযের একাগ্রতা নষ্ট করে আমাকে ফিতনায় লিপ্ত করেছে। (বুখারী ৩৭৩, মুসলিম ৫৫৬)

আলকামা ইবনু আবি আলকামা (র) থেকে বর্নিতঃ

নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আবূ জাহম ইবনু হুযাইফা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে শামী চাদর উপহারস্বরূপ পেশ করলেন, যাতে ফুল, বুটা ইত্যাদি দ্বারা কারুকার্য করা ছিল। এটা পরিধান করে তিনি নামায আদায় করলেন। নামায হতে ফিরে তিনি ফরমালেন এই চাদরখানা আবূ জাহম-এর কাছে ফিরিয়ে দাও। কেননা এটার কারুকার্যের দিকে নামাযে আমার দৃষ্টি পতিত হয়েছে। এটা নামাযের একাগ্রতা নষ্ট করে আমাকে ফিতনায় লিপ্ত করেছে। (বুখারী ৩৭৩, মুসলিম ৫৫৬)

حدثني يحيى عن مالك عن علقمة بن أبي علقمة عن أمه أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت أهدى أبو جهم بن حذيفة لرسول الله صلى الله عليه وسلم خميصة شامية لها علم فشهد فيها الصلاة فلما انصرف قال ردي هذه الخميصة إلى أبي جهم فإني نظرت إلى علمها في الصلاة فكاد يفتنني.


মুয়াত্তা ইমাম মালিক ২১৪

و حدثني مالك عن عبد الله بن أبي بكر أن أبا طلحة الأنصاري كان يصلي في حائطه فطار دبسي فطفق يتردد يلتمس مخرجا فأعجبه ذلك فجعل يتبعه بصره ساعة ثم رجع إلى صلاته فإذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد أصابتني في مالي هذا فتنة فجاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر له الذي أصابه في حائطه من الفتنة وقال يا رسول الله هو صدقة لله فضعه حيث شئت.

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (র) থেকে বর্নিতঃ

আবূ তালহা আনসারী (রাঃ) একবার তাঁর এক বাগানে নামায আদায় করতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তাঁর খুব ভাল লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াল) তিনি (তখন) স্বরণ করতে পারলেন না যে, নামায কত রাক’আত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তাঁর সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহা সেখানে ব্যয় করুন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (র) থেকে বর্নিতঃ

আবূ তালহা আনসারী (রাঃ) একবার তাঁর এক বাগানে নামায আদায় করতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তাঁর খুব ভাল লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াল) তিনি (তখন) স্বরণ করতে পারলেন না যে, নামায কত রাক’আত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তাঁর সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহা সেখানে ব্যয় করুন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

و حدثني مالك عن عبد الله بن أبي بكر أن أبا طلحة الأنصاري كان يصلي في حائطه فطار دبسي فطفق يتردد يلتمس مخرجا فأعجبه ذلك فجعل يتبعه بصره ساعة ثم رجع إلى صلاته فإذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد أصابتني في مالي هذا فتنة فجاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر له الذي أصابه في حائطه من الفتنة وقال يا رسول الله هو صدقة لله فضعه حيث شئت.


মুয়াত্তা ইমাম মালিক ২১৫

و حدثني عن مالك عن عبد الله بن أبي بكر أن رجلا من الأنصار كان يصلي في حائط له بالقف واد من أودية المدينة في زمان الثمر والنخل قد ذللت فهي مطوقة بثمرها فنظر إليها فأعجبه ما رأى من ثمرها ثم رجع إلى صلاته فإذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد أصابتني في مالي هذا فتنة فجاء عثمان بن عفان وهو يومئذ خليفة فذكر له ذلك وقال هو صدقة فاجعله في سبل الخير فباعه عثمان بن عفان بخمسين ألفا فسمي ذلك المال الخمسين.

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (র) থেকে বর্নিতঃ

আনসারী এক ব্যক্তি মদীনা শরীফের উপত্যকাসমূহের মধ্যে এক উপত্যকায় তাঁর এক বাগানের উঁচু ভূমিতে নামায আদায় করতেছিলেন, তখন ছিল (খেজুরের) মওসুম। খেজুরের গাছগুলি খেজুরের ভারে ঝুঁকে পড়ছিল। গাছগুলি যেন স্বীয় ফলগুচ্ছের হার পরিহিত। ফলের এ দৃশ্যটি তাঁর খুবই মনঃপুত হল। তাই সেদিকে চেয়ে রইলেন। অতঃপর নামাযের দিকে মনোযোগী হলেন। কিন্তু তাঁর আর স্মরণ হচ্ছিল না যে, তিনি কত রাক’আত নামায আদায় করেছেন। এটা দেখে তিনি বললেন, আমার এই সম্পত্তি আমার জন্য ফিতনারূপে উপস্থিত হয়েছে। তখন ছিল উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল। তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর নিকট হাজির হলেন এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, উক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হল। এটাকে সৎকাজে ব্যয় করুন। উসমান (রাঃ) এটাকে পঞ্চাশ হাজার (দিরহাম) এর বিনিময়ে বিক্রি করলেন। (এই কারণে) উক্ত সম্পত্তির নাম রাখা হল (খমসিন) বা পঞ্চাশ হাজারী। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (র) থেকে বর্নিতঃ

আনসারী এক ব্যক্তি মদীনা শরীফের উপত্যকাসমূহের মধ্যে এক উপত্যকায় তাঁর এক বাগানের উঁচু ভূমিতে নামায আদায় করতেছিলেন, তখন ছিল (খেজুরের) মওসুম। খেজুরের গাছগুলি খেজুরের ভারে ঝুঁকে পড়ছিল। গাছগুলি যেন স্বীয় ফলগুচ্ছের হার পরিহিত। ফলের এ দৃশ্যটি তাঁর খুবই মনঃপুত হল। তাই সেদিকে চেয়ে রইলেন। অতঃপর নামাযের দিকে মনোযোগী হলেন। কিন্তু তাঁর আর স্মরণ হচ্ছিল না যে, তিনি কত রাক’আত নামায আদায় করেছেন। এটা দেখে তিনি বললেন, আমার এই সম্পত্তি আমার জন্য ফিতনারূপে উপস্থিত হয়েছে। তখন ছিল উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল। তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর নিকট হাজির হলেন এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, উক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হল। এটাকে সৎকাজে ব্যয় করুন। উসমান (রাঃ) এটাকে পঞ্চাশ হাজার (দিরহাম) এর বিনিময়ে বিক্রি করলেন। (এই কারণে) উক্ত সম্পত্তির নাম রাখা হল (খমসিন) বা পঞ্চাশ হাজারী। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

و حدثني عن مالك عن عبد الله بن أبي بكر أن رجلا من الأنصار كان يصلي في حائط له بالقف واد من أودية المدينة في زمان الثمر والنخل قد ذللت فهي مطوقة بثمرها فنظر إليها فأعجبه ما رأى من ثمرها ثم رجع إلى صلاته فإذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد أصابتني في مالي هذا فتنة فجاء عثمان بن عفان وهو يومئذ خليفة فذكر له ذلك وقال هو صدقة فاجعله في سبل الخير فباعه عثمان بن عفان بخمسين ألفا فسمي ذلك المال الخمسين.


লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00