হাদিস সম্ভার > সমবেদনা প্রকাশ
হাদিস সম্ভার ১৩৬৬
عن عمرو بن حزم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه الله عز وجل من حلل الكرامة يوم القيامة
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোনও মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিপদে (সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করার সাথে) তাকে সান্তনা দান করবে, আল্লাহ সুবহানাহ তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের লেবাস পরিধান করাবেন।” (ইবনে মাজাহ ১৬০১, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০১)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোনও মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিপদে (সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করার সাথে) তাকে সান্তনা দান করবে, আল্লাহ সুবহানাহ তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের লেবাস পরিধান করাবেন।” (ইবনে মাজাহ ১৬০১, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০১)
عن عمرو بن حزم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه الله عز وجل من حلل الكرامة يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৬৮
عن عبد الله بن جعفر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اصنعوا لآل جعفر طعاما فإنه قد أتاهم أمر شغلهم
জা’ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর যখন তাঁর সে খবর পৌঁছল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “জা’ফরের পরিজনের জন্য তোমরা খানা প্রস্তুত কর। কারণ, ওদের নিকট এমন খবর পৌঁছেছে; যা ওদেরকে বিভোর করে রাখবে।” (আবূ দাঊদ ৩১৩৪, তিরমিযী ৯৯৮, ইবনে মাজাহ ১৬১০ প্রমুখ, সহীহ আবূ দাউদ ১৫৮৬)
জা’ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর যখন তাঁর সে খবর পৌঁছল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “জা’ফরের পরিজনের জন্য তোমরা খানা প্রস্তুত কর। কারণ, ওদের নিকট এমন খবর পৌঁছেছে; যা ওদেরকে বিভোর করে রাখবে।” (আবূ দাঊদ ৩১৩৪, তিরমিযী ৯৯৮, ইবনে মাজাহ ১৬১০ প্রমুখ, সহীহ আবূ দাউদ ১৫৮৬)
عن عبد الله بن جعفر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اصنعوا لآل جعفر طعاما فإنه قد أتاهم أمر شغلهم
হাদিস সম্ভার ১৩৭০
وعن أسامة بن زيد قال: أرسلت بنت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إن ابني قد احتضر فاشهدنا فأرسل يقرئ السلام ويقولإن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل شيء عنده بأجل مسمى فلتصبر ولتحتسب
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কন্যা তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, ‘আমার ছেলের মর মর অবস্থা, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন।’ তিনি সালাম দিয়ে সংবাদ পাঠালেন যে, “আল্লাহ তাআলা যা নিয়েছেন, তা তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতএব সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে। (আহমাদ ৫/ ২০৪, ২০৬, ২০৭, বুখারী ১২৮৪, ৭৩৭৭, মুসলিম ২১৭৪)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কন্যা তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, ‘আমার ছেলের মর মর অবস্থা, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন।’ তিনি সালাম দিয়ে সংবাদ পাঠালেন যে, “আল্লাহ তাআলা যা নিয়েছেন, তা তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতএব সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে। (আহমাদ ৫/ ২০৪, ২০৬, ২০৭, বুখারী ১২৮৪, ৭৩৭৭, মুসলিম ২১৭৪)
وعن أسامة بن زيد قال: أرسلت بنت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إن ابني قد احتضر فاشهدنا فأرسل يقرئ السلام ويقولإن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل شيء عنده بأجل مسمى فلتصبر ولتحتسب
হাদিস সম্ভার ১৩৬৯
عن أنس رضي الله عنه قال : قال رسول الله : من عزى أخاه المؤمن من مصيبة كساه الله حلة خضراء يحبر بها يوم القيامة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মসীবতের সময় তার মুসলিম ভাইকে সাক্ষাৎ ক’রে সমবেদনা প্রকাশ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সবুজ রঙের লেবাস পড়াবেন; যা অন্যান্য লোকে দেখে ঈর্ষা করবে।” (তারীখে বাগদাদ, খতীব, ৭/৩৯৭, তারীখে দিমাশ্ক, ইবনে আসাকির ১৫/৯১/১, ইবনে আবী শাইবাহ ৪/১৬৪, ইরওয়াউল গালীল ৭৫)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মসীবতের সময় তার মুসলিম ভাইকে সাক্ষাৎ ক’রে সমবেদনা প্রকাশ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সবুজ রঙের লেবাস পড়াবেন; যা অন্যান্য লোকে দেখে ঈর্ষা করবে।” (তারীখে বাগদাদ, খতীব, ৭/৩৯৭, তারীখে দিমাশ্ক, ইবনে আসাকির ১৫/৯১/১, ইবনে আবী শাইবাহ ৪/১৬৪, ইরওয়াউল গালীল ৭৫)
عن أنس رضي الله عنه قال : قال رسول الله : من عزى أخاه المؤمن من مصيبة كساه الله حلة خضراء يحبر بها يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৭১
عن جرير بن عبد الله البجلي قال: كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة
‘দাফনের পর মরা বাড়িতে খানা ও ভোজের আয়োজনকে এবং লোকদের জমায়েতকে আমরা জাহেলিয়াতের মাতম হিসাবে গণ্য করতাম। (যা ইসলামে হারাম।) (আহমাদ ৬৯০৫, ইবনে মাজাহ ১৬১২, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০৮)
‘দাফনের পর মরা বাড়িতে খানা ও ভোজের আয়োজনকে এবং লোকদের জমায়েতকে আমরা জাহেলিয়াতের মাতম হিসাবে গণ্য করতাম। (যা ইসলামে হারাম।) (আহমাদ ৬৯০৫, ইবনে মাজাহ ১৬১২, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০৮)
عن جرير بن عبد الله البجلي قال: كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة
হাদিস সম্ভার ১৩৬৭
عن أم سلمة أنها قالت سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم أجرنى فى مصيبتى وأخلف لى خيرا منها إلا أخلف الله له خيرا منها قالت فلما مات أبو سلمة قلت أى المسلمين خير من أبى سلمة أول بيت هاجر إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ثم إنى قلتها فأخلف الله لى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالت أرسل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حاطب بن أبى بلتعة يخطبنى له فقلت إن لى بنتا وأنا غيور فقال أما ابنتها فندعو الله أن يغنيها عنها وأدعو الله أن يذهب بالغيرة
আমি শুনেছি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, কোনও মুসলিমের উপর যখন কোন বিপদ আসে এবং সে যদি আল্লাহর আদেশমত ‘ইন্না লিল্লা-হি-----খাইরাম মিনহা’ বলে তাহলে আল্লাহ তার ঐ বিপদ অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন।” উম্মে সালামাহ বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবু সালামাহ মারা গেলেন তখন আমি বললাম, ‘মুসলিমদের মধ্যে আর কে এমন ব্যক্তি আছে যে (আমার নিকট) আবু সালামার চেয়ে ভালো হবে? যার পরিবার ছিল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি প্রথম হিজরতকারী পরিবার।’ আমি (মনে মনে) এরূপ বারবার বলতাম। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বিনিময় স্বরূপ আমাকে দান করলেন। তিনি হাত্বেব বিন আবী বালতাআহকে আমার নিকট বিবাহের পয়গাম দিয়ে পাঠালেন। আমি বললাম, ‘আমার একটি মেয়ে আছে, আর আমি বড় (সপত্নীর বিষয়ে) ঈর্ষাবতী।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমরা তার মেয়ের জন্য দু‘আ করব, যাতে আল্লাহ তার নিকট থেকে মায়ের প্রয়োজন দূর করে দেন এবং আরো দু‘আ করব যাতে তার (উম্মে সালামার) ঈর্ষা দূরীভূত হয়ে যায়।” (আহমাদ ১৬৩৪৪, ২৬৬৩৫, মুসলিম ২১৬৫-২১৬৬, বাইহাক্বী ৭৩৭৬)
আমি শুনেছি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, কোনও মুসলিমের উপর যখন কোন বিপদ আসে এবং সে যদি আল্লাহর আদেশমত ‘ইন্না লিল্লা-হি-----খাইরাম মিনহা’ বলে তাহলে আল্লাহ তার ঐ বিপদ অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন।” উম্মে সালামাহ বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবু সালামাহ মারা গেলেন তখন আমি বললাম, ‘মুসলিমদের মধ্যে আর কে এমন ব্যক্তি আছে যে (আমার নিকট) আবু সালামার চেয়ে ভালো হবে? যার পরিবার ছিল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি প্রথম হিজরতকারী পরিবার।’ আমি (মনে মনে) এরূপ বারবার বলতাম। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বিনিময় স্বরূপ আমাকে দান করলেন। তিনি হাত্বেব বিন আবী বালতাআহকে আমার নিকট বিবাহের পয়গাম দিয়ে পাঠালেন। আমি বললাম, ‘আমার একটি মেয়ে আছে, আর আমি বড় (সপত্নীর বিষয়ে) ঈর্ষাবতী।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমরা তার মেয়ের জন্য দু‘আ করব, যাতে আল্লাহ তার নিকট থেকে মায়ের প্রয়োজন দূর করে দেন এবং আরো দু‘আ করব যাতে তার (উম্মে সালামার) ঈর্ষা দূরীভূত হয়ে যায়।” (আহমাদ ১৬৩৪৪, ২৬৬৩৫, মুসলিম ২১৬৫-২১৬৬, বাইহাক্বী ৭৩৭৬)
عن أم سلمة أنها قالت سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم أجرنى فى مصيبتى وأخلف لى خيرا منها إلا أخلف الله له خيرا منها قالت فلما مات أبو سلمة قلت أى المسلمين خير من أبى سلمة أول بيت هاجر إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ثم إنى قلتها فأخلف الله لى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالت أرسل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حاطب بن أبى بلتعة يخطبنى له فقلت إن لى بنتا وأنا غيور فقال أما ابنتها فندعو الله أن يغنيها عنها وأدعو الله أن يذهب بالغيرة
হাদিস সম্ভার > মৃত ব্যক্তির জন্য মানুষের প্রশংসার মাহাত্ম্য
হাদিস সম্ভার ১৩৭২
عن أنس قال : مروا بجنازة فأثنوا عليها خيرا فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم وجبت ثم مروا بأخرى فأثنوا عليها شرا فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم وجبت فقال عمر بن الخطاب ما وجبت ؟ فقال هذا أثنيتم عليه خيرا فوجبت له الجنة وهذا أثنيتم عليه شرا فوجبت له النار أنتم شهداء الله في الأرض متفق عليه
কিছু লোক একটা জানাযা নিয়ে পার হয়ে গেল। লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবধারিত হয়ে গেল।” অতঃপর দ্বিতীয় আর একটি জানাযা নিয়ে পার হলে লোকেরা তার দুর্নাম করতে লাগল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবধারিত হয়ে গেল।” উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “তোমরা যে এর প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত, আর ওর দুর্নাম করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল। তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।” (বুখারী ১৩৬৭, ২৬৪২, মুসলিম ২২৪৩)
কিছু লোক একটা জানাযা নিয়ে পার হয়ে গেল। লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবধারিত হয়ে গেল।” অতঃপর দ্বিতীয় আর একটি জানাযা নিয়ে পার হলে লোকেরা তার দুর্নাম করতে লাগল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অবধারিত হয়ে গেল।” উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “তোমরা যে এর প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত, আর ওর দুর্নাম করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল। তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।” (বুখারী ১৩৬৭, ২৬৪২, মুসলিম ২২৪৩)
عن أنس قال : مروا بجنازة فأثنوا عليها خيرا فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم وجبت ثم مروا بأخرى فأثنوا عليها شرا فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم وجبت فقال عمر بن الخطاب ما وجبت ؟ فقال هذا أثنيتم عليه خيرا فوجبت له الجنة وهذا أثنيتم عليه شرا فوجبت له النار أنتم شهداء الله في الأرض متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৭৪
عن أبى قتادة بن ربعى أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم مر عليه بجنازة فقال مستريح ومستراح منه قالوا يا رسول الله ما المستريح والمستراح منه؟ فقال العبد المؤمن يستريح من نصب الدنيا، والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তিনি বললেন, “সে নিজে শান্তি পেল অথবা অন্যরা তার থেকে শান্তি লাভ করল।” লোকেরা প্রশ্ন করল যে, হে আল্লাহর রাসূল! “সে নিজে শান্তি পেল অথবা অন্যরা তার থেকে শান্তি লাভ করল”---এ কথার অর্থ কী? তিনি উত্তরে বললেন, “মু’মিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ থেকে মুক্তি লাভ ক’রে শান্তি লাভ করল। আর পাপাচারী বান্দার ক্ষতিকর আচার-আচরণ থেকে সকল লোক, দেশ, গাছ-পালা এবং জীব-জন্তুপর্যন্ত (অর্থাৎ, গোটা সৃষ্টিজগৎ) শান্তি লাভ করল।” (আহমাদ ২২৫৩৬, বুখারী ৬৫১২, মুসলিম ২২৪৫)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তিনি বললেন, “সে নিজে শান্তি পেল অথবা অন্যরা তার থেকে শান্তি লাভ করল।” লোকেরা প্রশ্ন করল যে, হে আল্লাহর রাসূল! “সে নিজে শান্তি পেল অথবা অন্যরা তার থেকে শান্তি লাভ করল”---এ কথার অর্থ কী? তিনি উত্তরে বললেন, “মু’মিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ থেকে মুক্তি লাভ ক’রে শান্তি লাভ করল। আর পাপাচারী বান্দার ক্ষতিকর আচার-আচরণ থেকে সকল লোক, দেশ, গাছ-পালা এবং জীব-জন্তুপর্যন্ত (অর্থাৎ, গোটা সৃষ্টিজগৎ) শান্তি লাভ করল।” (আহমাদ ২২৫৩৬, বুখারী ৬৫১২, মুসলিম ২২৪৫)
عن أبى قتادة بن ربعى أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم مر عليه بجنازة فقال مستريح ومستراح منه قالوا يا رسول الله ما المستريح والمستراح منه؟ فقال العبد المؤمن يستريح من نصب الدنيا، والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب
হাদিস সম্ভার ১৩৭৩
وعن أبي الأسود قال : قدمت المدينة فجلست إلى عمر بن الخطاب فمرت بهم جنازة، فأثني على صاحبها خيرا فقال عمر : وجبت ثم مر بأخرى فأثني على صاحبها خيرا فقال عمر : وجبت ثم مر بالثالثة فأثني على صاحبها شرا فقال عمر : وجبت قال أبو الأسود: فقلت : وما وجبت يا أمير المؤمنين ؟ قال : قلت كما قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم أيما مسلم شهد له أربعة بخير أدخله الله الجنة فقلنا : وثلاثة ؟ قالوثلاثة فقلنا : واثنان ؟ قالواثنان ثم لم نسأله عن الواحد رواه البخاري
আমি মদীনায় এসে উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) এর নিকট বসলাম। অতঃপর তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তার প্রশংসা করা হল। উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব (অনিবার্য) হয়ে গেল।’ অতঃপর আর একটা জানাযা পার হলে তারও প্রশংসা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’ অতঃপর তৃতীয় একটা জানাযা পার হলে তার নিন্দা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’ আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, ‘কী ওয়াজেব হয়ে গেল? হে আমীরুল মু’মিনীন!’ তিনি বললেন, ‘আমি বললাম, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, “যে মুসলমানের নেক হওয়ার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” আমরা বললাম, ‘আর তিনজন?’ তিনি বললেন, “তিনজন হলেও।” আমরা বললাম, ‘আর দু’জন?’ তিনি বললেন, “দু’জন হলেও।” অতঃপর আমরা এক জনের (সাক্ষ্য) সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করলাম না। (বুখারী ১৩৬৮, ২৬৪৩)
আমি মদীনায় এসে উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) এর নিকট বসলাম। অতঃপর তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তার প্রশংসা করা হল। উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব (অনিবার্য) হয়ে গেল।’ অতঃপর আর একটা জানাযা পার হলে তারও প্রশংসা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’ অতঃপর তৃতীয় একটা জানাযা পার হলে তার নিন্দা করা হলে উমার (রাঃ) বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’ আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, ‘কী ওয়াজেব হয়ে গেল? হে আমীরুল মু’মিনীন!’ তিনি বললেন, ‘আমি বললাম, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, “যে মুসলমানের নেক হওয়ার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” আমরা বললাম, ‘আর তিনজন?’ তিনি বললেন, “তিনজন হলেও।” আমরা বললাম, ‘আর দু’জন?’ তিনি বললেন, “দু’জন হলেও।” অতঃপর আমরা এক জনের (সাক্ষ্য) সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করলাম না। (বুখারী ১৩৬৮, ২৬৪৩)
وعن أبي الأسود قال : قدمت المدينة فجلست إلى عمر بن الخطاب فمرت بهم جنازة، فأثني على صاحبها خيرا فقال عمر : وجبت ثم مر بأخرى فأثني على صاحبها خيرا فقال عمر : وجبت ثم مر بالثالثة فأثني على صاحبها شرا فقال عمر : وجبت قال أبو الأسود: فقلت : وما وجبت يا أمير المؤمنين ؟ قال : قلت كما قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم أيما مسلم شهد له أربعة بخير أدخله الله الجنة فقلنا : وثلاثة ؟ قالوثلاثة فقلنا : واثنان ؟ قالواثنان ثم لم نسأله عن الواحد رواه البخاري
হাদিস সম্ভার > যার নাবালক সন্তান মারা যায়, তার ফযীলত
হাদিস সম্ভার ১৩৭৫
وعن أنس قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من مسلم يموت له ثلاثة لم يبلغوا الحنث إلا أدخله الله الجنة بفضل رحمته إياهم متفق عليه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলমানের তিনটি নাবালক সন্তান মারা যাবে, তাকে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বর্কতে জান্নাত দেবেন।” (বুখারী ১২৪৮, ১৩৮১, মুসলিম ?)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলমানের তিনটি নাবালক সন্তান মারা যাবে, তাকে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বর্কতে জান্নাত দেবেন।” (বুখারী ১২৪৮, ১৩৮১, মুসলিম ?)
وعن أنس قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ما من مسلم يموت له ثلاثة لم يبلغوا الحنث إلا أدخله الله الجنة بفضل رحمته إياهم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৭৬
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يموت لأحد من المسلمين ثلاثة من الولد لا تمسه النار إلا تحلة القسم متفق عليه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলমানের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর পার করাবেন)।” (বুখারী ১২৫১, ৬৬৫৬, মুসলিম ৬৮৬৫) আল্লাহর কসম পুরা করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا অর্থাৎ, তোমাদের প্রত্যেকেই তাতে প্রবেশ করবে; এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত। (সূরা মারয়্যাম ৭১) আর মু’মিনদের প্রত্যেকের জাহান্নামে প্রবেশ করার অর্থ জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত পার হওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। (আমীন)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন মুসলমানের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর পার করাবেন)।” (বুখারী ১২৫১, ৬৬৫৬, মুসলিম ৬৮৬৫) আল্লাহর কসম পুরা করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا অর্থাৎ, তোমাদের প্রত্যেকেই তাতে প্রবেশ করবে; এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত। (সূরা মারয়্যাম ৭১) আর মু’মিনদের প্রত্যেকের জাহান্নামে প্রবেশ করার অর্থ জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত পার হওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। (আমীন)
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يموت لأحد من المسلمين ثلاثة من الولد لا تمسه النار إلا تحلة القسم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৭৯
وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال يقول الله تعالى : ما لعبدي المؤمن عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه إلا الجنةرواه البخاري
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার মু’মিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি তার দুনিয়ার প্রিয়তম কাউকে কেড়ে নিই এবং সে সওয়াবের নিয়্যাতে সবর করে।” (বুখারী ৬৪২৪)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার মু’মিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি তার দুনিয়ার প্রিয়তম কাউকে কেড়ে নিই এবং সে সওয়াবের নিয়্যাতে সবর করে।” (বুখারী ৬৪২৪)
وعن أبي هريرة أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال يقول الله تعالى : ما لعبدي المؤمن عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه إلا الجنةرواه البخاري
হাদিস সম্ভার ১৩৮০
عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم والذي نفسي بيده إن السقط ليجر أمه بسرره إلى الجنة إذا احتسبته
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! গর্ভচ্যুত (মৃত) শিশু তার নাভির নাড়ী ধরে নিজের মাতাকে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে- যদি ঐ মা (তার গর্ভপাত হওয়ার সময়) ঐ সওয়াবের আশা রাখে তবে।” (আহমাদ ২২০৯০, ইবনে মাজাহ ১৬০৯, ত্বাবারানী ১৬৭২১)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! গর্ভচ্যুত (মৃত) শিশু তার নাভির নাড়ী ধরে নিজের মাতাকে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে- যদি ঐ মা (তার গর্ভপাত হওয়ার সময়) ঐ সওয়াবের আশা রাখে তবে।” (আহমাদ ২২০৯০, ইবনে মাজাহ ১৬০৯, ত্বাবারানী ১৬৭২১)
عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم والذي نفسي بيده إن السقط ليجر أمه بسرره إلى الجنة إذا احتسبته
হাদিস সম্ভার ১৩৭৮
وعن أبي موسى الأشعري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملائكته: قبضتم ولد عبدي ؟ فيقولون : نعم فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده ؟ فيقولون: نعم فيقول: ماذا قال عبدي ؟ فيقولون:حمدك واسترجع فيقول الله تعالى: ابنوا لعبدي بيتا في الجنة، وسموه بيت الحمد رواه الترمذي، وقال حديث حسن
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন মহান আল্লাহ স্বীয় ফিরিশতাদেরকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জীবন হনন করেছ কি?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে হনন করেছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ‘সে সময় আমার বান্দা কী বলেছে?’ তারা বলে, ‘সে আপনার হাম্দ (প্রশংসা) করেছে ও ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন (অর্থাৎ, আমরা তোমার এবং তোমার কাছেই অবশ্যই ফিরে যাব) পাঠ করেছে।’ মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার (সন্তানহারা) বান্দার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ কর, আর তার নাম রাখ, ‘বায়তুল হাম্দ’ (প্রশংসাভবন)।” (তিরমিযী ১০২১)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন মহান আল্লাহ স্বীয় ফিরিশতাদেরকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জীবন হনন করেছ কি?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে হনন করেছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বলেন, ‘সে সময় আমার বান্দা কী বলেছে?’ তারা বলে, ‘সে আপনার হাম্দ (প্রশংসা) করেছে ও ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন (অর্থাৎ, আমরা তোমার এবং তোমার কাছেই অবশ্যই ফিরে যাব) পাঠ করেছে।’ মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার (সন্তানহারা) বান্দার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ কর, আর তার নাম রাখ, ‘বায়তুল হাম্দ’ (প্রশংসাভবন)।” (তিরমিযী ১০২১)
وعن أبي موسى الأشعري أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملائكته: قبضتم ولد عبدي ؟ فيقولون : نعم فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده ؟ فيقولون: نعم فيقول: ماذا قال عبدي ؟ فيقولون:حمدك واسترجع فيقول الله تعالى: ابنوا لعبدي بيتا في الجنة، وسموه بيت الحمد رواه الترمذي، وقال حديث حسن
হাদিস সম্ভার ১৩৭৭
وعن أبي سعيد الخدري قال : جاءت امرأة إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقالت : يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوما نأتيك فيه تعلمنا مما علمك الله قال اجتمعن يوم كذا وكذا فاجتمعن فأتاهن النبي صلى اللٰه عليه وسلم فعلمهن مما علمه الله ثم قال ما منكن من امرأة تقدم ثلاثة من الولد إلا كانوا لها حجابا من النار فقالت امرأة : واثنين ؟ فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم واثنين متفق عليه
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।” অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।” এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, “দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।” (বুখারী ১০১, ৭৩১০, মুসলিম ৬৮৬৮)
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।” অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।” এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, “দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।” (বুখারী ১০১, ৭৩১০, মুসলিম ৬৮৬৮)
وعن أبي سعيد الخدري قال : جاءت امرأة إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقالت : يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوما نأتيك فيه تعلمنا مما علمك الله قال اجتمعن يوم كذا وكذا فاجتمعن فأتاهن النبي صلى اللٰه عليه وسلم فعلمهن مما علمه الله ثم قال ما منكن من امرأة تقدم ثلاثة من الولد إلا كانوا لها حجابا من النار فقالت امرأة : واثنين ؟ فقال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم واثنين متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৮১
আবু তালহা এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলেন। এদিকে বাড়িতে তাঁর ছেলে মারা গেল। উম্মে সুলাইম সকলকে নিষেধ করলেন, যাতে আবু তালহার নিকট খবর না যায়। তিনি ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে ঢেকে রেখে দিলেন। অতঃপর স্বামী আবু তালহা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে বাড়ি ফিরলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার বেটা কেমন আছে?’ রুমাইসা বললেন, ‘যখন থেকে ও পীড়িত তখন থেকে যে কষ্ট পাচ্ছিল তার চেয়ে এখন খুব শান্ত। আর আশা করি সে আরাম লাভ করেছে!’ অতঃপর পতিপ্রাণা স্ত্রী স্বামী এবং তাঁর সাথে আগত আরো অন্যান্য মেহমানদের জন্য রাত্রের খাবার পেশ করলেন। সকলে খেয়ে উঠে গেল। আবু তালহা উঠে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন। (স্ত্রীর কথায় ভাবলেন, ছেলে আরাম পেয়ে ঘুমাচ্ছে।) ওদিকে পুতঃপবিত্রতা রুমাইসা সব কাজ সেরে উত্তমরূমে সাজ-সজ্জা করলেন, সুগন্ধি মাখলেন। অতঃপর স্বামীর বিছানায় এলেন। স্বামী স্ত্রীর নিকট থেকে সৌন্দর্য, সৌরভ এবং নির্জনতা পেলে উভয়ের মধ্যে যা ঘটে তা তাঁদের মাঝে (মিলন) ঘটল। তারপর রাত্রির শেষ দিকে রুমাইসা স্বামীকে বললেন, ‘হে আবু তালহা! যদি কেউ কাউকে কোন জিনিস ধার স্বরূপ ব্যবহার করতে দেয়, অতঃপর সেই জিনিসের মালিক যদি তা ফেরৎ নেয় তবে ব্যবহারকারীর কি বাধা দেওয়া বা কিছু বলার থাকতে পারে?’ আবু তালহা বললেন, ‘অবশ্যই না।’ স্ত্রী বললেন, ‘তাহলে শুনুন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল আপনাকে যে ছেলে ধার দিয়েছিলেন তা ফেরৎ নিয়েছেন। অতএব আপনি ধৈর্য ধরে নেকীর আশা করুন!’ এ কথায় স্বামী রেগে উঠলেন; বললেন, ‘এতক্ষণ পর্যন্ত কিছু না বলে চুপ থেকে, এত কিছু হওয়ার পর তুমি আমাকে আমার ছেলে মরার খবর দিচ্ছ?!’ অতঃপর তিনি ‘ইন্না লিল্লাহি----’ পড়লেন ও আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট ঘটনা খুলে বললে তিনি তাঁকে বললেন, “তোমাদের উভয়ের ঐ গত রাত্রে আল্লাহ বরকত দান করুন।” সুতরাং ঐ রাত্রের রুমাইসা তাঁর গর্ভে আবার একটি সন্তান ধারণ করে। (ত্বায়ালিসী ২০৫৬, বাইহাকী ৪/৬৫-৬৬, ইবনে হিব্বান ৭২৫, আহমাদ ৩/১০৫-১০৬ প্রভৃতি। দেখুন আহকামুল জানায়েয ২৪-২৬ পৃঃ)
আবু তালহা এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলেন। এদিকে বাড়িতে তাঁর ছেলে মারা গেল। উম্মে সুলাইম সকলকে নিষেধ করলেন, যাতে আবু তালহার নিকট খবর না যায়। তিনি ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে ঢেকে রেখে দিলেন। অতঃপর স্বামী আবু তালহা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে বাড়ি ফিরলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার বেটা কেমন আছে?’ রুমাইসা বললেন, ‘যখন থেকে ও পীড়িত তখন থেকে যে কষ্ট পাচ্ছিল তার চেয়ে এখন খুব শান্ত। আর আশা করি সে আরাম লাভ করেছে!’ অতঃপর পতিপ্রাণা স্ত্রী স্বামী এবং তাঁর সাথে আগত আরো অন্যান্য মেহমানদের জন্য রাত্রের খাবার পেশ করলেন। সকলে খেয়ে উঠে গেল। আবু তালহা উঠে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন। (স্ত্রীর কথায় ভাবলেন, ছেলে আরাম পেয়ে ঘুমাচ্ছে।) ওদিকে পুতঃপবিত্রতা রুমাইসা সব কাজ সেরে উত্তমরূমে সাজ-সজ্জা করলেন, সুগন্ধি মাখলেন। অতঃপর স্বামীর বিছানায় এলেন। স্বামী স্ত্রীর নিকট থেকে সৌন্দর্য, সৌরভ এবং নির্জনতা পেলে উভয়ের মধ্যে যা ঘটে তা তাঁদের মাঝে (মিলন) ঘটল। তারপর রাত্রির শেষ দিকে রুমাইসা স্বামীকে বললেন, ‘হে আবু তালহা! যদি কেউ কাউকে কোন জিনিস ধার স্বরূপ ব্যবহার করতে দেয়, অতঃপর সেই জিনিসের মালিক যদি তা ফেরৎ নেয় তবে ব্যবহারকারীর কি বাধা দেওয়া বা কিছু বলার থাকতে পারে?’ আবু তালহা বললেন, ‘অবশ্যই না।’ স্ত্রী বললেন, ‘তাহলে শুনুন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল আপনাকে যে ছেলে ধার দিয়েছিলেন তা ফেরৎ নিয়েছেন। অতএব আপনি ধৈর্য ধরে নেকীর আশা করুন!’ এ কথায় স্বামী রেগে উঠলেন; বললেন, ‘এতক্ষণ পর্যন্ত কিছু না বলে চুপ থেকে, এত কিছু হওয়ার পর তুমি আমাকে আমার ছেলে মরার খবর দিচ্ছ?!’ অতঃপর তিনি ‘ইন্না লিল্লাহি----’ পড়লেন ও আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট ঘটনা খুলে বললে তিনি তাঁকে বললেন, “তোমাদের উভয়ের ঐ গত রাত্রে আল্লাহ বরকত দান করুন।” সুতরাং ঐ রাত্রের রুমাইসা তাঁর গর্ভে আবার একটি সন্তান ধারণ করে। (ত্বায়ালিসী ২০৫৬, বাইহাকী ৪/৬৫-৬৬, ইবনে হিব্বান ৭২৫, আহমাদ ৩/১০৫-১০৬ প্রভৃতি। দেখুন আহকামুল জানায়েয ২৪-২৬ পৃঃ)
হাদিস সম্ভার > কবরের (বারযাখী) জীবন
হাদিস সম্ভার ১৩৮৪
عن ابن عمر أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشى إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة وإن كان من أهل النار فمن أهل النار يقال: هذا مقعدك حتى يبعثك الله إليه يوم القيامة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন সকাল-সন্ধ্যায় তার অবস্থানক্ষেত্র তাকে প্রদর্শন করা হয়। জান্নাতী হলে জান্নাতের এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নামের। তাকে বলা হয়, ‘এই হল তোমার থাকার জায়গা; যে পর্যন্ত না তোমাকে কিয়ামতে আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন।” (বুখারী ১৩৭৯, মুসলিম ৭৩৯০)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন সকাল-সন্ধ্যায় তার অবস্থানক্ষেত্র তাকে প্রদর্শন করা হয়। জান্নাতী হলে জান্নাতের এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নামের। তাকে বলা হয়, ‘এই হল তোমার থাকার জায়গা; যে পর্যন্ত না তোমাকে কিয়ামতে আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন।” (বুখারী ১৩৭৯, মুসলিম ৭৩৯০)
عن ابن عمر أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشى إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة وإن كان من أهل النار فمن أهل النار يقال: هذا مقعدك حتى يبعثك الله إليه يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৮৫
عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: هذا الذى تحرك له العرش وفتحت له أبواب السماء وشهده سبعون ألفا من الملائكة لقد ضم ضمة ثم فرج عنه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এই ব্যক্তি, যার (মৃত্যুর) জন্য আরশ কম্পিত হয়েছে, তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাযায় সত্তর হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়েছেন, তাকেও একবার চেপে ধরা হয়েছে। অতঃপর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” (নাসাঈ ২০৫৫)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এই ব্যক্তি, যার (মৃত্যুর) জন্য আরশ কম্পিত হয়েছে, তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাযায় সত্তর হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়েছেন, তাকেও একবার চেপে ধরা হয়েছে। অতঃপর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” (নাসাঈ ২০৫৫)
عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: هذا الذى تحرك له العرش وفتحت له أبواب السماء وشهده سبعون ألفا من الملائكة لقد ضم ضمة ثم فرج عنه
হাদিস সম্ভার ১৩৮৩
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا قبر الميت أو قال : أحدكم أتاه ملكان أسودان أزرقان يقال لأحدهما : المنكر والآخر النكير فيقولان : ما كنت تقول في هذا الرجل ؟ فيقول : ما كان يقول : هو عبد الله ورسوله أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله فيقولان : قد كنا نعلم أنك تقول هذا ثم يفسح له في قبره سبعون ذراعا في سبعين ثم ينور له فيه ثم يقال له : نم فيقول : أرجع إلى أهلي فأخبرهم فيقولان : نم كنومة العروس الذي لا يوقظه إلا أحب أهله إليه حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করা হলে তার নিকট নীল চক্ষুবিশিষ্ট কৃষ্ণবর্ণের দুই ফেরেশতা আসেন। একজনকে বলা হয় ‘মুনকির’ এবং অপরকে বলা হয় ‘নাকীর’। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই (নবী) ব্যক্তির ব্যাপারে তুমি কী বলতে?’ সে বলে, ‘উনি যা বলতেন তাই, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল।’ তাঁরা বলেন, ‘আমরা জানতাম যে, তুমি তাই বলবে।’ অতঃপর তার কবরকে সত্তর হাত দৈর্ঘ্য ও সত্তর হাত প্রস্থ পরিমাপে প্রশস্ত ক’রে দেওয়া হয়। অতঃপর তা আলোকিত করা হয়। অতঃপর তাকে বলা হয়, ‘তুমি ঘুমিয়ে যাও।’ সে বলে, ‘আমি আমার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে খবর দেব।’ তাঁরা বলেন, ‘তুমি সেই বাসর রাতের বরের মতো ঘুমিয়ে যাও, যাকে তার পরিবারের প্রিয়তম ছাড়া কেউ জাগাবে না।’ পরিশেষে আল্লাহ তাঁকে এই শয়নক্ষেত্র থেকে পুনরুত্থিত করবেন। ” (তিরমিযী ১০৭১, সিঃ সহীহাহ ১৩৯১)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করা হলে তার নিকট নীল চক্ষুবিশিষ্ট কৃষ্ণবর্ণের দুই ফেরেশতা আসেন। একজনকে বলা হয় ‘মুনকির’ এবং অপরকে বলা হয় ‘নাকীর’। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই (নবী) ব্যক্তির ব্যাপারে তুমি কী বলতে?’ সে বলে, ‘উনি যা বলতেন তাই, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল।’ তাঁরা বলেন, ‘আমরা জানতাম যে, তুমি তাই বলবে।’ অতঃপর তার কবরকে সত্তর হাত দৈর্ঘ্য ও সত্তর হাত প্রস্থ পরিমাপে প্রশস্ত ক’রে দেওয়া হয়। অতঃপর তা আলোকিত করা হয়। অতঃপর তাকে বলা হয়, ‘তুমি ঘুমিয়ে যাও।’ সে বলে, ‘আমি আমার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে খবর দেব।’ তাঁরা বলেন, ‘তুমি সেই বাসর রাতের বরের মতো ঘুমিয়ে যাও, যাকে তার পরিবারের প্রিয়তম ছাড়া কেউ জাগাবে না।’ পরিশেষে আল্লাহ তাঁকে এই শয়নক্ষেত্র থেকে পুনরুত্থিত করবেন। ” (তিরমিযী ১০৭১, সিঃ সহীহাহ ১৩৯১)
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا قبر الميت أو قال : أحدكم أتاه ملكان أسودان أزرقان يقال لأحدهما : المنكر والآخر النكير فيقولان : ما كنت تقول في هذا الرجل ؟ فيقول : ما كان يقول : هو عبد الله ورسوله أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله فيقولان : قد كنا نعلم أنك تقول هذا ثم يفسح له في قبره سبعون ذراعا في سبعين ثم ينور له فيه ثم يقال له : نم فيقول : أرجع إلى أهلي فأخبرهم فيقولان : نم كنومة العروس الذي لا يوقظه إلا أحب أهله إليه حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك
হাদিস সম্ভার ১৩৮২
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাদের এক ব্যক্তির জানাযায় বের হয়ে কবর খুঁড়তে দেরী হচ্ছিল বলে সেখানে বসে গেলেন। তাঁর আশে-পাশে সকল সাহাবাগণও নিশ্চুপ, ধীর ও শান্তভাবে বসে গেলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাতে একটি কাঠের টুকরা ছিল যার দ্বারা তিনি (চিন্তিত ব্যক্তিদের ন্যায়) মাটিতে দাগ কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, “তোমরা আল্লাহ্র নিকট কবরের আযাব হতে পানাহ্ চাও।” তিনি এ কথা দুই কি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মুমিন বান্দা যখন দুনিয়াকে ত্যাগ করতে এবং আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার নিকট আসমান হতে উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট একদল ফিরিশতা আসেন; যাদের চেহারা যেন সূর্যস্বরূপ। তাদের সাথে বেহেশ্তের কাফনসমূহের একটি কাফন (কাপড়) থাকে এবং জান্নাতের খোশবুসমূহের এক রকম খোশবু থাকে। তাঁরা তার নিকট হতে দৃষ্টি-সীমার দূরে বসেন। অতঃপর মালাকুল মউত তার নিকটে আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসে বলেন ঃ ‘হে পবিত্র রূহ (আত্মা)! বের হয়ে এস আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তোষের দিকে।’ তখন তার রূহ সেই রকম (সহজে) বের হয়ে আসে; যে রকম (সহজে) মশক হতে পানি বের হয়ে আসে। তখন মালাকুল মাওত তা গ্রহণ করেন এবং এক মুহূর্তের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না বরং ঐ সকল অপেক্ষমাণ ফিরিশতা এসে তা গ্রহণ করেন এবং ঐ কাফন ও ঐ খোশবুতে রাখেন। তখন তা হতে পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত খোশবু অপেক্ষা উত্তম মিশ্কের খোশবু বের হতে থাকে। তা নিয়ে ফিরিশতাগণ উপরে উঠতে থাকেন এবং যখনই তাঁরা ফিরিশতাদের মধ্যে কোন ফিরিশতাদলের নিকট পৌঁছেন তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই পবিত্র রূহ (আত্মা) কার?’ তখন তাঁরা দুনিয়াতে তাকে লোকেরা যে সকল উপাধি দ্বারা ভূষিত করত, সে সকলের মধ্যে উত্তম উপাধি দ্বারা ভূষিত ক’রে বলেন, ‘এটা অমুকের পুত্র অমুকের রূহ।’ যতক্ষণ তারা প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌঁছেন (এইরূপ প্রশ্নোত্তর চলতে থাকে।) অতঃপর তাঁরা আসমানের দরজা খুলতে চান, আর অমনি তাঁদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রত্যেক আসমানের সম্মানিত ফিরিশতাগণ তাঁদের পশ্চাদ্গামী হন তার উপরের আসমান পর্যন্ত। এভাবে তাঁরা সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছেন। এ সময় আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমার বান্দার ঠিকানা ‘ইল্লিয়্যীন’-এ লিখ এবং তাকে (তার কবরে) জমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা, আমি তাদেরকে জমিন হতে সৃষ্টি করেছি এবং জমিনের দিকেই তাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করব। অতঃপর জমিন হতে আমি তাদেরকে পুনরায় বের করব (হাশরের মাঠে।)” সুতরাং তার রূহ্ তার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর তার নিকট দুইজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার রব কে?’ তখন উত্তরে সে বলে, ‘আমার রব আল্লাহ।’ অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার দ্বীন কী?’ তখন সে বলে, ‘আমার দ্বীন হল ইসলাম।’ আবার তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে?’ সে উত্তরে বলে, ‘তিনি হলেন আল্লাহর রসূল।’ পুনরায় তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি তা কি ক’রে জানতে পারলে?’ সে বলে, ‘আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছিলাম। অতঃপর তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলাম এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করেছিলাম।’ তখন আসমানের দিক হতে এক শব্দকারী শব্দ করেন, “আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতেরএকটি লেবাস পরিয়ে দাও। এ ছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও!” তখন তার প্রতি জান্নাতের সুখ-শান্তি ও জান্নাতের খোশবু আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবর দৃষ্টিসীমা বরাবর প্রশস্ত ক’রে দেওয়া হয়। অতঃপর তার নিকট এক সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি আসে এবং তাকে বলে, ‘তোমাকে সন্তুষ্ট করবে এমন জিনিসের সুসংবাদ গ্রহণ কর। এই দিবসেরই তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল।’ তখন সে তাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তুমি কে? তোমার চেহারা তো দেখবার মত চেহারা! তা যেন কল্যাণের বার্তা বহন করে।’ তখন সে বলে, ‘আমি তোমার নেক আমল; যা তুমি দুনিয়াতে করতে।’ তখন এ বলে, ‘হে আল্লাহ! তাড়াতাড়ি কিয়ামত কায়েম কর! যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের দিকে ফিরে যেতে পারি। (অর্থাৎ হুর, গিলমান ও বেহেশ্তী সম্পদ তাড়াতাড়ি পেতে পারি)।’ কিন্তু কাফের বান্দা, যখন সে দুনিয়া ত্যাগ করতে ও আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার নিকট আসমান হতে একদল কালো চেহারাবিশিষ্ট ফিরিশতা অবতীর্ণ হন। যাঁদের সাথে শক্ত চট থাকে। তাঁরা তার নিকট হতে দৃষ্টির সীমার দূরে বসেন। অতঃপর মালাকুল-মাওত আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসেন। অতঃপর বলেন, ‘হে খবীস রূহ্ (আত্মা)! বের হয়ে আয় আল্লাহর রোষের দিকে।’ এ সময় রূহ্ ভয়ে তার শরীরে এদিক-সেদিক পালাতে থাকে। তখন মালাকুল মাওত তাকে এমনভাবে টেনে বের করেন, যেমন লোহার গরম শলাকা ভিজে পশম হতে টেনে বের করা হয়। (আর তাতে পশম লেগে থাকে।) তখন তিনি তা গ্রহণ করেন। কিন্তু যখন গ্রহণ করেন মুহূর্তকালের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না। বরং তা অপেক্ষমাণ ফিরিশতাগণ তাড়াতাড়ি সেই আত্মাকে দুর্গন্ধময় চটে জড়িয়ে নেন। তখন তা হতে এমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, যা পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত গলিত শবদেহের দুর্গন্ধ অপেক্ষা বেশী। তা নিয়ে তাঁরা উঠতে থাকেন। কিন্তু যখনই তাঁরা তা নিয়ে ফিরিশতাদের কোন দলের নিকট পৌঁছেন তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই খবীস রূহ্ কার?’ তখন তাঁরা তাকে দুনিয়াতে যে সকল মন্দ উপাধি দ্বারা ভূষিত করা হত তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা মন্দ নামটি দ্বারা ভূষিত ক’রে বলেন, ‘অমুকের পুত্র অমুকের।’ এইভাবে তাকে প্রথম আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দিতে চাওয়া হয়; কিন্তু খুলে দেওয়া হয় না। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমর্থনে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لاَ تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلاَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِيْنَ অর্থাৎ, অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে এবং অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না সূচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে। এরূপে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (আ’রাফ ঃ ৪০) তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “তার ঠিকানা ‘সিজ্জীন’-এ লিখ; জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে। সুতরাং তার রূহকে জমিনে খুব জোরে নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমর্থনে এই আয়াতটি পাঠ করলেন, وَمَن يُّشْرِكْ بِاللهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ অর্থাৎ, যে আল্লাহর সাথে শরীক করেছে, সে যেন আকাশ হতে পড়েছে, অতঃপর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে অথবা ঝঞ্চা তাকে বহু দূরে নিক্ষিপ্ত করেছে। (হাজ্জ ঃ ৩১) সুতরাং তার রূহ্ তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তার নিকট দুইজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার পরওয়ারদেগার কে?’ সে বলে, ‘হায়, হায়, আমি তো জানি না।’ অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার দ্বীন কী?’ সে বলে, ‘হায়, হায়, আমি তো জানি না।’ তারপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে?’ সে বলে, ‘হায়, হায় আমি তাও তো জানি না।’ এ সময় আকাশের দিক হতে আকাশ বাণী হয় (এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন), ‘সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য দোযখের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং দোযখের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। সুতরাং তার দিকে দোযখের উত্তাপ ও লু আসতে থাকে এবং তার কবর তার প্রতি এত সংকুচিত হয়ে যায়; যাতে তার এক দিকের পাঁজরের হাড় অপর দিকে ঢুকে যায়। এ সময় তার নিকট একটা অতি কুৎসিত চেহারাবিশিষ্ট নোংরাবেশী দুর্গন্ধযুক্ত লোক আসে এবং বলে, ‘তোমাকে দুঃখিত করবে এমন জিনিসের দুঃসংবাদ গ্রহণ কর! এই দিবস সম্পর্কেই (দুনিয়াতে) তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হত।’ তখন সে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কে? কি কুৎসিত তোমার চেহারা; যা মন্দ সংবাদ বহন করে!’ সে বলে, ‘আমি তোমার সেই বদ আমল; যা তুমি দুনিয়াতে করতে।’ তখন সে বলে, ‘আল্লাহ! কিয়ামত কায়েম করো না। (নচেৎ তখন আমার উপায় থাকবে না।) (আহমাদ ৪/২৮৭-২৮৮, আবুদাউদ ৪৭৫৩)
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাদের এক ব্যক্তির জানাযায় বের হয়ে কবর খুঁড়তে দেরী হচ্ছিল বলে সেখানে বসে গেলেন। তাঁর আশে-পাশে সকল সাহাবাগণও নিশ্চুপ, ধীর ও শান্তভাবে বসে গেলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাতে একটি কাঠের টুকরা ছিল যার দ্বারা তিনি (চিন্তিত ব্যক্তিদের ন্যায়) মাটিতে দাগ কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, “তোমরা আল্লাহ্র নিকট কবরের আযাব হতে পানাহ্ চাও।” তিনি এ কথা দুই কি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মুমিন বান্দা যখন দুনিয়াকে ত্যাগ করতে এবং আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার নিকট আসমান হতে উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট একদল ফিরিশতা আসেন; যাদের চেহারা যেন সূর্যস্বরূপ। তাদের সাথে বেহেশ্তের কাফনসমূহের একটি কাফন (কাপড়) থাকে এবং জান্নাতের খোশবুসমূহের এক রকম খোশবু থাকে। তাঁরা তার নিকট হতে দৃষ্টি-সীমার দূরে বসেন। অতঃপর মালাকুল মউত তার নিকটে আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসে বলেন ঃ ‘হে পবিত্র রূহ (আত্মা)! বের হয়ে এস আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তোষের দিকে।’ তখন তার রূহ সেই রকম (সহজে) বের হয়ে আসে; যে রকম (সহজে) মশক হতে পানি বের হয়ে আসে। তখন মালাকুল মাওত তা গ্রহণ করেন এবং এক মুহূর্তের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না বরং ঐ সকল অপেক্ষমাণ ফিরিশতা এসে তা গ্রহণ করেন এবং ঐ কাফন ও ঐ খোশবুতে রাখেন। তখন তা হতে পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত খোশবু অপেক্ষা উত্তম মিশ্কের খোশবু বের হতে থাকে। তা নিয়ে ফিরিশতাগণ উপরে উঠতে থাকেন এবং যখনই তাঁরা ফিরিশতাদের মধ্যে কোন ফিরিশতাদলের নিকট পৌঁছেন তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই পবিত্র রূহ (আত্মা) কার?’ তখন তাঁরা দুনিয়াতে তাকে লোকেরা যে সকল উপাধি দ্বারা ভূষিত করত, সে সকলের মধ্যে উত্তম উপাধি দ্বারা ভূষিত ক’রে বলেন, ‘এটা অমুকের পুত্র অমুকের রূহ।’ যতক্ষণ তারা প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌঁছেন (এইরূপ প্রশ্নোত্তর চলতে থাকে।) অতঃপর তাঁরা আসমানের দরজা খুলতে চান, আর অমনি তাঁদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রত্যেক আসমানের সম্মানিত ফিরিশতাগণ তাঁদের পশ্চাদ্গামী হন তার উপরের আসমান পর্যন্ত। এভাবে তাঁরা সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছেন। এ সময় আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমার বান্দার ঠিকানা ‘ইল্লিয়্যীন’-এ লিখ এবং তাকে (তার কবরে) জমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা, আমি তাদেরকে জমিন হতে সৃষ্টি করেছি এবং জমিনের দিকেই তাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করব। অতঃপর জমিন হতে আমি তাদেরকে পুনরায় বের করব (হাশরের মাঠে।)” সুতরাং তার রূহ্ তার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর তার নিকট দুইজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার রব কে?’ তখন উত্তরে সে বলে, ‘আমার রব আল্লাহ।’ অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার দ্বীন কী?’ তখন সে বলে, ‘আমার দ্বীন হল ইসলাম।’ আবার তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে?’ সে উত্তরে বলে, ‘তিনি হলেন আল্লাহর রসূল।’ পুনরায় তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি তা কি ক’রে জানতে পারলে?’ সে বলে, ‘আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছিলাম। অতঃপর তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলাম এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করেছিলাম।’ তখন আসমানের দিক হতে এক শব্দকারী শব্দ করেন, “আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতেরএকটি লেবাস পরিয়ে দাও। এ ছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও!” তখন তার প্রতি জান্নাতের সুখ-শান্তি ও জান্নাতের খোশবু আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবর দৃষ্টিসীমা বরাবর প্রশস্ত ক’রে দেওয়া হয়। অতঃপর তার নিকট এক সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি আসে এবং তাকে বলে, ‘তোমাকে সন্তুষ্ট করবে এমন জিনিসের সুসংবাদ গ্রহণ কর। এই দিবসেরই তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল।’ তখন সে তাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তুমি কে? তোমার চেহারা তো দেখবার মত চেহারা! তা যেন কল্যাণের বার্তা বহন করে।’ তখন সে বলে, ‘আমি তোমার নেক আমল; যা তুমি দুনিয়াতে করতে।’ তখন এ বলে, ‘হে আল্লাহ! তাড়াতাড়ি কিয়ামত কায়েম কর! যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের দিকে ফিরে যেতে পারি। (অর্থাৎ হুর, গিলমান ও বেহেশ্তী সম্পদ তাড়াতাড়ি পেতে পারি)।’ কিন্তু কাফের বান্দা, যখন সে দুনিয়া ত্যাগ করতে ও আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার নিকট আসমান হতে একদল কালো চেহারাবিশিষ্ট ফিরিশতা অবতীর্ণ হন। যাঁদের সাথে শক্ত চট থাকে। তাঁরা তার নিকট হতে দৃষ্টির সীমার দূরে বসেন। অতঃপর মালাকুল-মাওত আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসেন। অতঃপর বলেন, ‘হে খবীস রূহ্ (আত্মা)! বের হয়ে আয় আল্লাহর রোষের দিকে।’ এ সময় রূহ্ ভয়ে তার শরীরে এদিক-সেদিক পালাতে থাকে। তখন মালাকুল মাওত তাকে এমনভাবে টেনে বের করেন, যেমন লোহার গরম শলাকা ভিজে পশম হতে টেনে বের করা হয়। (আর তাতে পশম লেগে থাকে।) তখন তিনি তা গ্রহণ করেন। কিন্তু যখন গ্রহণ করেন মুহূর্তকালের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না। বরং তা অপেক্ষমাণ ফিরিশতাগণ তাড়াতাড়ি সেই আত্মাকে দুর্গন্ধময় চটে জড়িয়ে নেন। তখন তা হতে এমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, যা পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত গলিত শবদেহের দুর্গন্ধ অপেক্ষা বেশী। তা নিয়ে তাঁরা উঠতে থাকেন। কিন্তু যখনই তাঁরা তা নিয়ে ফিরিশতাদের কোন দলের নিকট পৌঁছেন তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই খবীস রূহ্ কার?’ তখন তাঁরা তাকে দুনিয়াতে যে সকল মন্দ উপাধি দ্বারা ভূষিত করা হত তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা মন্দ নামটি দ্বারা ভূষিত ক’রে বলেন, ‘অমুকের পুত্র অমুকের।’ এইভাবে তাকে প্রথম আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দিতে চাওয়া হয়; কিন্তু খুলে দেওয়া হয় না। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমর্থনে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لاَ تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلاَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِيْنَ অর্থাৎ, অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে এবং অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না সূচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে। এরূপে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (আ’রাফ ঃ ৪০) তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “তার ঠিকানা ‘সিজ্জীন’-এ লিখ; জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে। সুতরাং তার রূহকে জমিনে খুব জোরে নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমর্থনে এই আয়াতটি পাঠ করলেন, وَمَن يُّشْرِكْ بِاللهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ অর্থাৎ, যে আল্লাহর সাথে শরীক করেছে, সে যেন আকাশ হতে পড়েছে, অতঃপর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে অথবা ঝঞ্চা তাকে বহু দূরে নিক্ষিপ্ত করেছে। (হাজ্জ ঃ ৩১) সুতরাং তার রূহ্ তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তার নিকট দুইজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার পরওয়ারদেগার কে?’ সে বলে, ‘হায়, হায়, আমি তো জানি না।’ অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার দ্বীন কী?’ সে বলে, ‘হায়, হায়, আমি তো জানি না।’ তারপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে?’ সে বলে, ‘হায়, হায় আমি তাও তো জানি না।’ এ সময় আকাশের দিক হতে আকাশ বাণী হয় (এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন), ‘সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য দোযখের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং দোযখের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। সুতরাং তার দিকে দোযখের উত্তাপ ও লু আসতে থাকে এবং তার কবর তার প্রতি এত সংকুচিত হয়ে যায়; যাতে তার এক দিকের পাঁজরের হাড় অপর দিকে ঢুকে যায়। এ সময় তার নিকট একটা অতি কুৎসিত চেহারাবিশিষ্ট নোংরাবেশী দুর্গন্ধযুক্ত লোক আসে এবং বলে, ‘তোমাকে দুঃখিত করবে এমন জিনিসের দুঃসংবাদ গ্রহণ কর! এই দিবস সম্পর্কেই (দুনিয়াতে) তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হত।’ তখন সে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কে? কি কুৎসিত তোমার চেহারা; যা মন্দ সংবাদ বহন করে!’ সে বলে, ‘আমি তোমার সেই বদ আমল; যা তুমি দুনিয়াতে করতে।’ তখন সে বলে, ‘আল্লাহ! কিয়ামত কায়েম করো না। (নচেৎ তখন আমার উপায় থাকবে না।) (আহমাদ ৪/২৮৭-২৮৮, আবুদাউদ ৪৭৫৩)