হাদিস সম্ভার > কুরআন পঠন-পাঠনের মাহাত্ম্য

হাদিস সম্ভার ১৪৬৬

وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عندهرواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর গ্রন্থ (কুরআন) পাঠ করে, তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে অধ্যয়ন করে, তাহলে তাদের প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে তাঁর রহমত ঢেকে নেয়, আর ফিরিশতাবর্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফিরিশতামন্ডলীর কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” (মুসলিম ৭০২৮, আবূ দাঊদ ১৪৫৭)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর গ্রন্থ (কুরআন) পাঠ করে, তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে অধ্যয়ন করে, তাহলে তাদের প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে তাঁর রহমত ঢেকে নেয়, আর ফিরিশতাবর্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফিরিশতামন্ডলীর কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” (মুসলিম ৭০২৮, আবূ দাঊদ ১৪৫৭)

وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عندهرواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৬৮

عن أبي عبد الرحمن قال حدثنا من كان يقرئنا من أصحاب النبي صلى اللٰه عليه وسلم أنهم كانوا يقترئون من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عشر آيات فلا يأخذون في العشر الأخرى حتى يعلموا ما في هذه من العلم والعمل قالوا فعلمنا العلم والعمل

‘আমাদেরকে আমাদের ওস্তাদগণ বর্ণনা করেছেন যে, যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাত্র ছিলেন তাঁরা দশটি আয়াত শিখলে ততক্ষণ পর্যন্ত আর আগে বাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দশ আয়াতের বর্ণিত ইল্ম ও আমল শিক্ষা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা ইল্ম ও আমল উভয়ই (একই সময়ে) শিক্ষা করেছি।’ (আহমাদ ২৩৪৮২)

‘আমাদেরকে আমাদের ওস্তাদগণ বর্ণনা করেছেন যে, যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাত্র ছিলেন তাঁরা দশটি আয়াত শিখলে ততক্ষণ পর্যন্ত আর আগে বাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দশ আয়াতের বর্ণিত ইল্ম ও আমল শিক্ষা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা ইল্ম ও আমল উভয়ই (একই সময়ে) শিক্ষা করেছি।’ (আহমাদ ২৩৪৮২)

عن أبي عبد الرحمن قال حدثنا من كان يقرئنا من أصحاب النبي صلى اللٰه عليه وسلم أنهم كانوا يقترئون من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عشر آيات فلا يأخذون في العشر الأخرى حتى يعلموا ما في هذه من العلم والعمل قالوا فعلمنا العلم والعمل


হাদিস সম্ভার ১৪৬৯

قال (رجل) إنى لأقرأ المفصل فى ركعة فقال عبد الله هذا كهذ الشعر إن أقواما يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم ولكن إذا وقع فى القلب فرسخ فيه نفع

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কে এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এক রাকআতে মুফাস্স্বাল (সূরা ক্বাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত অংশ) পাঠ করি।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘কবিতা আওড়ানোর মত পড়? কিছু সম্প্রদায় আছে যারা কুরআন পড়ে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের নিচে নামে না। আসলে সেই কুরআন পাঠ কাজে দেবে, যা হৃদয়ে এসে গেঁথে যাবে এবং তা পাঠকারীকে উপকৃত করবে---।’ (বুখারী ৭৭৫, মুসলিম ১৯৪৫)

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কে এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এক রাকআতে মুফাস্স্বাল (সূরা ক্বাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত অংশ) পাঠ করি।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘কবিতা আওড়ানোর মত পড়? কিছু সম্প্রদায় আছে যারা কুরআন পড়ে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের নিচে নামে না। আসলে সেই কুরআন পাঠ কাজে দেবে, যা হৃদয়ে এসে গেঁথে যাবে এবং তা পাঠকারীকে উপকৃত করবে---।’ (বুখারী ৭৭৫, মুসলিম ১৯৪৫)

قال (رجل) إنى لأقرأ المفصل فى ركعة فقال عبد الله هذا كهذ الشعر إن أقواما يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم ولكن إذا وقع فى القلب فرسخ فيه نفع


হাদিস সম্ভার ১৪৭০

وعن عبد الله ابن عمرو قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يفقه من قرأ القرآن فى أقل من ثلاث

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে ব্যক্তি কুরআন বুঝে না, যে তিন দিনের কম সময়ে তা খতম করে।” (আবূ দাঊদ ১৩৯৬, তিরমিযী ২৯৪৯, ইবনে মাজাহ প্রমুখ, সহীহুল জামে’ ৭৭৪৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে ব্যক্তি কুরআন বুঝে না, যে তিন দিনের কম সময়ে তা খতম করে।” (আবূ দাঊদ ১৩৯৬, তিরমিযী ২৯৪৯, ইবনে মাজাহ প্রমুখ, সহীহুল জামে’ ৭৭৪৩)

وعن عبد الله ابن عمرو قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يفقه من قرأ القرآن فى أقل من ثلاث


হাদিস সম্ভার ১৪৬৭

عن عقبة بن عامر قال خرج رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ونحن فى الصفة فقال أيكم يحب أن يغدو كل يوم إلى بطحان أو إلى العقيق فيأتى منه بناقتين كوماوين فى غير إثم ولا قطع رحم فقلنا يا رسول الله نحب ذلك قال أفلا يغدو أحدكم إلى المسجد فيعلم أو يقرأ آيتين من كتاب الله عز وجل خير له من ناقتين وثلاث خير له من ثلاث وأربع خير له من أربع ومن أعدادهن من الإبل

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্ফাহ (মসজিদে নববীর এক বিষেশ মন্ডপ; যাতে দরিদ্র মুহাজিরগণ অবস্থান করতেন সেই স্থানে) ছিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গৃহ হতে বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, প্রত্যহ বুত্বহান (মদীনার নিকটবর্তী একটি জায়গা) অথবা আক্বীক্ব (মদীনার এক উপত্যকা) গিয়ে দুটি করে বড় বড় কুঁজবিশিষ্ট উট্নী নিয়ে আসবে; যাতে কোন পাপ ও নাহক কারো অধিকার হরণও হবে না?” আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এতো আমাদের প্রত্যেকেই পছন্দ করে।’ তিনি বললেন, “তাহলে সে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিক্ষা অথবা (বুঝে) মুখস্থ করে না কেন? এটাই দুটি উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ! অনুরূপ ৩টি আয়াত ৩টি উষ্ট্রী, ৪টি আয়াত ৪টি উষ্ট্রী এবং এর চেয়ে অধিক সংখ্যক আয়াত ঐরূপ অধিক সংখ্যক উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ!” (মুসলিম ৮০৩)

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্ফাহ (মসজিদে নববীর এক বিষেশ মন্ডপ; যাতে দরিদ্র মুহাজিরগণ অবস্থান করতেন সেই স্থানে) ছিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গৃহ হতে বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, প্রত্যহ বুত্বহান (মদীনার নিকটবর্তী একটি জায়গা) অথবা আক্বীক্ব (মদীনার এক উপত্যকা) গিয়ে দুটি করে বড় বড় কুঁজবিশিষ্ট উট্নী নিয়ে আসবে; যাতে কোন পাপ ও নাহক কারো অধিকার হরণও হবে না?” আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এতো আমাদের প্রত্যেকেই পছন্দ করে।’ তিনি বললেন, “তাহলে সে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিক্ষা অথবা (বুঝে) মুখস্থ করে না কেন? এটাই দুটি উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ! অনুরূপ ৩টি আয়াত ৩টি উষ্ট্রী, ৪টি আয়াত ৪টি উষ্ট্রী এবং এর চেয়ে অধিক সংখ্যক আয়াত ঐরূপ অধিক সংখ্যক উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ!” (মুসলিম ৮০৩)

عن عقبة بن عامر قال خرج رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ونحن فى الصفة فقال أيكم يحب أن يغدو كل يوم إلى بطحان أو إلى العقيق فيأتى منه بناقتين كوماوين فى غير إثم ولا قطع رحم فقلنا يا رسول الله نحب ذلك قال أفلا يغدو أحدكم إلى المسجد فيعلم أو يقرأ آيتين من كتاب الله عز وجل خير له من ناقتين وثلاث خير له من ثلاث وأربع خير له من أربع ومن أعدادهن من الإبل


হাদিস সম্ভার ১৪৭২

আমি সা’দ বিন আবী অক্কাসের জন্য মুসহাফ ধারণ করতাম। একদা আমি চুলকালাম। তা দেখে সাদ বললেন, সম্ভবতঃ তুমি তোমার প্রস্রাব-দ্বার স্পর্শ করলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি ওঠো এবং ওযূ করে এসো। অতঃপর আমি উঠে ওযূ করে এলাম। (মুআত্ত্বা, বাইহাক্বী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৬১)

আমি সা’দ বিন আবী অক্কাসের জন্য মুসহাফ ধারণ করতাম। একদা আমি চুলকালাম। তা দেখে সাদ বললেন, সম্ভবতঃ তুমি তোমার প্রস্রাব-দ্বার স্পর্শ করলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি ওঠো এবং ওযূ করে এসো। অতঃপর আমি উঠে ওযূ করে এলাম। (মুআত্ত্বা, বাইহাক্বী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৬১)


হাদিস সম্ভার ১৪৭১

وعن عمرو بن حزم قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يمس القرآن إلا طاهر

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আর পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে।” (মালিক ৪৬৮, ইরওয়াউল গালীল ১২২)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আর পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে।” (মালিক ৪৬৮, ইরওয়াউল গালীল ১২২)

وعن عمرو بن حزم قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يمس القرآن إلا طاهر


হাদিস সম্ভার ১৪৭৩

একদা উমার (রাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট এলেন; তখন তারা কুরআন পড়ছিল। সেখান থেকে তিনি (পেশাব অথবা পায়খানার) প্রয়োজনে গেলেন এবং কুরআন পড়তে পড়তে ফিরে এলেন। তা দেখে এক ব্যক্তি তাঁর উদ্দেশ্যে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! ওযূ না করেই আপনি কুরআন পাঠ করছেন?’ তার এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমাকে এ ফতোয়া কে দিয়েছে (যে, বিনা ওযূতে কুরআন পড়া যাবে না)? (ঝুটা নবী) মুসাইলিমাহ নাকি?’ (মুআত্ত্বা ৪৬৯)

একদা উমার (রাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট এলেন; তখন তারা কুরআন পড়ছিল। সেখান থেকে তিনি (পেশাব অথবা পায়খানার) প্রয়োজনে গেলেন এবং কুরআন পড়তে পড়তে ফিরে এলেন। তা দেখে এক ব্যক্তি তাঁর উদ্দেশ্যে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! ওযূ না করেই আপনি কুরআন পাঠ করছেন?’ তার এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমাকে এ ফতোয়া কে দিয়েছে (যে, বিনা ওযূতে কুরআন পড়া যাবে না)? (ঝুটা নবী) মুসাইলিমাহ নাকি?’ (মুআত্ত্বা ৪৬৯)


হাদিস সম্ভার ১৪৭৪

عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه عن عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تجادلوا بالقرآن ولا تكذبوا كتاب الله بعضه ببعض فوالله إن المؤمن ليجادل بالقرآن فيغلب وإن المنافق ليجادل بالقرآن فيغلب

তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা নুফাইর থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করো না এবং আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ দ্বারা কিছু অংশকে মিথ্যাজ্ঞান করো না। আল্লাহর কসম! মুমিন কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে পরাজিত হবে এবং মুনাফিক কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে বিজয়ী হবে।” (ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৪৪৭)

তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা নুফাইর থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করো না এবং আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ দ্বারা কিছু অংশকে মিথ্যাজ্ঞান করো না। আল্লাহর কসম! মুমিন কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে পরাজিত হবে এবং মুনাফিক কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে বিজয়ী হবে।” (ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৪৪৭)

عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه عن عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تجادلوا بالقرآن ولا تكذبوا كتاب الله بعضه ببعض فوالله إن المؤمن ليجادل بالقرآن فيغلب وإن المنافق ليجادل بالقرآن فيغلب


হাদিস সম্ভার ১৪৭৫

একদা আমাকে উমার (রাঃ) বললেন, هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْأِسْلَامَ قُلْتُ لَا قَالَ يَهْدِمُهُ زِلَّةُ الْعَالِمِ وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكَمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّيْنَ ‘তুমি জান কি, ইসলামকে কিসে ধ্বংস করবে?’ আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘ইসলামকে ধ্বংস করবে আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং ভ্রষ্টকারী শাসকদের রাষ্ট্রশাসন।’ (দারেমী ২১৪)

একদা আমাকে উমার (রাঃ) বললেন, هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْأِسْلَامَ قُلْتُ لَا قَالَ يَهْدِمُهُ زِلَّةُ الْعَالِمِ وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكَمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّيْنَ ‘তুমি জান কি, ইসলামকে কিসে ধ্বংস করবে?’ আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘ইসলামকে ধ্বংস করবে আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং ভ্রষ্টকারী শাসকদের রাষ্ট্রশাসন।’ (দারেমী ২১৪)


হাদিস সম্ভার ১৪৭৬

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا القرآن وسلوا الله به الجنة قبل أن يتعلمه قوم يسألون به الدنيا فإن القرآن يتعلمه ثلاثة : رجل يباهي به ورجل يستأكل به ورجل يقرأه لله عز وجل

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার অসীলায় জান্নাত প্রার্থনা কর, সেই জাতি আসার পূর্বে, যারা তার অসীলায় দুনিয়া প্রার্থনা করবে। কুরআন তিন শ্রেণীর লোক শিক্ষা করবে; কিছু লোক তা নিয়ে ফখর করে বেড়াবে, কিছু লোক তার মাধ্যমে পেট চালাবে এবং কিছু লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা তেলাঅত করবে।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৫৮)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার অসীলায় জান্নাত প্রার্থনা কর, সেই জাতি আসার পূর্বে, যারা তার অসীলায় দুনিয়া প্রার্থনা করবে। কুরআন তিন শ্রেণীর লোক শিক্ষা করবে; কিছু লোক তা নিয়ে ফখর করে বেড়াবে, কিছু লোক তার মাধ্যমে পেট চালাবে এবং কিছু লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা তেলাঅত করবে।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৫৮)

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا القرآن وسلوا الله به الجنة قبل أن يتعلمه قوم يسألون به الدنيا فإن القرآن يتعلمه ثلاثة : رجل يباهي به ورجل يستأكل به ورجل يقرأه لله عز وجل


হাদিস সম্ভার ১৪৭৭

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلميخلف قوم من بعد ستين سنة (أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا) ثم يكون خلف يقرءون القرآن لا يعدو تراقيهم ويقرأ القرآن ثلاثة مؤمن ومنافق وفاجر قال بشير : فقلت للوليد ما هؤلاء الثلاثة فقال المنافق كافر به والفاجر يتأكل به والمؤمن يؤمن به

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে (সূরা মারইয়্যামের ৫৯ আয়াত পাঠ করার পর) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ষাট বছর পর কিছু অপদার্থ পরবর্তীগণ আসবে, তারা নামায নষ্ট করবে ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হবে; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর এক জাতি আসবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের অক্ষকাস্থি পার হবে না। (হৃদয়ে জায়গা পাবে না।) কুরআন তিন ব্যক্তি পাঠ করে; মু’মিন, মুনাফিক ও ফাজের।” বর্ণনাকারী বাশীর বলেন, আমি অলীদকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা তিন ব্যক্তি কে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুনাফিক তা অস্বীকার করে, ফাজের তার অসীলায় পেট চালায় এবং মু’মিন তার প্রতি ঈমান রাখে।’ (আহমাদ ১১৩৬০, হাকেম ৩৪১৬, ৮৬৪৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/২৫৭)

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে (সূরা মারইয়্যামের ৫৯ আয়াত পাঠ করার পর) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ষাট বছর পর কিছু অপদার্থ পরবর্তীগণ আসবে, তারা নামায নষ্ট করবে ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হবে; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর এক জাতি আসবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের অক্ষকাস্থি পার হবে না। (হৃদয়ে জায়গা পাবে না।) কুরআন তিন ব্যক্তি পাঠ করে; মু’মিন, মুনাফিক ও ফাজের।” বর্ণনাকারী বাশীর বলেন, আমি অলীদকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা তিন ব্যক্তি কে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুনাফিক তা অস্বীকার করে, ফাজের তার অসীলায় পেট চালায় এবং মু’মিন তার প্রতি ঈমান রাখে।’ (আহমাদ ১১৩৬০, হাকেম ৩৪১৬, ৮৬৪৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/২৫৭)

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلميخلف قوم من بعد ستين سنة (أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا) ثم يكون خلف يقرءون القرآن لا يعدو تراقيهم ويقرأ القرآن ثلاثة مؤمن ومنافق وفاجر قال بشير : فقلت للوليد ما هؤلاء الثلاثة فقال المنافق كافر به والفاجر يتأكل به والمؤمن يؤمن به


হাদিস সম্ভার ১৪৭৮

عن جابر رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمان من أولها إلى آخرها فسكتوا فقال لقد قرأتها على الجن ليلة الجن فكانوا أحسن مردودا منكم كنت كلما أتيت على قوله : (فبأي آلاء ربكما تكذبان) قالوا : لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিকট বের হয়ে সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, “যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম, (অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল, অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! (তিরমিযী ৩২৯১, সিঃ সহীহাহ ২১৫০)

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিকট বের হয়ে সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, “যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম, (অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল, অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! (তিরমিযী ৩২৯১, সিঃ সহীহাহ ২১৫০)

عن جابر رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمان من أولها إلى آخرها فسكتوا فقال لقد قرأتها على الجن ليلة الجن فكانوا أحسن مردودا منكم كنت كلما أتيت على قوله : (فبأي آلاء ربكما تكذبان) قالوا : لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد


হাদিস সম্ভার ১৪৭৯

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إذا قرأ ابن آدم السجدة فسجد اعتزل الشيطان يبكى يقول يا ويله أو يا ويلى أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة وأمرت بالسجود فأبيت فلى النار

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!” (মুসলিম ২৫৪)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!” (মুসলিম ২৫৪)

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إذا قرأ ابن آدم السجدة فسجد اعتزل الشيطان يبكى يقول يا ويله أو يا ويلى أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة وأمرت بالسجود فأبيت فلى النار


হাদিস সম্ভার > কুরআনের তাফসীর

হাদিস সম্ভার ১৪৮৩

عن يعلى بن أمية قال قلت لعمر بن الخطاب ( ليس عليكم جناح أن تقصروا من الصلاة إن خفتم أن يفتنكم الذين كفروا) فقد أمن الناس فقال عجبت مما عجبت منه فسألت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عن ذلك فقال صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته

একদা য়্যা’লা বিন উমাইয়া (রাঃ) উমার (রাঃ) কে বলেন, কী ব্যাপার যে, লোকেরা এখনো পর্যন্ত নামায কসর পড়েই যাচ্ছে, অথচ মহান আল্লাহ তো কেবল বলেছেন যে, “যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে সফর কর, তখন তোমরা নামায সংক্ষেপ করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তোমরা এই আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে বিব্রত করবে।” আর বর্তমানে তো ভীতির সে অবস্থা অবশিষ্ট নেই? উমার (রাঃ) উত্তরে বললেন, যে ব্যাপারে তুমি আশ্চর্যবোধ করছ, আমিও সেই ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ কথার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এটা তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর একটি সদকাহ। সুতরাং তোমরা তাঁর সদকাহ গ্রহণ কর।” (আহমাদ, মুসলিম ১৬০৫, মিশকাত ১৩৩৫)

একদা য়্যা’লা বিন উমাইয়া (রাঃ) উমার (রাঃ) কে বলেন, কী ব্যাপার যে, লোকেরা এখনো পর্যন্ত নামায কসর পড়েই যাচ্ছে, অথচ মহান আল্লাহ তো কেবল বলেছেন যে, “যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে সফর কর, তখন তোমরা নামায সংক্ষেপ করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তোমরা এই আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে বিব্রত করবে।” আর বর্তমানে তো ভীতির সে অবস্থা অবশিষ্ট নেই? উমার (রাঃ) উত্তরে বললেন, যে ব্যাপারে তুমি আশ্চর্যবোধ করছ, আমিও সেই ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ কথার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এটা তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর একটি সদকাহ। সুতরাং তোমরা তাঁর সদকাহ গ্রহণ কর।” (আহমাদ, মুসলিম ১৬০৫, মিশকাত ১৩৩৫)

عن يعلى بن أمية قال قلت لعمر بن الخطاب ( ليس عليكم جناح أن تقصروا من الصلاة إن خفتم أن يفتنكم الذين كفروا) فقد أمن الناس فقال عجبت مما عجبت منه فسألت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عن ذلك فقال صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته


হাদিস সম্ভার ১৪৮৪

عن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن منكم من يقاتل على تأويله كما قاتلت على تنزيله

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই কুরআনের ব্যাখ্যার উপর লড়বে, যেমন আমি ওর অবতরণের উপর লড়ছি।” (মুসনাদে আহমাদ ১১২৮৯, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই কুরআনের ব্যাখ্যার উপর লড়বে, যেমন আমি ওর অবতরণের উপর লড়ছি।” (মুসনাদে আহমাদ ১১২৮৯, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

عن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن منكم من يقاتل على تأويله كما قاتلت على تنزيله


হাদিস সম্ভার ১৪৮১

عن عدى بن حاتم رضى الله عنه قال لما نزلت (حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر) قال له عدى بن حاتم يا رسول الله إنى أجعل تحت وسادتى عقالين عقالا أبيض وعقالا أسود أعرف الليل من النهار فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن وسادتك لعريض إنما هو سواد الليل وبياض النهار

حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ অর্থাৎ, তোমরা পানাহার কর; যতক্ষণ কালো সুতা (রাতের কালো রেখা) হতে ঊষার সাদা সুতা (সাদা রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। (বাক্বারাহ ঃ ১৮৭) উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি (মাথায় রুমালের উপর ব্যবহার্য) একটি সাদা ও একটি কালো মোটা রশি (বালিশের নিচে) রাখলেন। রাত্রি হলে তিনি লক্ষ্য করলেন, কিন্তু (কোনটা সাদা ও কোনটা কালো) তা স্পষ্ট হল না। সকাল হলে তিনি এ কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, “তোমার বালিশ তাহলে খুবই বিশাল! কালো সুতা ও সাদা সুতা তোমার বালিশের নিচে ছিল?!” (বুখারী ৪৫০৯) অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তার মানে হল, রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।” (বুখারী ১৯১৬, মুসলিম ২৫৮৫)

حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ অর্থাৎ, তোমরা পানাহার কর; যতক্ষণ কালো সুতা (রাতের কালো রেখা) হতে ঊষার সাদা সুতা (সাদা রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। (বাক্বারাহ ঃ ১৮৭) উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি (মাথায় রুমালের উপর ব্যবহার্য) একটি সাদা ও একটি কালো মোটা রশি (বালিশের নিচে) রাখলেন। রাত্রি হলে তিনি লক্ষ্য করলেন, কিন্তু (কোনটা সাদা ও কোনটা কালো) তা স্পষ্ট হল না। সকাল হলে তিনি এ কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, “তোমার বালিশ তাহলে খুবই বিশাল! কালো সুতা ও সাদা সুতা তোমার বালিশের নিচে ছিল?!” (বুখারী ৪৫০৯) অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তার মানে হল, রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।” (বুখারী ১৯১৬, মুসলিম ২৫৮৫)

عن عدى بن حاتم رضى الله عنه قال لما نزلت (حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر) قال له عدى بن حاتم يا رسول الله إنى أجعل تحت وسادتى عقالين عقالا أبيض وعقالا أسود أعرف الليل من النهار فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن وسادتك لعريض إنما هو سواد الليل وبياض النهار


হাদিস সম্ভার ১৪৮০

عن عدي بن حاتم قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب فقال : يا عدي اطرح عنك هذا الوثن وسمعته يقرأ في سورة براءة : (اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله) قال : أما إنهم لم يكونوا يعبدونهم ولكنهم كانوا إذا أحلوا لهم شيئا استحلوه وإذا حرموا عليهم شيئا حرموه

একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এলাম। তখন আমার ঘাড়ে সোনার ক্রুশ ছিল। তা দেখে তিনি বললেন, “হে আদী! এই প্রতিমা তোমার নিকট থেকে খুলে ফেল।” শুনলাম তিনি সূরা তাওবার এই আয়াত পাঠ করলেন, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ অর্থাৎ, তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পন্ডিত-পুরোহিতদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। (তাওবাহঃ৩১) আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখে উক্ত আয়াত শুনে আরজ করলাম যে, ইয়াহুদী-নাসারারা তো নিজেদের আলেমদের কখনো ইবাদত করেনি, তাহলে এটা কেন বলা হয়েছে যে, তারা তাদেরকে ‘রব’ বানিয়ে নিয়েছে? তিনি বললেন, “এ কথা ঠিক যে, তারা তাদের ইবাদত করেনি। কিন্তু এটা তো সঠিক যে, তাদের আলেমরা যা হালাল করেছে, তাকে তারা হালাল এবং যা হারাম করেছে,তাকে তারা হারাম বলে মেনে নিয়েছে। আর এটাই হল তাদের ইবাদত করা।” (তিরমিযী ৩০৯৫)

একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এলাম। তখন আমার ঘাড়ে সোনার ক্রুশ ছিল। তা দেখে তিনি বললেন, “হে আদী! এই প্রতিমা তোমার নিকট থেকে খুলে ফেল।” শুনলাম তিনি সূরা তাওবার এই আয়াত পাঠ করলেন, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ অর্থাৎ, তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পন্ডিত-পুরোহিতদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। (তাওবাহঃ৩১) আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখে উক্ত আয়াত শুনে আরজ করলাম যে, ইয়াহুদী-নাসারারা তো নিজেদের আলেমদের কখনো ইবাদত করেনি, তাহলে এটা কেন বলা হয়েছে যে, তারা তাদেরকে ‘রব’ বানিয়ে নিয়েছে? তিনি বললেন, “এ কথা ঠিক যে, তারা তাদের ইবাদত করেনি। কিন্তু এটা তো সঠিক যে, তাদের আলেমরা যা হালাল করেছে, তাকে তারা হালাল এবং যা হারাম করেছে,তাকে তারা হারাম বলে মেনে নিয়েছে। আর এটাই হল তাদের ইবাদত করা।” (তিরমিযী ৩০৯৫)

عن عدي بن حاتم قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب فقال : يا عدي اطرح عنك هذا الوثن وسمعته يقرأ في سورة براءة : (اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله) قال : أما إنهم لم يكونوا يعبدونهم ولكنهم كانوا إذا أحلوا لهم شيئا استحلوه وإذا حرموا عليهم شيئا حرموه


হাদিস সম্ভার ১৪৮২

عن علقمة عن عبد الله قال لما نزلت (الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم) شق ذلك على أصحاب رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وقالوا أينا لا يظلم نفسه فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ليس هو كما تظنون إنما هو كما قال لقمان لابنه (يا بنى لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم)

الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বিশ্বাসকে যুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। (আন্আমঃ ৮২) ‘এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হল, তখন মুসলিমদের নিকট বিষয়টি কঠিন মনে হল। বলল, ‘আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের উপর যুলুম (অন্যায় বা পাপ) করে না?’ তা শুনে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (তোমরা যে যুলুম মনে করছ) তা নয়। বরং তা (সবচেয়ে বড় যুলুম) কেবলমাত্র শির্ক। তোমরা কি পুত্রকে সম্বোধন করে লুকমানের উক্তি শ্রবণ করনি? (তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন), يَا بُنَيَّ لاَ تُشْرِكْ باِللهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ অর্থাৎ, হে বৎস্য! আল্লাহর সাথে শির্ক করো না, নিশ্চয় শির্ক বড় যুলুম। (বুখারী ৬৯৩৭, মুসলিম ৩৪২)

الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বিশ্বাসকে যুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। (আন্আমঃ ৮২) ‘এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হল, তখন মুসলিমদের নিকট বিষয়টি কঠিন মনে হল। বলল, ‘আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের উপর যুলুম (অন্যায় বা পাপ) করে না?’ তা শুনে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (তোমরা যে যুলুম মনে করছ) তা নয়। বরং তা (সবচেয়ে বড় যুলুম) কেবলমাত্র শির্ক। তোমরা কি পুত্রকে সম্বোধন করে লুকমানের উক্তি শ্রবণ করনি? (তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন), يَا بُنَيَّ لاَ تُشْرِكْ باِللهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ অর্থাৎ, হে বৎস্য! আল্লাহর সাথে শির্ক করো না, নিশ্চয় শির্ক বড় যুলুম। (বুখারী ৬৯৩৭, মুসলিম ৩৪২)

عن علقمة عن عبد الله قال لما نزلت (الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم) شق ذلك على أصحاب رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وقالوا أينا لا يظلم نفسه فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ليس هو كما تظنون إنما هو كما قال لقمان لابنه (يا بنى لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم)


লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00