হাদিস সম্ভার > মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হারাম। তবে স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে
হাদিস সম্ভার ১৩৪৫
عن زينب بنت أبي سلمة رضي الله عنهما قالت : دخلت على أم حبيبة رضي الله عنها زوج النبي صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي أبوها أبو سفيان بن حرب فدعت بطيب فيه صفرة خلوق أو غيره فدهنت منه جارية ثم مست بعارضيها ثم قالت : والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول على المنبر لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث ليال إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا قالت زينب : ثم دخلت على زينب بنت جحش رضي الله عنها حين توفي أخوها فدعت بطيب فمست منه ثم قالت : أما والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول على المنبر لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا متفق عليه
তিনি বলেন, যখন শাম (সিরিয়া) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ)র পিতা আবূ সুফয়ান (রাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করলাম। (মৃত্যুর তিনদিন পর) তিনি হলুদ বর্ণ দ্রব্য বা অন্য দ্রব্য মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন। তা থেকে কিছু নিয়ে স্বীয় দাসীকে এবং নিজের দুই গালে মাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মিম্বরের উপর (খুতবাদান কালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।” যয়নাব বলেন, তারপর যখন যয়নাব বিন্তে জাহ্শ (রাঃ)র ভাই মারা গেলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি সুগন্ধি আনালেন এবং তা থেকে কিছু নিয়ে মাখার পর বললেন; আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মিম্বরের উপর (খুতবা দানকালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।” (বুখারী ১২৮২, ৫৩৩৪, মুসলিম ৩৭৯৮-৩৭৯৯) (শোকপালনে মহিলা, সৌন্দর্যময় কাপড় পরবে না, কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, কোন অলঙ্কার ব্যবহার করবে না, কোন প্রসাধন (পাউডার, সুরমা, কাজল, লিপষ্টিক ইত্যাদি) ব্যবহার করবে না এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না।)
তিনি বলেন, যখন শাম (সিরিয়া) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ)র পিতা আবূ সুফয়ান (রাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করলাম। (মৃত্যুর তিনদিন পর) তিনি হলুদ বর্ণ দ্রব্য বা অন্য দ্রব্য মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন। তা থেকে কিছু নিয়ে স্বীয় দাসীকে এবং নিজের দুই গালে মাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মিম্বরের উপর (খুতবাদান কালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।” যয়নাব বলেন, তারপর যখন যয়নাব বিন্তে জাহ্শ (রাঃ)র ভাই মারা গেলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি সুগন্ধি আনালেন এবং তা থেকে কিছু নিয়ে মাখার পর বললেন; আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মিম্বরের উপর (খুতবা দানকালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।” (বুখারী ১২৮২, ৫৩৩৪, মুসলিম ৩৭৯৮-৩৭৯৯) (শোকপালনে মহিলা, সৌন্দর্যময় কাপড় পরবে না, কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, কোন অলঙ্কার ব্যবহার করবে না, কোন প্রসাধন (পাউডার, সুরমা, কাজল, লিপষ্টিক ইত্যাদি) ব্যবহার করবে না এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না।)
عن زينب بنت أبي سلمة رضي الله عنهما قالت : دخلت على أم حبيبة رضي الله عنها زوج النبي صلى اللٰه عليه وسلم حين توفي أبوها أبو سفيان بن حرب فدعت بطيب فيه صفرة خلوق أو غيره فدهنت منه جارية ثم مست بعارضيها ثم قالت : والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول على المنبر لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث ليال إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا قالت زينب : ثم دخلت على زينب بنت جحش رضي الله عنها حين توفي أخوها فدعت بطيب فمست منه ثم قالت : أما والله ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول على المنبر لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث، إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا متفق عليه
হাদিস সম্ভার > মৃত্যের জন্য মাতম করে কাঁদা, গাল চাপড়ানো, বুকের কাপড় ছিঁড়া, চুল ছেঁড়া, মাথা নেড়া করা ও সর্বনাশ ও ধ্বংস ডাকা নিষিদ্ধ
হাদিস সম্ভার ১৩৪৬
عن عمر بن الخطاب قال : قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم الميت يعذب في قبره بما نيح عليه وفي روايةما نيح عليه متفق عليه
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মৃত ব্যক্তিকে তার কবরের মধ্যে তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়।” (বুখারী ১২৯২, মুসলিম ২১৮২) অন্য এক বর্ণনায় আছে, যতক্ষণ তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, (ততক্ষণ মৃতব্যক্তির আযাব হয়।) (আবূ য়্যা’লা ১৫৬, বায্যার ১৪৬)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মৃত ব্যক্তিকে তার কবরের মধ্যে তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়।” (বুখারী ১২৯২, মুসলিম ২১৮২) অন্য এক বর্ণনায় আছে, যতক্ষণ তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, (ততক্ষণ মৃতব্যক্তির আযাব হয়।) (আবূ য়্যা’লা ১৫৬, বায্যার ১৪৬)
عن عمر بن الخطاب قال : قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم الميت يعذب في قبره بما نيح عليه وفي روايةما نيح عليه متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৪৭
وعن ابن مسعود قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب، ودعا بدعوى الجاهلية متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (শোকের সময়) গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের ডাকের ন্যায় ডাক ছাড়ে।” (বুখারী ১২৯৪, ১২৯৭, মুসলিম ২৯৬)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (শোকের সময়) গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের ডাকের ন্যায় ডাক ছাড়ে।” (বুখারী ১২৯৪, ১২৯৭, মুসলিম ২৯৬)
وعن ابن مسعود قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب، ودعا بدعوى الجاهلية متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৪৮
وعن أبي بردة قال: وجع أبو موسى فغشي عليه ورأسه في حجر امرأة من أهله فأقبلت تصيح برنة فلم يستطع أن يرد عليها شيئا فلما أفاق قال : أنا بريء ممن برىء منه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بريء من الصالقة والحالقة والشاقة متفق عليه
তিনি বলেন, (তাঁর পিতা) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আর (ঐ সময়) তাঁর মাথা তাঁর এক স্ত্রীর কোলে রাখা ছিল এবং সে চিৎকার ক’রে কান্না করতে লাগল। তিনি (অজ্ঞান থাকার কারণে) তাকে বাধা দিতে পারলেন না। সুতরাং যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন, তখন বলে উঠলেন, ‘আমি সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত, যে মহিলা থেকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন, যে শোকে উচ্চ স্বরে মাতম ক’রে কান্না করে, মাথা মুণ্ডন করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।’ (বুখারী ১২৯৬, মুসলিম ২৯৮)
তিনি বলেন, (তাঁর পিতা) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আর (ঐ সময়) তাঁর মাথা তাঁর এক স্ত্রীর কোলে রাখা ছিল এবং সে চিৎকার ক’রে কান্না করতে লাগল। তিনি (অজ্ঞান থাকার কারণে) তাকে বাধা দিতে পারলেন না। সুতরাং যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন, তখন বলে উঠলেন, ‘আমি সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত, যে মহিলা থেকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন, যে শোকে উচ্চ স্বরে মাতম ক’রে কান্না করে, মাথা মুণ্ডন করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।’ (বুখারী ১২৯৬, মুসলিম ২৯৮)
وعن أبي بردة قال: وجع أبو موسى فغشي عليه ورأسه في حجر امرأة من أهله فأقبلت تصيح برنة فلم يستطع أن يرد عليها شيئا فلما أفاق قال : أنا بريء ممن برىء منه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم إن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم بريء من الصالقة والحالقة والشاقة متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৫০
وعن أم عطية نسيبة رضي الله عنها قالت : أخذ علينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عند البيعة أن لا ننوح
তিনি বলেন, ‘বায়আতের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করব না।’ (বুখারী ১৩০৬, মুসলিম ২২০৬)
তিনি বলেন, ‘বায়আতের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করব না।’ (বুখারী ১৩০৬, মুসলিম ২২০৬)
وعن أم عطية نسيبة رضي الله عنها قالت : أخذ علينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عند البيعة أن لا ننوح
হাদিস সম্ভার ১৩৫১
وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال : أغمي على عبد الله بن رواحة فجعلت أخته تبكي، وتقول : واجبلاه واكذا واكذا : تعدد عليه فقال حين أفاق : ما قلت شيئا إلا قيل لي أنت كذلك رواه البخاري
তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ (রাঃ) (একবার) অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর বোন কান্না করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘ও (আমার) পাহাড় গো! ও আমার এই গো! ও আমার ওই গো!’ এভাবে তাঁর একাধিক গুণ বর্ণনা করতে লাগলেন। সুতরাং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, ‘তুমি যা কিছু বলেছ, সে সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল যে, তুমি ঐরূপ ছিলে নাকি?’ (বুখারী ৪২৬৭)
তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ (রাঃ) (একবার) অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর বোন কান্না করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘ও (আমার) পাহাড় গো! ও আমার এই গো! ও আমার ওই গো!’ এভাবে তাঁর একাধিক গুণ বর্ণনা করতে লাগলেন। সুতরাং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, ‘তুমি যা কিছু বলেছ, সে সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল যে, তুমি ঐরূপ ছিলে নাকি?’ (বুখারী ৪২৬৭)
وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال : أغمي على عبد الله بن رواحة فجعلت أخته تبكي، وتقول : واجبلاه واكذا واكذا : تعدد عليه فقال حين أفاق : ما قلت شيئا إلا قيل لي أنت كذلك رواه البخاري
হাদিস সম্ভার ১৩৫৪
وعن أسيد بن أبي أسيد التابعي عن امرأة من المبايعات قالت : كان فيما أخذ علينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه : أن لا نخمش وجها ولا ندعو ويلا ولا نشق جيبا وأن لا ننشر شعرا رواه أبو داود بإسناد حسن
উসাইদ ইবনে আবূ উসাইদ তাবেয়ী, এমন এক মহিলা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট বায়আতকারিণী মহিলাদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সব সৎকর্ম করতে ও তাতে তাঁর অবাধ্যতা না করতে আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সে সবের মধ্যে এটিও ছিল যে, (শোকাহত হয়ে) আমরা চেহারা খামচাব না, ধ্বংস ও সর্বনাশ কামনা করব না, বুকের কাপড় ছিঁড়ব না এবং মাথার চুল আলুথালু করব না।’ (আবূ দাঊদ ৩১৩৩, হাসানসূত্রে)
উসাইদ ইবনে আবূ উসাইদ তাবেয়ী, এমন এক মহিলা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট বায়আতকারিণী মহিলাদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সব সৎকর্ম করতে ও তাতে তাঁর অবাধ্যতা না করতে আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সে সবের মধ্যে এটিও ছিল যে, (শোকাহত হয়ে) আমরা চেহারা খামচাব না, ধ্বংস ও সর্বনাশ কামনা করব না, বুকের কাপড় ছিঁড়ব না এবং মাথার চুল আলুথালু করব না।’ (আবূ দাঊদ ৩১৩৩, হাসানসূত্রে)
وعن أسيد بن أبي أسيد التابعي عن امرأة من المبايعات قالت : كان فيما أخذ علينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه : أن لا نخمش وجها ولا ندعو ويلا ولا نشق جيبا وأن لا ننشر شعرا رواه أبو داود بإسناد حسن
হাদিস সম্ভার ১৩৫৩
وعن أبي مالك الأشعري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم النائحة إذا لم تتب قبل موتها تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران ودرع من جرب رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মাতমকারিণী মহিলা যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।” (মুসলিম ২২০৩)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মাতমকারিণী মহিলা যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।” (মুসলিম ২২০৩)
وعن أبي مالك الأشعري قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم النائحة إذا لم تتب قبل موتها تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران ودرع من جرب رواه مسلم
হাদিস সম্ভার ১৩৫২
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : اشتكى سعد بن عبادة شكوى فأتاه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعوده مع عبد الرحمان بن عوف وسعد بن أبي وقاص وعبد الله بن مسعود فلما دخل عليه وجده في غشية فقالأقضى ؟ قالوا : لا يا رسول الله فبكى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فلما رأى القوم بكاء النبي صلى اللٰه عليه وسلم بكوا قالألا تسمعون ؟ إن الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب، ولكن يعذب بهذا - وأشار إلى لسانه - أو يرحم متفق عليه
তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) একবার পীড়িত হলে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সা’দ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)দের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট কুশল জিজ্ঞাসার জন্য গেলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “ও কি মারা গেছে?” লোকেরা জবাব দিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! না (মারা যায়নি)।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। সুতরাং লোকেরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কান্না করতে দেখল, তখন তারাও কাঁদতে লাগল। তিনি বললেন, “তোমরা কি শুনতে পাও না? নিঃসন্দেহে আল্লাহ চোখের অশ্রু ঝরাবার জন্য শাস্তি দেন না এবং আন্তরিক দুঃখ প্রকাশের জন্যও শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি তো এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।” এই বলে তিনি নিজ জিভের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (বুখারী ১৩০৪, মুসলিম ২১৭৬)
তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) একবার পীড়িত হলে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সা’দ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)দের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট কুশল জিজ্ঞাসার জন্য গেলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “ও কি মারা গেছে?” লোকেরা জবাব দিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! না (মারা যায়নি)।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। সুতরাং লোকেরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কান্না করতে দেখল, তখন তারাও কাঁদতে লাগল। তিনি বললেন, “তোমরা কি শুনতে পাও না? নিঃসন্দেহে আল্লাহ চোখের অশ্রু ঝরাবার জন্য শাস্তি দেন না এবং আন্তরিক দুঃখ প্রকাশের জন্যও শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি তো এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।” এই বলে তিনি নিজ জিভের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (বুখারী ১৩০৪, মুসলিম ২১৭৬)
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : اشتكى سعد بن عبادة شكوى فأتاه رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يعوده مع عبد الرحمان بن عوف وسعد بن أبي وقاص وعبد الله بن مسعود فلما دخل عليه وجده في غشية فقالأقضى ؟ قالوا : لا يا رسول الله فبكى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فلما رأى القوم بكاء النبي صلى اللٰه عليه وسلم بكوا قالألا تسمعون ؟ إن الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب، ولكن يعذب بهذا - وأشار إلى لسانه - أو يرحم متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৫৬
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اثنتان في الناس هما بهم كفر : الطعن في النسب والنياحة على الميترواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে দুটো আচরণ এমন পাওয়া যায়, যা তাদের ক্ষেত্রে কুফরীমূলক কর্ম; বংশে খোঁটা দেওয়া ও মৃতের জন্য মাতম ক’রে কান্না করা।” (মুসলিম ২৩৬)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে দুটো আচরণ এমন পাওয়া যায়, যা তাদের ক্ষেত্রে কুফরীমূলক কর্ম; বংশে খোঁটা দেওয়া ও মৃতের জন্য মাতম ক’রে কান্না করা।” (মুসলিম ২৩৬)
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اثنتان في الناس هما بهم كفر : الطعن في النسب والنياحة على الميترواه مسلم
হাদিস সম্ভার ১৩৫৫
وعن أبي موسى أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالما من ميت يموت فيقوم باكيهم فيقول : واجبلاه، واسيداه أو نحو ذلك إلا وكل به ملكان يلهزانه : أهكذا كنت ؟ رواه الترمذي، وقال حديث حسن
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন মৃত্যুগামী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রোদনকারিণী রোদন করে এবং বলে, ‘ও আমার পাহাড় গো! ও আমার সর্দার গো!’ অথবা অনুরূপ আরো কিছু বলে, তখনই সেই মৃতের জন্য দু’জন ফিরিশতা নিযুক্ত করা হয়, যাঁরা তার বুকে ঘুষি মেরে বলতে থাকেন, ‘তুই কি ঐ রকম ছিলি নাকি?’ (তিরমিযী ১০০৩, হাসান)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন মৃত্যুগামী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রোদনকারিণী রোদন করে এবং বলে, ‘ও আমার পাহাড় গো! ও আমার সর্দার গো!’ অথবা অনুরূপ আরো কিছু বলে, তখনই সেই মৃতের জন্য দু’জন ফিরিশতা নিযুক্ত করা হয়, যাঁরা তার বুকে ঘুষি মেরে বলতে থাকেন, ‘তুই কি ঐ রকম ছিলি নাকি?’ (তিরমিযী ১০০৩, হাসান)
وعن أبي موسى أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالما من ميت يموت فيقوم باكيهم فيقول : واجبلاه، واسيداه أو نحو ذلك إلا وكل به ملكان يلهزانه : أهكذا كنت ؟ رواه الترمذي، وقال حديث حسن
হাদিস সম্ভার ১৩৫৭
عن أم سلمة قالت: لما مات أبو سلمة قلت غريب وفى أرض غربة لأبكينه بكاء يتحدث عنه فكنت قد تهيأت للبكاء عليه إذ أقبلت امرأة من الصعيد تريد أن تسعدنى فاستقبلها رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وقال أتريدين أن تدخلى الشيطان بيتا أخرجه الله منه مرتين فكففت عن البكاء فلم أبك
যখন (আমার স্বামী) আবূ সালামাহ (মক্কা থেকে মদীনায় এসে) মারা যান, তখন আমি বললাম, ‘বিদেশী বিদেশে থেকেই মারা গেল! আমি তার জন্য এত কান্না কাঁদব যে, লোকমাঝে তার চর্চা হবে। এরপর আমি স্বামীর জন্য কাঁদার প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম। এমন সময় মদীনার পার্শ্ববর্তী পল্লী থেকে এক মহিলা আমার মাতমে যোগদান করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হল। কিন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সামনে এসে বললেন, “যে ঘর থেকে আল্লাহ শয়তানকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন সেই ঘরেই তুমি কি শয়তানকে পুনরায় প্রবেশ করাতে চাও।” এরূপ তিনি দু’বার বললেন। ফলে কান্না করা হতে আমি বিরত হলাম, আর কাঁদলাম না।’ (মুসলিম ২১৭৩)
যখন (আমার স্বামী) আবূ সালামাহ (মক্কা থেকে মদীনায় এসে) মারা যান, তখন আমি বললাম, ‘বিদেশী বিদেশে থেকেই মারা গেল! আমি তার জন্য এত কান্না কাঁদব যে, লোকমাঝে তার চর্চা হবে। এরপর আমি স্বামীর জন্য কাঁদার প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম। এমন সময় মদীনার পার্শ্ববর্তী পল্লী থেকে এক মহিলা আমার মাতমে যোগদান করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হল। কিন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সামনে এসে বললেন, “যে ঘর থেকে আল্লাহ শয়তানকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন সেই ঘরেই তুমি কি শয়তানকে পুনরায় প্রবেশ করাতে চাও।” এরূপ তিনি দু’বার বললেন। ফলে কান্না করা হতে আমি বিরত হলাম, আর কাঁদলাম না।’ (মুসলিম ২১৭৩)
عن أم سلمة قالت: لما مات أبو سلمة قلت غريب وفى أرض غربة لأبكينه بكاء يتحدث عنه فكنت قد تهيأت للبكاء عليه إذ أقبلت امرأة من الصعيد تريد أن تسعدنى فاستقبلها رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم وقال أتريدين أن تدخلى الشيطان بيتا أخرجه الله منه مرتين فكففت عن البكاء فلم أبك
হাদিস সম্ভার ১৩৪৯
وعن المغيرة بن شعبة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقولمن نيح عليه فإنه يعذب بما نيح عليه يوم القيامة متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমি বলতে শুনেছি যে, “যার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, তাকে কিয়ামতের দিনে তার জন্য মাতম করার দরুন শাস্তি দেওয়া হবে।” (বুখারী ১২৯১, মুসলিম ২২০০)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমি বলতে শুনেছি যে, “যার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, তাকে কিয়ামতের দিনে তার জন্য মাতম করার দরুন শাস্তি দেওয়া হবে।” (বুখারী ১২৯১, মুসলিম ২২০০)
وعن المغيرة بن شعبة قال : سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقولمن نيح عليه فإنه يعذب بما نيح عليه يوم القيامة متفق عليه
হাদিস সম্ভার > মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ
হাদিস সম্ভার ১৩৫৮
وعن أسامة بن زيد رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم رفع إليه ابن ابنته وهو في الموت ففاضت عينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقال له سعد : ما هذا يا رسول الله قالهذه رحمة جعلها الله تعالى في قلوب عباده وإنما يرحم الله من عباده الرحماء متفق عليه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষ অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, “এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।” (বুখারী ১২৮৪, মুসলিম ২১৭৪)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষ অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, “এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।” (বুখারী ১২৮৪, মুসলিম ২১৭৪)
وعن أسامة بن زيد رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم رفع إليه ابن ابنته وهو في الموت ففاضت عينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم فقال له سعد : ما هذا يا رسول الله قالهذه رحمة جعلها الله تعالى في قلوب عباده وإنما يرحم الله من عباده الرحماء متفق عليه
হাদিস সম্ভার ১৩৫৯
وعن أنس أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم دخل على ابنه إبراهيم وهو يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تذرفان فقال له عبد الرحمان بن عوف : وأنت يا رسول الله فقال يا ابن عوف إنها رحمة ثم أتبعها بأخرى فقالإن العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما يرضي ربنا وإنا لفراقك يا إبراهيم لمحزونونرواه البخاري وروى مسلم بعضه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ‘আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।” অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, “চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।” (বুখারী ১৩০৩, মুসলিম ৬১৬৭, কিছু অংশ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ‘আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।” অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, “চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।” (বুখারী ১৩০৩, মুসলিম ৬১৬৭, কিছু অংশ)
وعن أنس أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم دخل على ابنه إبراهيم وهو يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم تذرفان فقال له عبد الرحمان بن عوف : وأنت يا رسول الله فقال يا ابن عوف إنها رحمة ثم أتبعها بأخرى فقالإن العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما يرضي ربنا وإنا لفراقك يا إبراهيم لمحزونونرواه البخاري وروى مسلم بعضه
হাদিস সম্ভার ১৩৬২
عن عائشة قالت رأيت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقبل عثمان بن مظعون وهو ميت حتى رأيت الدموع تسيل
‘উষমান বিন মাযঊন মারা গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি তাঁর চেহারার কাপড় খুলে ঝুঁকে তাঁকে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি এমন কাঁদলেন যাতে দেখলাম, তাঁর চোখের পানি তাঁর গাল বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।’ (আবু দাউদ ৩১৬৫, তিরমিযী ৯৮৯, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৪৫৬)
‘উষমান বিন মাযঊন মারা গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি তাঁর চেহারার কাপড় খুলে ঝুঁকে তাঁকে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি এমন কাঁদলেন যাতে দেখলাম, তাঁর চোখের পানি তাঁর গাল বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।’ (আবু দাউদ ৩১৬৫, তিরমিযী ৯৮৯, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৪৫৬)
عن عائشة قالت رأيت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقبل عثمان بن مظعون وهو ميت حتى رأيت الدموع تسيل
হাদিস সম্ভার ১৩৬৩
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال خطب النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال أخذ الراية زيد فأصيب ثم أخذها جعفر فأصيب ثم أخذها عبد الله بن رواحة فأصيب ثم أخذها خالد بن الوليد عن غير إمرة ففتح له وقال ما يسرنا أنهم عندنا قال أيوب أو قال ما يسرهم أنهم عندنا وعيناه تذرفان
মু’তা যুদ্ধে যায়দ, জা’ফর ও আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ (রাঃ) শহীদ হলে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত খবর মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় বলতে লাগলেন, “যায়দ পতাকা ধারণ ক’রেছিল, সে শহীদ হয়ে গেল। তারপর জা’ফর পতাকা ধারণ করেছিল, সে শহীদ হয়ে গেল। তারপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ পতাকা ধারণ করেছিল, সেও শহীদ হয়ে গেল। তারপর আল্লাহর এক তরবারি খালেদ বিন অলীদ পতাকা ধারণ করল এবং আল্লাহ তার হাতে বিজয় দান করলেন।” এ কথা তিনি বলছিলেন, আর তাঁর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরছিল। (বুখারী ২৭৯৮)
মু’তা যুদ্ধে যায়দ, জা’ফর ও আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ (রাঃ) শহীদ হলে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত খবর মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় বলতে লাগলেন, “যায়দ পতাকা ধারণ ক’রেছিল, সে শহীদ হয়ে গেল। তারপর জা’ফর পতাকা ধারণ করেছিল, সে শহীদ হয়ে গেল। তারপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ পতাকা ধারণ করেছিল, সেও শহীদ হয়ে গেল। তারপর আল্লাহর এক তরবারি খালেদ বিন অলীদ পতাকা ধারণ করল এবং আল্লাহ তার হাতে বিজয় দান করলেন।” এ কথা তিনি বলছিলেন, আর তাঁর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরছিল। (বুখারী ২৭৯৮)
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال خطب النبي صلى اللٰه عليه وسلم فقال أخذ الراية زيد فأصيب ثم أخذها جعفر فأصيب ثم أخذها عبد الله بن رواحة فأصيب ثم أخذها خالد بن الوليد عن غير إمرة ففتح له وقال ما يسرنا أنهم عندنا قال أيوب أو قال ما يسرهم أنهم عندنا وعيناه تذرفان
হাদিস সম্ভার ১৩৬৪
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال لما قتل أبي جعلت أكشف الثوب عن وجهه أبكي وينهوني عنه والنبي صلى اللٰه عليه وسلم لا ينهاني فجعلت عمتي فاطمة تبكي فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم تبكين أو لا تبكين ما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفعتموه
‘যখন আমার পিতা (আব্দুল্লাহ) ইন্তিকাল করলেন, তখন আমি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। এ দেখে সকলে আমাকে নিষেধ করল। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নিষেধ করেন নি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশক্রমে তাঁর জানাযা উঠানো হল। এতে আমার ফুফু ফাতেমা কাঁদতে শুরু করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “কাঁদ অথবা না কাঁদ, ওর লাশ উঠানো পর্যন্ত ফিরিশতাবর্গ নিজেদের পক্ষ দ্বারা ওকে ছায়া করে রেখেছিল।” (বুখারী ১২৪৪, মুসলিম ৬৫০৮-৬৫০৯)
‘যখন আমার পিতা (আব্দুল্লাহ) ইন্তিকাল করলেন, তখন আমি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। এ দেখে সকলে আমাকে নিষেধ করল। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নিষেধ করেন নি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশক্রমে তাঁর জানাযা উঠানো হল। এতে আমার ফুফু ফাতেমা কাঁদতে শুরু করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “কাঁদ অথবা না কাঁদ, ওর লাশ উঠানো পর্যন্ত ফিরিশতাবর্গ নিজেদের পক্ষ দ্বারা ওকে ছায়া করে রেখেছিল।” (বুখারী ১২৪৪, মুসলিম ৬৫০৮-৬৫০৯)
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال لما قتل أبي جعلت أكشف الثوب عن وجهه أبكي وينهوني عنه والنبي صلى اللٰه عليه وسلم لا ينهاني فجعلت عمتي فاطمة تبكي فقال النبي صلى اللٰه عليه وسلم تبكين أو لا تبكين ما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفعتموه
হাদিস সম্ভার ১৩৬০
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال شهدنا بنتا لرسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ورسول الله صلى اللٰه عليه وسلم جالس على القبر قال فرأيت عينيه تدمعان قال فقال هل منكم رجل لم يقارف الليلة فقال أبو طلحة أنا قال فانزل قال فنزل في قبرها
‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর এক কন্যা (উম্মে কুলষূম)এর দাফন কার্যের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের পাশে বসে আছেন। আর তাঁর চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত ছিল। অতঃপর (লাশ নামানোর সময়) তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে (গত) রাত্রে স্ত্রী সহবাস করেনি?” আবু তালহা বললেন, ‘আমি আছি, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি ওর কবরে নামো।” এ কথা শুনে আবূ তালহা কবরে নামলেন। (বুখারী ১২৮৫, হাকেম ৪/৪৭, বাইহাকী ৪/৫৩, আহমাদ ৩/১২৬ প্রমুখ)
‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর এক কন্যা (উম্মে কুলষূম)এর দাফন কার্যের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের পাশে বসে আছেন। আর তাঁর চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত ছিল। অতঃপর (লাশ নামানোর সময়) তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে (গত) রাত্রে স্ত্রী সহবাস করেনি?” আবু তালহা বললেন, ‘আমি আছি, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি ওর কবরে নামো।” এ কথা শুনে আবূ তালহা কবরে নামলেন। (বুখারী ১২৮৫, হাকেম ৪/৪৭, বাইহাকী ৪/৫৩, আহমাদ ৩/১২৬ প্রমুখ)
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال شهدنا بنتا لرسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال ورسول الله صلى اللٰه عليه وسلم جالس على القبر قال فرأيت عينيه تدمعان قال فقال هل منكم رجل لم يقارف الليلة فقال أبو طلحة أنا قال فانزل قال فنزل في قبرها
হাদিস সম্ভার ১৩৬৫
عن عائشة رضي الله عنها قالت أقبل أبو بكر رضي الله عنه على فرسه من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عائشة رضي الله عنها فتيمم النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مسجى ببرد حبرة فكشف عن وجهه ثم أكب عليه فقبله ثم بكى فقال بأبي أنت يا نبي الله لا يجمع الله عليك موتتين أما الموتة التي كتبت عليك فقد متها
‘আবু বকর (রাঃ) তাঁর বাসা সুন্হ থেকে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে এলেন। ঘোড়া থেকে নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলেন। তিনি তখন চেককাটা ইয়ামানী চাদরে ঢাকা ছিলেন। আব্বা (আবু বকর) তাঁর চেহারার কাপড় খুলে দিয়ে ঝুঁকে পড়ে তাঁর দুই চক্ষের মাঝে চুম্বন করলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর বললেন, ‘আমার মা ও বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার মধ্যে দুটি মরণ একত্রিত করবেন না। এখন যে মরণ আপনার উপর অবধার্য ছিল তা আপনি বরণ করে নিয়েছেন।’ (বুখারী ১২৪২, নাসাঈ ১৮৪১, প্রমুখ)
‘আবু বকর (রাঃ) তাঁর বাসা সুন্হ থেকে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে এলেন। ঘোড়া থেকে নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলেন। তিনি তখন চেককাটা ইয়ামানী চাদরে ঢাকা ছিলেন। আব্বা (আবু বকর) তাঁর চেহারার কাপড় খুলে দিয়ে ঝুঁকে পড়ে তাঁর দুই চক্ষের মাঝে চুম্বন করলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর বললেন, ‘আমার মা ও বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার মধ্যে দুটি মরণ একত্রিত করবেন না। এখন যে মরণ আপনার উপর অবধার্য ছিল তা আপনি বরণ করে নিয়েছেন।’ (বুখারী ১২৪২, নাসাঈ ১৮৪১, প্রমুখ)
عن عائشة رضي الله عنها قالت أقبل أبو بكر رضي الله عنه على فرسه من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عائشة رضي الله عنها فتيمم النبي صلى اللٰه عليه وسلم وهو مسجى ببرد حبرة فكشف عن وجهه ثم أكب عليه فقبله ثم بكى فقال بأبي أنت يا نبي الله لا يجمع الله عليك موتتين أما الموتة التي كتبت عليك فقد متها
হাদিস সম্ভার ১৩৬১
وعن بريدة الأسلمي رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم - ونحن معه قريب من ألف راكب فنزل بنا فانتهى إلى رسم قبر فجلس وجلس الناس حوله فجعل يحرك رأسه كالمخاطب ثم بكى فقام إليه عمر بن الخطاب رضي الله عنه - فقال : فداك أبي وأمي يا رسول الله ما يبكيك فقال هذا قبر أمي آمنة بنت وهب استأذنت ربي في أن أزور قبرها فأذن لي واستأذنته في الاستغفار لها فأبى علي فدمعت عيناي رحمة لها من النار
প্রায় এক হাজার সাহাবা সহ এক সফরের এক মঞ্জিলে নেমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’রাকআত নামায পড়লেন। অতঃর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালে আমরা দেখলাম, তাঁর দু’টি চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। তাঁর কান্না দেখে সাহাবাগণ কাঁদতে লাগলেন। উমার (রাঃ) তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর রসূল! আপনার কী হয়েছে? (আপনি কাঁদছেন কেন?)’ তিনি বললেন, “আল্লাহর নিকট আমি আমার মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে যিয়ারতের অনুমতি দিলেন। কিন্তু তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন না। তাই আমি তাঁর উপর জাহান্নামের ভয়ে কাঁদছি!..........” (আহমাদ ২৩০০৩, মুসলিম ২৩০৩-২৩০৪, প্রমুখ)
প্রায় এক হাজার সাহাবা সহ এক সফরের এক মঞ্জিলে নেমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’রাকআত নামায পড়লেন। অতঃর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালে আমরা দেখলাম, তাঁর দু’টি চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। তাঁর কান্না দেখে সাহাবাগণ কাঁদতে লাগলেন। উমার (রাঃ) তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর রসূল! আপনার কী হয়েছে? (আপনি কাঁদছেন কেন?)’ তিনি বললেন, “আল্লাহর নিকট আমি আমার মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে যিয়ারতের অনুমতি দিলেন। কিন্তু তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন না। তাই আমি তাঁর উপর জাহান্নামের ভয়ে কাঁদছি!..........” (আহমাদ ২৩০০৩, মুসলিম ২৩০৩-২৩০৪, প্রমুখ)
وعن بريدة الأسلمي رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم - ونحن معه قريب من ألف راكب فنزل بنا فانتهى إلى رسم قبر فجلس وجلس الناس حوله فجعل يحرك رأسه كالمخاطب ثم بكى فقام إليه عمر بن الخطاب رضي الله عنه - فقال : فداك أبي وأمي يا رسول الله ما يبكيك فقال هذا قبر أمي آمنة بنت وهب استأذنت ربي في أن أزور قبرها فأذن لي واستأذنته في الاستغفار لها فأبى علي فدمعت عيناي رحمة لها من النار
হাদিস সম্ভার > সমবেদনা প্রকাশ
হাদিস সম্ভার ১৩৬৬
عن عمرو بن حزم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه الله عز وجل من حلل الكرامة يوم القيامة
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোনও মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিপদে (সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করার সাথে) তাকে সান্তনা দান করবে, আল্লাহ সুবহানাহ তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের লেবাস পরিধান করাবেন।” (ইবনে মাজাহ ১৬০১, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০১)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোনও মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিপদে (সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করার সাথে) তাকে সান্তনা দান করবে, আল্লাহ সুবহানাহ তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের লেবাস পরিধান করাবেন।” (ইবনে মাজাহ ১৬০১, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০১)
عن عمرو بن حزم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه الله عز وجل من حلل الكرامة يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৬৮
عن عبد الله بن جعفر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اصنعوا لآل جعفر طعاما فإنه قد أتاهم أمر شغلهم
জা’ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর যখন তাঁর সে খবর পৌঁছল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “জা’ফরের পরিজনের জন্য তোমরা খানা প্রস্তুত কর। কারণ, ওদের নিকট এমন খবর পৌঁছেছে; যা ওদেরকে বিভোর করে রাখবে।” (আবূ দাঊদ ৩১৩৪, তিরমিযী ৯৯৮, ইবনে মাজাহ ১৬১০ প্রমুখ, সহীহ আবূ দাউদ ১৫৮৬)
জা’ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর যখন তাঁর সে খবর পৌঁছল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “জা’ফরের পরিজনের জন্য তোমরা খানা প্রস্তুত কর। কারণ, ওদের নিকট এমন খবর পৌঁছেছে; যা ওদেরকে বিভোর করে রাখবে।” (আবূ দাঊদ ৩১৩৪, তিরমিযী ৯৯৮, ইবনে মাজাহ ১৬১০ প্রমুখ, সহীহ আবূ দাউদ ১৫৮৬)
عن عبد الله بن جعفر قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم اصنعوا لآل جعفر طعاما فإنه قد أتاهم أمر شغلهم
হাদিস সম্ভার ১৩৭০
وعن أسامة بن زيد قال: أرسلت بنت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إن ابني قد احتضر فاشهدنا فأرسل يقرئ السلام ويقولإن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل شيء عنده بأجل مسمى فلتصبر ولتحتسب
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কন্যা তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, ‘আমার ছেলের মর মর অবস্থা, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন।’ তিনি সালাম দিয়ে সংবাদ পাঠালেন যে, “আল্লাহ তাআলা যা নিয়েছেন, তা তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতএব সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে। (আহমাদ ৫/ ২০৪, ২০৬, ২০৭, বুখারী ১২৮৪, ৭৩৭৭, মুসলিম ২১৭৪)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কন্যা তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, ‘আমার ছেলের মর মর অবস্থা, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন।’ তিনি সালাম দিয়ে সংবাদ পাঠালেন যে, “আল্লাহ তাআলা যা নিয়েছেন, তা তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের এক নির্দিষ্ট সময় আছে। অতএব সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে। (আহমাদ ৫/ ২০৪, ২০৬, ২০৭, বুখারী ১২৮৪, ৭৩৭৭, মুসলিম ২১৭৪)
وعن أسامة بن زيد قال: أرسلت بنت النبي صلى اللٰه عليه وسلم إن ابني قد احتضر فاشهدنا فأرسل يقرئ السلام ويقولإن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل شيء عنده بأجل مسمى فلتصبر ولتحتسب
হাদিস সম্ভার ১৩৬৯
عن أنس رضي الله عنه قال : قال رسول الله : من عزى أخاه المؤمن من مصيبة كساه الله حلة خضراء يحبر بها يوم القيامة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মসীবতের সময় তার মুসলিম ভাইকে সাক্ষাৎ ক’রে সমবেদনা প্রকাশ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সবুজ রঙের লেবাস পড়াবেন; যা অন্যান্য লোকে দেখে ঈর্ষা করবে।” (তারীখে বাগদাদ, খতীব, ৭/৩৯৭, তারীখে দিমাশ্ক, ইবনে আসাকির ১৫/৯১/১, ইবনে আবী শাইবাহ ৪/১৬৪, ইরওয়াউল গালীল ৭৫)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মসীবতের সময় তার মুসলিম ভাইকে সাক্ষাৎ ক’রে সমবেদনা প্রকাশ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সবুজ রঙের লেবাস পড়াবেন; যা অন্যান্য লোকে দেখে ঈর্ষা করবে।” (তারীখে বাগদাদ, খতীব, ৭/৩৯৭, তারীখে দিমাশ্ক, ইবনে আসাকির ১৫/৯১/১, ইবনে আবী শাইবাহ ৪/১৬৪, ইরওয়াউল গালীল ৭৫)
عن أنس رضي الله عنه قال : قال رسول الله : من عزى أخاه المؤمن من مصيبة كساه الله حلة خضراء يحبر بها يوم القيامة
হাদিস সম্ভার ১৩৭১
عن جرير بن عبد الله البجلي قال: كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة
‘দাফনের পর মরা বাড়িতে খানা ও ভোজের আয়োজনকে এবং লোকদের জমায়েতকে আমরা জাহেলিয়াতের মাতম হিসাবে গণ্য করতাম। (যা ইসলামে হারাম।) (আহমাদ ৬৯০৫, ইবনে মাজাহ ১৬১২, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০৮)
‘দাফনের পর মরা বাড়িতে খানা ও ভোজের আয়োজনকে এবং লোকদের জমায়েতকে আমরা জাহেলিয়াতের মাতম হিসাবে গণ্য করতাম। (যা ইসলামে হারাম।) (আহমাদ ৬৯০৫, ইবনে মাজাহ ১৬১২, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৩০৮)
عن جرير بن عبد الله البجلي قال: كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة
হাদিস সম্ভার ১৩৬৭
عن أم سلمة أنها قالت سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم أجرنى فى مصيبتى وأخلف لى خيرا منها إلا أخلف الله له خيرا منها قالت فلما مات أبو سلمة قلت أى المسلمين خير من أبى سلمة أول بيت هاجر إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ثم إنى قلتها فأخلف الله لى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالت أرسل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حاطب بن أبى بلتعة يخطبنى له فقلت إن لى بنتا وأنا غيور فقال أما ابنتها فندعو الله أن يغنيها عنها وأدعو الله أن يذهب بالغيرة
আমি শুনেছি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, কোনও মুসলিমের উপর যখন কোন বিপদ আসে এবং সে যদি আল্লাহর আদেশমত ‘ইন্না লিল্লা-হি-----খাইরাম মিনহা’ বলে তাহলে আল্লাহ তার ঐ বিপদ অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন।” উম্মে সালামাহ বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবু সালামাহ মারা গেলেন তখন আমি বললাম, ‘মুসলিমদের মধ্যে আর কে এমন ব্যক্তি আছে যে (আমার নিকট) আবু সালামার চেয়ে ভালো হবে? যার পরিবার ছিল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি প্রথম হিজরতকারী পরিবার।’ আমি (মনে মনে) এরূপ বারবার বলতাম। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বিনিময় স্বরূপ আমাকে দান করলেন। তিনি হাত্বেব বিন আবী বালতাআহকে আমার নিকট বিবাহের পয়গাম দিয়ে পাঠালেন। আমি বললাম, ‘আমার একটি মেয়ে আছে, আর আমি বড় (সপত্নীর বিষয়ে) ঈর্ষাবতী।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমরা তার মেয়ের জন্য দু‘আ করব, যাতে আল্লাহ তার নিকট থেকে মায়ের প্রয়োজন দূর করে দেন এবং আরো দু‘আ করব যাতে তার (উম্মে সালামার) ঈর্ষা দূরীভূত হয়ে যায়।” (আহমাদ ১৬৩৪৪, ২৬৬৩৫, মুসলিম ২১৬৫-২১৬৬, বাইহাক্বী ৭৩৭৬)
আমি শুনেছি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, কোনও মুসলিমের উপর যখন কোন বিপদ আসে এবং সে যদি আল্লাহর আদেশমত ‘ইন্না লিল্লা-হি-----খাইরাম মিনহা’ বলে তাহলে আল্লাহ তার ঐ বিপদ অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন।” উম্মে সালামাহ বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবু সালামাহ মারা গেলেন তখন আমি বললাম, ‘মুসলিমদের মধ্যে আর কে এমন ব্যক্তি আছে যে (আমার নিকট) আবু সালামার চেয়ে ভালো হবে? যার পরিবার ছিল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি প্রথম হিজরতকারী পরিবার।’ আমি (মনে মনে) এরূপ বারবার বলতাম। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বিনিময় স্বরূপ আমাকে দান করলেন। তিনি হাত্বেব বিন আবী বালতাআহকে আমার নিকট বিবাহের পয়গাম দিয়ে পাঠালেন। আমি বললাম, ‘আমার একটি মেয়ে আছে, আর আমি বড় (সপত্নীর বিষয়ে) ঈর্ষাবতী।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমরা তার মেয়ের জন্য দু‘আ করব, যাতে আল্লাহ তার নিকট থেকে মায়ের প্রয়োজন দূর করে দেন এবং আরো দু‘আ করব যাতে তার (উম্মে সালামার) ঈর্ষা দূরীভূত হয়ে যায়।” (আহমাদ ১৬৩৪৪, ২৬৬৩৫, মুসলিম ২১৬৫-২১৬৬, বাইহাক্বী ৭৩৭৬)
عن أم سلمة أنها قالت سمعت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم يقول ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم أجرنى فى مصيبتى وأخلف لى خيرا منها إلا أخلف الله له خيرا منها قالت فلما مات أبو سلمة قلت أى المسلمين خير من أبى سلمة أول بيت هاجر إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم ثم إنى قلتها فأخلف الله لى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قالت أرسل إلى رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم حاطب بن أبى بلتعة يخطبنى له فقلت إن لى بنتا وأنا غيور فقال أما ابنتها فندعو الله أن يغنيها عنها وأدعو الله أن يذهب بالغيرة