হাদিস সম্ভার > কুরআন মাজীদ সযত্নে নিয়মিত পড়া ও তা ভুলে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

হাদিস সম্ভার ১৪২৯

عن أبي موسى عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قالتعاهدوا هذا القرآن فوالذي نفس محمد بيده لهو أشد تفلتا من الإبل في عقلها متفق عليه

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,“এই কুরআনের প্রতি যত্ন নাও। (অর্থাৎ, নিয়মিত পড়তে থাক ও তার চর্চা রাখ।) সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে, উট যেমন তার রশি থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কুরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে (বিস্মৃত হয়ে) যায়।” (অর্থাৎ, অতিশীঘ্র ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে।) (বুখারী ৫০৩৩, মুসলিম ১৮৮০)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,“এই কুরআনের প্রতি যত্ন নাও। (অর্থাৎ, নিয়মিত পড়তে থাক ও তার চর্চা রাখ।) সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে, উট যেমন তার রশি থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কুরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে (বিস্মৃত হয়ে) যায়।” (অর্থাৎ, অতিশীঘ্র ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে।) (বুখারী ৫০৩৩, মুসলিম ১৮৮০)

عن أبي موسى عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قالتعاهدوا هذا القرآن فوالذي نفس محمد بيده لهو أشد تفلتا من الإبل في عقلها متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১৪৩০

وعن ابن عمر رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إنما مثل صاحب القرآن كمثل الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت متفق عليه

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআন-ওয়ালা হল বাঁধা উট-ওয়ালার মত। সে যদি তা বাঁধার পর তার যথারীতি দেখাশোনা করে, তাহলে বাঁধাই থাকবে। নচেৎ ঢিল দিলেই উট পালিয়ে যাবে।” (বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ১৮৭৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআন-ওয়ালা হল বাঁধা উট-ওয়ালার মত। সে যদি তা বাঁধার পর তার যথারীতি দেখাশোনা করে, তাহলে বাঁধাই থাকবে। নচেৎ ঢিল দিলেই উট পালিয়ে যাবে।” (বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ১৮৭৫)

وعن ابن عمر رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إنما مثل صاحب القرآن كمثل الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১৪৩২

عن عبد الله قال قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم بئس ما لأحدهم يقول نسيت آية كيت وكيت بل هو نسي

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কারো এ কথা বলা নিকৃষ্ট যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” (বুখারী ৫০৩৯, মুসলিম ১৮৭৭)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কারো এ কথা বলা নিকৃষ্ট যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” (বুখারী ৫০৩৯, মুসলিম ১৮৭৭)

عن عبد الله قال قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم بئس ما لأحدهم يقول نسيت آية كيت وكيت بل هو نسي


হাদিস সম্ভার ১৪৩১

وعن عقبة بن عامر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا كتاب الله وتعاهدوه وتغنوا به فوالذي نفسي بيده لهو أشد تفلتا من المخاض في العقل

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, (পাঠ করার মাধ্যমে) তার যত্ন কর, তা ঘরে রাখ এবং সুরেলা কণ্ঠে তা তেলাঅত কর। কারণ, উট যেমন রশির বন্ধন থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কুরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে (বিস্মৃত হয়ে) যায়।” (আহমাদ ১৭৩১৭, দারেমী ৩৩৪৯, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩২৮৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, (পাঠ করার মাধ্যমে) তার যত্ন কর, তা ঘরে রাখ এবং সুরেলা কণ্ঠে তা তেলাঅত কর। কারণ, উট যেমন রশির বন্ধন থেকে অতর্কিতে বের হয়ে যায়, তার চেয়ে অধিক অতর্কিতে কুরআন (স্মৃতি থেকে) বের হয়ে (বিস্মৃত হয়ে) যায়।” (আহমাদ ১৭৩১৭, দারেমী ৩৩৪৯, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩২৮৫)

وعن عقبة بن عامر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا كتاب الله وتعاهدوه وتغنوا به فوالذي نفسي بيده لهو أشد تفلتا من المخاض في العقل


হাদিস সম্ভার > সুললিত কণ্ঠে কুরআন পড়া মুস্তাহাব। মধুরকণ্ঠের কারীকে তা পড়ার আবেদন করা ও তা মনোযোগ সহকারে শোনা প্রসঙ্গে

হাদিস সম্ভার ১৪৩৩

وعن أبي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي حسن الصوت يتغنى بالقرآن يجهر به متفق عليه

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “মহান আল্লাহ এভাবে উৎকর্ত হয়ে কোন কথা শোনেন না, যেভাবে সেই মধুরকণ্ঠী পয়গম্বরের প্রতি উৎকর্ত হয়ে শোনেন, যিনি মধুর কণ্ঠে উচ্চ স্বরে কুরআন মাজীদ পড়তেন।” (বুখারী ৫০২৪, মুসলিম ১৮৮৩)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “মহান আল্লাহ এভাবে উৎকর্ত হয়ে কোন কথা শোনেন না, যেভাবে সেই মধুরকণ্ঠী পয়গম্বরের প্রতি উৎকর্ত হয়ে শোনেন, যিনি মধুর কণ্ঠে উচ্চ স্বরে কুরআন মাজীদ পড়তেন।” (বুখারী ৫০২৪, মুসলিম ১৮৮৩)

وعن أبي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي حسن الصوت يتغنى بالقرآن يجهر به متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১৪৩৬

وعن أبي لبابة بشير بن عبد المنذر أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ليس منا من لم يتغن بالقرآن رواه أبو داود بإسناد جيد

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিষ্ট স্বরে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের মধ্যে নয়।” (অর্থাৎ আমাদের ত্বরীকা ও নীতি-আদর্শ বহির্ভূত।) (আবূ দাঊদ ১৪৭৩, উত্তম সূত্রে)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিষ্ট স্বরে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের মধ্যে নয়।” (অর্থাৎ আমাদের ত্বরীকা ও নীতি-আদর্শ বহির্ভূত।) (আবূ দাঊদ ১৪৭৩, উত্তম সূত্রে)

وعن أبي لبابة بشير بن عبد المنذر أن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال ليس منا من لم يتغن بالقرآن رواه أبو داود بإسناد جيد


হাদিস সম্ভার ১৪৩৭

عن البراء رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم زينوا القرآن بأصواتكم فإن الصوت الحسن يزيد القرآن حسنا

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের (সুমিষ্ট) শব্দ দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। কারণ, মধুর শব্দ কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।” (হাকেম ২১২৫, দারেমী ৩৫০১, সঃ জামে’ ৩৫৮১)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের (সুমিষ্ট) শব্দ দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। কারণ, মধুর শব্দ কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।” (হাকেম ২১২৫, দারেমী ৩৫০১, সঃ জামে’ ৩৫৮১)

عن البراء رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم زينوا القرآن بأصواتكم فإن الصوت الحسن يزيد القرآن حسنا


হাদিস সম্ভার ১৪৩৪

وعن أبي موسى الأشعري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لهلقد أوتيت مزمارا من مزامير آل داود متفق عليه وفي رواية لمسلم : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لهلو رأيتني وأنا أستمع لقراءتك البارحة

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “তোমাকে দাউদের সুললিত কণ্ঠের মত মধুর কণ্ঠ দান করা হয়েছে।” (বুখারী ৫০৪৮, মুসলিম ১৮৮৭-১৮৮৮) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “যদি তুমি আমাকে গত রাতে তোমার তেলাঅত শোনা অবস্থায় দেখতে (তাহলে তুমি কতই না খুশি হতে)!”

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “তোমাকে দাউদের সুললিত কণ্ঠের মত মধুর কণ্ঠ দান করা হয়েছে।” (বুখারী ৫০৪৮, মুসলিম ১৮৮৭-১৮৮৮) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “যদি তুমি আমাকে গত রাতে তোমার তেলাঅত শোনা অবস্থায় দেখতে (তাহলে তুমি কতই না খুশি হতে)!”

وعن أبي موسى الأشعري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لهلقد أوتيت مزمارا من مزامير آل داود متفق عليه وفي رواية لمسلم : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لهلو رأيتني وأنا أستمع لقراءتك البارحة


হাদিস সম্ভার ১৪৩৫

وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم قرأ في العشاء بالتين والزيتون، فما سمعت أحدا أحسن صوتا منه متفق عليه

তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এশার নামাযে সূরা ‘অততীন অযযাইতূন’পড়তে শুনেছি। বস্তুতঃ আমি তাঁর চেয়ে মধুর কণ্ঠ আর কারো শুনিনি।” (বুখারী ৭৬৯, ৭৫৪৬, মুসলিম ১০৬৭)

তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এশার নামাযে সূরা ‘অততীন অযযাইতূন’পড়তে শুনেছি। বস্তুতঃ আমি তাঁর চেয়ে মধুর কণ্ঠ আর কারো শুনিনি।” (বুখারী ৭৬৯, ৭৫৪৬, মুসলিম ১০৬৭)

وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال : سمعت النبي صلى اللٰه عليه وسلم قرأ في العشاء بالتين والزيتون، فما سمعت أحدا أحسن صوتا منه متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১৪৩৮

وعن ابن عمر قال : سئل النبي صلى اللٰه عليه وسلم أي الناس أحسن صوتا بالقرآن ؟ قال من إذا قرأ رأيت أنه يخشى الله

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কুরআন পাঠে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আওয়াজ কার?’ উত্তরে তিনি বললেন, “তার, যার কুরআন পাঠ করা শুনে মনে হয়, সে আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।” (যুহদ, ইবনুল মুবারক, দারেমী ৩৪৮৯, ত্বাবারানী ৬৭৩)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কুরআন পাঠে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আওয়াজ কার?’ উত্তরে তিনি বললেন, “তার, যার কুরআন পাঠ করা শুনে মনে হয়, সে আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।” (যুহদ, ইবনুল মুবারক, দারেমী ৩৪৮৯, ত্বাবারানী ৬৭৩)

وعن ابن عمر قال : سئل النبي صلى اللٰه عليه وسلم أي الناس أحسن صوتا بالقرآن ؟ قال من إذا قرأ رأيت أنه يخشى الله


হাদিস সম্ভার ১৪৩৯

وعن عقبة بن عامر الجهنى قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الجاهر بالقرآن كالجاهر بالصدقة والمسر بالقرآن كالمسر بالصدقة

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সশব্দে কুরআন তেলাঅতকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মত এবং নিঃশব্দে তেলাঅতকারী গোপনে দানকারীর মত।” (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, সঃ জামে’ ৩১৫০)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সশব্দে কুরআন তেলাঅতকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মত এবং নিঃশব্দে তেলাঅতকারী গোপনে দানকারীর মত।” (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, সঃ জামে’ ৩১৫০)

وعن عقبة بن عامر الجهنى قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الجاهر بالقرآن كالجاهر بالصدقة والمسر بالقرآن كالمسر بالصدقة


হাদিস সম্ভার ১৪৪০

وعن ابن عمر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن المصلي يناجي ربه عز وجل فلينظر أحدكم بما يناجي ربه ولا يجهر بعضكم على بعض بالقراءة

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অবশ্যই নামাযী তাঁর সুমহান প্রভুর কাছে মুনাজাত করে। অতএব তার লক্ষ্য করা উচিত, সে কি দিয়ে তাঁর কাছে মুনাজাত করছে। আর তোমাদের কেউ যেন অপরের কাছে উচ্চস্বরে কুরআন না পড়ে।” (আহমাদ, ত্বাবারানী, সহীহ আবূ দাঊদ ১২০৩, সহীহুল জামে’ ১৯৫১)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অবশ্যই নামাযী তাঁর সুমহান প্রভুর কাছে মুনাজাত করে। অতএব তার লক্ষ্য করা উচিত, সে কি দিয়ে তাঁর কাছে মুনাজাত করছে। আর তোমাদের কেউ যেন অপরের কাছে উচ্চস্বরে কুরআন না পড়ে।” (আহমাদ, ত্বাবারানী, সহীহ আবূ দাঊদ ১২০৩, সহীহুল জামে’ ১৯৫১)

وعن ابن عمر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن المصلي يناجي ربه عز وجل فلينظر أحدكم بما يناجي ربه ولا يجهر بعضكم على بعض بالقراءة


হাদিস সম্ভার ১৪৪১

وعن ابن مسعود قال : قال لي النبي صلى اللٰه عليه وسلم اقرأ علي القرآن فقلت : يا رسول الله، أقرأ عليك وعليك أنزل قالإني أحب أن أسمعه من غيريفقرأت عليه سورة النساء حتى جئت إلى هذه الآية: فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا قال :( حسبك الآن فالتفت إليه فإذا عيناه تذرفان متفق عليه

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “(হে ইবনে মাসঊদ!) আমাকে কুরআন পড়ে শুনাও।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরে তা অবতীর্ণ করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, “অপরের মুখ থেকে (কুরআন পড়া) শুনতে আমি ভালবাসি।” সুতরাং তাঁর সামনে আমি সূরা নিসা পড়তে লাগলাম, পড়তে পড়তে যখন এই (৪১) আয়াতে পৌঁছলাম---যার অর্থ, “তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?” তখন তিনি বললেন, “যথেষ্ট, এখন থাম।” অতঃপর আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখি, তাঁর নয়ন যুগল অশ্রু ঝরাচ্ছে। (বুখারী ৪৫৮২, মুসলিম ১৯০৩-১৯০৫)

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “(হে ইবনে মাসঊদ!) আমাকে কুরআন পড়ে শুনাও।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরে তা অবতীর্ণ করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, “অপরের মুখ থেকে (কুরআন পড়া) শুনতে আমি ভালবাসি।” সুতরাং তাঁর সামনে আমি সূরা নিসা পড়তে লাগলাম, পড়তে পড়তে যখন এই (৪১) আয়াতে পৌঁছলাম---যার অর্থ, “তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?” তখন তিনি বললেন, “যথেষ্ট, এখন থাম।” অতঃপর আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখি, তাঁর নয়ন যুগল অশ্রু ঝরাচ্ছে। (বুখারী ৪৫৮২, মুসলিম ১৯০৩-১৯০৫)

وعن ابن مسعود قال : قال لي النبي صلى اللٰه عليه وسلم اقرأ علي القرآن فقلت : يا رسول الله، أقرأ عليك وعليك أنزل قالإني أحب أن أسمعه من غيريفقرأت عليه سورة النساء حتى جئت إلى هذه الآية: فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا قال :( حسبك الآن فالتفت إليه فإذا عيناه تذرفان متفق عليه


হাদিস সম্ভার > বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান

হাদিস সম্ভার ১৪৪৩

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أم القرآن هي السبع المثاني والقرآن العظيم

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উম্মুল কুরআন’ (কুরআনের জননী) সম্পর্কে বলেছেন, “এটাই হল (সেই সূরা হিজরের ৮৭ আয়াতে উল্লেখিত আমাকে প্রদত্ত) সপ্তপদী (সূরা) যা নামাযে পুনঃপুনঃ আবৃত্ত হয় এবং সেটাই হল মহা কুরআন।” (বুখারী ৪৭০৪)

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উম্মুল কুরআন’ (কুরআনের জননী) সম্পর্কে বলেছেন, “এটাই হল (সেই সূরা হিজরের ৮৭ আয়াতে উল্লেখিত আমাকে প্রদত্ত) সপ্তপদী (সূরা) যা নামাযে পুনঃপুনঃ আবৃত্ত হয় এবং সেটাই হল মহা কুরআন।” (বুখারী ৪৭০৪)

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أم القرآن هي السبع المثاني والقرآن العظيم


হাদিস সম্ভার ১৪৪৫

وعنه : أن رجلا سمع رجلا يقرأقل هو الله أحد يرددها، فلما أصبح جاء إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فذكر ذلك له وكان الرجل يتقالها فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم والذي نفسي بيده إنها لتعدل ثلث القرآن

উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।” (বুখারী ৫০১৩, ৬৬৪৩, ৭৩৭৪)

উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।” (বুখারী ৫০১৩, ৬৬৪৩, ৭৩৭৪)

وعنه : أن رجلا سمع رجلا يقرأقل هو الله أحد يرددها، فلما أصبح جاء إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فذكر ذلك له وكان الرجل يتقالها فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم والذي نفسي بيده إنها لتعدل ثلث القرآن


হাদিস সম্ভার ১৪৪৭

و عن أنس قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من قرأ قل يا أيها الكافرون عدلت له بربع القرآن ومن قرأ قل هو الله أحد عدلت له بثلث القرآن

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘ক্বুল ইয়া-আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’ পাঠ করবে, তার এক চতুর্থাংশ কুরআন পাঠের সমান সওয়াব লাভ হবে। আর যে, ব্যক্তি ‘ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ’ পাঠ করবে তার এক তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের সমান সওয়াব লাভ হবে।” (তিরমিযী ২৮৯৩, সহীহুল জামে’৬৪৬৬)

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘ক্বুল ইয়া-আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’ পাঠ করবে, তার এক চতুর্থাংশ কুরআন পাঠের সমান সওয়াব লাভ হবে। আর যে, ব্যক্তি ‘ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ’ পাঠ করবে তার এক তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের সমান সওয়াব লাভ হবে।” (তিরমিযী ২৮৯৩, সহীহুল জামে’৬৪৬৬)

و عن أنس قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من قرأ قل يا أيها الكافرون عدلت له بربع القرآن ومن قرأ قل هو الله أحد عدلت له بثلث القرآن


হাদিস সম্ভার ১৪৪৬

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال في قل هو الله أحد إنها تعدل ثلث القرآن

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।” (মুসলিম ১৯২৪-১৯২৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।” (মুসলিম ১৯২৪-১৯২৫)

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال في قل هو الله أحد إنها تعدل ثلث القرآن


হাদিস সম্ভার ১৪৪২

عن أبي سعيد رافع بن المعلى قال : قال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد ؟ فأخذ بيدي فلما أردنا أن نخرج قلت : يا رسول الله إنك قلت : لأعلمنك أعظم سورة في القرآن ؟ قالالحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني والقرآن العظيم الذي أوتيتهرواه البخاري

তিনি বলেন, (একদা আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন। আমি সাড়া দিলাম না। অতঃপর নামায শেষ করে তাঁর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি নামায পড়ছিলাম।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ কি বলেননি যে, তোমরা আল্লাহ ও রসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তোমাদেরকে (রসূল) ডাকে---?’ (সূরা আনফাল ২৪) অতঃপর) তিনি আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি যে আমাকে বললেন, তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানী’ (অর্থাৎ, নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে।” (বুখারী ৪৪৭৪)

তিনি বলেন, (একদা আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন। আমি সাড়া দিলাম না। অতঃপর নামায শেষ করে তাঁর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি নামায পড়ছিলাম।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ কি বলেননি যে, তোমরা আল্লাহ ও রসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তোমাদেরকে (রসূল) ডাকে---?’ (সূরা আনফাল ২৪) অতঃপর) তিনি আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি যে আমাকে বললেন, তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সবচেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানী’ (অর্থাৎ, নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে।” (বুখারী ৪৪৭৪)

عن أبي سعيد رافع بن المعلى قال : قال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد ؟ فأخذ بيدي فلما أردنا أن نخرج قلت : يا رسول الله إنك قلت : لأعلمنك أعظم سورة في القرآن ؟ قالالحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني والقرآن العظيم الذي أوتيتهرواه البخاري


হাদিস সম্ভার ১৪৪৪

وعن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال في قل هو الله أحد: والذي نفسي بيده إنها لتعدل ثلث القرآنوفي رواية : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لأصحابهأيعجز أحدكم أن يقرأ بثلث القرآن في ليلة؟ فشق ذلك عليهم وقالوا : أينا يطيق ذلك يا رسول الله ؟ فقال قل هو الله أحد الله الصمد : ثلث القرآنرواه البخاري

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” (বুখারী ৫০১৩, ৬৬৪৩, ৭৩৭৪) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাগণকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাঁদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ (অর্থাৎ, কেউ পারবে না।) তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (ঐ ৫০১৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” (বুখারী ৫০১৩, ৬৬৪৩, ৭৩৭৪) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাগণকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাঁদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ (অর্থাৎ, কেউ পারবে না।) তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (ঐ ৫০১৫)

وعن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال في قل هو الله أحد: والذي نفسي بيده إنها لتعدل ثلث القرآنوفي رواية : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لأصحابهأيعجز أحدكم أن يقرأ بثلث القرآن في ليلة؟ فشق ذلك عليهم وقالوا : أينا يطيق ذلك يا رسول الله ؟ فقال قل هو الله أحد الله الصمد : ثلث القرآنرواه البخاري


হাদিস সম্ভার ১৪৪৮

عن معاذ بن أنس الجهني صاحب النبي عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال من قرأ قل هو الله أحد حتى يختمها عشر مرات بنى الله له قصرا في الجنة فقال عمر بن الخطاب إذن أستكثر يا رسول الله فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الله أكثر وأطيب

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ‘ক্বুল হুঅল্লা-হু আহাদ’ শেষ পর্যন্ত ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে এক মহল নির্মাণ করবেন।” এ কথা শুনে উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, ‘তাহলে আমরা বেশি বেশি করে পড়ব হে আল্লাহর রসূল!’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আল্লাহও বেশি দানশীল ও বেশি পবিত্র।” (আহমাদ ১৫৬১০, প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৮৯)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ‘ক্বুল হুঅল্লা-হু আহাদ’ শেষ পর্যন্ত ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে এক মহল নির্মাণ করবেন।” এ কথা শুনে উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, ‘তাহলে আমরা বেশি বেশি করে পড়ব হে আল্লাহর রসূল!’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আল্লাহও বেশি দানশীল ও বেশি পবিত্র।” (আহমাদ ১৫৬১০, প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৮৯)

عن معاذ بن أنس الجهني صاحب النبي عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال من قرأ قل هو الله أحد حتى يختمها عشر مرات بنى الله له قصرا في الجنة فقال عمر بن الخطاب إذن أستكثر يا رسول الله فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم الله أكثر وأطيب


হাদিস সম্ভার ১৪৪৯

عن أبي هريرة قال: أقبلت مع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلمفسمع رجلا يقرأ: قل هو الله أحد الله الصمد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রوجبتগ্ধ. قلت: ما وجبت؟ قال: ্রالجنةগ্ধ:

একদা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে (একস্থানে) আগমন করলাম। তিনি এক ব্যক্তির নিকট শুনলেন, সে ‘ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ’ পড়ছে। অতঃপর তিনি বললেন, “অনিবার্য।” আমি বললাম, ‘কি অনিবার্য?!’ তিনি বললেন, “জান্নাত।” (তিরমিযী ২৮৯৭)

একদা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে (একস্থানে) আগমন করলাম। তিনি এক ব্যক্তির নিকট শুনলেন, সে ‘ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ’ পড়ছে। অতঃপর তিনি বললেন, “অনিবার্য।” আমি বললাম, ‘কি অনিবার্য?!’ তিনি বললেন, “জান্নাত।” (তিরমিযী ২৮৯৭)

عن أبي هريرة قال: أقبلت مع رسول الله صلى اللٰه عليه وسلمفسمع رجلا يقرأ: قل هو الله أحد الله الصمد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রوجبتগ্ধ. قلت: ما وجبت؟ قال: ্রالجنةগ্ধ:


হাদিস সম্ভার ১৪৫০

وعن أنس أن رجلا قال : يا رسول الله إني أحب هذه السورة قل هو الله أحد قال إن حبها أدخلك الجنة رواه الترمذي وقال حديث حسن ورواه البخاري في صحيحه تعليقا

এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি এই (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি।’ তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” (তিরমিযী ২৯০১ হাসান সূত্রে, বুখারী বিচ্ছিন্ন সনদে ৭৭৫ এর আগে)

এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি এই (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি।’ তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” (তিরমিযী ২৯০১ হাসান সূত্রে, বুখারী বিচ্ছিন্ন সনদে ৭৭৫ এর আগে)

وعن أنس أن رجلا قال : يا رسول الله إني أحب هذه السورة قل هو الله أحد قال إن حبها أدخلك الجنة رواه الترمذي وقال حديث حسن ورواه البخاري في صحيحه تعليقا


হাদিস সম্ভার ১৪৫২

وعن عقبة بن عامر أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ألم تر آيات أنزلت هذه الليلة لم ير مثلهن قط ؟ قل أعوذ برب الفلق و قل أعوذ برب الناس رواه مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বললেন, “তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিন নাস।” (মুসলিম ১৯২৭, তিরমিযী ২৯০২)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বললেন, “তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিন নাস।” (মুসলিম ১৯২৭, তিরমিযী ২৯০২)

وعن عقبة بن عامر أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ألم تر آيات أنزلت هذه الليلة لم ير مثلهن قط ؟ قل أعوذ برب الفلق و قل أعوذ برب الناس رواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৫১

وعن عائشة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بعث رجلا على سرية وكان يقرأ لأصحابه فى صلاتهم فيختم ب (قل هو الله أحد) فلما رجعوا ذكر ذلك لرسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقال سلوه لأى شىء يصنع ذلك فسألوه فقال لأنها صفة الرحمن فأنا أحب أن أقرأ بها فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أخبروه أن الله يحبه

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে এক (জিহাদের) সৈন্যদলের সেনাপতিরূপে প্রেরণ করলেন। সে তাদের নামাযে ইমামতিকালে প্রত্যেক সূরার শেষে ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ যোগ করে ক্বিরাআত শেষ করত। যখন তারা ফিরে এল তখন সে কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উল্লেখ করল। তিনি বললেন, “তোমরা ওকে জিজ্ঞাসা কর, কেন এমনটি করে?” সুতরাং তারা ওকে জিজ্ঞাসা করলে লোকটি বলল, ‘কারণ, সূরাটিতে পরম দয়ালু (আল্লাহর) গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে। তাই আমি ওটাকে (বারবার) পড়তে ভালোবাসি।’ একথা শুনে তিনি বললেন, “ওকে সংবাদ দাও যে, আল্লাহ আযযা অজাল্ল্ও ওকে ভালো বাসেন।” (বুখারী ৭৩৭৫ , মুসলিম ৮১৩)

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে এক (জিহাদের) সৈন্যদলের সেনাপতিরূপে প্রেরণ করলেন। সে তাদের নামাযে ইমামতিকালে প্রত্যেক সূরার শেষে ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ যোগ করে ক্বিরাআত শেষ করত। যখন তারা ফিরে এল তখন সে কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উল্লেখ করল। তিনি বললেন, “তোমরা ওকে জিজ্ঞাসা কর, কেন এমনটি করে?” সুতরাং তারা ওকে জিজ্ঞাসা করলে লোকটি বলল, ‘কারণ, সূরাটিতে পরম দয়ালু (আল্লাহর) গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে। তাই আমি ওটাকে (বারবার) পড়তে ভালোবাসি।’ একথা শুনে তিনি বললেন, “ওকে সংবাদ দাও যে, আল্লাহ আযযা অজাল্ল্ও ওকে ভালো বাসেন।” (বুখারী ৭৩৭৫ , মুসলিম ৮১৩)

وعن عائشة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بعث رجلا على سرية وكان يقرأ لأصحابه فى صلاتهم فيختم ب (قل هو الله أحد) فلما رجعوا ذكر ذلك لرسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقال سلوه لأى شىء يصنع ذلك فسألوه فقال لأنها صفة الرحمن فأنا أحب أن أقرأ بها فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم أخبروه أن الله يحبه


হাদিস সম্ভার ১৪৫৩

وعن أبي سعيد الخدري قال : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يتعوذ من الجان وعين الإنسان حتى نزلت المعوذتان فلما نزلتا، أخذ بهما وترك ما سواهما رواه الترمذي وقال حديث حسن

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন।’ (তিরমিযী ২০৫৮, হাসান)

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন।’ (তিরমিযী ২০৫৮, হাসান)

وعن أبي سعيد الخدري قال : كان رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يتعوذ من الجان وعين الإنسان حتى نزلت المعوذتان فلما نزلتا، أخذ بهما وترك ما سواهما رواه الترمذي وقال حديث حسن


হাদিস সম্ভার ১৪৫৪

وعن ابن عابس الجهني قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا ابن عابس ألا أخبرك بأفضل ما تعوذ به المتعوذون؟ قلت: بلى يا رسول الله قال قل أعوذ برب الفلق وقل أعوذ برب الناس

একদা ইবনে আবেস জুহানী (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে ইবনে আবেস! আমি তোমাকে উত্তম ঝাড়-ফুঁকের কথা বলে দেব না কি, যার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনাকারীরা আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকে?” তিনি বললেন, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে রাসূলাল্লাহ!’ তিনি ফালাক ও নাস সূরা দুটিকে উল্লেখ করে বললেন, “এ সূরা দুটি হল মুআব্বিযাতান (ঝাড়-ফুঁকের মন্ত্র)।” (আহমাদ ১৫৪৪৮, ১৭২৯৭, নাসাঈ কুবরা ৭৮৪৭)

একদা ইবনে আবেস জুহানী (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে ইবনে আবেস! আমি তোমাকে উত্তম ঝাড়-ফুঁকের কথা বলে দেব না কি, যার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনাকারীরা আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকে?” তিনি বললেন, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে রাসূলাল্লাহ!’ তিনি ফালাক ও নাস সূরা দুটিকে উল্লেখ করে বললেন, “এ সূরা দুটি হল মুআব্বিযাতান (ঝাড়-ফুঁকের মন্ত্র)।” (আহমাদ ১৫৪৪৮, ১৭২৯৭, নাসাঈ কুবরা ৭৮৪৭)

وعن ابن عابس الجهني قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا ابن عابس ألا أخبرك بأفضل ما تعوذ به المتعوذون؟ قلت: بلى يا رسول الله قال قل أعوذ برب الفلق وقل أعوذ برب الناس


হাদিস সম্ভার ১৪৫৫

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال من القرآن سورة ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له، وهي: تبارك الذي بيده الملك رواه أبو داود والترمذي، وقال حديث حسن

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মুল্ক’ (সূরা মুল্ক)।” (আবূ দাঊদ ১৪০২, তিরমিযী ২৮৯১, হাসান)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মুল্ক’ (সূরা মুল্ক)।” (আবূ দাঊদ ১৪০২, তিরমিযী ২৮৯১, হাসান)

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال من القرآن سورة ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له، وهي: تبارك الذي بيده الملك رواه أبو داود والترمذي، وقال حديث حسن


হাদিস সম্ভার ১৪৫৬

وعن أبي الدرداء أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالمن حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال وفي روايةمن آخر سورة الكهف رواهما مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের (ফিৎনা) থেকে পরিত্রাণ পাবে।” অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ১৯১৯-১৯২০)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের (ফিৎনা) থেকে পরিত্রাণ পাবে।” অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ১৯১৯-১৯২০)

وعن أبي الدرداء أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالمن حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال وفي روايةمن آخر سورة الكهف رواهما مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৫৭

وعن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة أضاء له من النور ما بين الجمعتين

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করে, সে ব্যক্তির জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী কাল জ্যোতির্ময় হয়ে যায়।” (হাকেম, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে’৬৪৭০)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করে, সে ব্যক্তির জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী কাল জ্যোতির্ময় হয়ে যায়।” (হাকেম, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে’৬৪৭০)

وعن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة أضاء له من النور ما بين الجمعتين


হাদিস সম্ভার ১৪৫৮

عن عرباض بن سارية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقرأ المسبحات قبل أن يرقد وقال إن فيهن آية أفضل من ألف آية

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শয়ন করার আগে শুরুতে তসবীহ (সুবহা-না, সাব্বাহা, য়্যুসাব্বিহু, ও সাব্বিহ)বিশিষ্ট (বানী ইসরাঈল, হাদীদ, হাশর, সাফ্ফ, জুমুআহ, তাগাবুন, ও আ’লা এই সাতটি) সূরা পাঠ করতেন। তিনি বলেন, “ঐ সূরাগুলির মধ্যে এমন একটি আয়াত নিহিত আছে যা এক হাজার আয়াত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (আহমাদ ১৭২৯২, আবূ দাঊদ ৫০৫৭, তিরমিযী ২৯২১)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শয়ন করার আগে শুরুতে তসবীহ (সুবহা-না, সাব্বাহা, য়্যুসাব্বিহু, ও সাব্বিহ)বিশিষ্ট (বানী ইসরাঈল, হাদীদ, হাশর, সাফ্ফ, জুমুআহ, তাগাবুন, ও আ’লা এই সাতটি) সূরা পাঠ করতেন। তিনি বলেন, “ঐ সূরাগুলির মধ্যে এমন একটি আয়াত নিহিত আছে যা এক হাজার আয়াত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (আহমাদ ১৭২৯২, আবূ দাঊদ ৫০৫৭, তিরমিযী ২৯২১)

عن عرباض بن سارية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقرأ المسبحات قبل أن يرقد وقال إن فيهن آية أفضل من ألف آية


হাদিস সম্ভার ১৪৫৯

عن ابن مسعود قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لكل شيء سناما وسنام القرآن سورة البقرة

রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “অবশ্যই প্রত্যেক বস্তুরই চূড়া আছে; আর কুরআনের চূড়া হল সূরা বাক্বারাহ।” (হাকেম২০৬০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৮৮)

রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “অবশ্যই প্রত্যেক বস্তুরই চূড়া আছে; আর কুরআনের চূড়া হল সূরা বাক্বারাহ।” (হাকেম২০৬০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৮৮)

عن ابن مسعود قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لكل شيء سناما وسنام القرآن سورة البقرة


হাদিস সম্ভার ১৪৬০

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لا تجعلوا بيوتكم مقابر إن الشيطان ينفر من البيت الذي تقرأ فيه سورة البقرةرواه مسلم

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে।” (মুসলিম ১৮৬০) (অর্থাৎ সুন্নাত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ করে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়।)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে।” (মুসলিম ১৮৬০) (অর্থাৎ সুন্নাত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ করে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়।)

وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال لا تجعلوا بيوتكم مقابر إن الشيطان ينفر من البيت الذي تقرأ فيه سورة البقرةرواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৬১

وعن أبي بن كعب قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم قلت الله لا إله إلا هو الحي القيوم فضرب في صدري وقال ليهنك العلم أبا المنذر رواه مسلم

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান, মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরআন)এর ভিতর তোমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?” আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরর্সী।’ সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপড় মেরে বললেন, “আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক।” (মুসলিম ১৯২১) (অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বর্কতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।)

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান, মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরআন)এর ভিতর তোমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?” আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরর্সী।’ সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপড় মেরে বললেন, “আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক।” (মুসলিম ১৯২১) (অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বর্কতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।)

وعن أبي بن كعب قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم قلت الله لا إله إلا هو الحي القيوم فضرب في صدري وقال ليهنك العلم أبا المنذر رواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৬৩

عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قرأ آية الكرسي دبر كل صلاة مكتوبة لم يمنعه من دخول الجنة إلا أن يموت

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পশ্চাতে ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করবে, সে ব্যক্তির জন্য তার মৃত্যু ছাড়া আর অন্য কিছু জান্নাত প্রবেশের পথে বাধা হবে না। (নাসাঈ কুবরা ৯৯২৮, ত্বাবারানী ৭৫৩২, সহীহুল জামে ৬৪৬৪)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পশ্চাতে ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করবে, সে ব্যক্তির জন্য তার মৃত্যু ছাড়া আর অন্য কিছু জান্নাত প্রবেশের পথে বাধা হবে না। (নাসাঈ কুবরা ৯৯২৮, ত্বাবারানী ৭৫৩২, সহীহুল জামে ৬৪৬৪)

عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قرأ آية الكرسي دبر كل صلاة مكتوبة لم يمنعه من دخول الجنة إلا أن يموت


হাদিস সম্ভার ১৪৬৪

وعن أبي مسعود البدري عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال من قرأ بالآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه متفق عليه

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সে দু’টি যথেষ্ট হবে।” (বুখারী ৪০০৮, মুসলিম ১৯১৪-১৯১৬) বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সে দু’টি যথেষ্ট হবে।” (বুখারী ৪০০৮, মুসলিম ১৯১৪-১৯১৬) বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।

وعن أبي مسعود البدري عن النبي صلى اللٰه عليه وسلم قال من قرأ بالآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه متفق عليه


হাদিস সম্ভার ১৪৬২

وعن أبي هريرة قال : وكلني رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آت فجعل يحثو من الطعام، فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال : إني محتاج وعلي عيال وبي حاجة شديدة فخليت عنه فأصبحت فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله شكا حاجة وعيالا فرحمته فخليت سبيله فقالأما إنه قد كذبك وسيعود فعرفت أنه سيعود لقول رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فرصدته فجاء يحثو من الطعام فقلت : لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال : دعني فإني محتاج وعلي عيال لا أعود فرحمته فخليت سبيله فأصبحت فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله شكا حاجة وعيالا فرحمته فخليت سبيله فقال إنه قد كذبك وسيعود فرصدته الثالثة فجاء يحثو من الطعام فأخذته فقلت : لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وهذا آخر ثلاث مرات أنك تزعم أنك لا تعود فقال : دعني فإني أعلمك كلمات ينفعك الله بها قلت : ما هن ؟ قال : إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي فإنه لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربك شيطان حتى تصبح فخليت سبيله فأصبحت فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله زعم أنه يعلمني كلمات ينفعني الله بها فخليت سبيله قالما هي ؟ قلت : قال لي : إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي من أولها حتى تختم الآية الله لا إله إلا هو الحي القيوم وقال لي : لا يزال عليك من الله حافظ ولن يقربك شيطان حتى تصبح فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم أما إنه قد صدقك وهو كذوب تعلم من تخاطب منذ ثلاث يا أبا هريرة ؟ قلت : لا قالذاك شيطانرواه البخاري

তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমযানের যাকাত (ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে পেশ করব।’ সে আবেদন করল, ‘আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।’ কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট হাযির হলাম।) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।” আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীঁক্ষায় থাকলাম। সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দরবারে পেশ করব।’ সে বলল, ‘আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না।’ সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “আবূ হুরাইরা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।” সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, “এবারে তোকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দরবারে হাযির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।” সে বলল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।’ আমি বললাম, ‘সেগুলি কী?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করে (ঘুমাবে)। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’ সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর কাছে গেলাম।) তিনি আমাকে বললেন, “তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।” বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কী?” আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে।” সে আমাকে আরো বলল, “তার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “সে শয়তান ছিল।” (বুখারী ২৩১১)

তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমযানের যাকাত (ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে পেশ করব।’ সে আবেদন করল, ‘আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।’ কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট হাযির হলাম।) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।” আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীঁক্ষায় থাকলাম। সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দরবারে পেশ করব।’ সে বলল, ‘আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না।’ সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “আবূ হুরাইরা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।” সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, “এবারে তোকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দরবারে হাযির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।” সে বলল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।’ আমি বললাম, ‘সেগুলি কী?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করে (ঘুমাবে)। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’ সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর কাছে গেলাম।) তিনি আমাকে বললেন, “তোমার বন্দী কী আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।” বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কী?” আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে।” সে আমাকে আরো বলল, “তার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “সে শয়তান ছিল।” (বুখারী ২৩১১)

وعن أبي هريرة قال : وكلني رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آت فجعل يحثو من الطعام، فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال : إني محتاج وعلي عيال وبي حاجة شديدة فخليت عنه فأصبحت فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله شكا حاجة وعيالا فرحمته فخليت سبيله فقالأما إنه قد كذبك وسيعود فعرفت أنه سيعود لقول رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فرصدته فجاء يحثو من الطعام فقلت : لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال : دعني فإني محتاج وعلي عيال لا أعود فرحمته فخليت سبيله فأصبحت فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله شكا حاجة وعيالا فرحمته فخليت سبيله فقال إنه قد كذبك وسيعود فرصدته الثالثة فجاء يحثو من الطعام فأخذته فقلت : لأرفعنك إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وهذا آخر ثلاث مرات أنك تزعم أنك لا تعود فقال : دعني فإني أعلمك كلمات ينفعك الله بها قلت : ما هن ؟ قال : إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي فإنه لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربك شيطان حتى تصبح فخليت سبيله فأصبحت فقال لي رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما فعل أسيرك البارحة ؟ قلت : يا رسول الله زعم أنه يعلمني كلمات ينفعني الله بها فخليت سبيله قالما هي ؟ قلت : قال لي : إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي من أولها حتى تختم الآية الله لا إله إلا هو الحي القيوم وقال لي : لا يزال عليك من الله حافظ ولن يقربك شيطان حتى تصبح فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم أما إنه قد صدقك وهو كذوب تعلم من تخاطب منذ ثلاث يا أبا هريرة ؟ قلت : لا قالذاك شيطانرواه البخاري


হাদিস সম্ভার ১৪৬৫

وعن ابن عباس رضي الله عنهما : بينما جبريل  قاعد عند النبي صلى اللٰه عليه وسلم سمع نقيضا من فوقه فرفع رأسه، فقال: هذا باب من السماء فتح اليوم ولم يفتح قط إلا اليوم فنزل منه ملك فقال: هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم فسلم وقال : أبشر بنورين أوتيتهما لم يؤتهما نبي قبلك: فاتحة الكتاب، وخواتيم سورة البقرة، لن تقرأ بحرف منها إلا أعطيته رواه مسلم

তিনি বলেন, একদা জিবরীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরীল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয়নি। ওদিক দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতীর্ণ হল। এই ফিরিশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে, ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি।’ সুতরাং তিনি এসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সালাম জানিয়ে বললেন, “আপনি দু’টি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। (সে দু’টি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ। ওর মধ্য হতে যে বর্ণটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।” (মুসলিম ১৯১৩)

তিনি বলেন, একদা জিবরীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরীল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয়নি। ওদিক দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতীর্ণ হল। এই ফিরিশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে, ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি।’ সুতরাং তিনি এসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সালাম জানিয়ে বললেন, “আপনি দু’টি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। (সে দু’টি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ। ওর মধ্য হতে যে বর্ণটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।” (মুসলিম ১৯১৩)

وعن ابن عباس رضي الله عنهما : بينما جبريل  قاعد عند النبي صلى اللٰه عليه وسلم سمع نقيضا من فوقه فرفع رأسه، فقال: هذا باب من السماء فتح اليوم ولم يفتح قط إلا اليوم فنزل منه ملك فقال: هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم فسلم وقال : أبشر بنورين أوتيتهما لم يؤتهما نبي قبلك: فاتحة الكتاب، وخواتيم سورة البقرة، لن تقرأ بحرف منها إلا أعطيته رواه مسلم


হাদিস সম্ভার > কুরআন পঠন-পাঠনের মাহাত্ম্য

হাদিস সম্ভার ১৪৬৬

وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عندهرواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর গ্রন্থ (কুরআন) পাঠ করে, তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে অধ্যয়ন করে, তাহলে তাদের প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে তাঁর রহমত ঢেকে নেয়, আর ফিরিশতাবর্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফিরিশতামন্ডলীর কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” (মুসলিম ৭০২৮, আবূ দাঊদ ১৪৫৭)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর গ্রন্থ (কুরআন) পাঠ করে, তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে অধ্যয়ন করে, তাহলে তাদের প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে তাঁর রহমত ঢেকে নেয়, আর ফিরিশতাবর্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফিরিশতামন্ডলীর কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” (মুসলিম ৭০২৮, আবূ দাঊদ ১৪৫৭)

وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عندهرواه مسلم


হাদিস সম্ভার ১৪৬৮

عن أبي عبد الرحمن قال حدثنا من كان يقرئنا من أصحاب النبي صلى اللٰه عليه وسلم أنهم كانوا يقترئون من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عشر آيات فلا يأخذون في العشر الأخرى حتى يعلموا ما في هذه من العلم والعمل قالوا فعلمنا العلم والعمل

‘আমাদেরকে আমাদের ওস্তাদগণ বর্ণনা করেছেন যে, যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাত্র ছিলেন তাঁরা দশটি আয়াত শিখলে ততক্ষণ পর্যন্ত আর আগে বাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দশ আয়াতের বর্ণিত ইল্ম ও আমল শিক্ষা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা ইল্ম ও আমল উভয়ই (একই সময়ে) শিক্ষা করেছি।’ (আহমাদ ২৩৪৮২)

‘আমাদেরকে আমাদের ওস্তাদগণ বর্ণনা করেছেন যে, যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাত্র ছিলেন তাঁরা দশটি আয়াত শিখলে ততক্ষণ পর্যন্ত আর আগে বাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দশ আয়াতের বর্ণিত ইল্ম ও আমল শিক্ষা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা ইল্ম ও আমল উভয়ই (একই সময়ে) শিক্ষা করেছি।’ (আহমাদ ২৩৪৮২)

عن أبي عبد الرحمن قال حدثنا من كان يقرئنا من أصحاب النبي صلى اللٰه عليه وسلم أنهم كانوا يقترئون من رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عشر آيات فلا يأخذون في العشر الأخرى حتى يعلموا ما في هذه من العلم والعمل قالوا فعلمنا العلم والعمل


হাদিস সম্ভার ১৪৬৯

قال (رجل) إنى لأقرأ المفصل فى ركعة فقال عبد الله هذا كهذ الشعر إن أقواما يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم ولكن إذا وقع فى القلب فرسخ فيه نفع

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কে এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এক রাকআতে মুফাস্স্বাল (সূরা ক্বাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত অংশ) পাঠ করি।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘কবিতা আওড়ানোর মত পড়? কিছু সম্প্রদায় আছে যারা কুরআন পড়ে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের নিচে নামে না। আসলে সেই কুরআন পাঠ কাজে দেবে, যা হৃদয়ে এসে গেঁথে যাবে এবং তা পাঠকারীকে উপকৃত করবে---।’ (বুখারী ৭৭৫, মুসলিম ১৯৪৫)

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কে এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এক রাকআতে মুফাস্স্বাল (সূরা ক্বাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত অংশ) পাঠ করি।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘কবিতা আওড়ানোর মত পড়? কিছু সম্প্রদায় আছে যারা কুরআন পড়ে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের নিচে নামে না। আসলে সেই কুরআন পাঠ কাজে দেবে, যা হৃদয়ে এসে গেঁথে যাবে এবং তা পাঠকারীকে উপকৃত করবে---।’ (বুখারী ৭৭৫, মুসলিম ১৯৪৫)

قال (رجل) إنى لأقرأ المفصل فى ركعة فقال عبد الله هذا كهذ الشعر إن أقواما يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم ولكن إذا وقع فى القلب فرسخ فيه نفع


হাদিস সম্ভার ১৪৭০

وعن عبد الله ابن عمرو قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يفقه من قرأ القرآن فى أقل من ثلاث

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে ব্যক্তি কুরআন বুঝে না, যে তিন দিনের কম সময়ে তা খতম করে।” (আবূ দাঊদ ১৩৯৬, তিরমিযী ২৯৪৯, ইবনে মাজাহ প্রমুখ, সহীহুল জামে’ ৭৭৪৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে ব্যক্তি কুরআন বুঝে না, যে তিন দিনের কম সময়ে তা খতম করে।” (আবূ দাঊদ ১৩৯৬, তিরমিযী ২৯৪৯, ইবনে মাজাহ প্রমুখ, সহীহুল জামে’ ৭৭৪৩)

وعن عبد الله ابن عمرو قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يفقه من قرأ القرآن فى أقل من ثلاث


হাদিস সম্ভার ১৪৬৭

عن عقبة بن عامر قال خرج رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ونحن فى الصفة فقال أيكم يحب أن يغدو كل يوم إلى بطحان أو إلى العقيق فيأتى منه بناقتين كوماوين فى غير إثم ولا قطع رحم فقلنا يا رسول الله نحب ذلك قال أفلا يغدو أحدكم إلى المسجد فيعلم أو يقرأ آيتين من كتاب الله عز وجل خير له من ناقتين وثلاث خير له من ثلاث وأربع خير له من أربع ومن أعدادهن من الإبل

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্ফাহ (মসজিদে নববীর এক বিষেশ মন্ডপ; যাতে দরিদ্র মুহাজিরগণ অবস্থান করতেন সেই স্থানে) ছিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গৃহ হতে বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, প্রত্যহ বুত্বহান (মদীনার নিকটবর্তী একটি জায়গা) অথবা আক্বীক্ব (মদীনার এক উপত্যকা) গিয়ে দুটি করে বড় বড় কুঁজবিশিষ্ট উট্নী নিয়ে আসবে; যাতে কোন পাপ ও নাহক কারো অধিকার হরণও হবে না?” আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এতো আমাদের প্রত্যেকেই পছন্দ করে।’ তিনি বললেন, “তাহলে সে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিক্ষা অথবা (বুঝে) মুখস্থ করে না কেন? এটাই দুটি উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ! অনুরূপ ৩টি আয়াত ৩টি উষ্ট্রী, ৪টি আয়াত ৪টি উষ্ট্রী এবং এর চেয়ে অধিক সংখ্যক আয়াত ঐরূপ অধিক সংখ্যক উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ!” (মুসলিম ৮০৩)

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্ফাহ (মসজিদে নববীর এক বিষেশ মন্ডপ; যাতে দরিদ্র মুহাজিরগণ অবস্থান করতেন সেই স্থানে) ছিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গৃহ হতে বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, প্রত্যহ বুত্বহান (মদীনার নিকটবর্তী একটি জায়গা) অথবা আক্বীক্ব (মদীনার এক উপত্যকা) গিয়ে দুটি করে বড় বড় কুঁজবিশিষ্ট উট্নী নিয়ে আসবে; যাতে কোন পাপ ও নাহক কারো অধিকার হরণও হবে না?” আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এতো আমাদের প্রত্যেকেই পছন্দ করে।’ তিনি বললেন, “তাহলে সে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিক্ষা অথবা (বুঝে) মুখস্থ করে না কেন? এটাই দুটি উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ! অনুরূপ ৩টি আয়াত ৩টি উষ্ট্রী, ৪টি আয়াত ৪টি উষ্ট্রী এবং এর চেয়ে অধিক সংখ্যক আয়াত ঐরূপ অধিক সংখ্যক উষ্ট্রী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ!” (মুসলিম ৮০৩)

عن عقبة بن عامر قال خرج رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ونحن فى الصفة فقال أيكم يحب أن يغدو كل يوم إلى بطحان أو إلى العقيق فيأتى منه بناقتين كوماوين فى غير إثم ولا قطع رحم فقلنا يا رسول الله نحب ذلك قال أفلا يغدو أحدكم إلى المسجد فيعلم أو يقرأ آيتين من كتاب الله عز وجل خير له من ناقتين وثلاث خير له من ثلاث وأربع خير له من أربع ومن أعدادهن من الإبل


হাদিস সম্ভার ১৪৭২

আমি সা’দ বিন আবী অক্কাসের জন্য মুসহাফ ধারণ করতাম। একদা আমি চুলকালাম। তা দেখে সাদ বললেন, সম্ভবতঃ তুমি তোমার প্রস্রাব-দ্বার স্পর্শ করলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি ওঠো এবং ওযূ করে এসো। অতঃপর আমি উঠে ওযূ করে এলাম। (মুআত্ত্বা, বাইহাক্বী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৬১)

আমি সা’দ বিন আবী অক্কাসের জন্য মুসহাফ ধারণ করতাম। একদা আমি চুলকালাম। তা দেখে সাদ বললেন, সম্ভবতঃ তুমি তোমার প্রস্রাব-দ্বার স্পর্শ করলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি ওঠো এবং ওযূ করে এসো। অতঃপর আমি উঠে ওযূ করে এলাম। (মুআত্ত্বা, বাইহাক্বী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৬১)


হাদিস সম্ভার ১৪৭১

وعن عمرو بن حزم قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يمس القرآن إلا طاهر

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আর পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে।” (মালিক ৪৬৮, ইরওয়াউল গালীল ১২২)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আর পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে।” (মালিক ৪৬৮, ইরওয়াউল গালীল ১২২)

وعن عمرو بن حزم قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يمس القرآن إلا طاهر


হাদিস সম্ভার ১৪৭৩

একদা উমার (রাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট এলেন; তখন তারা কুরআন পড়ছিল। সেখান থেকে তিনি (পেশাব অথবা পায়খানার) প্রয়োজনে গেলেন এবং কুরআন পড়তে পড়তে ফিরে এলেন। তা দেখে এক ব্যক্তি তাঁর উদ্দেশ্যে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! ওযূ না করেই আপনি কুরআন পাঠ করছেন?’ তার এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমাকে এ ফতোয়া কে দিয়েছে (যে, বিনা ওযূতে কুরআন পড়া যাবে না)? (ঝুটা নবী) মুসাইলিমাহ নাকি?’ (মুআত্ত্বা ৪৬৯)

একদা উমার (রাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট এলেন; তখন তারা কুরআন পড়ছিল। সেখান থেকে তিনি (পেশাব অথবা পায়খানার) প্রয়োজনে গেলেন এবং কুরআন পড়তে পড়তে ফিরে এলেন। তা দেখে এক ব্যক্তি তাঁর উদ্দেশ্যে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! ওযূ না করেই আপনি কুরআন পাঠ করছেন?’ তার এ কথা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমাকে এ ফতোয়া কে দিয়েছে (যে, বিনা ওযূতে কুরআন পড়া যাবে না)? (ঝুটা নবী) মুসাইলিমাহ নাকি?’ (মুআত্ত্বা ৪৬৯)


হাদিস সম্ভার ১৪৭৪

عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه عن عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تجادلوا بالقرآن ولا تكذبوا كتاب الله بعضه ببعض فوالله إن المؤمن ليجادل بالقرآن فيغلب وإن المنافق ليجادل بالقرآن فيغلب

তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা নুফাইর থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করো না এবং আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ দ্বারা কিছু অংশকে মিথ্যাজ্ঞান করো না। আল্লাহর কসম! মুমিন কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে পরাজিত হবে এবং মুনাফিক কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে বিজয়ী হবে।” (ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৪৪৭)

তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা নুফাইর থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করো না এবং আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ দ্বারা কিছু অংশকে মিথ্যাজ্ঞান করো না। আল্লাহর কসম! মুমিন কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে পরাজিত হবে এবং মুনাফিক কুরআন নিয়ে বিতর্ক করলে বিজয়ী হবে।” (ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৪৪৭)

عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه عن عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تجادلوا بالقرآن ولا تكذبوا كتاب الله بعضه ببعض فوالله إن المؤمن ليجادل بالقرآن فيغلب وإن المنافق ليجادل بالقرآن فيغلب


হাদিস সম্ভার ১৪৭৫

একদা আমাকে উমার (রাঃ) বললেন, هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْأِسْلَامَ قُلْتُ لَا قَالَ يَهْدِمُهُ زِلَّةُ الْعَالِمِ وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكَمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّيْنَ ‘তুমি জান কি, ইসলামকে কিসে ধ্বংস করবে?’ আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘ইসলামকে ধ্বংস করবে আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং ভ্রষ্টকারী শাসকদের রাষ্ট্রশাসন।’ (দারেমী ২১৪)

একদা আমাকে উমার (রাঃ) বললেন, هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْأِسْلَامَ قُلْتُ لَا قَالَ يَهْدِمُهُ زِلَّةُ الْعَالِمِ وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكَمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّيْنَ ‘তুমি জান কি, ইসলামকে কিসে ধ্বংস করবে?’ আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বললেন, ‘ইসলামকে ধ্বংস করবে আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং ভ্রষ্টকারী শাসকদের রাষ্ট্রশাসন।’ (দারেমী ২১৪)


হাদিস সম্ভার ১৪৭৬

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا القرآن وسلوا الله به الجنة قبل أن يتعلمه قوم يسألون به الدنيا فإن القرآن يتعلمه ثلاثة : رجل يباهي به ورجل يستأكل به ورجل يقرأه لله عز وجل

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার অসীলায় জান্নাত প্রার্থনা কর, সেই জাতি আসার পূর্বে, যারা তার অসীলায় দুনিয়া প্রার্থনা করবে। কুরআন তিন শ্রেণীর লোক শিক্ষা করবে; কিছু লোক তা নিয়ে ফখর করে বেড়াবে, কিছু লোক তার মাধ্যমে পেট চালাবে এবং কিছু লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা তেলাঅত করবে।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৫৮)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার অসীলায় জান্নাত প্রার্থনা কর, সেই জাতি আসার পূর্বে, যারা তার অসীলায় দুনিয়া প্রার্থনা করবে। কুরআন তিন শ্রেণীর লোক শিক্ষা করবে; কিছু লোক তা নিয়ে ফখর করে বেড়াবে, কিছু লোক তার মাধ্যমে পেট চালাবে এবং কিছু লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা তেলাঅত করবে।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৫৮)

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تعلموا القرآن وسلوا الله به الجنة قبل أن يتعلمه قوم يسألون به الدنيا فإن القرآن يتعلمه ثلاثة : رجل يباهي به ورجل يستأكل به ورجل يقرأه لله عز وجل


হাদিস সম্ভার ১৪৭৭

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلميخلف قوم من بعد ستين سنة (أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا) ثم يكون خلف يقرءون القرآن لا يعدو تراقيهم ويقرأ القرآن ثلاثة مؤمن ومنافق وفاجر قال بشير : فقلت للوليد ما هؤلاء الثلاثة فقال المنافق كافر به والفاجر يتأكل به والمؤمن يؤمن به

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে (সূরা মারইয়্যামের ৫৯ আয়াত পাঠ করার পর) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ষাট বছর পর কিছু অপদার্থ পরবর্তীগণ আসবে, তারা নামায নষ্ট করবে ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হবে; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর এক জাতি আসবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের অক্ষকাস্থি পার হবে না। (হৃদয়ে জায়গা পাবে না।) কুরআন তিন ব্যক্তি পাঠ করে; মু’মিন, মুনাফিক ও ফাজের।” বর্ণনাকারী বাশীর বলেন, আমি অলীদকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা তিন ব্যক্তি কে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুনাফিক তা অস্বীকার করে, ফাজের তার অসীলায় পেট চালায় এবং মু’মিন তার প্রতি ঈমান রাখে।’ (আহমাদ ১১৩৬০, হাকেম ৩৪১৬, ৮৬৪৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/২৫৭)

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে (সূরা মারইয়্যামের ৫৯ আয়াত পাঠ করার পর) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ষাট বছর পর কিছু অপদার্থ পরবর্তীগণ আসবে, তারা নামায নষ্ট করবে ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হবে; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর এক জাতি আসবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠের অক্ষকাস্থি পার হবে না। (হৃদয়ে জায়গা পাবে না।) কুরআন তিন ব্যক্তি পাঠ করে; মু’মিন, মুনাফিক ও ফাজের।” বর্ণনাকারী বাশীর বলেন, আমি অলীদকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা তিন ব্যক্তি কে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুনাফিক তা অস্বীকার করে, ফাজের তার অসীলায় পেট চালায় এবং মু’মিন তার প্রতি ঈমান রাখে।’ (আহমাদ ১১৩৬০, হাকেম ৩৪১৬, ৮৬৪৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/২৫৭)

وعن أبي سعيد الخدري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلميخلف قوم من بعد ستين سنة (أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا) ثم يكون خلف يقرءون القرآن لا يعدو تراقيهم ويقرأ القرآن ثلاثة مؤمن ومنافق وفاجر قال بشير : فقلت للوليد ما هؤلاء الثلاثة فقال المنافق كافر به والفاجر يتأكل به والمؤمن يؤمن به


হাদিস সম্ভার ১৪৭৮

عن جابر رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمان من أولها إلى آخرها فسكتوا فقال لقد قرأتها على الجن ليلة الجن فكانوا أحسن مردودا منكم كنت كلما أتيت على قوله : (فبأي آلاء ربكما تكذبان) قالوا : لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিকট বের হয়ে সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, “যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম, (অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল, অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! (তিরমিযী ৩২৯১, সিঃ সহীহাহ ২১৫০)

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিকট বের হয়ে সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, “যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম, (অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল, অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! (তিরমিযী ৩২৯১, সিঃ সহীহাহ ২১৫০)

عن جابر رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمان من أولها إلى آخرها فسكتوا فقال لقد قرأتها على الجن ليلة الجن فكانوا أحسن مردودا منكم كنت كلما أتيت على قوله : (فبأي آلاء ربكما تكذبان) قالوا : لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد


হাদিস সম্ভার ১৪৭৯

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إذا قرأ ابن آدم السجدة فسجد اعتزل الشيطان يبكى يقول يا ويله أو يا ويلى أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة وأمرت بالسجود فأبيت فلى النار

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!” (মুসলিম ২৫৪)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আদম-সন্তান যখন সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান সরে গিয়ে কাঁদে ও বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! আদম-সন্তান সিজদা করতে আদিষ্ট হয়ে সিজদা করেছে, ফলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েও তা করতে অস্বীকার করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম!” (মুসলিম ২৫৪)

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إذا قرأ ابن آدم السجدة فسجد اعتزل الشيطان يبكى يقول يا ويله أو يا ويلى أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة وأمرت بالسجود فأبيت فلى النار


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00